রাজধানীর বায়ু দূষণ দিন দিন বেড়েই চলেছে

প্রতি বছর দূষণে ২৬ হাজার লোকের মৃত্যু পানি ছিটানো হলে ২০ ভাগ কমতো বিশেষজ্ঞগণ

রাজধানীর ঢাকার বায়ুদূষণ দিন দিন বেড়েই চলছে। বর্তমানে ২৫ ভাগ বায়ুদূষণ বেড়ে গেছে। ঢাকায় প্রতিবছর প্রায় ২৬ হাজার লোক মারা যায় বায়ুদূষণজনিত রোগে। শহরের মধ্যে মেট্রোরেল সহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলার কারণে বায়ুদূষণে শীর্ষে অবস্থার করছে ঢাকা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বের বায়ুমান যাচাই বিষয়ক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘এয়ার ভিজ্যুয়াল’-এর বায়ুমান সূচক (একিউআই) অনুযায়ী গত রোববার বেলা ১১টা থেকে দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত গড়ে ঢাকা প্রথম স্থানেই আছে এবং দূষণের মাত্রা গড়ে ৫০২ পর্যন্ত উঠেছিল। তবে দুপুর ১টার পরে কিছুটা কমে ২২১-এ এসে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু অবস্থান ছিল শীর্ষে। গতকালও একই অবস্থা। তবে সূচক কিছুটা কমছিল।

গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত শীর্ষে থাকা ঢাকার বায়ুদূষণের সূচক ছিল ৪২৭। দ্বিতীয় স্থানে ছিল পাকিস্তানের লাহোর ২০২, তৃতীয় ছিল ভারতের কলকাতা-১৯১, চতুর্থ ছিলো নেপালের কাঠমুন্ড-১৮৫, পঞ্চম স্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি-১৭৮। এভাবে ১২তম অবস্থানে আছে চীনের সাংহাই।

এ বিষয়ে বায়ুদূষণ বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান মজুমদার সংবাদকে বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ঢাকার বায়ুদূষণ বেড়েই চলছে। কারণ করোনকালে ঢাকা শহরের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকা- বন্ধ ছিল। তখন ঢাকা শহরের দূষণ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু এখন এই সঙ্গে সব উন্নয়ন কর্মকা- শুরু হওয়ায় বায়ুদূষণের মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। এভাবে একধারে তিনদিন একই অবস্থা থাকলে দূষণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার নিয়ম রয়েছে। সিটি করপোরেশন থেকে দুই বেলা পানি ছিটালে বায়ুদূষণের ২০ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব্য। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে এ ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, সবচেয়ে খারাপ অবস্থা আবদুল্লাহপুর এলাকা। ধুলাবালির কারণে সড়কের যানবাহন দেখা যায় না। ওই এলাকায় বিআরটি কাজ চলার কারণে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। দূষণের মাত্রা অনেক বেশি এখন। এটা আরও ক’দিন এমনই থাকবে। বড় প্রকল্পের কাজ, যানবাহনের ধোঁয়া, আবর্জনা পোড়ানোর ধোঁয়াই মূলত দায়ী। এগুলো বন্ধ করে দ্রুত বড় রাস্তাগুলোতে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা দরকার এখনই। নইলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছয় ধরনের পদার্থ এবং গ্যাসের কারণে ঢাকায় দূষণের মাত্রা সম্প্রতি অনেক বেড়ে গেছে। এরমধ্যে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ধূলিকণা অর্থাৎ পিএম ২ দশমিক ৫-এর কারণেই ঢাকায় দূষণ অতিমাত্রায় বেড়ে গেলেই পরিস্থিতি নাজুক হয়ে উঠছে।

মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারী ২০২১ , ২৮ পৌষ ১৪২৭, ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪২

রাজধানীর বায়ু দূষণ দিন দিন বেড়েই চলেছে

প্রতি বছর দূষণে ২৬ হাজার লোকের মৃত্যু পানি ছিটানো হলে ২০ ভাগ কমতো বিশেষজ্ঞগণ
image

রাজধানীর ধুলিময় শহরের গতকালের চিত্র -সোহরাব আলম

রাজধানীর ঢাকার বায়ুদূষণ দিন দিন বেড়েই চলছে। বর্তমানে ২৫ ভাগ বায়ুদূষণ বেড়ে গেছে। ঢাকায় প্রতিবছর প্রায় ২৬ হাজার লোক মারা যায় বায়ুদূষণজনিত রোগে। শহরের মধ্যে মেট্রোরেল সহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলার কারণে বায়ুদূষণে শীর্ষে অবস্থার করছে ঢাকা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বের বায়ুমান যাচাই বিষয়ক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘এয়ার ভিজ্যুয়াল’-এর বায়ুমান সূচক (একিউআই) অনুযায়ী গত রোববার বেলা ১১টা থেকে দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত গড়ে ঢাকা প্রথম স্থানেই আছে এবং দূষণের মাত্রা গড়ে ৫০২ পর্যন্ত উঠেছিল। তবে দুপুর ১টার পরে কিছুটা কমে ২২১-এ এসে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু অবস্থান ছিল শীর্ষে। গতকালও একই অবস্থা। তবে সূচক কিছুটা কমছিল।

গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত শীর্ষে থাকা ঢাকার বায়ুদূষণের সূচক ছিল ৪২৭। দ্বিতীয় স্থানে ছিল পাকিস্তানের লাহোর ২০২, তৃতীয় ছিল ভারতের কলকাতা-১৯১, চতুর্থ ছিলো নেপালের কাঠমুন্ড-১৮৫, পঞ্চম স্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি-১৭৮। এভাবে ১২তম অবস্থানে আছে চীনের সাংহাই।

এ বিষয়ে বায়ুদূষণ বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান মজুমদার সংবাদকে বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ঢাকার বায়ুদূষণ বেড়েই চলছে। কারণ করোনকালে ঢাকা শহরের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকা- বন্ধ ছিল। তখন ঢাকা শহরের দূষণ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু এখন এই সঙ্গে সব উন্নয়ন কর্মকা- শুরু হওয়ায় বায়ুদূষণের মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। এভাবে একধারে তিনদিন একই অবস্থা থাকলে দূষণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার নিয়ম রয়েছে। সিটি করপোরেশন থেকে দুই বেলা পানি ছিটালে বায়ুদূষণের ২০ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব্য। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে এ ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, সবচেয়ে খারাপ অবস্থা আবদুল্লাহপুর এলাকা। ধুলাবালির কারণে সড়কের যানবাহন দেখা যায় না। ওই এলাকায় বিআরটি কাজ চলার কারণে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। দূষণের মাত্রা অনেক বেশি এখন। এটা আরও ক’দিন এমনই থাকবে। বড় প্রকল্পের কাজ, যানবাহনের ধোঁয়া, আবর্জনা পোড়ানোর ধোঁয়াই মূলত দায়ী। এগুলো বন্ধ করে দ্রুত বড় রাস্তাগুলোতে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা দরকার এখনই। নইলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছয় ধরনের পদার্থ এবং গ্যাসের কারণে ঢাকায় দূষণের মাত্রা সম্প্রতি অনেক বেড়ে গেছে। এরমধ্যে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ধূলিকণা অর্থাৎ পিএম ২ দশমিক ৫-এর কারণেই ঢাকায় দূষণ অতিমাত্রায় বেড়ে গেলেই পরিস্থিতি নাজুক হয়ে উঠছে।