অস্ট্রেলিয়ায় আদিবাসীদের বিজয়

ইংরেজি নববর্ষ ২০২১-এর প্রথম দিনে বদলে গেল অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীত। দেশটির সরকার বলছে, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ইতিহাসকে প্রতিফলিত করতেই এ পরিবর্তন আনা হলো।

এতদিন অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীতে সেখানকার জনগোষ্ঠীকে ‘তরুণ ও স্বাধীন’ বলে উল্লেখ হতো। সেটিকে পরিবর্তন করে এখন থেকে ‘আমরা সবাই এক এবং স্বাধীন’ যুক্ত করা হয়েছে। দেশটির নাগরিকরা এ বছর থেকে ভিন্ন সংস্করণে জাতীয় সংগীত গাইবেন। জাতীয় সংগীতে অতীতের মতো এখন থেকে আর ‘ইয়ং অ্যান্ড ফ্রি’ উল্লেখ করা হবে না। দেশটির দীর্ঘ নৃগোষ্ঠীর ইতিহাস তুলে ধরতে এটা করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের এ ভূমিতে আদিকাল থেকে এসব মানুষ বাস করে আসছেন। আমাদের ইতিহাসে ৩০০ জাতিসত্তা ও ভাষাভাষীর মানুষ রয়েছে। আমাদের জাতীয় সংগীতে তার প্রতিফলন প্রয়োজন এবং জরুরি। স্কট মরিসন বলেন, আমাদের এ নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে সেই আকাক্সক্ষার বাস্তবায়ন হলো।

অস্ট্রেলিয়ায় আজ থেকে ৫০ হাজার বছর পূর্বেই মানুষের আগমন হয়েছে। তবে এ দেশে ব্রিটেন থেকে মানুষ আসে ১৭৮৮ সালে। এ উপলক্ষে প্রতি বছরের ২৬ জানুয়ারি সারা দেশ ছুটি পালন করে। অপরদিকে আদিবাসীরা এ দিনকে ‘আগ্রাসনের দিন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। জানা যায়, ব্রিটিশরা প্রথমে অস্ট্রেলিয়ায় সৈন্য পাঠায়। সম্প্রতি আমেরিকাতে ‘ব্ল্যাক লাইফ ম্যাটার্স’ আন্দোলন শুরু হলে অস্ট্রেলিয়াতেও এ ইস্যুটি আলোচনায় আসে। উল্লেখ্য সেখানকার আদিবাসীদের গায়ের রং কালো।

জীবনে এ যাবত পাঁচবার অস্ট্রেলিয়ায় গেছি। অল্প সময়ের জন্য হলেও দেশটির নানা স্থানে আদিবাসীদের দেখেছি; দেখেছি তাদের কষ্টকর আবাসন। এতকাল পর সেই অবহেলিত আদিবাসীদের জন্য জাতীয় সংগীতের সংশোধন করায় সেদেশের সরকারকে, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনকে অভিনন্দন জানাই।

এ আদিবাসীদের সঙ্গে ইংল্যান্ড থেকে আসা সাজাপ্রাপ্তদের সাথে বহু বছর ধরে প্রত্যক্ষ এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়। এ যুদ্ধে অগণিত (লাখ লাখ) আদিবাসী নিহত হন। কারণ তাদের হাতে ছিল হাতে তৈরি সাধারণ অস্ত্র। যেমন- তীর-ধনুক, লাঠি, ফালা, সড়কি। অপরদিকে ইংরেজদের হাতে ছিল তুলনামূলকভাবে আধুনিক অস্ত্র। তা সত্ত্বেও বিপুলসংখ্যক ইংরেজকেও আদিবাসীদের সাথে যুদ্ধে প্রাণ হারাতে হয়। সে যুদ্ধ ভিন্নভাবে হলেও আজও যে অব্যাহত আছে, অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীতের সাম্প্রতিক সংশোধন তারই সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে। অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওপর সেখানকার আদিবাসীদের ক্রমাগত এবং ধারাবাহিক চাপের ফলেই যে এটা সম্ভব হলো তা সহজেই অনুমেয়। তাই অস্ট্রেলিয়ার আন্দোলনেও আদিবাসী, তাদের ভাষা এবং রিজিন্যালদের জানাই অভিবাদন, জানাই স্যালুট।

