নদীর তীরে কোন স্থাপনা নির্মাণ করার আগে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে হবে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

নদীর তীরে কোন স্থাপনা নির্মাণ করার আগে নদী বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে হবে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক। তিনি বলেন, অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠান আছে যা নদী ভাঙ্গনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় তৈরি করা হয়েছে। পরবর্তীতে এসব প্রতিষ্ঠান রক্ষার নদী ভাঙ্গনরোধে অনেক টাকা ব্যয় করতে হয়। এক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ করার আগে নদী বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়া হলে এই সমস্যা পড়তে হতো না। এছাড়া নদী তীরবর্তী সরকারি খাস জমিতে অনেকেই অপরিকল্পিতভাবে ঘর-বাড়ি তৈরি করে। যা পরবর্তীতে নদীর ভাঙ্গনের মুখে পড়ে। নদীর দু’পাড়ে যে খালি জায়গা থাকি তা নদীর তীর রক্ষাণাবেক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে নদী খননের সময় মাটি ফেলা হয় এসব খালি জায়গায়। তাই নদীর তীরবর্তী এলাকায় কোন স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির মতামত গ্রহণের জন্য একটি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গতকাল মুঠোফোনে সংবাদে এই তথ্য জানান তিনি।

গত ১৮ অগাস্ট একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নদীর পাড়ে বা চরে কোন ধরনের সরকারি অফিস, বাসভবন, স্কুল ও কলেজ নির্মাণ না করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এর প্রেক্ষিত্রে ভবিষ্যতে নদী তীরবর্তী স্থান বা প্লাবনভূমিতে সরকারি কোন অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণের আগে ‘বাংলাদেশ পানি বিধিমালা ২০১৮’ অনুযায়ী গঠিত জেলা সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির পরামর্শ মতামত নেয়ার জন্য সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে অনুরোধ জানিয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই অনুরোধ করা হয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিবছর বর্ষাকালে বন্যা ও বন্যা পরবর্তী সময়ে নদী ভাঙ্গনের বিষয়টি নদীবিধৌত বাংলাদেশের জন্য একটি পুরনো সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে বর্তমান সরকার শতবর্ষী পরিকল্পনা ‘বাংলাদেশ ডেল্টা প্লান-২১০০’ গ্রহণ করেছে। এর আওতায় সমন্বিতভাবে নদী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বন্যা মোকাবিলায় প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। এমনটি লক্ষ্য করা গেছে যে, কোন প্রকার যাচাই ছাড়া নদী ভাঙ্গনের সম্ভাবনা রয়েছে এমন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামো (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, রাস্তা, কালভার্ট, সেতু, সাইক্লোন শেল্টারসহ অন্যান্য স্থাপনা) নির্মাণ করা হয়। নদী ভাঙ্গনের ফলে এসব স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে সরকারি অর্থ ও সম্পদ রক্ষার জন্য অবকাঠামো নির্মাণের স্থান নির্বাচনের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বন্যা ও নদীর ভাঙ্গনমুক্ত উপযুক্ত পরিসরে অবকাঠামো নির্মাণের এলাকা নির্বাচনের জন্য ওই স্থানের মাটির গঠনশৈলী, নদীর গতিপথ ও এর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা আবশ্যক। নদীর গতিপথ ও এর বৈশিষ্ট্য বিষয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করে থাকে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিশেষায়িত সংস্থাগুলো নদী প্লাবনভূমিসহ অন্যান্য জলাশয়ের গতি ও প্রকৃতি এবং ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নিয়মিতভাবে গবেষণা ও পরিবীক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। সরকারি বিভিন্ন দফতরগুলো নদীর ভাঙ্গনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে অবকাঠামো নির্মাণের স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে সঠিক দিকনির্দেশনা ও মতামত গ্রহণ করতে পারে, যা উন্নয়ন বিনিয়োগের স্থায়িত্ব রক্ষায় সহায়ক হবে। এছাড়া স্কুল-কলেজের বেলায় সহজে খুলে সরিয়ে নেয়া যায় এ রকম নির্মাণ কৌশল এবং ডিজাইন করে তৈরি করতে হবে বলে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ , ২৪ মহররম ১৪৪২, ২৬ ভাদ্র ১৪২৭

