কাঁঠাল পাতার টাকায় খেলা!

শিশুবেলায় সবুজ ও হলুদ রঙের কাঁঠাল পাতাকে টাকা বানিয়ে কে না খেলেছে? আহারে টাকা! সরকারি ক্রয় পরিকল্পনা ও প্রকল্পের পরামর্শকের পেছনে যেভাবে অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়, তাতে মনে হয় কাঁঠাল পাতার দামও এখনকার টাকায় নেই। সোনার বাংলায় টাকার অভাব নেই। টাকা যেন বাতাসে উড়ে! বলনে-চলনে আমরা অধিকাংশ মানুষই সৎ! তবে ... সুযোগের অভাবে! বালিশ কান্ড, পর্দা কান্ড, খিচুড়ি কান্ডের পর এবার এসেছে হাত ধোয়া কান্ড! গরিব মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন বা পায়খানা নির্মাণ ও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশের বিভিন্ন জায়গায় হাত ধোয়া স্টেশন নির্মাণকাজের পরামর্শকের পেছনে খরচ হবে ৫৬ কোটি টাকা। একই প্রকল্পে ৩ লাখ গরিব মানুষ বাছাই এবং করোনাভাইরাসের পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে মানুষের আচরণ পরিবর্তনের কাজে ব্যয় হবে আরও ৪০ কোটি টাকা। সম্প্রতি ‘মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি’ নামের এই প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় উত্থাপন করার কথা গণমাধ্যমে আসে।

হাত ধোয়ার পরামর্শকের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসামাজিক কার্যকলাপের মতো নানা কুরুচিপূর্ণ অভিমতে ভাইরাল হওয়ায় কী আছে? কারণ, এর আগে নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুরের দেশ বাংলাদেশ থেকে পুকুর কাটার কায়দা শেখার জন্য একটি প্রকল্পের ১৬ কর্মকর্তাকে ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। বোয়িংয়ের এক উড়োজাহাজ ডেলিভারি নিতে দুই দফায় ৪৫ জনের মার্কিন মুল্লুক ঘোরার ঘটনাও আমরা দেখেছি। একটি ক্যামেরা কিনতে তিনজনের বিদেশ যাওয়া, নলকূপ খনন শিখতে একাধিক কর্মকর্তার বিদেশে সফর ইত্যাদি। তাহলে হাত ধোয়া কী দোষ করল!

গরিব বাছাই

প্রকল্পে ৩ লাখ গরিব মানুষ বাছাই এবং করোনাভাইরাসের পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে মানুষের আচরণ পরিবর্তনের কাজে ব্যয় হবে ৪০ কোটি টাকা। বাংলাদেশের মতো গরিব দেশে, গরিব চেনা ও বাছাই করার মতো ‘জটিল’ ও ‘মারাত্মক’ গবেষণায় পরামর্শকের পেছনে ৪০ কোটি টাকা ব্যয়তো নস্যি খবর! দরকার হলে গরিব বাছাইয়ের জন্য বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য কোন দলকে পাঠানো যেতে পারে। গরিব মানুষ খুঁজে পাওয়া যে কত কঠিন তার দৃষ্টান্ত হলো, ৩ লাখ ৫১ হাজার গরিব মানুষ খুঁজে পেতে ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে মানুষের আচরণ পরিবর্তনের কাজে ৪০ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ! গড়ে একজনের পেছনে মাত্র ১১৪০ টাকা। ল্যাট্রিন, স্বাস্থ্যবিধি এবং হাত ধোয়ার জন্য বিদেশি ঋণ ও পরামর্শক লাগা দুঃখজনক। আমাদের মন্ত্রণালয়ের ডাক্তার, প্রকৌশলী, আরকিটেকরা তাহলে কী করেন? এ ধরনের প্রস্তাব দেয়া শুধু বাংলাদেশের সরকারের অফিসগুলোতেই সম্ভব।

সব কিছুতেই পরামর্শক!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এতোভাবে বলছেন, অহেতুক ব্যয় কমানোর জন্য। কিন্তু এ ভদ্রবেশী লোগগুলো অহেতুক ব্যয় যে অন্য ধান্দায় করেন তা ইতিপূর্বে প্রমাণ হয়েছে। জাতির পিতার মহান আত্মত্যাগ ও অর্জন আমরা তুলে ধরতে পারিনি এমনকি তার আদর্শ ধারণ তো করিইনি বরং তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে হীনস্বার্থ হাসিল করছি। আজও আমাদের দেশের প্রধান সমস্যা দরিদ্রতা নয়, দুর্নীতি। মূর্খের দ্বারা দেশ ও সমাজ নষ্ট হয় না, সমাজ নষ্ট হয় শিক্ষিত লোকদের মূর্খ আচরণের কারণে। মূর্খের দেশেই সর্বক্ষেত্রে পরামর্শের বিকল্প নেই! হাত ধোয়া, পুকুর কাটা, খিচুড়ি রান্না শেখাসহ সব কিছুতেই যখন বিদেশ ভ্রমণ ও পরামর্শ লাগে; তার মানে এ কাজগুলো সঠিকভাবে করার বাংলাদেশি কারোরই যোগ্যতা নেই! অসৎ পথে চলতে চলতে আসলে আমরা নিজেদের যোগ্যতা ও বিশ্বাসটুকুই হারিয়ে ফেলেছি। এজন্যই আমরা অপরের ওপর নির্ভর শুরু করেছি। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় দেখে বলতেই হয়, আরব্য রজনীর আলি বাবা চল্লিশ চোরের চোরগুলো জীবিত হয়ে মর্ত্যে (বাংলাদেশে) ফিরে এসেছে! ৫৯৫৭ টাকায় বালিশ কিনে তা আবার ২০ তলার ফ্ল্যাটে পৌঁছাতে ৭৬০ টাকা। একটি বৈদ্যুতিক কেটলির দাম ৫৩১৩ টাকা, ওঠানোর খরচ ২৯৪৫ টাকা ব্যয়ের ঘটনা চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। সর্বসাধারণকে এগুলো যে বিশ্বাস এবং খাওয়ানোর মতো নয়, এ বোধটুকুও তারা হারিয়ে ফেলেছেন। দুর্নীতি করতে করতে কতিপয় মানব মেন্টাল হয়ে গেছেন। এখন জরুরি আমাদের পাবনার মেন্টাল হাসপাতালের পরিধি বাড়ানো। অন্যদিকে কিছু নিরীহ মানুষকে দুর্নীতিবাজরদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সেচ্ছায় বাধ্য হয়ে পাবনা চলে যেতে হবে। অতীতে দেখা গেছে, বৃদ্ধ বাবা-মা অতি সাধারণ টিনের ঘরে থাকেন, অথচ সন্তান বস্তাভরে টাকা রাখেন, টাকার তোষকের ওপর ঘুমান। শহর থেকে গ্রামের অসুস্থ বাবা-মাকেই দেখতে আসার যাদের মানসিকতা নেই, তারা বিদেশ ভ্রমণে ব্যস্ত অভিজ্ঞতা অর্জনের মানসে! রসিক শিল্পীরা সত্যিই মজাভরে গেয়ে থাকেন ‘বাবা তোমার দরবারে সব পাগলের খেলা! অহ! বাবা... হরেক রকম পাগল দিয়া মিলাইছে মেলা...! বাবা তোমার দেশেতে সব পাগলের খেলা!

এ ধরনের সুপারিশ যদি পাশ হয়, তখন বুঝতে হবে দেশের তেরটা বেজে গেছে! বারটাতো ইতিপূর্বে বেজেই গেছে। অভাগা এ দেশের জনগণের শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলাম... ছাড়া কিছুই করার নেই।

কর্মকর্তাদের মেজাজ গরম

দেশে এখন ক্ষমতার বাহাদুরি চাই, রাতারাতি যেনতেন টাকা চাই। তা পাপিয়ার মতো পাঁচ তারকা হোটেলে সরকারি-বেসরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের জন্য ‘হেরেম’ খুলে হোক বা করোনা টেস্ট না করেই ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে হোক, গ্রামের সহজ-সরল মা-বোনদের চাকরির প্রলোভনে বিদেশে পাচার করে যৌনকর্মী বলে বিক্রি করে হোক। পাপিয়ার মধুচন্দ্রিমার ডেরায় কারা যেত? স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বাইরে যখন মানুষ নিজেকে ভাবা শুরু করে, বা নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়, ক্ষমতার মারপ্যাঁচে তখন দেশে এ রকম লাখো সাহেদ, পাপিয়া, সাবরিনা তৈরি হবেই।

দুর্নীতি কমানোর কথা ও খবর শুনলে কর্মকর্তাদের মেজাজ গরম হয়ে যায়। তাদের মনোভাব অনেকটা এ রকম, কেনাকাটায় টাকা মারবার না দিলে কামই করুম না। ইতিপূর্বে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘(দুর্নীতির) ওপর গণমাধ্যমে বারবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে আলোচনা-সমালোচনার কারণে ক্রয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এক ধরনের ভীতির সঞ্চার করেছে। অনেকেই এ ধরনের পদে থাকতে চাইছেন না। আবার অনেকে ক্রয় প্রক্রিয়া থেকে দূরে থাকছেন কিংবা ক্রয় প্রক্রিয়া বিলম্বিত করছেন। এতে করে স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন বিঘিœত ও সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়।’ সরকারের কতিপয় গোলামদের ভাবসাবটা এরকম, বালিস কেনা হোক, পর্দা কেনা হোক, বাতি কেনা হোক, ভুয়া সার্টিফিকেট দেয়া হোক, কোটি কোটি টাকা চুরি করুম দুদক কোন ব্যবস্থা নিতে পারবে না, সংবাদপত্রও কোন খবর প্রকাশ করবে না!

করাপশন করে শিক্ষিত সমাজ

ইতিহাসের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘আজকে করাপশনের কথা বলতে হয়। এই বাংলার মাটি থেকে করাপশন উৎখাত করতে হবে। করাপশন আমার বাংলার কৃষকরা করে না। করাপশন আমার বাংলার মজদুর করে না। করাপশন করি আমরা বাংলার শিক্ষিত সমাজ। যারা আজকে ওদের টাকা দিয়ে লেখাপড়া করেছি। আজ যেখানে যাবেন করাপশন দেখবেন। আমাদের রাস্তা খুঁড়তে যান- করাপশন। খাদ্য কিনতে যান- করাপশন। বিদেশ গেলে টাকার ওপর করাপশন। তারা কারা? আমরা যে ৫% শিক্ষিত সমাজ, আমরা হলাম দুনিয়ার সবচেয়ে করাপ্ট পিপল, আর আমরাই করি বক্তৃতা। আমরা লিখি খবরের কাগজে, আমরা বড়াই করি...।’

বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।’ কিন্তু সেই রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশ ছেড়ে চিরতরে ভারতে চলে গেলেন কোন অভিমানে, তা কোনো গবেষণায় আজও পাওয়া যায়নি। কিন্তু যাওয়ার সময় ঠিকই বলে গেছেন, ‘৭ কোটি বাঙালির হে বিমুগ্ধ জননী রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি।’ আমরা হয়তো মানুষ পাইনি, পেয়েছিল [করাপ্ট] বাঙালি!

বঙ্গবন্ধু বর্ণনা করেছেন, এক ছেলের সরকারি চাকরি নিয়ে তার পিতা বলেন, ‘একশত টাকা বেতন পায় আর কিছু উপরিও আছে।’ এই কথা শুনে বঙ্গবন্ধু উপলব্ধি প্রকাশ করেন, ‘ভেবে দেখুন, সমাজ কোথায় গিয়াছে! ছেলে ঘুষ খায় পিতা তাহা গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করে। সমাজ কত নেমে গেলে এই অবস্থায় আসতে পারে।’ (আমার দেখা নয়া চীন, পৃষ্ঠা ১০৬)।

পূর্বে বর্তমান খরচের চেয়ে দ্বিগুণ ছিল

দয়াময় সৃষ্টিকর্তা না করুন! অদূর ভবিষ্যতে যদি এমন ভাইরাসের আবির্ভাব হয়, যাতে শুধু হাত ধোয়াই নয়, বৈজ্ঞানিকরা গোসল করতে বলেন। আর এতে যদি বাংলাদেশে গোসল করার পরামর্শকের প্রয়োজন হয় তাহলে জাতির ৫৬ হাজার কোটি টাকা হরিলুট হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছে খরচের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এর আগে এসব খাতে খরচ বর্তমান খরচের চেয়ে দ্বিগুণ ধরা ছিল। পরে সংশোধন করে কমিয়ে আনা হয়েছে।’ ভাবসাব এমন যে, এত কম টাকায় হাত ধোয়ার এত্ত বড় একটা কঠিন কাজের পরামর্শক হয় কেমনে? প্রকল্পটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পরামর্শক নিয়োগের মাধ্যমে ৩ লাখ ৫১ হাজার গরিব মানুষ বাছাই করা হবে। একই সঙ্গে করোনা মোকাবিলায় ভিডিও প্রদর্শনীর মাধ্যমে মানুষের আচরণ পরিবর্তন করা হবে। এ দুটি কাজ করতে খরচ হবে ৪০ কোটি টাকা। প্রাথমিক সমীক্ষা, নকশা ও সুপারভিশন কাজের পরামর্শকের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫৬ কোটি টাকা। এভাবে এত টাকা রাখায় প্রশ্ন তুলেছে খোদ পরিকল্পনা কমিশন। কিন্তু জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে, বিধি মেনেই উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণে নেয়া প্রকল্পের পরামর্শকের খরচ ধরা হয়েছে।

খিচুড়ি রান্না শিখতে বিদেশ ভ্রমণ

বাংলার আদর্শ মা-খালাদের হাতের চাল-ডালের মিলমিশের সুস্বাধু ‘খিচুড়ি’র স্বাদ কারও অজানা নয়। বাংলাদেশের মতো বিশ্বে অন্য কোন দেশেই এত খিচুড়ি খাওয়া হয় না। অথচ সেই খিচুরি রান্না শেখা ও পরিবেশনের জন্যও দরকার বিদেশ ভ্রমণ! ইতিপূর্বে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বিদেশ থেকে খিচুড়ির ট্রেনিং নেয়ার জন্য মাত্র পাঁচ কোটি টাকা চেয়েছিল। এছাড়া একই ট্রেনিং দেশে বসে দেয়ার জন্য আরও চেয়েছিল ১০ কোটি টাকা। খিচুড়ি রান্নার জন্য তেল-নুন ও থালা-বাটি কেনা বাবদ আরও যে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে, সেগুলোর অঙ্ক মেলাতে যেয়ে তাল-গোল লেগে যাওয়ায় সর্বশেষ পরিকল্পনা কমিশন এই প্রকল্প থেকে বিদেশযাত্রা বাতিল করেছে। খিচুড়ির খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় বিষয়টি খোলাসা করার চেষ্টা করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম-আল-হোসেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলছেন, খিচুড়ি রান্না শেখার জন্য নয়, আসলে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মতভাবে খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থাপনা দেখতে কর্মকর্তাদের বিদেশ পাঠানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

এটি ঠিক, যে কোনো প্রকল্পে দেশে-বিদেশে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের বিধান রয়েছে। এই বিধান যত দিন থাকবে টিকিয়ে রাখা যাবে, তত দিন ভ্রমণভিত্তিক অভিজ্ঞতাপিপাসু কর্মকর্তাদের প্রকল্পনিষ্ঠা অদম্য থেকে যাবে। তত দিন পাবলিকের পয়সায় থালা-বাটিসহ হাত ধোয়ার অভিজ্ঞতা নিতেও বিদেশে যাওয়া যাবে।

abunoman1972@gmail.com

শুক্রবার, ০১ জানুয়ারী ২০২১ , ১৭ পৌষ ১৪২৭, ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪২

কাঁঠাল পাতার টাকায় খেলা!

মোহাম্মদ আবু নোমান

শিশুবেলায় সবুজ ও হলুদ রঙের কাঁঠাল পাতাকে টাকা বানিয়ে কে না খেলেছে? আহারে টাকা! সরকারি ক্রয় পরিকল্পনা ও প্রকল্পের পরামর্শকের পেছনে যেভাবে অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়, তাতে মনে হয় কাঁঠাল পাতার দামও এখনকার টাকায় নেই। সোনার বাংলায় টাকার অভাব নেই। টাকা যেন বাতাসে উড়ে! বলনে-চলনে আমরা অধিকাংশ মানুষই সৎ! তবে ... সুযোগের অভাবে! বালিশ কান্ড, পর্দা কান্ড, খিচুড়ি কান্ডের পর এবার এসেছে হাত ধোয়া কান্ড! গরিব মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন বা পায়খানা নির্মাণ ও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশের বিভিন্ন জায়গায় হাত ধোয়া স্টেশন নির্মাণকাজের পরামর্শকের পেছনে খরচ হবে ৫৬ কোটি টাকা। একই প্রকল্পে ৩ লাখ গরিব মানুষ বাছাই এবং করোনাভাইরাসের পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে মানুষের আচরণ পরিবর্তনের কাজে ব্যয় হবে আরও ৪০ কোটি টাকা। সম্প্রতি ‘মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি’ নামের এই প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় উত্থাপন করার কথা গণমাধ্যমে আসে।

হাত ধোয়ার পরামর্শকের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসামাজিক কার্যকলাপের মতো নানা কুরুচিপূর্ণ অভিমতে ভাইরাল হওয়ায় কী আছে? কারণ, এর আগে নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুরের দেশ বাংলাদেশ থেকে পুকুর কাটার কায়দা শেখার জন্য একটি প্রকল্পের ১৬ কর্মকর্তাকে ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। বোয়িংয়ের এক উড়োজাহাজ ডেলিভারি নিতে দুই দফায় ৪৫ জনের মার্কিন মুল্লুক ঘোরার ঘটনাও আমরা দেখেছি। একটি ক্যামেরা কিনতে তিনজনের বিদেশ যাওয়া, নলকূপ খনন শিখতে একাধিক কর্মকর্তার বিদেশে সফর ইত্যাদি। তাহলে হাত ধোয়া কী দোষ করল!

গরিব বাছাই

প্রকল্পে ৩ লাখ গরিব মানুষ বাছাই এবং করোনাভাইরাসের পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে মানুষের আচরণ পরিবর্তনের কাজে ব্যয় হবে ৪০ কোটি টাকা। বাংলাদেশের মতো গরিব দেশে, গরিব চেনা ও বাছাই করার মতো ‘জটিল’ ও ‘মারাত্মক’ গবেষণায় পরামর্শকের পেছনে ৪০ কোটি টাকা ব্যয়তো নস্যি খবর! দরকার হলে গরিব বাছাইয়ের জন্য বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য কোন দলকে পাঠানো যেতে পারে। গরিব মানুষ খুঁজে পাওয়া যে কত কঠিন তার দৃষ্টান্ত হলো, ৩ লাখ ৫১ হাজার গরিব মানুষ খুঁজে পেতে ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে মানুষের আচরণ পরিবর্তনের কাজে ৪০ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ! গড়ে একজনের পেছনে মাত্র ১১৪০ টাকা। ল্যাট্রিন, স্বাস্থ্যবিধি এবং হাত ধোয়ার জন্য বিদেশি ঋণ ও পরামর্শক লাগা দুঃখজনক। আমাদের মন্ত্রণালয়ের ডাক্তার, প্রকৌশলী, আরকিটেকরা তাহলে কী করেন? এ ধরনের প্রস্তাব দেয়া শুধু বাংলাদেশের সরকারের অফিসগুলোতেই সম্ভব।