ইংরেজরা ১৭৮৮ সালে জাহাজে করে সমুদ্রপথে এসে অস্ট্রেলিয়ার মহাসাগরের তীরে যখন অবতরণ করে তখন আদিবাসীদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭,৫০,০০০ (সাড়ে সাত লাখ)। ১৯০০ সালে এসে সেই সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৩,০০০ (তিরানব্বই হাজার) জনে। ইতিমধ্যে অবশ্য তাদের সংখ্যা বাড়ছে সশস্ত্র যুদ্ধ বন্ধ ও শিক্ষা-দীক্ষায় উন্নতি ঘটিয়ে উন্নততর জীবনধারা তৈরির মাধ্যমে।

তাদের অসংখ্য নিজস্ব ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সংগীত, নৃত্য রয়েছে। বহু ভাষা তাদের মুখে মুখে প্রচারিত হয়ে থাকে। তারা সিনেট সদস্য পদও পান; অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতেও তারা মোটামুটি একটা মজবুত অবস্থান তৈরি ও সংহত করেছেন। আন্তর্জাতিক সাহিত্য জগতের বহু খ্যাতনামা লেখক অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে বেশ ভালোসংখ্যক বইও প্রকাশ করেছেন।

আদিবাসীদের ওপর অস্ট্রেলিয়া ইংরেজদের অত্যাচার ছিল বহুমুখী। উপেক্ষা ছিল চরমে, নিষ্ঠুরতা ছিল সীমাহীন। তাদের হাজার হাজার কোলের শিশুকে অপহরণ করে নিয়ে বহু ইংরেজ নিজবাড়িতে আটকে রেখে গৃহকর্মী বানিয়েছিল। এ জাতীয় অনেক মেয়েশিশুর গর্ভে মিলিত রক্তজাত অনেক শিশুর জন্ম দিয়েছে। এভাবে জন্ম নেয়া শিশুরা আজ অস্ট্রেলিয়ার মূল জনস্রোতে মিশে গিয়েছেন; তাদের আর আদিবাসী পরিচয় নেই। এ জাতীয় নিষ্ঠুরতার প্রতিবাদে কিছুদিন আগে পর্যন্তও সে দেশের আদিবাসীরা ছিলেন সরব। এখন আর এ জাতীয় নিষ্ঠুরতা ঘটছে না; কিন্তু গোটা আদিবাসী সমাজকে আজও নানাবিধ বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে। ২০২০ সালে যখন আমেরিকাসহ নানা দেশে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলন চলছিলÑ তখন তার রীতিমতো প্রভাব পড়েছিল সুদূর অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের মধ্যেও।

২০০০ সালে আমি অস্ট্র্রেলিয়ায় গিয়েছিলাম। একদিন সেখানকার টেলিভিশনে লাইভ প্রচারিত হচ্ছিল সেখানকার ফেডারেল পার্লামেন্টের অধিবেশন। এক পর্যায়ে দেখি, তৎকালীন লেবার পার্টি মনোনীত প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড দাঁড়িয়ে আদিবাসীদের ওপর দুই শতাব্দী যাবত পরিচালিত অত্যাচারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি জানিয়ে বলে উঠলেনÑ ‘সরি’। এমন ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীরা একের পর এক বিজয় অর্জন করে চলেছেন। তারা তাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতিও অর্জন করেছেন। তাতে গৌরবান্বিত হয়েছে অস্ট্রেলিয়াও। তবে ভূমি আন্দোলন আজও চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। বহিরাগত ইংরেজরা তাদের জমি দখল করে নিয়ে সর্বহারায় পরিণত করেছেন।

সংখ্যায় অল্প হলেও বাংলাদেশের পাহাড়ি এবং সমতলভূমি এলাকাগুলোতে বেশ কিছু আদিবাসী সম্প্রদায় বাস করছে। কিন্তু তাদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে কোন সাংবিধানিক স্বীকৃতি আজও অর্জিত হয়নি। এমনকি জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসও সরকারি উদ্যোগে পালিত হয় না।

বাংলাদেশ সরকার অস্ট্রেলিয়ার সরকারের পদক্ষেপ দেখে এবং দেশের আদিবাসীদের দাবি ও আন্দোলনের পটভূমিতে তাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান, পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ও সমতলের আদিবাসীদের মধ্যে জমির মালিকানার স্বীকৃতি, আদিবাসীদের নিজ নিজ ভাষায় শিক্ষাদানের জন্য আদিবাসী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করতে এগিয়ে এলে বিশ্বব্যাপী অভিনন্দিত হবে।

[লেখক : সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, ঐক্য ন্যাপ]

raneshmaitra@gmail.com

শুক্রবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২১ , ২৪ পৌষ ১৪২৭, ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪২

অস্ট্রেলিয়ায় আদিবাসীদের বিজয়

রণেশ মৈত্র

ইংরেজি নববর্ষ ২০২১-এর প্রথম দিনে বদলে গেল অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীত। দেশটির সরকার বলছে, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ইতিহাসকে প্রতিফলিত করতেই এ পরিবর্তন আনা হলো।

এতদিন অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীতে সেখানকার জনগোষ্ঠীকে ‘তরুণ ও স্বাধীন’ বলে উল্লেখ হতো। সেটিকে পরিবর্তন করে এখন থেকে ‘আমরা সবাই এক এবং স্বাধীন’ যুক্ত করা হয়েছে। দেশটির নাগরিকরা এ বছর থেকে ভিন্ন সংস্করণে জাতীয় সংগীত গাইবেন। জাতীয় সংগীতে অতীতের মতো এখন থেকে আর ‘ইয়ং অ্যান্ড ফ্রি’ উল্লেখ করা হবে না। দেশটির দীর্ঘ নৃগোষ্ঠীর ইতিহাস তুলে ধরতে এটা করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের এ ভূমিতে আদিকাল থেকে এসব মানুষ বাস করে আসছেন। আমাদের ইতিহাসে ৩০০ জাতিসত্তা ও ভাষাভাষীর মানুষ রয়েছে। আমাদের জাতীয় সংগীতে তার প্রতিফলন প্রয়োজন এবং জরুরি। স্কট মরিসন বলেন, আমাদের এ নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে সেই আকাক্সক্ষার বাস্তবায়ন হলো।

অস্ট্রেলিয়ায় আজ থেকে ৫০ হাজার বছর পূর্বেই মানুষের আগমন হয়েছে। তবে এ দেশে ব্রিটেন থেকে মানুষ আসে ১৭৮৮ সালে। এ উপলক্ষে প্রতি বছরের ২৬ জানুয়ারি সারা দেশ ছুটি পালন করে। অপরদিকে আদিবাসীরা এ দিনকে ‘আগ্রাসনের দিন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। জানা যায়, ব্রিটিশরা প্রথমে অস্ট্রেলিয়ায় সৈন্য পাঠায়। সম্প্রতি আমেরিকাতে ‘ব্ল্যাক লাইফ ম্যাটার্স’ আন্দোলন শুরু হলে অস্ট্রেলিয়াতেও এ ইস্যুটি আলোচনায় আসে। উল্লেখ্য সেখানকার আদিবাসীদের গায়ের রং কালো।

জীবনে এ যাবত পাঁচবার অস্ট্রেলিয়ায় গেছি। অল্প সময়ের জন্য হলেও দেশটির নানা স্থানে আদিবাসীদের দেখেছি; দেখেছি তাদের কষ্টকর আবাসন। এতকাল পর সেই অবহেলিত আদিবাসীদের জন্য জাতীয় সংগীতের সংশোধন করায় সেদেশের সরকারকে, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনকে অভিনন্দন জানাই।

এ আদিবাসীদের সঙ্গে ইংল্যান্ড থেকে আসা সাজাপ্রাপ্তদের সাথে বহু বছর ধরে প্রত্যক্ষ এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়। এ যুদ্ধে অগণিত (লাখ লাখ) আদিবাসী নিহত হন। কারণ তাদের হাতে ছিল হাতে তৈরি সাধারণ অস্ত্র। যেমন- তীর-ধনুক, লাঠি, ফালা, সড়কি। অপরদিকে ইংরেজদের হাতে ছিল তুলনামূলকভাবে আধুনিক অস্ত্র। তা সত্ত্বেও বিপুলসংখ্যক ইংরেজকেও আদিবাসীদের সাথে যুদ্ধে প্রাণ হারাতে হয়। সে যুদ্ধ ভিন্নভাবে হলেও আজও যে অব্যাহত আছে, অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীতের সাম্প্রতিক সংশোধন তারই সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে। অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওপর সেখানকার আদিবাসীদের ক্রমাগত এবং ধারাবাহিক চাপের ফলেই যে এটা সম্ভব হলো তা সহজেই অনুমেয়। তাই অস্ট্রেলিয়ার আন্দোলনেও আদিবাসী, তাদের ভাষা এবং রিজিন্যালদের জানাই অভিবাদন, জানাই স্যালুট।

