শ্রমিকদের ইনক্রিমেন্ট স্থগিত না করার দাবি

মালিক সমিতি কর্তৃক শ্রমিকদের পাঁচ শতাংশ বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট স্থগিত করার প্রতিবাদ জানিয়েছে শ্রমিকরা। গতকাল সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলন’ সংগঠন এক মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এ দাবি জানায়। এ সময় সংগঠনের সভাপতি শামীম ইমামসহ শ্রমিক নেতা তাসলিমা আক্তার, মো. ইয়াসিন, এএএম ফয়েজ হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মহামারী পরিস্থিতিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির কথা তুলে ধরে সরকারের কাছে আগামী দুই বছরের জন্য শ্রমিকদের বার্ষিক পাঁচ শতাংশ হারে বেতন বাড়ানোর (ইনক্রিমেন্ট) বাধ্যবাধকতা স্থগিত রাখার আবেদন করেছে মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বিকেএমইএ। গত বছরের মার্চ থেকে যখন করোনাভাইরাস ঠেকাতে সারাদেশের সিংহভাগ প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। তখন থেকে দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে গার্মেন্ট শ্রমিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ৬৫ শতাংশ বেতনে কাজ করে চলেছেন। এমনকি শ্রমিকদের ঈদ বোনাসও কম দেয়া হয়েছে। তারা আরও বলেন, করোনাকালে মালিকরা যদি প্রণোদনা পান তাহলে শ্রমিকদেরও কমপক্ষে ২০ শতাংশ ঝুঁকি ভাতা দিতে হবে।

অথচ মালিকরা এতো সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পরও আগামী দুই বছরের জন্য শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, ইনক্রিমেন্ট বন্ধের যে দাবি করেছেন তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। কেননা একজন শ্রমিকের হয়তো বছর শেষে ২০০ টাকা বেতন বাড়ে। এ ২০০ টাকায় তার কাছে অনেক কিছু। বিশেষ করে এ করোনাকালে। আমরা এ উদ্যোগের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। কারখানাগুলোতে এমন কিছু করা হলে সবাই প্রতিবাদ জানাবে। আমরা শ্রমিক সংগঠনগুলো একত্র হয়ে এ উদ্যোগের প্রতিবাদে কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।

সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১ , ৪ মাঘ ১৪২৭, ৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

শ্রমিকদের ইনক্রিমেন্ট স্থগিত না করার দাবি

image

মালিক সমিতি কর্তৃক শ্রমিকদের পাঁচ শতাংশ বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট স্থগিত করার প্রতিবাদ জানিয়েছে শ্রমিকরা। গতকাল সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলন’ সংগঠন এক মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এ দাবি জানায়। এ সময় সংগঠনের সভাপতি শামীম ইমামসহ শ্রমিক নেতা তাসলিমা আক্তার, মো. ইয়াসিন, এএএম ফয়েজ হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মহামারী পরিস্থিতিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির কথা তুলে ধরে সরকারের কাছে আগামী দুই বছরের জন্য শ্রমিকদের বার্ষিক পাঁচ শতাংশ হারে বেতন বাড়ানোর (ইনক্রিমেন্ট) বাধ্যবাধকতা স্থগিত রাখার আবেদন করেছে মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বিকেএমইএ। গত বছরের মার্চ থেকে যখন করোনাভাইরাস ঠেকাতে সারাদেশের সিংহভাগ প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। তখন থেকে দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে গার্মেন্ট শ্রমিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ৬৫ শতাংশ বেতনে কাজ করে চলেছেন। এমনকি শ্রমিকদের ঈদ বোনাসও কম দেয়া হয়েছে। তারা আরও বলেন, করোনাকালে মালিকরা যদি প্রণোদনা পান তাহলে শ্রমিকদেরও কমপক্ষে ২০ শতাংশ ঝুঁকি ভাতা দিতে হবে।

অথচ মালিকরা এতো সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পরও আগামী দুই বছরের জন্য শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, ইনক্রিমেন্ট বন্ধের যে দাবি করেছেন তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। কেননা একজন শ্রমিকের হয়তো বছর শেষে ২০০ টাকা বেতন বাড়ে। এ ২০০ টাকায় তার কাছে অনেক কিছু। বিশেষ করে এ করোনাকালে। আমরা এ উদ্যোগের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। কারখানাগুলোতে এমন কিছু করা হলে সবাই প্রতিবাদ জানাবে। আমরা শ্রমিক সংগঠনগুলো একত্র হয়ে এ উদ্যোগের প্রতিবাদে কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।