বৈঠকের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করে বৈঠকে আসেননি মোটর মালিকদের একাংশ

বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে জেলা প্রশাসনের ডাকা বৈঠকে হাজির হননি মালিক সমিতির একাংশের নেতারা। অথচ গত বৃহস্পতিবার তারা ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করার পর প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের আশ্বাসে সেই অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। বগুড়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল চারমাথায় এই অবরোধ চলাকালেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে গতকাল বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু গতকাল বেলা ৩টা থেকে জেলা প্রশাসন ও মালিক সমিতির অপরাংশের নেতারা ঘণ্টাব্যাপী বসে থাকলেও অবরোধকারী অংশের কেউ সেই বৈঠকে হাজির হননি। ফলে উপস্থিত অংশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন জেলা প্রশাসকসহ কর্মকর্তারা। বৈঠকে যথাসময়ে নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

সূত্র জানায়, বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধের কারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে (এডিএম) প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণের ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচন দিতে বলা হয়। কিন্তু মালিকদের পক্ষ থেকে এ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা হয়। একপর্যায় হাইকোর্টের নির্দেশে ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিরভিত্তিতে গত ৬ ডিসেম্বর বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালাহউদ্দিন আহমদ প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি নিজে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুলিশ নিয়ে চারমাথা এলাকায় মোটর মালিক গ্রুপের অফিসের নিয়ন্ত্রণ নিতে যান। এ সময় মোটর মালিক গ্রুপের সাবেক নেতাদের একাংশ অফিসের চাবি না দিয়ে বগুড়া-ঢাকা, বগুড়া-রংপুর ও বগুড়া-নওগাঁ সড়কে বাস আড়াআড়ি করে দিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। ফলে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যানজট সৃষ্টি হয়।

একপর্যায় মোটর মালিক গ্রুপের নেতারা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নান আকন্দ, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ, সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবীর বৈঠকে বসেন। দীর্ঘ সময় বৈঠক শেষে ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি অবরোধ তুলে নেয়ার ঘোষণা দিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, প্রশাসন তাদের সঙ্গে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে বৈঠকে বসবেন এবং আদালতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত মোটর মালিক গ্রুপের অফিসে প্রশাসনের কেউ আসবেন না এমন আশ্বাসের কারণে অবরোধ স্থগিত করা হলো।

একইদিন বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালাউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সেই হিসেবে সময় বেশি নেই। নির্বচনী কাজের জন্য মোটর মালিক গ্রুপের অফিস নিয়ন্ত্রণে নেয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য গতকাল বেলা ৩টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বৈঠক হবে। সেখানে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে অফিসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

কিন্তু গতকাল যথাসময়ে বৈঠকে বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালাহউদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং মালিক সমিতির সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহনের পক্ষের নেতারা হাজির হলেও অপর পক্ষ হাজির হননি। বৈঠকে জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের বলেন, যথাসময়ে তারা হাজির না হওয়ায় যোগাযোগ করা হয়েছিল, তারা জানিয়েছে চিঠি দিয়ে তাদের ডাকা হয়নি বলে বৈঠকে আসেননি। অথচ অপর পক্ষকে মোবাইলে বলার পরই তারা এসেছেন। আর ওই পক্ষকে গত বৃহস্পতিবার বৈঠকের তারিখ, সময় ও স্থান জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, একাংশের সঙ্গে কথা হয়েছে। নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠানে তারা কাজ করছেন বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

শনিবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২১ , ২৫ পৌষ ১৪২৭, ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪২

নির্বাচন যথাসময়ে- জেলা প্রশাসক

বৈঠকের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করে বৈঠকে আসেননি মোটর মালিকদের একাংশ

বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে জেলা প্রশাসনের ডাকা বৈঠকে হাজির হননি মালিক সমিতির একাংশের নেতারা। অথচ গত বৃহস্পতিবার তারা ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করার পর প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের আশ্বাসে সেই অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। বগুড়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল চারমাথায় এই অবরোধ চলাকালেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে গতকাল বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু গতকাল বেলা ৩টা থেকে জেলা প্রশাসন ও মালিক সমিতির অপরাংশের নেতারা ঘণ্টাব্যাপী বসে থাকলেও অবরোধকারী অংশের কেউ সেই বৈঠকে হাজির হননি। ফলে উপস্থিত অংশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন জেলা প্রশাসকসহ কর্মকর্তারা। বৈঠকে যথাসময়ে নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

সূত্র জানায়, বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধের কারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে (এডিএম) প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণের ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচন দিতে বলা হয়। কিন্তু মালিকদের পক্ষ থেকে এ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা হয়। একপর্যায় হাইকোর্টের নির্দেশে ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিরভিত্তিতে গত ৬ ডিসেম্বর বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালাহউদ্দিন আহমদ প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি নিজে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুলিশ নিয়ে চারমাথা এলাকায় মোটর মালিক গ্রুপের অফিসের নিয়ন্ত্রণ নিতে যান। এ সময় মোটর মালিক গ্রুপের সাবেক নেতাদের একাংশ অফিসের চাবি না দিয়ে বগুড়া-ঢাকা, বগুড়া-রংপুর ও বগুড়া-নওগাঁ সড়কে বাস আড়াআড়ি করে দিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। ফলে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যানজট সৃষ্টি হয়।

একপর্যায় মোটর মালিক গ্রুপের নেতারা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নান আকন্দ, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ, সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবীর বৈঠকে বসেন। দীর্ঘ সময় বৈঠক শেষে ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি অবরোধ তুলে নেয়ার ঘোষণা দিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, প্রশাসন তাদের সঙ্গে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে বৈঠকে বসবেন এবং আদালতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত মোটর মালিক গ্রুপের অফিসে প্রশাসনের কেউ আসবেন না এমন আশ্বাসের কারণে অবরোধ স্থগিত করা হলো।

একইদিন বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালাউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সেই হিসেবে সময় বেশি নেই। নির্বচনী কাজের জন্য মোটর মালিক গ্রুপের অফিস নিয়ন্ত্রণে নেয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য গতকাল বেলা ৩টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বৈঠক হবে। সেখানে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে অফিসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

কিন্তু গতকাল যথাসময়ে বৈঠকে বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালাহউদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং মালিক সমিতির সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহনের পক্ষের নেতারা হাজির হলেও অপর পক্ষ হাজির হননি। বৈঠকে জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের বলেন, যথাসময়ে তারা হাজির না হওয়ায় যোগাযোগ করা হয়েছিল, তারা জানিয়েছে চিঠি দিয়ে তাদের ডাকা হয়নি বলে বৈঠকে আসেননি। অথচ অপর পক্ষকে মোবাইলে বলার পরই তারা এসেছেন। আর ওই পক্ষকে গত বৃহস্পতিবার বৈঠকের তারিখ, সময় ও স্থান জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, একাংশের সঙ্গে কথা হয়েছে। নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠানে তারা কাজ করছেন বলেও জানান জেলা প্রশাসক।