মাধবপুরে সরকারি জায়গা থেকে মাটি ও মাছ বিক্রি দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার দক্ষিণ বেজুড়া গ্রামে ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত নেয়া জায়গা থেকে শুকনো মৌসুমে মাটি ও বর্ষা মৌসুমে মাছ লুটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে এলাকার ৫ প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ‘দক্ষিণ বেজুড়া ভূমিহীন সমবায় সমিতি’র সভাপতি আবদুল মালেক। এদিকে, ওই জায়গাটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যেকোন সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষেও আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তবে যে কোন ধরণের অপ্রিতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পদক্ষেপ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উভয় পক্ষের কাছ থেকে কাগজপত্র জমা নিয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশিন (ভূমি) আয়েশা আক্তার। এখন তিনি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেবেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়- মাধবপুর উপজেলার দক্ষিণ বেজুড়া ১৭.৪৪ একক গোচরণ ভূমি সরকারের কাছ থেকে ২০১১-১২ সালের জন্য বন্দোবস্ত নেয় ভূমিহীন সমবায় সমিতি লি.। বন্দোবস্তের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে আবারও ওই জায়গাটি বন্দোবস্ত নেয়ার জন্য ভূমিহীন সমবায় সমিতি লি. সরকারের কাছে আবেদন করে। কিন্তু সরকার আর ওই জমি কারও নামে বন্দোবস্ত না দেয়ায় ভূমিহীন সমবায় সমিতি জায়গাটি ভোগদখল করে আসছে।

সম্প্রতি ওই জমিটি দখলের পাঁয়তারা করে দক্ষিণ বেজুড়া গ্রামের অলিদ মিয়া, জসিম মিয়া, আজিজ মিয়া আলমগীর মিয়া ও সাহাব উদ্দিন নামে চার প্রভাবশালী। শুকনো মৌসুমে (চলতি বছরের মার্চ মাসে) ওই জমি থেকে তারা প্রায় ১০ লাখ টাকার মাটি বিক্রি করে দিয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া এখন বর্ষা মৌসুমে ওই জায়টি তলিয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে মাছ বিক্রি করছেন প্রভাবশালীরা। লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উভয় পক্ষকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে কাগজপত্র জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেই মোতাবেক উভয় পক্ষ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশেয়া আক্তারের কাছে তাদের পক্ষের সব ধরনের কাগজপত্র দাখিল করেছেন। এ ব্যাপারে অভিযোগকারী আবদুল মালেক বলেন- ‘অলিদসহ ৫ জন এলাকার খুব প্রভাবশালী। তারা জোরপূর্বক আমাদের বন্দোবস্তকৃত জায়গা থেকে ১০ লাখ টাকার মাটি বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন বর্ষা মৌসুমে তারা মাছ লুটে নিচ্ছেন। এ ব্যাপারে সমাধান চেয়ে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

অভিযুক্ত অলিদ মিয়া বলেন, ‘এটি একটি গোচরণ ভূমি। এখানে শুকনো মৌসুমে গ্রামবাসী গরু রাখেন এবং বর্ষা মৌসুমে ভাসমান মাছ ধরা হয়। সেই মাছ বিক্রি করে এলাকার মসজিদ, মন্দির, মাদরাসাসহ সামাজিক ও ধর্মীয় কাছে ব্যয় করা হয়। তবে মাটি বিক্রির বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা।’ তিনি বলেন, ‘উপজেলা সহকারী কমিশনার আমাদের কাছ থেকে সব কাগজপত্র নিয়েছেন। এখন তিনি যাচাই-বাচাই করে বিষয়টি দেখবেন।’ বিষয়টি সম্পর্কে জানতে মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আয়েশা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, উভয় পক্ষের কাছ থেকে কাগজপত্র জমা নেয়া হয়েছে। এখন যাচাই-বাচাই করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০ , ২০ মহররম ১৪৪২, ২২ ভাদ্র ১৪২৭