সব কিছুতেই পরামর্শক!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এতোভাবে বলছেন, অহেতুক ব্যয় কমানোর জন্য। কিন্তু এ ভদ্রবেশী লোগগুলো অহেতুক ব্যয় যে অন্য ধান্দায় করেন তা ইতিপূর্বে প্রমাণ হয়েছে। জাতির পিতার মহান আত্মত্যাগ ও অর্জন আমরা তুলে ধরতে পারিনি এমনকি তার আদর্শ ধারণ তো করিইনি বরং তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে হীনস্বার্থ হাসিল করছি। আজও আমাদের দেশের প্রধান সমস্যা দরিদ্রতা নয়, দুর্নীতি। মূর্খের দ্বারা দেশ ও সমাজ নষ্ট হয় না, সমাজ নষ্ট হয় শিক্ষিত লোকদের মূর্খ আচরণের কারণে। মূর্খের দেশেই সর্বক্ষেত্রে পরামর্শের বিকল্প নেই! হাত ধোয়া, পুকুর কাটা, খিচুড়ি রান্না শেখাসহ সব কিছুতেই যখন বিদেশ ভ্রমণ ও পরামর্শ লাগে; তার মানে এ কাজগুলো সঠিকভাবে করার বাংলাদেশি কারোরই যোগ্যতা নেই! অসৎ পথে চলতে চলতে আসলে আমরা নিজেদের যোগ্যতা ও বিশ্বাসটুকুই হারিয়ে ফেলেছি। এজন্যই আমরা অপরের ওপর নির্ভর শুরু করেছি। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় দেখে বলতেই হয়, আরব্য রজনীর আলি বাবা চল্লিশ চোরের চোরগুলো জীবিত হয়ে মর্ত্যে (বাংলাদেশে) ফিরে এসেছে! ৫৯৫৭ টাকায় বালিশ কিনে তা আবার ২০ তলার ফ্ল্যাটে পৌঁছাতে ৭৬০ টাকা। একটি বৈদ্যুতিক কেটলির দাম ৫৩১৩ টাকা, ওঠানোর খরচ ২৯৪৫ টাকা ব্যয়ের ঘটনা চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। সর্বসাধারণকে এগুলো যে বিশ্বাস এবং খাওয়ানোর মতো নয়, এ বোধটুকুও তারা হারিয়ে ফেলেছেন। দুর্নীতি করতে করতে কতিপয় মানব মেন্টাল হয়ে গেছেন। এখন জরুরি আমাদের পাবনার মেন্টাল হাসপাতালের পরিধি বাড়ানো। অন্যদিকে কিছু নিরীহ মানুষকে দুর্নীতিবাজরদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সেচ্ছায় বাধ্য হয়ে পাবনা চলে যেতে হবে। অতীতে দেখা গেছে, বৃদ্ধ বাবা-মা অতি সাধারণ টিনের ঘরে থাকেন, অথচ সন্তান বস্তাভরে টাকা রাখেন, টাকার তোষকের ওপর ঘুমান। শহর থেকে গ্রামের অসুস্থ বাবা-মাকেই দেখতে আসার যাদের মানসিকতা নেই, তারা বিদেশ ভ্রমণে ব্যস্ত অভিজ্ঞতা অর্জনের মানসে! রসিক শিল্পীরা সত্যিই মজাভরে গেয়ে থাকেন ‘বাবা তোমার দরবারে সব পাগলের খেলা! অহ! বাবা... হরেক রকম পাগল দিয়া মিলাইছে মেলা...! বাবা তোমার দেশেতে সব পাগলের খেলা!

এ ধরনের সুপারিশ যদি পাশ হয়, তখন বুঝতে হবে দেশের তেরটা বেজে গেছে! বারটাতো ইতিপূর্বে বেজেই গেছে। অভাগা এ দেশের জনগণের শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলাম... ছাড়া কিছুই করার নেই।

কর্মকর্তাদের মেজাজ গরম

দেশে এখন ক্ষমতার বাহাদুরি চাই, রাতারাতি যেনতেন টাকা চাই। তা পাপিয়ার মতো পাঁচ তারকা হোটেলে সরকারি-বেসরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের জন্য ‘হেরেম’ খুলে হোক বা করোনা টেস্ট না করেই ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে হোক, গ্রামের সহজ-সরল মা-বোনদের চাকরির প্রলোভনে বিদেশে পাচার করে যৌনকর্মী বলে বিক্রি করে হোক। পাপিয়ার মধুচন্দ্রিমার ডেরায় কারা যেত? স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বাইরে যখন মানুষ নিজেকে ভাবা শুরু করে, বা নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়, ক্ষমতার মারপ্যাঁচে তখন দেশে এ রকম লাখো সাহেদ, পাপিয়া, সাবরিনা তৈরি হবেই।

দুর্নীতি কমানোর কথা ও খবর শুনলে কর্মকর্তাদের মেজাজ গরম হয়ে যায়। তাদের মনোভাব অনেকটা এ রকম, কেনাকাটায় টাকা মারবার না দিলে কামই করুম না। ইতিপূর্বে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘(দুর্নীতির) ওপর গণমাধ্যমে বারবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে আলোচনা-সমালোচনার কারণে ক্রয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এক ধরনের ভীতির সঞ্চার করেছে। অনেকেই এ ধরনের পদে থাকতে চাইছেন না। আবার অনেকে ক্রয় প্রক্রিয়া থেকে দূরে থাকছেন কিংবা ক্রয় প্রক্রিয়া বিলম্বিত করছেন। এতে করে স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন বিঘিœত ও সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়।’ সরকারের কতিপয় গোলামদের ভাবসাবটা এরকম, বালিস কেনা হোক, পর্দা কেনা হোক, বাতি কেনা হোক, ভুয়া সার্টিফিকেট দেয়া হোক, কোটি কোটি টাকা চুরি করুম দুদক কোন ব্যবস্থা নিতে পারবে না, সংবাদপত্রও কোন খবর প্রকাশ করবে না!

করাপশন করে শিক্ষিত সমাজ

ইতিহাসের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘আজকে করাপশনের কথা বলতে হয়। এই বাংলার মাটি থেকে করাপশন উৎখাত করতে হবে। করাপশন আমার বাংলার কৃষকরা করে না। করাপশন আমার বাংলার মজদুর করে না। করাপশন করি আমরা বাংলার শিক্ষিত সমাজ। যারা আজকে ওদের টাকা দিয়ে লেখাপড়া করেছি। আজ যেখানে যাবেন করাপশন দেখবেন। আমাদের রাস্তা খুঁড়তে যান- করাপশন। খাদ্য কিনতে যান- করাপশন। বিদেশ গেলে টাকার ওপর করাপশন। তারা কারা? আমরা যে ৫% শিক্ষিত সমাজ, আমরা হলাম দুনিয়ার সবচেয়ে করাপ্ট পিপল, আর আমরাই করি বক্তৃতা। আমরা লিখি খবরের কাগজে, আমরা বড়াই করি...।’

বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।’ কিন্তু সেই রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশ ছেড়ে চিরতরে ভারতে চলে গেলেন কোন অভিমানে, তা কোনো গবেষণায় আজও পাওয়া যায়নি। কিন্তু যাওয়ার সময় ঠিকই বলে গেছেন, ‘৭ কোটি বাঙালির হে বিমুগ্ধ জননী রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি।’ আমরা হয়তো মানুষ পাইনি, পেয়েছিল [করাপ্ট] বাঙালি!