নদীর তীরে কোন স্থাপনা নির্মাণ করার আগে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে হবে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

নদীর তীরে কোন স্থাপনা নির্মাণ করার আগে নদী বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে হবে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক। তিনি বলেন, অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠান আছে যা নদী ভাঙ্গনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় তৈরি করা হয়েছে। পরবর্তীতে এসব প্রতিষ্ঠান রক্ষার নদী ভাঙ্গনরোধে অনেক টাকা ব্যয় করতে হয়। এক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ করার আগে নদী বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়া হলে এই সমস্যা পড়তে হতো না। এছাড়া নদী তীরবর্তী সরকারি খাস জমিতে অনেকেই অপরিকল্পিতভাবে ঘর-বাড়ি তৈরি করে। যা পরবর্তীতে নদীর ভাঙ্গনের মুখে পড়ে। নদীর দু’পাড়ে যে খালি জায়গা থাকি তা নদীর তীর রক্ষাণাবেক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে নদী খননের সময় মাটি ফেলা হয় এসব খালি জায়গায়। তাই নদীর তীরবর্তী এলাকায় কোন স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির মতামত গ্রহণের জন্য একটি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গতকাল মুঠোফোনে সংবাদে এই তথ্য জানান তিনি।

গত ১৮ অগাস্ট একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নদীর পাড়ে বা চরে কোন ধরনের সরকারি অফিস, বাসভবন, স্কুল ও কলেজ নির্মাণ না করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এর প্রেক্ষিত্রে ভবিষ্যতে নদী তীরবর্তী স্থান বা প্লাবনভূমিতে সরকারি কোন অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণের আগে ‘বাংলাদেশ পানি বিধিমালা ২০১৮’ অনুযায়ী গঠিত জেলা সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির পরামর্শ মতামত নেয়ার জন্য সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে অনুরোধ জানিয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই অনুরোধ করা হয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিবছর বর্ষাকালে বন্যা ও বন্যা পরবর্তী সময়ে নদী ভাঙ্গনের বিষয়টি নদীবিধৌত বাংলাদেশের জন্য একটি পুরনো সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে বর্তমান সরকার শতবর্ষী পরিকল্পনা ‘বাংলাদেশ ডেল্টা প্লান-২১০০’ গ্রহণ করেছে। এর আওতায় সমন্বিতভাবে নদী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বন্যা মোকাবিলায় প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। এমনটি লক্ষ্য করা গেছে যে, কোন প্রকার যাচাই ছাড়া নদী ভাঙ্গনের সম্ভাবনা রয়েছে এমন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামো (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, রাস্তা, কালভার্ট, সেতু, সাইক্লোন শেল্টারসহ অন্যান্য স্থাপনা) নির্মাণ করা হয়। নদী ভাঙ্গনের ফলে এসব স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে সরকারি অর্থ ও সম্পদ রক্ষার জন্য অবকাঠামো নির্মাণের স্থান নির্বাচনের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বন্যা ও নদীর ভাঙ্গনমুক্ত উপযুক্ত পরিসরে অবকাঠামো নির্মাণের এলাকা নির্বাচনের জন্য ওই স্থানের মাটির গঠনশৈলী, নদীর গতিপথ ও এর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা আবশ্যক। নদীর গতিপথ ও এর বৈশিষ্ট্য বিষয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করে থাকে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিশেষায়িত সংস্থাগুলো নদী প্লাবনভূমিসহ অন্যান্য জলাশয়ের গতি ও প্রকৃতি এবং ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নিয়মিতভাবে গবেষণা ও পরিবীক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। সরকারি বিভিন্ন দফতরগুলো নদীর ভাঙ্গনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে অবকাঠামো নির্মাণের স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে সঠিক দিকনির্দেশনা ও মতামত গ্রহণ করতে পারে, যা উন্নয়ন বিনিয়োগের স্থায়িত্ব রক্ষায় সহায়ক হবে। এছাড়া স্কুল-কলেজের বেলায় সহজে খুলে সরিয়ে নেয়া যায় এ রকম নির্মাণ কৌশল এবং ডিজাইন করে তৈরি করতে হবে বলে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।