ভারতের এনআরসি আমাদের উদ্বেগ্ন

বাংলার লোকমুখে একটি প্রবাদ প্রায়ই শোনা যায়- চুন খেয়ে মুখ পুড়লে দই দেখে ভয় হয়। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান আমাদের শুধু ভয়ই দেখায়নি, ভয়কে বাস্তবে পরিণত করেছিল। তারা রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছিল এদেশের সম্পদের ওপর, জনগণের ওপর। তাদের তাণ্ডবে এদেশে ৩০ লাখ লোক শহীদ হয়েছিল এবং লাখ লাখ নারী তাদের সম্ভ্রম হারিয়েছিল। সে ভয় আমরা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারিনি, আমরা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারিনি তাদের তাণ্ডবের ক্ষয়ক্ষতি, এরই মধ্যে আমাদের পাশর্^বর্তী দেশ মায়ানমার আমাদের ভয় দেখাতে শুরু করে। সেই আশির দশক থেকে তারা তাদের নাগরিকদের ঠেলে দিতে থাকে আমাদের ছোট্ট এ দেশে। আমরা আবারও ধাক্কা খাই। পাকিস্তানি তাণ্ডবের ধ্বংসলীলা ধুয়ে-মুছে সাফ করতে না করতেই মায়ানমার তাদের জনগণের বোঝা আমাদের কাঁধে চাপিয়ে দেয়। পশ্চিম থেকে আমাদের নজর ঘুরিয়ে নিতে হয় পূর্বে। এমনিতেই ছোট্ট এদেশে অতিরিক্ত জনগণের কর্মসংস্থান, ভরন-পোষণ, বেকারত্ব ঘুচাতে যখন আমরা হিমশিম খাচ্ছি তখন মায়ানমার সময় সময় তাদের জনগণ এদেশে পুষ করে এ দেশকে অস্থিতিশীল করার নীল নকশা বাস্তবায়ন করে। সেই আশির দশকের রোহিঙ্গা সমস্যা বর্তমানে এসে প্রকট আকার ধারণ করেছে। পুলিশ ক্যাম্পে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিয়ানমার ২০১৭ সালে কমবেশি ৮ লাখ জনগণকে এদেশে তাড়িয়ে দেয়। এসব রোহিঙ্গাকে জায়গা দিতে এদেশের লাখ লাখ একর বনভূমি আজ উজার। এছাড়াও নানাবিধ সমস্যা আজ এদেশে উদ্ভব হচ্ছে ওইসব রোহিঙ্গাদের জন্য। ২০১৭ সালে আগত ৮ লাখসহ মোট ১২ লাখ রোহিঙ্গার বোঝা আজ উন্নয়নশীল এবং ক্ষুদ্র পরিসরের এই দেশকে বইতে হচ্ছে। মায়ানমার এসব রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবার কথা বলেও বিভিন্ন অজুহাতে আজও তাদের ফেরত নিচ্ছে না। এই যে বেহুদা সমস্যাটা এটার সমাধান হতে না হতেই আমাদের আরেক পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে চলছে এনআরসি নামক জুজু। যে জুজুর ভয় আমাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত। ওই যে বললাম, চুন খেয়ে মুখ পুড়লে দই দেখে ভয় হয়। ভারতের এই এনআরসি বিলটি আইনে পরিণত হলে কী হবে? শোনা যাচ্ছে এনআরসি বিলটি আইনে পরিণত হলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং চীন থেকে নিপীড়নের মুখে পালিয়ে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে। বিলটি পাশের পর থেকে দেশে বিদেশে সমালোচনার ঝড় বইছে। এই আইনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠী। ভারতের এ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে জ্বলছে পুরো ভারত। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পরেছে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যজুড়ে। এই আইনের বিরুদ্ধে ও জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের ‘নির্যাতনের’ প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছে। প্রতিদিন বিক্ষোভে দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে নিহত হচ্ছে অসংখ্য লোক। রাজ্যজুড়ে হাজার হাজার ব্যক্তিকে আটক করছে দেশটির পুলিশ। হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র গত শুক্রবারের বিক্ষোভে মেরুতে তিনজন, বিজোনরে দুজন, বারানসি, ফিরোজবাদ, সম্ভাল এবং কানপুর একজন করে বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। এসব নিহতের ঘটনার প্রতিবাদে আবার বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নামে। প্রতিদিন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে।

বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ারগ্যাস ও লাঠিচার্জ করছে পুলিশ।

দেশটির সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ প্রায় হাজারের বেশি জনগণকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহের সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে সমগ্র উত্তর প্রদেশ থেকে প্রায় তিন হাজার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিভিন্ন রাজ্য জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এছাড়াও কয়েকটি প্রদেশের বিভিন্ন জেলাতে বন্ধ রাখা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা।