ইংরেজরা ১৭৮৮ সালে জাহাজে করে সমুদ্রপথে এসে অস্ট্রেলিয়ার মহাসাগরের তীরে যখন অবতরণ করে তখন আদিবাসীদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭,৫০,০০০ (সাড়ে সাত লাখ)। ১৯০০ সালে এসে সেই সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৩,০০০ (তিরানব্বই হাজার) জনে। ইতিমধ্যে অবশ্য তাদের সংখ্যা বাড়ছে সশস্ত্র যুদ্ধ বন্ধ ও শিক্ষা-দীক্ষায় উন্নতি ঘটিয়ে উন্নততর জীবনধারা তৈরির মাধ্যমে।

তাদের অসংখ্য নিজস্ব ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সংগীত, নৃত্য রয়েছে। বহু ভাষা তাদের মুখে মুখে প্রচারিত হয়ে থাকে। তারা সিনেট সদস্য পদও পান; অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতেও তারা মোটামুটি একটা মজবুত অবস্থান তৈরি ও সংহত করেছেন। আন্তর্জাতিক সাহিত্য জগতের বহু খ্যাতনামা লেখক অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে বেশ ভালোসংখ্যক বইও প্রকাশ করেছেন।

আদিবাসীদের ওপর অস্ট্রেলিয়া ইংরেজদের অত্যাচার ছিল বহুমুখী। উপেক্ষা ছিল চরমে, নিষ্ঠুরতা ছিল সীমাহীন। তাদের হাজার হাজার কোলের শিশুকে অপহরণ করে নিয়ে বহু ইংরেজ নিজবাড়িতে আটকে রেখে গৃহকর্মী বানিয়েছিল। এ জাতীয় অনেক মেয়েশিশুর গর্ভে মিলিত রক্তজাত অনেক শিশুর জন্ম দিয়েছে। এভাবে জন্ম নেয়া শিশুরা আজ অস্ট্রেলিয়ার মূল জনস্রোতে মিশে গিয়েছেন; তাদের আর আদিবাসী পরিচয় নেই। এ জাতীয় নিষ্ঠুরতার প্রতিবাদে কিছুদিন আগে পর্যন্তও সে দেশের আদিবাসীরা ছিলেন সরব। এখন আর এ জাতীয় নিষ্ঠুরতা ঘটছে না; কিন্তু গোটা আদিবাসী সমাজকে আজও নানাবিধ বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে। ২০২০ সালে যখন আমেরিকাসহ নানা দেশে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলন চলছিলÑ তখন তার রীতিমতো প্রভাব পড়েছিল সুদূর অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের মধ্যেও।

২০০০ সালে আমি অস্ট্র্রেলিয়ায় গিয়েছিলাম। একদিন সেখানকার টেলিভিশনে লাইভ প্রচারিত হচ্ছিল সেখানকার ফেডারেল পার্লামেন্টের অধিবেশন। এক পর্যায়ে দেখি, তৎকালীন লেবার পার্টি মনোনীত প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড দাঁড়িয়ে আদিবাসীদের ওপর দুই শতাব্দী যাবত পরিচালিত অত্যাচারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি জানিয়ে বলে উঠলেনÑ ‘সরি’। এমন ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীরা একের পর এক বিজয় অর্জন করে চলেছেন। তারা তাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতিও অর্জন করেছেন। তাতে গৌরবান্বিত হয়েছে অস্ট্রেলিয়াও। তবে ভূমি আন্দোলন আজও চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। বহিরাগত ইংরেজরা তাদের জমি দখল করে নিয়ে সর্বহারায় পরিণত করেছেন।

সংখ্যায় অল্প হলেও বাংলাদেশের পাহাড়ি এবং সমতলভূমি এলাকাগুলোতে বেশ কিছু আদিবাসী সম্প্রদায় বাস করছে। কিন্তু তাদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে কোন সাংবিধানিক স্বীকৃতি আজও অর্জিত হয়নি। এমনকি জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসও সরকারি উদ্যোগে পালিত হয় না।

বাংলাদেশ সরকার অস্ট্রেলিয়ার সরকারের পদক্ষেপ দেখে এবং দেশের আদিবাসীদের দাবি ও আন্দোলনের পটভূমিতে তাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান, পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ও সমতলের আদিবাসীদের মধ্যে জমির মালিকানার স্বীকৃতি, আদিবাসীদের নিজ নিজ ভাষায় শিক্ষাদানের জন্য আদিবাসী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করতে এগিয়ে এলে বিশ্বব্যাপী অভিনন্দিত হবে।

[লেখক : সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, ঐক্য ন্যাপ]

raneshmaitra@gmail.com