মাধবপুরে সরকারি জায়গা থেকে মাটি ও মাছ বিক্রি দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার দক্ষিণ বেজুড়া গ্রামে ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত নেয়া জায়গা থেকে শুকনো মৌসুমে মাটি ও বর্ষা মৌসুমে মাছ লুটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে এলাকার ৫ প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ‘দক্ষিণ বেজুড়া ভূমিহীন সমবায় সমিতি’র সভাপতি আবদুল মালেক। এদিকে, ওই জায়গাটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যেকোন সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষেও আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তবে যে কোন ধরণের অপ্রিতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পদক্ষেপ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উভয় পক্ষের কাছ থেকে কাগজপত্র জমা নিয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশিন (ভূমি) আয়েশা আক্তার। এখন তিনি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেবেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়- মাধবপুর উপজেলার দক্ষিণ বেজুড়া ১৭.৪৪ একক গোচরণ ভূমি সরকারের কাছ থেকে ২০১১-১২ সালের জন্য বন্দোবস্ত নেয় ভূমিহীন সমবায় সমিতি লি.। বন্দোবস্তের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে আবারও ওই জায়গাটি বন্দোবস্ত নেয়ার জন্য ভূমিহীন সমবায় সমিতি লি. সরকারের কাছে আবেদন করে। কিন্তু সরকার আর ওই জমি কারও নামে বন্দোবস্ত না দেয়ায় ভূমিহীন সমবায় সমিতি জায়গাটি ভোগদখল করে আসছে।

সম্প্রতি ওই জমিটি দখলের পাঁয়তারা করে দক্ষিণ বেজুড়া গ্রামের অলিদ মিয়া, জসিম মিয়া, আজিজ মিয়া আলমগীর মিয়া ও সাহাব উদ্দিন নামে চার প্রভাবশালী। শুকনো মৌসুমে (চলতি বছরের মার্চ মাসে) ওই জমি থেকে তারা প্রায় ১০ লাখ টাকার মাটি বিক্রি করে দিয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া এখন বর্ষা মৌসুমে ওই জায়টি তলিয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে মাছ বিক্রি করছেন প্রভাবশালীরা। লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উভয় পক্ষকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে কাগজপত্র জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেই মোতাবেক উভয় পক্ষ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশেয়া আক্তারের কাছে তাদের পক্ষের সব ধরনের কাগজপত্র দাখিল করেছেন। এ ব্যাপারে অভিযোগকারী আবদুল মালেক বলেন- ‘অলিদসহ ৫ জন এলাকার খুব প্রভাবশালী। তারা জোরপূর্বক আমাদের বন্দোবস্তকৃত জায়গা থেকে ১০ লাখ টাকার মাটি বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন বর্ষা মৌসুমে তারা মাছ লুটে নিচ্ছেন। এ ব্যাপারে সমাধান চেয়ে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

অভিযুক্ত অলিদ মিয়া বলেন, ‘এটি একটি গোচরণ ভূমি। এখানে শুকনো মৌসুমে গ্রামবাসী গরু রাখেন এবং বর্ষা মৌসুমে ভাসমান মাছ ধরা হয়। সেই মাছ বিক্রি করে এলাকার মসজিদ, মন্দির, মাদরাসাসহ সামাজিক ও ধর্মীয় কাছে ব্যয় করা হয়। তবে মাটি বিক্রির বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা।’ তিনি বলেন, ‘উপজেলা সহকারী কমিশনার আমাদের কাছ থেকে সব কাগজপত্র নিয়েছেন। এখন তিনি যাচাই-বাচাই করে বিষয়টি দেখবেন।’ বিষয়টি সম্পর্কে জানতে মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আয়েশা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, উভয় পক্ষের কাছ থেকে কাগজপত্র জমা নেয়া হয়েছে। এখন যাচাই-বাচাই করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’