ভারতের উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি রাজ্যজুড়ে সহিংসতার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি সব মানুষকে শান্ত থাকতে আবেদন করেছেন। কিন্তু তার আবেদনই কি সব কিছু। নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে গত কয়েক দিন থেকেই উত্তাল ভারত। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে উপনিত হয়েছে যে, ভারতের রাজ্যগুলিতে ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ফ্রান্স। ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধন আইন ইস্যুতে বাংলাদেশ মুখে কিছু না বললেও শংকিত। তবে এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি কুয়ালালামপুর সামিটের মিডিয়া সেন্টার পরিদর্শন শেষে মাহাথির মোহাম্মাদ সাংবাদিকদের বলেছেন, এটা দুঃখজনক ঘটনায় ভারত নিজেকে সেক্যুলার রাষ্ট্র বলে দাবি করে কিন্তু এখন তারা কিছু মুসলমানকে তাদের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করার জন্য কাজ করছে। শুনেছি এর প্রেক্ষিতে দিল্লিতে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার কূটনীতিককে ডেকে এ প্রতিক্রিয়া জানায় ভারত।

ভারতের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতিতে দেশের নিরাপত্তা বিষয়ে উদ্বিগ্ন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শান্তি-শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্যে শনিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার মন্ত্রীদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকতে বাধ্য হয়েছে। ভারতের এহেন পরিস্তিতিতে আমরা বাংলাদেশিরা দারুণভাবে উদ্বিগ্ন। গত কয়েকবছরে ভারতে আসামে যা ঘটছে এবং এ মুহূর্তে ভারতের এ এনআরসি আইনে পরিণত হলে ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিম রা বিভিন্ন নির্যাতনের মুখে এদেশে আসবে না এ কথা বাংলাদেশ বা ভারতের কর্তৃপক্ষ বলে বলে মুখে ফেনা তুলে ফেললেও জনগণ বিশ্বাস করতে চাইবে না। কারণ চুন খেয়ে আমাদের মুখ ইতোমধ্যেই পুড়ে গেছে!

[লেখক : কথা সাহিত্যিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা,

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়]

মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী ২০২০ , ৭ মাঘ ১৪২৬, ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

ভারতের এনআরসি আমাদের উদ্বেগ্ন

মো. মাঈন উদ্দিন

বাংলার লোকমুখে একটি প্রবাদ প্রায়ই শোনা যায়- চুন খেয়ে মুখ পুড়লে দই দেখে ভয় হয়। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান আমাদের শুধু ভয়ই দেখায়নি, ভয়কে বাস্তবে পরিণত করেছিল। তারা রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছিল এদেশের সম্পদের ওপর, জনগণের ওপর। তাদের তাণ্ডবে এদেশে ৩০ লাখ লোক শহীদ হয়েছিল এবং লাখ লাখ নারী তাদের সম্ভ্রম হারিয়েছিল। সে ভয় আমরা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারিনি, আমরা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারিনি তাদের তাণ্ডবের ক্ষয়ক্ষতি, এরই মধ্যে আমাদের পাশর্^বর্তী দেশ মায়ানমার আমাদের ভয় দেখাতে শুরু করে। সেই আশির দশক থেকে তারা তাদের নাগরিকদের ঠেলে দিতে থাকে আমাদের ছোট্ট এ দেশে। আমরা আবারও ধাক্কা খাই। পাকিস্তানি তাণ্ডবের ধ্বংসলীলা ধুয়ে-মুছে সাফ করতে না করতেই মায়ানমার তাদের জনগণের বোঝা আমাদের কাঁধে চাপিয়ে দেয়। পশ্চিম থেকে আমাদের নজর ঘুরিয়ে নিতে হয় পূর্বে। এমনিতেই ছোট্ট এদেশে অতিরিক্ত জনগণের কর্মসংস্থান, ভরন-পোষণ, বেকারত্ব ঘুচাতে যখন আমরা হিমশিম খাচ্ছি তখন মায়ানমার সময় সময় তাদের জনগণ এদেশে পুষ করে এ দেশকে অস্থিতিশীল করার নীল নকশা বাস্তবায়ন করে। সেই আশির দশকের রোহিঙ্গা সমস্যা বর্তমানে এসে প্রকট আকার ধারণ করেছে। পুলিশ ক্যাম্পে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিয়ানমার ২০১৭ সালে কমবেশি ৮ লাখ জনগণকে এদেশে তাড়িয়ে দেয়। এসব রোহিঙ্গাকে জায়গা দিতে এদেশের লাখ লাখ একর বনভূমি আজ উজার। এছাড়াও নানাবিধ সমস্যা আজ এদেশে উদ্ভব হচ্ছে ওইসব রোহিঙ্গাদের জন্য। ২০১৭ সালে আগত ৮ লাখসহ মোট ১২ লাখ রোহিঙ্গার বোঝা আজ উন্নয়নশীল এবং ক্ষুদ্র পরিসরের এই দেশকে বইতে হচ্ছে। মায়ানমার এসব রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবার কথা বলেও বিভিন্ন অজুহাতে আজও তাদের ফেরত নিচ্ছে না। এই যে বেহুদা সমস্যাটা এটার সমাধান হতে না হতেই আমাদের আরেক পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে চলছে এনআরসি নামক জুজু। যে জুজুর ভয় আমাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত। ওই যে বললাম, চুন খেয়ে মুখ পুড়লে দই দেখে ভয় হয়। ভারতের এই এনআরসি বিলটি আইনে পরিণত হলে কী হবে? শোনা যাচ্ছে এনআরসি বিলটি আইনে পরিণত হলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং চীন থেকে নিপীড়নের মুখে পালিয়ে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে। বিলটি পাশের পর থেকে দেশে বিদেশে সমালোচনার ঝড় বইছে। এই আইনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠী। ভারতের এ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে জ্বলছে পুরো ভারত। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পরেছে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যজুড়ে। এই আইনের বিরুদ্ধে ও জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের ‘নির্যাতনের’ প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছে। প্রতিদিন বিক্ষোভে দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে নিহত হচ্ছে অসংখ্য লোক। রাজ্যজুড়ে হাজার হাজার ব্যক্তিকে আটক করছে দেশটির পুলিশ। হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র গত শুক্রবারের বিক্ষোভে মেরুতে তিনজন, বিজোনরে দুজন, বারানসি, ফিরোজবাদ, সম্ভাল এবং কানপুর একজন করে বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। এসব নিহতের ঘটনার প্রতিবাদে আবার বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নামে। প্রতিদিন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে।

বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ারগ্যাস ও লাঠিচার্জ করছে পুলিশ।

দেশটির সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ প্রায় হাজারের বেশি জনগণকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহের সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে সমগ্র উত্তর প্রদেশ থেকে প্রায় তিন হাজার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিভিন্ন রাজ্য জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এছাড়াও কয়েকটি প্রদেশের বিভিন্ন জেলাতে বন্ধ রাখা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা।

ভারতের উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি রাজ্যজুড়ে সহিংসতার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি সব মানুষকে শান্ত থাকতে আবেদন করেছেন। কিন্তু তার আবেদনই কি সব কিছু। নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে গত কয়েক দিন থেকেই উত্তাল ভারত। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে উপনিত হয়েছে যে, ভারতের রাজ্যগুলিতে ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ফ্রান্স। ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধন আইন ইস্যুতে বাংলাদেশ মুখে কিছু না বললেও শংকিত। তবে এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি কুয়ালালামপুর সামিটের মিডিয়া সেন্টার পরিদর্শন শেষে মাহাথির মোহাম্মাদ সাংবাদিকদের বলেছেন, এটা দুঃখজনক ঘটনায় ভারত নিজেকে সেক্যুলার রাষ্ট্র বলে দাবি করে কিন্তু এখন তারা কিছু মুসলমানকে তাদের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করার জন্য কাজ করছে। শুনেছি এর প্রেক্ষিতে দিল্লিতে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার কূটনীতিককে ডেকে এ প্রতিক্রিয়া জানায় ভারত।

ভারতের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতিতে দেশের নিরাপত্তা বিষয়ে উদ্বিগ্ন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শান্তি-শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্যে শনিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার মন্ত্রীদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকতে বাধ্য হয়েছে। ভারতের এহেন পরিস্তিতিতে আমরা বাংলাদেশিরা দারুণভাবে উদ্বিগ্ন। গত কয়েকবছরে ভারতে আসামে যা ঘটছে এবং এ মুহূর্তে ভারতের এ এনআরসি আইনে পরিণত হলে ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিম রা বিভিন্ন নির্যাতনের মুখে এদেশে আসবে না এ কথা বাংলাদেশ বা ভারতের কর্তৃপক্ষ বলে বলে মুখে ফেনা তুলে ফেললেও জনগণ বিশ্বাস করতে চাইবে না। কারণ চুন খেয়ে আমাদের মুখ ইতোমধ্যেই পুড়ে গেছে!

[লেখক : কথা সাহিত্যিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা,

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়]