বঙ্গবন্ধু বর্ণনা করেছেন, এক ছেলের সরকারি চাকরি নিয়ে তার পিতা বলেন, ‘একশত টাকা বেতন পায় আর কিছু উপরিও আছে।’ এই কথা শুনে বঙ্গবন্ধু উপলব্ধি প্রকাশ করেন, ‘ভেবে দেখুন, সমাজ কোথায় গিয়াছে! ছেলে ঘুষ খায় পিতা তাহা গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করে। সমাজ কত নেমে গেলে এই অবস্থায় আসতে পারে।’ (আমার দেখা নয়া চীন, পৃষ্ঠা ১০৬)।

পূর্বে বর্তমান খরচের চেয়ে দ্বিগুণ ছিল

দয়াময় সৃষ্টিকর্তা না করুন! অদূর ভবিষ্যতে যদি এমন ভাইরাসের আবির্ভাব হয়, যাতে শুধু হাত ধোয়াই নয়, বৈজ্ঞানিকরা গোসল করতে বলেন। আর এতে যদি বাংলাদেশে গোসল করার পরামর্শকের প্রয়োজন হয় তাহলে জাতির ৫৬ হাজার কোটি টাকা হরিলুট হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছে খরচের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এর আগে এসব খাতে খরচ বর্তমান খরচের চেয়ে দ্বিগুণ ধরা ছিল। পরে সংশোধন করে কমিয়ে আনা হয়েছে।’ ভাবসাব এমন যে, এত কম টাকায় হাত ধোয়ার এত্ত বড় একটা কঠিন কাজের পরামর্শক হয় কেমনে? প্রকল্পটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পরামর্শক নিয়োগের মাধ্যমে ৩ লাখ ৫১ হাজার গরিব মানুষ বাছাই করা হবে। একই সঙ্গে করোনা মোকাবিলায় ভিডিও প্রদর্শনীর মাধ্যমে মানুষের আচরণ পরিবর্তন করা হবে। এ দুটি কাজ করতে খরচ হবে ৪০ কোটি টাকা। প্রাথমিক সমীক্ষা, নকশা ও সুপারভিশন কাজের পরামর্শকের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫৬ কোটি টাকা। এভাবে এত টাকা রাখায় প্রশ্ন তুলেছে খোদ পরিকল্পনা কমিশন। কিন্তু জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে, বিধি মেনেই উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণে নেয়া প্রকল্পের পরামর্শকের খরচ ধরা হয়েছে।

খিচুড়ি রান্না শিখতে বিদেশ ভ্রমণ

বাংলার আদর্শ মা-খালাদের হাতের চাল-ডালের মিলমিশের সুস্বাধু ‘খিচুড়ি’র স্বাদ কারও অজানা নয়। বাংলাদেশের মতো বিশ্বে অন্য কোন দেশেই এত খিচুড়ি খাওয়া হয় না। অথচ সেই খিচুরি রান্না শেখা ও পরিবেশনের জন্যও দরকার বিদেশ ভ্রমণ! ইতিপূর্বে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বিদেশ থেকে খিচুড়ির ট্রেনিং নেয়ার জন্য মাত্র পাঁচ কোটি টাকা চেয়েছিল। এছাড়া একই ট্রেনিং দেশে বসে দেয়ার জন্য আরও চেয়েছিল ১০ কোটি টাকা। খিচুড়ি রান্নার জন্য তেল-নুন ও থালা-বাটি কেনা বাবদ আরও যে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে, সেগুলোর অঙ্ক মেলাতে যেয়ে তাল-গোল লেগে যাওয়ায় সর্বশেষ পরিকল্পনা কমিশন এই প্রকল্প থেকে বিদেশযাত্রা বাতিল করেছে। খিচুড়ির খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় বিষয়টি খোলাসা করার চেষ্টা করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম-আল-হোসেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলছেন, খিচুড়ি রান্না শেখার জন্য নয়, আসলে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মতভাবে খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থাপনা দেখতে কর্মকর্তাদের বিদেশ পাঠানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

এটি ঠিক, যে কোনো প্রকল্পে দেশে-বিদেশে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের বিধান রয়েছে। এই বিধান যত দিন থাকবে টিকিয়ে রাখা যাবে, তত দিন ভ্রমণভিত্তিক অভিজ্ঞতাপিপাসু কর্মকর্তাদের প্রকল্পনিষ্ঠা অদম্য থেকে যাবে। তত দিন পাবলিকের পয়সায় থালা-বাটিসহ হাত ধোয়ার অভিজ্ঞতা নিতেও বিদেশে যাওয়া যাবে।

abunoman1972@gmail.com