প্রতারক চক্র দমনে টাস্কফোর্স গঠন করুন

সম্প্রতি রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ওরফে মোহাম্মদ সাহেদের প্রতারণার নানা ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর তার মতোই ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণা করা লোকজনকে নিয়ে আলোচনা চলছে। পুলিশ ও র‌্যাবের গোয়েন্দারা এরই মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে নজরদারি বাড়িয়ে বেশ কয়েকজন প্রতারককে ধরেছেন। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকা থেকে ফুলবিক্রেতা শিশু জিনিয়াকে (৯) ফুচকা খাইয়ে অপহরণের অভিযোগে লোপা তালুকদার (৪২) নামের এক নারীকে গ্রেফতার করেছে ডিবি। পুলিশের গোয়েন্দারা লোপার সিনিয়র সাংবাদিক পরিচয়ে তদবির ও বহুরূপী প্রতারণার তথ্য পেয়েছেন। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ছবি রয়েছে তার।

প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত লোপা ও সাহেদের মতো বেশকিছু ব্যক্তি যে আইনের আওতায় এসেছে এটা ইতিবাচক। তবে এটাও স্পষ্ট যে, সমাজে এদের মতো আরও অনেক প্রতারক তৈরি হয়েছে, এখনও বীরদর্পে বিচরণ করছে এবং ক্ষমতাসীন দল, গণমাধ্যম, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা কিংবা বিশেষ কোন বাহিনীর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে নানাভাবে লুটপাট করছে, জমি দখল করছে। কখনো কখনো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তুলে বা ফটোশপের মাধ্যমে ছবি বসিয়ে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে প্রচার করে ওরা। প্রতারক চক্রের ব্যাপারে প্রশাসনিক নজরদারি না থাকার কারণেই অপরাধের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারের সুযোগ বেড়েছে। সেটাকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত বড়লোক হওয়ার প্রবণতা থেকে এ ধরনের অপরাধ বাড়ছে।

সমাজে গজিয়ে ওঠা প্রতারকদের বিরুদ্ধে যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা নেয়া উচিত। এদের নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে যেমন কঠোর হতে হবে, তেমনি সবাইকে সচেতন হতে হবে। প্রয়োজনে জেলায় জেলায় বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে এদের শনাক্ত করতে হবে এবং আইনের আওতায় এনে কঠোর সাজা দিতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি নজরদারি চালানোর মাধ্যমে এমন অপরাধ দমন করা যেতে পারে।

আরও খবর

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০ , ২২ মহররম ১৪৪২, ২৪ ভাদ্র ১৪২৭

প্রতারক চক্র দমনে টাস্কফোর্স গঠন করুন

সম্প্রতি রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ওরফে মোহাম্মদ সাহেদের প্রতারণার নানা ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর তার মতোই ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণা করা লোকজনকে নিয়ে আলোচনা চলছে। পুলিশ ও র‌্যাবের গোয়েন্দারা এরই মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে নজরদারি বাড়িয়ে বেশ কয়েকজন প্রতারককে ধরেছেন। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকা থেকে ফুলবিক্রেতা শিশু জিনিয়াকে (৯) ফুচকা খাইয়ে অপহরণের অভিযোগে লোপা তালুকদার (৪২) নামের এক নারীকে গ্রেফতার করেছে ডিবি। পুলিশের গোয়েন্দারা লোপার সিনিয়র সাংবাদিক পরিচয়ে তদবির ও বহুরূপী প্রতারণার তথ্য পেয়েছেন। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ছবি রয়েছে তার।

প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত লোপা ও সাহেদের মতো বেশকিছু ব্যক্তি যে আইনের আওতায় এসেছে এটা ইতিবাচক। তবে এটাও স্পষ্ট যে, সমাজে এদের মতো আরও অনেক প্রতারক তৈরি হয়েছে, এখনও বীরদর্পে বিচরণ করছে এবং ক্ষমতাসীন দল, গণমাধ্যম, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা কিংবা বিশেষ কোন বাহিনীর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে নানাভাবে লুটপাট করছে, জমি দখল করছে। কখনো কখনো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তুলে বা ফটোশপের মাধ্যমে ছবি বসিয়ে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে প্রচার করে ওরা। প্রতারক চক্রের ব্যাপারে প্রশাসনিক নজরদারি না থাকার কারণেই অপরাধের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারের সুযোগ বেড়েছে। সেটাকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত বড়লোক হওয়ার প্রবণতা থেকে এ ধরনের অপরাধ বাড়ছে।

সমাজে গজিয়ে ওঠা প্রতারকদের বিরুদ্ধে যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা নেয়া উচিত। এদের নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে যেমন কঠোর হতে হবে, তেমনি সবাইকে সচেতন হতে হবে। প্রয়োজনে জেলায় জেলায় বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে এদের শনাক্ত করতে হবে এবং আইনের আওতায় এনে কঠোর সাজা দিতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি নজরদারি চালানোর মাধ্যমে এমন অপরাধ দমন করা যেতে পারে।