খাল উদ্ধারে বিশেষ অভিযান ডিএসসিসির

দিনে বক্সকালভার্টের ৭৪ টন পর্যন্ত বর্জ্য অপসারণ

রাজধানীর খাল উদ্ধারে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এর অংশ হিসেবে গতকাল রাজধানীর পান্থপথ এলাকায় বক্সকালভার্টের পাঁচটি ড্রেনেজ মুখ থেকে ৭৪ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। আগামী মার্চের মধ্যে তিনটি খাল ও দুটো বক্সকালভার্ট সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা হবে বলে জানায় ডিএসসিসি। পান্থকুঞ্জ পার্ক থেকে পান্থপথ বক্স কালভার্ট হতে বর্জ্য অপসারণের মাধ্যমে পানি প্রবাহ সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করা হয়। এ সময় বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী এবং প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. বদরুল আমিন।

পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, গত ৩১ ডিসেম্বর ঢাকা ওয়াসা হতে সব খাল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও উত্তর সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিএসসিসির মেয়র মহোদয়ের নির্দেশে গতকাল থেকে কাজ শুরু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পান্থপথ কালভার্ট হতে বর্জ্য অপসারণ কাজ শুরু করেছি। এরপর আমরা সেগুনবাগিচা কালভার্ট হতে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করব। পাশাপাশি আমাদের জিরানী, মা-া ও শ্যামপুর খালে প্রাথমিক পরিচ্ছন্নতা কাজ চলছে। তারপর সীমানা নির্ধারণ ও উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করব। আশা করছি, মার্চের মধ্যে আমরা তিনটি খাল এবং দুটো কালভার্ট পরিপূর্ণভাবে পরিষ্কার করতে পারব। যদি আমরা এ সময়ের মধ্যে খাল এবং কালভার্ট পরিষ্কার করতে পারি, তাহলে আমরা বিশ্বাস করি, এ বছর আমরা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাব। ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, আমরা মার্চের মধ্যে এ দুটি বক্স কালভার্ট ও তিনটি খাল হতে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শেষ করতে চাই। যাতে করে আমরা এপ্রিলের শুরু হতে ঢাকা শহরকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিতে পারি। সে পরিকল্পনা নিয়েই আমরা কাজ শুরু করেছি। দীর্ঘদিন ধরে যেহেতু এই কাজগুলো ওয়াসার হাতে ছিল তাই আমরা ওয়াসার কারিগরি সহযোগিতা নেবো। ওয়াসার সঙ্গে আমাদের যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, সে মোতাবেক আমরা শুরুতে ওয়াসার কারিগরি সহযোগিতা, যন্ত্রপাতি ও জনবল সহযোগিতা নেবো। ওরা দু’বছর আমাদের সঙ্গে কাজ করবে, পর্যায়ক্রমে আমরা সক্ষমতা অর্জন করব। এ সময় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. বদরুল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, পান্থকুঞ্জ পার্কের ভেতরে যে বক্স কালভার্ট রয়েছে সেটির গভীরতা দুই রকম আছে। কোথাও ১১ ফিট আবার কোথাও ২০-২২ ফিট আছে। আমরা কারিগরি কমিটির সহযোগিতায় সঠিক মাপটা বের করব। শুধু কালভার্টের (ড্রেনেজ পিট) পরিষ্কার করলে হবে না। ভেতরে লোক প্রবেশ করাতে হবে। মেশিন প্রবেশ করাতে হবে। ক্রেন প্রবেশ করাতে হবে। প্রেসার দিয়ে পানি দিতে হবে। সাকার মেশিন ব্যবহার করতে হবে। সাকশন করে উঠাতে হবে। আমরা দেখলাম, কালভার্টের ভেতরের কানেকশন মুুখগুলো বন্ধ হয়ে গেছে, সে মুখগুলো ছোটাতে হবে। আমরা ২০০ মিটার করে আগাবো। পরিষ্কার কার্যক্রম চলছে।

রবিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২১ , ১৯ পৌষ ১৪২৭, ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪২

খাল উদ্ধারে বিশেষ অভিযান ডিএসসিসির

দিনে বক্সকালভার্টের ৭৪ টন পর্যন্ত বর্জ্য অপসারণ
image

গতকাল রাজধানীর পান্থপথ এলাকায় বক্সকালভার্ট থেকে বর্জ্য অপসারণ করা হয় -সংবাদ

রাজধানীর খাল উদ্ধারে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এর অংশ হিসেবে গতকাল রাজধানীর পান্থপথ এলাকায় বক্সকালভার্টের পাঁচটি ড্রেনেজ মুখ থেকে ৭৪ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। আগামী মার্চের মধ্যে তিনটি খাল ও দুটো বক্সকালভার্ট সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা হবে বলে জানায় ডিএসসিসি। পান্থকুঞ্জ পার্ক থেকে পান্থপথ বক্স কালভার্ট হতে বর্জ্য অপসারণের মাধ্যমে পানি প্রবাহ সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করা হয়। এ সময় বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী এবং প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. বদরুল আমিন।

পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, গত ৩১ ডিসেম্বর ঢাকা ওয়াসা হতে সব খাল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও উত্তর সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিএসসিসির মেয়র মহোদয়ের নির্দেশে গতকাল থেকে কাজ শুরু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পান্থপথ কালভার্ট হতে বর্জ্য অপসারণ কাজ শুরু করেছি। এরপর আমরা সেগুনবাগিচা কালভার্ট হতে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করব। পাশাপাশি আমাদের জিরানী, মা-া ও শ্যামপুর খালে প্রাথমিক পরিচ্ছন্নতা কাজ চলছে। তারপর সীমানা নির্ধারণ ও উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করব। আশা করছি, মার্চের মধ্যে আমরা তিনটি খাল এবং দুটো কালভার্ট পরিপূর্ণভাবে পরিষ্কার করতে পারব। যদি আমরা এ সময়ের মধ্যে খাল এবং কালভার্ট পরিষ্কার করতে পারি, তাহলে আমরা বিশ্বাস করি, এ বছর আমরা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাব। ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, আমরা মার্চের মধ্যে এ দুটি বক্স কালভার্ট ও তিনটি খাল হতে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শেষ করতে চাই। যাতে করে আমরা এপ্রিলের শুরু হতে ঢাকা শহরকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিতে পারি। সে পরিকল্পনা নিয়েই আমরা কাজ শুরু করেছি। দীর্ঘদিন ধরে যেহেতু এই কাজগুলো ওয়াসার হাতে ছিল তাই আমরা ওয়াসার কারিগরি সহযোগিতা নেবো। ওয়াসার সঙ্গে আমাদের যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, সে মোতাবেক আমরা শুরুতে ওয়াসার কারিগরি সহযোগিতা, যন্ত্রপাতি ও জনবল সহযোগিতা নেবো। ওরা দু’বছর আমাদের সঙ্গে কাজ করবে, পর্যায়ক্রমে আমরা সক্ষমতা অর্জন করব। এ সময় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. বদরুল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, পান্থকুঞ্জ পার্কের ভেতরে যে বক্স কালভার্ট রয়েছে সেটির গভীরতা দুই রকম আছে। কোথাও ১১ ফিট আবার কোথাও ২০-২২ ফিট আছে। আমরা কারিগরি কমিটির সহযোগিতায় সঠিক মাপটা বের করব। শুধু কালভার্টের (ড্রেনেজ পিট) পরিষ্কার করলে হবে না। ভেতরে লোক প্রবেশ করাতে হবে। মেশিন প্রবেশ করাতে হবে। ক্রেন প্রবেশ করাতে হবে। প্রেসার দিয়ে পানি দিতে হবে। সাকার মেশিন ব্যবহার করতে হবে। সাকশন করে উঠাতে হবে। আমরা দেখলাম, কালভার্টের ভেতরের কানেকশন মুুখগুলো বন্ধ হয়ে গেছে, সে মুখগুলো ছোটাতে হবে। আমরা ২০০ মিটার করে আগাবো। পরিষ্কার কার্যক্রম চলছে।