মাগুরায় এনজিও’র নামে ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে কোটি টাকা লোপাট

মাগুরায় সমাজসেবা অধিদফতরের নিবন্ধিত ৭টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কাগজপত্র জমা দিয়ে আবেদন করে প্রায় কোটি টাকার সরকারি অনুদান হাতিয়ে নিয়েছে পার্শ্ববর্তী জেলা ঝিনাইদহের একটি চক্র। প্রতারকরা মাগুরার সংগঠনের নামে ঝিনাইদহে ব্যাংক হিসাব খুলে গত কয়েক বছরে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তবে এ বিষয়ে কিছুই জানেন না মাগুরার স্থানীয় ওইসব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতারা। স্বয়ং জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ফজলুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন তাদের সংগঠনের নামে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে প্রতারণার এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। কখনও সরকারি সাহায্যের আবেদন না করলেও তাদের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ায় তারা এসব জালিয়াতের বিরুদ্ধে শীঘ্রই আইনের আশ্রয় নেবেন বলে জানিয়েছেন।

জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলার ওই চক্রটি ২০১৮ সাল থেকে মাগুরা সমাজ কল্যাণ সংসদ, সৃষ্টি ফাউন্ডেশন, রাজলক্ষ্মী কল্যাণ ফাউন্ডেশন, আলোর ঠিকানা ফাউন্ডেশন, ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন ও মাগুরা জেলা মানবাধিকার সংস্থার নামে সরকারি অনুদান পেয়ে আসছে। চক্রটি ওই বছরের শুরুর দিকে কৌশলে নিবন্ধিত ওইসব এনজিওর কাগজপত্র সংগ্রহ করে। একই বছরের ২৪ ও ২৬ জুন ওইসব এনজিওর নামে ঝিনাইদহে সোনালী ব্যাংকের আরাপপুর শাখায় পৃথক অ্যাকাউন্ট খোলে।

সূত্র জানায়, জালিয়াতির দ্বিতীয় ধাপে চক্রটি ওইসব এনজিওর নামে সিল ও প্যাড তৈরি করে। সেখানে নিজেদের নাম ও মোবাইল নম্বর যুক্ত করে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন জেলার পরিবার পরিকল্পনা ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ে অনুদানের জন্য আবেদন করে। পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে চক্রটি ঢাকায় মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট অসাধু কর্মকর্তাদের সহায়তা নেয় এবং নিজেদের অনুকূলে অর্থ ছাড় করিয়ে আনে। সবশেষে ঝিনাইদহে খুলে রাখা অ্যাকাউন্টে চেক জমা দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করে। বিভিন্ন সময় মাগুরা পরিবার পরিকল্পনা ও সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে উল্লিখিত ৭টি এনজিওর নামে জমাকৃত ব্যাংক স্টেটমেন্ট থেকে দেখা যায়, চক্রটির ঝিনাইদহ সোনালী ব্যাংকের ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৯২ লাখ ৭৭ হাজার ৭৫৭ টাকা উত্তোলন করেছে। দেখা গেছে, মাগুরা সমাজকল্যাণ সংসদের বর্তমান সভাপতি জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ফজলুর রহমান। তার নামে চলতি বছরের ৪ আগস্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব বরাবর অনুদানের জন্য একটি আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে নিলুফার ইয়াসমিন নামে ঝিনাইদহের একটি মেয়ের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। রাজলক্ষ্মী কল্যাণ ফাউন্ডেশন পরিচালনা করেন মাগুরা শহরের পারলা এলাকার বাসিন্দা আওয়ামী লীগ কর্মী এবিএম মোস্তাফিজুর রহমান আকিনুর। কিন্তু নিলুফার ইয়াসমিন নিজেকে নির্বাহী পরিচালক পরিচয় দিয়ে ওই এনজিওর নামে অনুদানের আবেদন করেন। শহরের সৃষ্টি ফাউন্ডেশনের পরিচালক অলোক বসু। তার আবেদনপত্রের নামের নিচে মাহমুদ হাসান টিপু নামে ঝিনাইদহের এক ব্যক্তির মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। মাগুরা জেলা মানবাধিকার সংস্থার পরিচালক বাহারুল ইসলাম হলেও সেখানে জাহিদ সুলতান শাওন নামে ঝিনাইদহের এক ব্যক্তি নিজের নাম মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেছেন।

