সুস্থতার হার বেড়েছে সংক্রমণ কমেছে

দেশে করোনায় সুস্থতার হার বাড়ছে। একইসঙ্গে কমছে নমুনার পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার। সুস্থতার হার ও শনাক্তের হার-এই দুটি সূচকে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির ধারাবাহিক উন্নতি হলেও মৃত্যুর হার বাড়ছে।

দেশে মোট শনাক্ত পাঁচ লাখ ১৭ হাজার ৯২০ জনের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত চার লাখ ৬২ হাজার ৪৫৯ জনই সুস্থ হয়েছেন। বর্তমানে সক্রিয় করোনা রোগী রয়েছেন মাত্র ৪৭ হাজার ৭৯১ জন। এ হিসাবে ৮৯ দশমিক ২৯ ভাগ করোনা রোগীই সুস্থ হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের গতকালের তথ্যানুযায়ী, আগের ২৪ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার ছিল মাত্র ৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এই সময় মৃত্যুর হার ছিল ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ। ওই ২৪ ঘন্টায় ১৪ হাজার ৪৬২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৯৯১ জনের করোনা শনাক্ত করা হয়। ২৪ ঘণ্টায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা বাড়লে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার-দুটিই নি¤œমুখী হতে থাকবে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, শীত মৌসুমে সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হয়েছিল, কিন্তু সরকারের নানামুখী তৎপরতার কারণে মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের প্রবণতা বেড়েছে। এ কারণে অতিমাত্রায় সংক্রমণের বিস্তার ঘটেনি। তবে যেকোন ভাইরাসের গতি-প্রকৃতির সঙ্গে শীত ও গ্রীষ্মকাল সর্ম্পক নেই। এ কারণে মানুষ উদাসীন হলে যেকোন সময় সংক্রমণ বাড়তে পারে।

জানতে চাইলে ‘কোভিড-১৯ টিকা বিতরণ ও প্রস্তুতি কমিটি’র সদস্য অধ্যাপক ডা. মুশতাক হোসেন সংবাদকে, ‘মানুষ যখন উদাসীন হয়, স্বাস্থ্যবিধি মানে না, তখন তারা আক্রান্ত হন, এটা শীতে হতে পারে, গরমেও হতে পারে।’

শীতের টেম্পারেচারের সঙ্গে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কোন সম্পর্ক নেই-মন্তব্য করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন আরও বলেন, ‘যেমন ধরেন দক্ষিণ আফ্রিকাতে এখন সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি, সেখানে এখন গ্রীষ্মকাল। মালয়েশিয়াতে এখন সংক্রমণ বাড়তির দিকে, ইন্দোনেশিয়াতে বাড়ছে। মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াতে শীত আসে না।’

ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘আমরা দেখেছি যে, বাংলাদেশে যখন সংক্রমণ কমছে তখনই মানুষ বিয়ে-শাদির অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে সব ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান করতে থাকেন... স্বাস্থ্যবিধি মানতে চান না। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা ভালোভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মানছি, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এখানে করোনা সংক্রমণ উঠা-নামা করতে থাকবে। যদি টিকা (ভ্যাকসিন) সফল হয় তাহলে বছর খানেক পর হয়তো আমরা স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরতে পারব। এটি সাধারণ ভাইরাসে পরিণত হবে।’

এ ব্যাপারে আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এসএম আলমগীর সংবাদকে বলেন, ‘সংক্রমণ কমছে, আশা করছি আরও কমবে। কিন্তু মানুষ যদি মাস্ক না পরেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানেন, চলাফেরায় নিয়ন্ত্রণে না আনেন সেক্ষেত্রে সংক্রমণ আবারও বাড়তে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখেছি যখনই মানুষ স্বাস্থ্য সচেতন হয়েছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন, তখনই সংক্রমণ কমেছে। সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণে মানুষের মাস্ক পরা বেড়েছে, মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বেড়েছে, এখন কারও সর্দি-কাশি হলেই নমুনা পরীক্ষা করাচ্ছেন। এসব পদক্ষেপে সংক্রমণটা কমছে।’

মৃত্যুর হার বৃদ্ধির কারণ সর্ম্পকে ডা. এসএম আলমগীর বলেন, ‘এখন যারা মারা যাচ্ছেন তাদের প্রায় সবারই বয়স ৫০ বছরের বেশি। তারা বাসায় কিছুদিন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ কারণে আমরা বারবার বলছি, যাদের বয়স ৫০ বছরের বেশি তাদের করোনা শনাক্ত হলে বাসায় থেকে চিকিৎসা না নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হোন। এতে ঝুঁকি কম।’

শনাক্ত, সুস্থতা ও মৃত্যু হারের ধারাবাহিক চিত্র

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর থেকে গতকাল পর্যন্ত মোট ৩২ লাখ ৮৬ হাজার ৮৮৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় পাঁচ লাখ ১৭ হাজার ৯২০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

শনাক্ত রোগীদের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত চার লাখ ৬২ হাজার ৪৫৯ জন সুস্থ হয়েছেন। এ হিসাবে শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ২৯ শতাংশ। আর শনাক্ত রোগীদের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত সাত হাজার ৬৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ হিসাবে মৃত্যু হার ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের গত ৪ ডিসেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, এর আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা শনাক্তের হার ছিল ১৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ, ওইদিন পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ছিল ১৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত করোনায় সুস্থতার হার ছিল ৮২ দশমিক ৪৮ শতাংশ। আর মৃত্যু হার ছিল ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ৪ নভেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা শনাক্তের হার ছিল ১০ দশমিক ৯০ শতাংশ, শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮০ দশমিক ০৯ শতাংশ এবং মৃত্যু হার ছিল ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রথম করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ শনাক্ত হয়। বাংলাদেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়। প্রথম শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে করোনায় প্রথম একজনের মৃত্যুর তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর।

দেশে করোনার সর্বোচ্চ সংক্রমণ হয় গত বছরের জুন ও জুলাই মাসে। ওই সময় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় দেশে করোনা শনাক্তের হার ছিল ২১/২২ শতাংশের কাছাকাছি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের গত বছরের ২ জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ছিল ২২ দশমিক ৩৩ শতাংশ, সুস্থতার হার ছিল ৪৪ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং মৃত্যু হার ছিল ১ দশমিক ২৬ শতাংশ।

এর একমাস আগে ৫ জুন স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার ছিল ২০ দশমিক ০৭ শতাংশ, সুস্থতার হার ২১ দশমিক ২০ শতাংশ এবং মৃত্যু হার ছিল ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

বুধবার, ০৬ জানুয়ারী ২০২১ , ২২ পৌষ ১৪২৭, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪২

সুস্থতার হার বেড়েছে সংক্রমণ কমেছে

image

দেশে করোনায় সুস্থতার হার বাড়ছে। একইসঙ্গে কমছে নমুনার পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার। সুস্থতার হার ও শনাক্তের হার-এই দুটি সূচকে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির ধারাবাহিক উন্নতি হলেও মৃত্যুর হার বাড়ছে।

দেশে মোট শনাক্ত পাঁচ লাখ ১৭ হাজার ৯২০ জনের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত চার লাখ ৬২ হাজার ৪৫৯ জনই সুস্থ হয়েছেন। বর্তমানে সক্রিয় করোনা রোগী রয়েছেন মাত্র ৪৭ হাজার ৭৯১ জন। এ হিসাবে ৮৯ দশমিক ২৯ ভাগ করোনা রোগীই সুস্থ হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের গতকালের তথ্যানুযায়ী, আগের ২৪ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার ছিল মাত্র ৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এই সময় মৃত্যুর হার ছিল ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ। ওই ২৪ ঘন্টায় ১৪ হাজার ৪৬২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৯৯১ জনের করোনা শনাক্ত করা হয়। ২৪ ঘণ্টায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা বাড়লে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার-দুটিই নি¤œমুখী হতে থাকবে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, শীত মৌসুমে সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হয়েছিল, কিন্তু সরকারের নানামুখী তৎপরতার কারণে মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের প্রবণতা বেড়েছে। এ কারণে অতিমাত্রায় সংক্রমণের বিস্তার ঘটেনি। তবে যেকোন ভাইরাসের গতি-প্রকৃতির সঙ্গে শীত ও গ্রীষ্মকাল সর্ম্পক নেই। এ কারণে মানুষ উদাসীন হলে যেকোন সময় সংক্রমণ বাড়তে পারে।

জানতে চাইলে ‘কোভিড-১৯ টিকা বিতরণ ও প্রস্তুতি কমিটি’র সদস্য অধ্যাপক ডা. মুশতাক হোসেন সংবাদকে, ‘মানুষ যখন উদাসীন হয়, স্বাস্থ্যবিধি মানে না, তখন তারা আক্রান্ত হন, এটা শীতে হতে পারে, গরমেও হতে পারে।’

শীতের টেম্পারেচারের সঙ্গে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কোন সম্পর্ক নেই-মন্তব্য করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন আরও বলেন, ‘যেমন ধরেন দক্ষিণ আফ্রিকাতে এখন সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি, সেখানে এখন গ্রীষ্মকাল। মালয়েশিয়াতে এখন সংক্রমণ বাড়তির দিকে, ইন্দোনেশিয়াতে বাড়ছে। মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াতে শীত আসে না।’

ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘আমরা দেখেছি যে, বাংলাদেশে যখন সংক্রমণ কমছে তখনই মানুষ বিয়ে-শাদির অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে সব ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান করতে থাকেন... স্বাস্থ্যবিধি মানতে চান না। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা ভালোভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মানছি, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এখানে করোনা সংক্রমণ উঠা-নামা করতে থাকবে। যদি টিকা (ভ্যাকসিন) সফল হয় তাহলে বছর খানেক পর হয়তো আমরা স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরতে পারব। এটি সাধারণ ভাইরাসে পরিণত হবে।’

এ ব্যাপারে আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এসএম আলমগীর সংবাদকে বলেন, ‘সংক্রমণ কমছে, আশা করছি আরও কমবে। কিন্তু মানুষ যদি মাস্ক না পরেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানেন, চলাফেরায় নিয়ন্ত্রণে না আনেন সেক্ষেত্রে সংক্রমণ আবারও বাড়তে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখেছি যখনই মানুষ স্বাস্থ্য সচেতন হয়েছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন, তখনই সংক্রমণ কমেছে। সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণে মানুষের মাস্ক পরা বেড়েছে, মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বেড়েছে, এখন কারও সর্দি-কাশি হলেই নমুনা পরীক্ষা করাচ্ছেন। এসব পদক্ষেপে সংক্রমণটা কমছে।’

মৃত্যুর হার বৃদ্ধির কারণ সর্ম্পকে ডা. এসএম আলমগীর বলেন, ‘এখন যারা মারা যাচ্ছেন তাদের প্রায় সবারই বয়স ৫০ বছরের বেশি। তারা বাসায় কিছুদিন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ কারণে আমরা বারবার বলছি, যাদের বয়স ৫০ বছরের বেশি তাদের করোনা শনাক্ত হলে বাসায় থেকে চিকিৎসা না নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হোন। এতে ঝুঁকি কম।’

শনাক্ত, সুস্থতা ও মৃত্যু হারের ধারাবাহিক চিত্র

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর থেকে গতকাল পর্যন্ত মোট ৩২ লাখ ৮৬ হাজার ৮৮৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় পাঁচ লাখ ১৭ হাজার ৯২০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

শনাক্ত রোগীদের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত চার লাখ ৬২ হাজার ৪৫৯ জন সুস্থ হয়েছেন। এ হিসাবে শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ২৯ শতাংশ। আর শনাক্ত রোগীদের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত সাত হাজার ৬৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ হিসাবে মৃত্যু হার ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের গত ৪ ডিসেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, এর আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা শনাক্তের হার ছিল ১৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ, ওইদিন পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ছিল ১৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত করোনায় সুস্থতার হার ছিল ৮২ দশমিক ৪৮ শতাংশ। আর মৃত্যু হার ছিল ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ৪ নভেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা শনাক্তের হার ছিল ১০ দশমিক ৯০ শতাংশ, শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮০ দশমিক ০৯ শতাংশ এবং মৃত্যু হার ছিল ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রথম করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ শনাক্ত হয়। বাংলাদেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়। প্রথম শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে করোনায় প্রথম একজনের মৃত্যুর তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর।

দেশে করোনার সর্বোচ্চ সংক্রমণ হয় গত বছরের জুন ও জুলাই মাসে। ওই সময় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় দেশে করোনা শনাক্তের হার ছিল ২১/২২ শতাংশের কাছাকাছি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের গত বছরের ২ জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ছিল ২২ দশমিক ৩৩ শতাংশ, সুস্থতার হার ছিল ৪৪ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং মৃত্যু হার ছিল ১ দশমিক ২৬ শতাংশ।

এর একমাস আগে ৫ জুন স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার ছিল ২০ দশমিক ০৭ শতাংশ, সুস্থতার হার ২১ দশমিক ২০ শতাংশ এবং মৃত্যু হার ছিল ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ।