করোনা পরিস্থিতি ভালো না হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবো না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে বিদ্যালয়গুলো না খোলা পর্যন্ত তার সরকারের অনলাইন শিক্ষা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তার সরকার যখনই স্কুলগুলো খোলার বিষয়ে চিন্তা শুরু করল তখনই করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ধাক্কা আসার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাজেই আমরা আমাদের ছেলে-মেয়েদের কথা চিন্তা করেই স্কুল না খুলে এখন ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছি। এরমধ্যে যদি অবস্থা ভালো হয় তাহলে স্কুল খোলা হবে, না হলে আমরা খুলব না।’

তিনি করোনাকালীন শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি অন্য বই পড়ার এবং শরীরচর্চা ও খেলাধুলার পাশাপাশি সংস্কৃতি চর্চা চালিয়ে নেয়ার জন্যও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ করেন।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি এক অনুষ্ঠানে ২০২১ শিক্ষাবর্ষের প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক স্তর, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি মনে করি, বিভিন্ন ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

তিনি বলেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (জুম, ম্যাসেঞ্জার, ফেসবুক গ্রুপ, ইউটিউব) ব্যবহারের মাধ্যমে ক্লাস রেকর্ডিং করে কিশোর বাতায়ন, শিক্ষক বাতায়ন এবং ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে শ্রেণী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কাজেই ঘরে বসে আমাদের শিক্ষার্থীরা শিক্ষাগ্রহণ করতে পারছে।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও যথাসময়ে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে নতুন বই তুলে দিচ্ছে সরকার। ২০২১ শিক্ষাবর্ষে সর্বমোট ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৬২ হাজার ৪১২টি পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাজধানীর শেরেবাংলানগরস্থ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন কয়েক জন প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্র্থীর হাতে নতুন পাঠ্যপুস্তক তুলে দেন। আজ ১ জানুয়ারি থেকে সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় বই বিতরণ শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে তিনদিন করে মোট বারোদিন ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নতুন বই বিতরণ করা হবে।

করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ১ জানুয়ারি বই উৎসব না হলেও বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে বই পাচ্ছে। এবার ছাপা হচ্ছে প্রায় ৩৫ কোটি বই।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে শিক্ষার্থীদের মানসিক শিক্ষার বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘আমি আমাদের সব শিক্ষার্র্থীদের অনুরোধ করব, যদিও ঘরে বসে সময় কাটানোটা অত্যন্ত কষ্টকর তারপরও শুধু পাঠ্যপুস্তক নয় অন্য আরও অনেক বই আছে যেগুলো পড়া যায় তা পড়ার জন্য আমি অনুরোধ করব। সেইসঙ্গে একটু খেলাধুলাও করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘যারা অভিভাবক বা বাবা-মা রয়েছেন তাদের আমি অনুরোধ করব আপনারা বাচ্চাদের সময় দেবেন। কারণ, করোনাভাইরাস যেমন আমাদের কষ্ট দিচ্ছে তারপরও হাজার কাজের চাপের মধ্যেও ছেলে-মেয়েদের নিয়ে সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন, এই সুযোগটার আপনারা সদ্ব্যবহার করবেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ছেলে-মেয়েদের নিয়ে একটু সময় কাটাবেন এবং তাদের শরীরচর্চাটা যেন হয়, সেজন্য একটু খেলাধুলা যাতে করতে পারে সেই ব্যবস্থাটা নিতে হবে। এতে ছেলে-মেয়েদের মানসিক এবং শারিরীক স্বাস্থ্যটা ভালো থাকবে। সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়ার জন্য আমি অনুরোধ জানাচ্ছি।’

শিক্ষামন্ত্রী মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব গোলাম মো. হাসিবুল আলম নিজ নিজ মন্ত্রীকে বই বিতরণে সহযোগিতা করেন।

গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। সেখানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ৯৪ হাজার ২৭৫ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর (চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও সাদ্রী) শিশুদের জন্য পাঁচটি ভাষায় প্রাক-প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার ২৮৮টি বিশেষ ভাষায় বই বিতরণ করা হবে। তবে তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা তাদের ভাষায় শুধুমাত্র বাংলা বইটি পাবে। এবার ৯ হাজার ১৯৬ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর জন্য ব্রেইল পদ্ধতির বই বিতরণ করা হবে।

অন্যদিকে মুজিববর্ষ উপলক্ষে এবার বইয়ের প্রচ্ছদে নতুনত্ব আনা হয়েছে। পাঠ্যপুস্তকের ব্যাক পেজে বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলনসহ বর্তমান সরকারের নানা উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের বিভিন্ন স্থিরচিত্র ক্যাপশনসহ সংযোজন করা হয়েছে। গত ২০১০ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এই দশ বছরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মিলিয়ে প্রায় ৩৩১ কোটি ৪৭ লাখ বই সারাদেশে বিতরণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি ছাত্র-ছাত্রীদের আহ্বান জানাচ্ছি তারা যাতে করোনাকালে ঘরে বসে চলমান পাঠদান (অনলাইন এবং টেলিভিশন) কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।

তিনি বলেন, করোনার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বা অভিঘাত মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান এবং একজন ফোকাল পয়েন্ট শিক্ষককে প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই দেশের শীর্ষস্থানীয় সাইকোলজিস্টদের সহায়তায় একটি কাউন্সেলিং ম্যানুয়াল প্রণীত হয়েছে।

করোনাকালীন বিশেষ ব্যবস্থায় ১ হাজার ৬৪৬টি স্কুল-কলেজকে এমপিওভুক্তকরণের মাধ্যমে ২ হাজার ৫৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা ও অবসর সুবিধা নিশ্চিত করাসহ এই সময়ে সরকার প্রদত্ত অন্যান্য সুবিধাদিরও কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি করোনাকালেও যথযসময়ে বই মুদ্রণ করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে পারায় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

তিনি এ সময় দেশবাসীকে ইংরেজি নববর্ষের আগাম শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বলেন, ‘যারা গৃহহীন বা ভূমিহীন তাদের আমরা ঘর করে দিচ্ছি। মুজিববর্ষে বাংলাদেশের একজন মানুষও ঠিকানা বিহীন থাকবে না।’

‘মুজিববর্ষে দেশের সব ঘরে বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে আলো জালার পাশাপাশি সারাদেশে শিক্ষার আলো জালাও তার সরকারের অন্যতম লক্ষ্য,’ উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে শতভাগ বিদ্যুৎ প্রদানের মাধ্যমে দেশের সব ঘর যেমনি আলোকিত করব, তেমনি দেশের প্রতিটি ছেলে-মেয়ে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে। দেশে ও বিদেশেও তারা নাম করবে এবং এর মাধ্যমেই বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে আমরা গড়ে তুলব।

শুক্রবার, ০১ জানুয়ারী ২০২১ , ১৭ পৌষ ১৪২৭, ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪২

করোনা পরিস্থিতি ভালো না হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবো না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে বিদ্যালয়গুলো না খোলা পর্যন্ত তার সরকারের অনলাইন শিক্ষা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তার সরকার যখনই স্কুলগুলো খোলার বিষয়ে চিন্তা শুরু করল তখনই করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ধাক্কা আসার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাজেই আমরা আমাদের ছেলে-মেয়েদের কথা চিন্তা করেই স্কুল না খুলে এখন ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছি। এরমধ্যে যদি অবস্থা ভালো হয় তাহলে স্কুল খোলা হবে, না হলে আমরা খুলব না।’

তিনি করোনাকালীন শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি অন্য বই পড়ার এবং শরীরচর্চা ও খেলাধুলার পাশাপাশি সংস্কৃতি চর্চা চালিয়ে নেয়ার জন্যও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ করেন।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি এক অনুষ্ঠানে ২০২১ শিক্ষাবর্ষের প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক স্তর, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি মনে করি, বিভিন্ন ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

তিনি বলেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (জুম, ম্যাসেঞ্জার, ফেসবুক গ্রুপ, ইউটিউব) ব্যবহারের মাধ্যমে ক্লাস রেকর্ডিং করে কিশোর বাতায়ন, শিক্ষক বাতায়ন এবং ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে শ্রেণী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কাজেই ঘরে বসে আমাদের শিক্ষার্থীরা শিক্ষাগ্রহণ করতে পারছে।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও যথাসময়ে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে নতুন বই তুলে দিচ্ছে সরকার। ২০২১ শিক্ষাবর্ষে সর্বমোট ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৬২ হাজার ৪১২টি পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাজধানীর শেরেবাংলানগরস্থ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন কয়েক জন প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্র্থীর হাতে নতুন পাঠ্যপুস্তক তুলে দেন। আজ ১ জানুয়ারি থেকে সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় বই বিতরণ শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে তিনদিন করে মোট বারোদিন ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নতুন বই বিতরণ করা হবে।

করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ১ জানুয়ারি বই উৎসব না হলেও বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে বই পাচ্ছে। এবার ছাপা হচ্ছে প্রায় ৩৫ কোটি বই।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে শিক্ষার্থীদের মানসিক শিক্ষার বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘আমি আমাদের সব শিক্ষার্র্থীদের অনুরোধ করব, যদিও ঘরে বসে সময় কাটানোটা অত্যন্ত কষ্টকর তারপরও শুধু পাঠ্যপুস্তক নয় অন্য আরও অনেক বই আছে যেগুলো পড়া যায় তা পড়ার জন্য আমি অনুরোধ করব। সেইসঙ্গে একটু খেলাধুলাও করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘যারা অভিভাবক বা বাবা-মা রয়েছেন তাদের আমি অনুরোধ করব আপনারা বাচ্চাদের সময় দেবেন। কারণ, করোনাভাইরাস যেমন আমাদের কষ্ট দিচ্ছে তারপরও হাজার কাজের চাপের মধ্যেও ছেলে-মেয়েদের নিয়ে সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন, এই সুযোগটার আপনারা সদ্ব্যবহার করবেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ছেলে-মেয়েদের নিয়ে একটু সময় কাটাবেন এবং তাদের শরীরচর্চাটা যেন হয়, সেজন্য একটু খেলাধুলা যাতে করতে পারে সেই ব্যবস্থাটা নিতে হবে। এতে ছেলে-মেয়েদের মানসিক এবং শারিরীক স্বাস্থ্যটা ভালো থাকবে। সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়ার জন্য আমি অনুরোধ জানাচ্ছি।’

শিক্ষামন্ত্রী মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব গোলাম মো. হাসিবুল আলম নিজ নিজ মন্ত্রীকে বই বিতরণে সহযোগিতা করেন।

গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। সেখানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ৯৪ হাজার ২৭৫ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর (চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও সাদ্রী) শিশুদের জন্য পাঁচটি ভাষায় প্রাক-প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার ২৮৮টি বিশেষ ভাষায় বই বিতরণ করা হবে। তবে তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা তাদের ভাষায় শুধুমাত্র বাংলা বইটি পাবে। এবার ৯ হাজার ১৯৬ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর জন্য ব্রেইল পদ্ধতির বই বিতরণ করা হবে।

অন্যদিকে মুজিববর্ষ উপলক্ষে এবার বইয়ের প্রচ্ছদে নতুনত্ব আনা হয়েছে। পাঠ্যপুস্তকের ব্যাক পেজে বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলনসহ বর্তমান সরকারের নানা উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের বিভিন্ন স্থিরচিত্র ক্যাপশনসহ সংযোজন করা হয়েছে। গত ২০১০ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এই দশ বছরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মিলিয়ে প্রায় ৩৩১ কোটি ৪৭ লাখ বই সারাদেশে বিতরণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি ছাত্র-ছাত্রীদের আহ্বান জানাচ্ছি তারা যাতে করোনাকালে ঘরে বসে চলমান পাঠদান (অনলাইন এবং টেলিভিশন) কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।

তিনি বলেন, করোনার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বা অভিঘাত মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান এবং একজন ফোকাল পয়েন্ট শিক্ষককে প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই দেশের শীর্ষস্থানীয় সাইকোলজিস্টদের সহায়তায় একটি কাউন্সেলিং ম্যানুয়াল প্রণীত হয়েছে।

করোনাকালীন বিশেষ ব্যবস্থায় ১ হাজার ৬৪৬টি স্কুল-কলেজকে এমপিওভুক্তকরণের মাধ্যমে ২ হাজার ৫৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা ও অবসর সুবিধা নিশ্চিত করাসহ এই সময়ে সরকার প্রদত্ত অন্যান্য সুবিধাদিরও কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি করোনাকালেও যথযসময়ে বই মুদ্রণ করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে পারায় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

তিনি এ সময় দেশবাসীকে ইংরেজি নববর্ষের আগাম শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বলেন, ‘যারা গৃহহীন বা ভূমিহীন তাদের আমরা ঘর করে দিচ্ছি। মুজিববর্ষে বাংলাদেশের একজন মানুষও ঠিকানা বিহীন থাকবে না।’

‘মুজিববর্ষে দেশের সব ঘরে বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে আলো জালার পাশাপাশি সারাদেশে শিক্ষার আলো জালাও তার সরকারের অন্যতম লক্ষ্য,’ উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে শতভাগ বিদ্যুৎ প্রদানের মাধ্যমে দেশের সব ঘর যেমনি আলোকিত করব, তেমনি দেশের প্রতিটি ছেলে-মেয়ে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে। দেশে ও বিদেশেও তারা নাম করবে এবং এর মাধ্যমেই বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে আমরা গড়ে তুলব।