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ , ১৯ মহররম ১৪৪২, ২১ ভাদ্র ১৪২৭

মাগুরায় এনজিও’র নামে ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে কোটি টাকা লোপাট

মাগুরায় সমাজসেবা অধিদফতরের নিবন্ধিত ৭টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কাগজপত্র জমা দিয়ে আবেদন করে প্রায় কোটি টাকার সরকারি অনুদান হাতিয়ে নিয়েছে পার্শ্ববর্তী জেলা ঝিনাইদহের একটি চক্র। প্রতারকরা মাগুরার সংগঠনের নামে ঝিনাইদহে ব্যাংক হিসাব খুলে গত কয়েক বছরে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তবে এ বিষয়ে কিছুই জানেন না মাগুরার স্থানীয় ওইসব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতারা। স্বয়ং জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ফজলুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন তাদের সংগঠনের নামে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে প্রতারণার এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। কখনও সরকারি সাহায্যের আবেদন না করলেও তাদের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ায় তারা এসব জালিয়াতের বিরুদ্ধে শীঘ্রই আইনের আশ্রয় নেবেন বলে জানিয়েছেন।

জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলার ওই চক্রটি ২০১৮ সাল থেকে মাগুরা সমাজ কল্যাণ সংসদ, সৃষ্টি ফাউন্ডেশন, রাজলক্ষ্মী কল্যাণ ফাউন্ডেশন, আলোর ঠিকানা ফাউন্ডেশন, ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন ও মাগুরা জেলা মানবাধিকার সংস্থার নামে সরকারি অনুদান পেয়ে আসছে। চক্রটি ওই বছরের শুরুর দিকে কৌশলে নিবন্ধিত ওইসব এনজিওর কাগজপত্র সংগ্রহ করে। একই বছরের ২৪ ও ২৬ জুন ওইসব এনজিওর নামে ঝিনাইদহে সোনালী ব্যাংকের আরাপপুর শাখায় পৃথক অ্যাকাউন্ট খোলে।

সূত্র জানায়, জালিয়াতির দ্বিতীয় ধাপে চক্রটি ওইসব এনজিওর নামে সিল ও প্যাড তৈরি করে। সেখানে নিজেদের নাম ও মোবাইল নম্বর যুক্ত করে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন জেলার পরিবার পরিকল্পনা ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ে অনুদানের জন্য আবেদন করে। পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে চক্রটি ঢাকায় মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট অসাধু কর্মকর্তাদের সহায়তা নেয় এবং নিজেদের অনুকূলে অর্থ ছাড় করিয়ে আনে। সবশেষে ঝিনাইদহে খুলে রাখা অ্যাকাউন্টে চেক জমা দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করে। বিভিন্ন সময় মাগুরা পরিবার পরিকল্পনা ও সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে উল্লিখিত ৭টি এনজিওর নামে জমাকৃত ব্যাংক স্টেটমেন্ট থেকে দেখা যায়, চক্রটির ঝিনাইদহ সোনালী ব্যাংকের ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৯২ লাখ ৭৭ হাজার ৭৫৭ টাকা উত্তোলন করেছে। দেখা গেছে, মাগুরা সমাজকল্যাণ সংসদের বর্তমান সভাপতি জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ফজলুর রহমান। তার নামে চলতি বছরের ৪ আগস্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব বরাবর অনুদানের জন্য একটি আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে নিলুফার ইয়াসমিন নামে ঝিনাইদহের একটি মেয়ের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। রাজলক্ষ্মী কল্যাণ ফাউন্ডেশন পরিচালনা করেন মাগুরা শহরের পারলা এলাকার বাসিন্দা আওয়ামী লীগ কর্মী এবিএম মোস্তাফিজুর রহমান আকিনুর। কিন্তু নিলুফার ইয়াসমিন নিজেকে নির্বাহী পরিচালক পরিচয় দিয়ে ওই এনজিওর নামে অনুদানের আবেদন করেন। শহরের সৃষ্টি ফাউন্ডেশনের পরিচালক অলোক বসু। তার আবেদনপত্রের নামের নিচে মাহমুদ হাসান টিপু নামে ঝিনাইদহের এক ব্যক্তির মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। মাগুরা জেলা মানবাধিকার সংস্থার পরিচালক বাহারুল ইসলাম হলেও সেখানে জাহিদ সুলতান শাওন নামে ঝিনাইদহের এক ব্যক্তি নিজের নাম মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেছেন।