দেশে করোনা

একদিনে আক্রান্ত ফের হাজার ছাড়ালো

বেড়েছে সুস্থতার হার : মৃত্যু স্থিতিশীল শনাক্তের হার নিম্নমুখী

টানা ছয় দিন দেশে দৈনিক শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা হাজারের নিচে ছিল, গতকাল আবার তা এক হাজার (১০০৭) ছাড়িয়ে যায়। শনাক্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার নিম্নমুখীই রয়েছে। গতকাল দেশে করোনা শনাক্তের হার ছিল ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এছাড়া শনাক্ত রোগীদের মধ্যে সুস্থতার হার ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও মৃত্যুর হার স্থিতিশীল রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের গতকালের তথ্য অনুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে আরও ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নমুনা পরীক্ষায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বেড়েছে। বর্তমানে পৌনে দুইশ’ ল্যাবে দৈনিক ৫০ হাজার মানুষের নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা রয়েছে, তবে সেই অনুযায়ী নমুনা পরীক্ষা দিচ্ছেন না মানুষ। প্রত্যেক জেলা ও উপজেলায় নমুনা সংগ্রহের বুথ বসানো হয়েছে। প্রতিটি জেলায় ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। বেশিরভাগ ল্যাবেই সক্ষমতার তুলনায় নমুনা পাচ্ছে অর্ধেকেরও কম।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগের গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ১১৪টি আরটি-পিসিআর ল্যাব, ২৭টি জিন-এক্সপার্ট ল্যাব এবং ৪০টি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ল্যাবে অর্থাৎ মোট ১৮১টি ল্যাবে ১৫ হাজার ৩৮১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে এক হাজার সাতজনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়।

২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ, শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

এ পর্যন্ত দেশে মোট ৩৩ লাখ ১৭ হাজার ৮১০টি নমুনা পরীক্ষায় পাঁচ লাখ ১৯ হাজার ৯০৫ জনের করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ হিসাবে মোট করোনা শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ। আর দেশে করোনায় মোট সাত হাজার ৭১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সরকারের রোগতত্ত্ব রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা প্রফেসর ডা. এসএম আলমগীর সংবাদকে বলেন, বর্তমানে স্বাস্থ্য বিভাগের যে সক্ষমতা তাতে সারাদেশের ল্যাবে প্রতিদিন ৫০ হাজার মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা যায়। কিন্তু অনেক ল্যাবেই (পরীক্ষাগার) সক্ষমতা অনুযায়ী নমুনা পাওয়া যাচ্ছে না। নমুনা দিতে এখন কারও ভোগান্তিও হচ্ছে না। নমুনা সংগ্রহের কেন্দ্রগুলোতে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তা দিতে পারছেন অসুস্থ ব্যক্তিরা।

নতুন বছরের প্রথমদিন থেকেই দেশে করোনা শনাক্তের হার কমে আসছে। শনাক্তের সংখ্যাও এক হাজারের নিচে ছিল, যা গতকাল হাজার অতিক্রম করে। যদিও গতকাল নমুনা পরীক্ষাও কিছুটা বেড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বছরের প্রথম দিন ৯৯০ জনের করোনা শনাক্ত হয়। ২ জানুয়ারি তা নেমে আসে ৬৮৪ জনে। এর পরের চার দিন শনাক্তের সংখ্যা ৮০০ থেকে ৯০০ এর কাছাকাছি ছিল। এই ছয়দিন করোনায় মৃত্যুর সংখ্যাও ৩০ এর নিচে ছিল।

শনাক্তের হার ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ জানুয়ারি দেশে নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার ছিল ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। এর আগে ৫ জানুয়ারি শনাক্তের হার ছিল ৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ, ৪ জানুয়ারি ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ, ৩ জানুয়ারি ৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ, ২ জানুয়ারি ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং ১ জানুয়ারি তা ছিল ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ।

সরকারের রোগতত্ত্ব রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মুশতাক হোসেন সংবাদকে বলেন, ‘সংক্রমণের হার নিম্নমুখী, তবে স্থিতিশীল নয়। মানুষ স্বাস্থ্যসচেতন না হলে এটি যেকোন সময় বাড়তে পারে, মানুষ সচেতন থাকলে সংক্রমণ নিম্নমুখী থাকবে। এ কারণে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে, এটি বলা যাবে না।’

শনাক্তের হার কতটুকু নিম্নমুখী হলে ‘সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে’ বলা যাবে- এমন প্রশ্নের জবাবে বিশিষ্ট এই রোগতত্ত্ববিদ বলেন, ‘পরপর চার সপ্তাহ যদি সংক্রমণ শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকে, তাহলে বলা যাবে দেশে সংক্রমণের প্রবণতা হ্রাস পেয়েছে। যদি টানা চার সপ্তাহ সংক্রমণের হার শূন্য থাকে তাহলে বলা যাবে দেশ আপাতত করোনামুক্ত।’

বিশে^র অন্যান্য দেশে এই ভাইরাসের সংক্রমণ থাকলে বাংলাদেশে পুনরায় সংক্রমণ ছড়াত-এমন মতামত দিয়ে ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘থাইল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও জাপানসহ কয়েকটি দেশে আবারও সংক্রমণ ঘটছে।’

সুস্থতার হার বাড়ছেই

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাবে, গত একদিনে বাসাবাড়ি ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৯৬৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাতে এ পর্যন্ত সুস্থ হওয়া রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে চার লাখ ৬৪ হাজার ৪৪৬ জন হয়েছে। গত এক সপ্তাহে সামান্য ব্যবধানে সুস্থতার হার বেড়েছে।

গতকাল পর্যন্ত দেশে শনাক্ত করোনা রোগীর মধ্যে সুস্থতার হার ছিল ৮৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এর আগে ৬ জানুয়ারি সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশ, ৫ জানুয়ারি ৮৯ দশমিক ২৯ শতাংশ, ৪ জানুয়ারি ৮৯ দশমিক ২৮ শতাংশ, ৩ জানুয়ারি ৮৯ দশমিক ২৬ শতাংশ, ২ জানুয়ারি ৮৯ দশমিক ২১ শতাংশ এবং ১ জানুয়ারি ছিল ৮৯ দশমিক ১৫ শতাংশ।

মৃত্যু হার স্থিতিশীল

স্বাস্থ্য অধিদফতরের গত এক সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশে করোনায় মৃত্যু হার স্থিতিশীল অর্থাৎ একই রয়েছে। গত ২ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ছয়দিন দেশে করোনায় মৃত্যুর ছিল ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ। ১ জানুয়ারি মৃত্যুর হার ছিল ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এর পর ১০ মে পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক হাজারের কাছাকাছি ছিল। এরপর থেকে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। জুন ও জুলাইয়ে করোনা সংক্রমণ পৌঁছায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে (পিক)।

পরবর্তীতে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা নিয়মিত কমতে থাকলেও নভেম্বর থেকে তা বাড়তে থাকে। তবে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সংক্রমণ পুনরায় কমতে থাকে, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

গত ২ জুলাই দেশে চার হাজার ১৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়, যা একদিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম একজনের মৃত্যুর তথ্য দেয় স্বাস্থ্য অধিদফতর। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বাংলাদেশ বিশ্বে শনাক্তের দিক থেকে ২৭তম স্থানে এবং মৃত্যুর সংখ্যায় ৩৬তম অবস্থানে।

দেশে করোনায় মারা যাওয়া সাত হাজার ৭১৮ জনের মধ্যে পাঁচ হাজার ৮৬৭ জনই পুরুষ এবং এক হাজার ৮৫১ জন নারী। তাদের মধ্যে চার হাজার ২২১ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া এক হাজার ৯৫৬ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৯০১ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৩৮৫ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১৬১ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ৫৮ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ৩৬ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম।

মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চার হাজার ২৫০ জন ঢাকা বিভাগের, এক হাজার ৪২৬ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৪৪৫ জন রাজশাহী বিভাগের, ৫৩৮ জন খুলনা বিভাগের, ২৩৯ জন বরিশাল বিভাগের, ২৯৪ জন সিলেট বিভাগের, ৩৫০ জন রংপুর বিভাগের এবং ১৭৬ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

শুক্রবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২১ , ২৪ পৌষ ১৪২৭, ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪২

দেশে করোনা

একদিনে আক্রান্ত ফের হাজার ছাড়ালো

বেড়েছে সুস্থতার হার : মৃত্যু স্থিতিশীল শনাক্তের হার নিম্নমুখী
image

টানা ছয় দিন দেশে দৈনিক শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা হাজারের নিচে ছিল, গতকাল আবার তা এক হাজার (১০০৭) ছাড়িয়ে যায়। শনাক্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার নিম্নমুখীই রয়েছে। গতকাল দেশে করোনা শনাক্তের হার ছিল ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এছাড়া শনাক্ত রোগীদের মধ্যে সুস্থতার হার ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও মৃত্যুর হার স্থিতিশীল রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের গতকালের তথ্য অনুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে আরও ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নমুনা পরীক্ষায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বেড়েছে। বর্তমানে পৌনে দুইশ’ ল্যাবে দৈনিক ৫০ হাজার মানুষের নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা রয়েছে, তবে সেই অনুযায়ী নমুনা পরীক্ষা দিচ্ছেন না মানুষ। প্রত্যেক জেলা ও উপজেলায় নমুনা সংগ্রহের বুথ বসানো হয়েছে। প্রতিটি জেলায় ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। বেশিরভাগ ল্যাবেই সক্ষমতার তুলনায় নমুনা পাচ্ছে অর্ধেকেরও কম।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগের গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ১১৪টি আরটি-পিসিআর ল্যাব, ২৭টি জিন-এক্সপার্ট ল্যাব এবং ৪০টি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ল্যাবে অর্থাৎ মোট ১৮১টি ল্যাবে ১৫ হাজার ৩৮১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে এক হাজার সাতজনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়।

২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ, শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

এ পর্যন্ত দেশে মোট ৩৩ লাখ ১৭ হাজার ৮১০টি নমুনা পরীক্ষায় পাঁচ লাখ ১৯ হাজার ৯০৫ জনের করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ হিসাবে মোট করোনা শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ। আর দেশে করোনায় মোট সাত হাজার ৭১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সরকারের রোগতত্ত্ব রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা প্রফেসর ডা. এসএম আলমগীর সংবাদকে বলেন, বর্তমানে স্বাস্থ্য বিভাগের যে সক্ষমতা তাতে সারাদেশের ল্যাবে প্রতিদিন ৫০ হাজার মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা যায়। কিন্তু অনেক ল্যাবেই (পরীক্ষাগার) সক্ষমতা অনুযায়ী নমুনা পাওয়া যাচ্ছে না। নমুনা দিতে এখন কারও ভোগান্তিও হচ্ছে না। নমুনা সংগ্রহের কেন্দ্রগুলোতে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তা দিতে পারছেন অসুস্থ ব্যক্তিরা।

নতুন বছরের প্রথমদিন থেকেই দেশে করোনা শনাক্তের হার কমে আসছে। শনাক্তের সংখ্যাও এক হাজারের নিচে ছিল, যা গতকাল হাজার অতিক্রম করে। যদিও গতকাল নমুনা পরীক্ষাও কিছুটা বেড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বছরের প্রথম দিন ৯৯০ জনের করোনা শনাক্ত হয়। ২ জানুয়ারি তা নেমে আসে ৬৮৪ জনে। এর পরের চার দিন শনাক্তের সংখ্যা ৮০০ থেকে ৯০০ এর কাছাকাছি ছিল। এই ছয়দিন করোনায় মৃত্যুর সংখ্যাও ৩০ এর নিচে ছিল।

শনাক্তের হার ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ জানুয়ারি দেশে নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার ছিল ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। এর আগে ৫ জানুয়ারি শনাক্তের হার ছিল ৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ, ৪ জানুয়ারি ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ, ৩ জানুয়ারি ৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ, ২ জানুয়ারি ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং ১ জানুয়ারি তা ছিল ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ।

সরকারের রোগতত্ত্ব রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মুশতাক হোসেন সংবাদকে বলেন, ‘সংক্রমণের হার নিম্নমুখী, তবে স্থিতিশীল নয়। মানুষ স্বাস্থ্যসচেতন না হলে এটি যেকোন সময় বাড়তে পারে, মানুষ সচেতন থাকলে সংক্রমণ নিম্নমুখী থাকবে। এ কারণে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে, এটি বলা যাবে না।’

শনাক্তের হার কতটুকু নিম্নমুখী হলে ‘সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে’ বলা যাবে- এমন প্রশ্নের জবাবে বিশিষ্ট এই রোগতত্ত্ববিদ বলেন, ‘পরপর চার সপ্তাহ যদি সংক্রমণ শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকে, তাহলে বলা যাবে দেশে সংক্রমণের প্রবণতা হ্রাস পেয়েছে। যদি টানা চার সপ্তাহ সংক্রমণের হার শূন্য থাকে তাহলে বলা যাবে দেশ আপাতত করোনামুক্ত।’

বিশে^র অন্যান্য দেশে এই ভাইরাসের সংক্রমণ থাকলে বাংলাদেশে পুনরায় সংক্রমণ ছড়াত-এমন মতামত দিয়ে ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘থাইল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও জাপানসহ কয়েকটি দেশে আবারও সংক্রমণ ঘটছে।’

সুস্থতার হার বাড়ছেই

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাবে, গত একদিনে বাসাবাড়ি ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৯৬৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাতে এ পর্যন্ত সুস্থ হওয়া রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে চার লাখ ৬৪ হাজার ৪৪৬ জন হয়েছে। গত এক সপ্তাহে সামান্য ব্যবধানে সুস্থতার হার বেড়েছে।

গতকাল পর্যন্ত দেশে শনাক্ত করোনা রোগীর মধ্যে সুস্থতার হার ছিল ৮৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এর আগে ৬ জানুয়ারি সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশ, ৫ জানুয়ারি ৮৯ দশমিক ২৯ শতাংশ, ৪ জানুয়ারি ৮৯ দশমিক ২৮ শতাংশ, ৩ জানুয়ারি ৮৯ দশমিক ২৬ শতাংশ, ২ জানুয়ারি ৮৯ দশমিক ২১ শতাংশ এবং ১ জানুয়ারি ছিল ৮৯ দশমিক ১৫ শতাংশ।

মৃত্যু হার স্থিতিশীল

স্বাস্থ্য অধিদফতরের গত এক সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশে করোনায় মৃত্যু হার স্থিতিশীল অর্থাৎ একই রয়েছে। গত ২ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ছয়দিন দেশে করোনায় মৃত্যুর ছিল ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ। ১ জানুয়ারি মৃত্যুর হার ছিল ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এর পর ১০ মে পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক হাজারের কাছাকাছি ছিল। এরপর থেকে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। জুন ও জুলাইয়ে করোনা সংক্রমণ পৌঁছায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে (পিক)।

পরবর্তীতে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা নিয়মিত কমতে থাকলেও নভেম্বর থেকে তা বাড়তে থাকে। তবে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সংক্রমণ পুনরায় কমতে থাকে, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

গত ২ জুলাই দেশে চার হাজার ১৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়, যা একদিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম একজনের মৃত্যুর তথ্য দেয় স্বাস্থ্য অধিদফতর। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বাংলাদেশ বিশ্বে শনাক্তের দিক থেকে ২৭তম স্থানে এবং মৃত্যুর সংখ্যায় ৩৬তম অবস্থানে।

দেশে করোনায় মারা যাওয়া সাত হাজার ৭১৮ জনের মধ্যে পাঁচ হাজার ৮৬৭ জনই পুরুষ এবং এক হাজার ৮৫১ জন নারী। তাদের মধ্যে চার হাজার ২২১ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া এক হাজার ৯৫৬ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৯০১ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৩৮৫ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১৬১ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ৫৮ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ৩৬ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম।

মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চার হাজার ২৫০ জন ঢাকা বিভাগের, এক হাজার ৪২৬ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৪৪৫ জন রাজশাহী বিভাগের, ৫৩৮ জন খুলনা বিভাগের, ২৩৯ জন বরিশাল বিভাগের, ২৯৪ জন সিলেট বিভাগের, ৩৫০ জন রংপুর বিভাগের এবং ১৭৬ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।