সরকার কৃষকের কল্যাণে কাজ করছে : কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী বলেন, উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে পানির গুরুত্ব অপরিসীম। পানির খরচ আমাদের কমাতে হবে। কৃষিকে লাভজনক ও বাণিজ্যিকীকরণ করতে হলে উৎপাদন ব্যয় কমাতে হবে। বর্তমান সরকার কৃষকের কল্যাণে কাজ করছে। গতকাল বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত সেচ ভবনের অডিটরিয়ামে ‘ডিজিটালাইজেশন অব গ্রাউন্ড ওয়াটার মনিটরিং ফর সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট অব মাইনর ইররিগেশন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক এমপি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা খাদ্য ঘাটতির দেশ ছিলাম। বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করতে হতো। আমাদের সব কিছুর উৎপাদন বেড়েছে। বর্তমানে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু সেচের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠকে সারের দাম কমিয়েছেন। পৃথিবীর কোন দেশে কৃষিতে এতো ভর্তুকি দেয়া হয় না। কৃষিক্ষেত্রে অসাধারণ অর্জন সাধিত হয়েছে। সেচ এক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা রেখেছে। উন্নতমানের ফসলের জাত, সেচ ও সারের ব্যবহারে ফসল উৎপাদন বেড়েছে। ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর জন্য বর্তমান সরকার খাল কাটা কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। বিএডিসি আমাদের সবার জন্য একটি গর্বের প্রতিষ্ঠান। বিএডিসি উন্নতমানের বীজ উৎপাদন করে কৃষিতে অবদান রাখছে। বিজ্ঞানী, শিক্ষক, বিএডিসি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান সবাইকে নিয়ে সমন্বিত কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন নতুন কৃষিপ্রযুক্তি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে।

সেমিনারে কৃষি সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম বলেন, কৃষির জন্য পানি অপরিহার্য। টেকসই কৃষির জন্য অন্যতম উপাদান হচ্ছে সেচ। বিএডিসি কৃষকের কাছে সাশ্রয়ীমূল্যে পানি দিয়ে থাকে। বিএডিসি’র মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর মনিটরিং করা হয়। ভয়াবহ কোভিড পরিস্থিতিতেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর নির্দেশনায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুষ্টি নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে বিএডিসি’র চেয়ারম্যান মো. সায়েদুল ইসলাম বলেন, পানির যথাযথ ব্যবহারের ওপর নির্ভর করছে আগামীর ভবিষ্যৎ। ২০৪১ সালের মধ্যে সুখী সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ গড়তে এবং খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিএডিসি কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার নীতিমালার কারণে আমরা সুফল পাচ্ছি।

কৃষিমন্ত্রী বিএডিসি’র সেচভবন কমপ্লেক্সে নবনির্মিত রেস্ট হাউজ উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিএডিসি’র চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. সায়েদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী সেচযন্ত্রের জরিপ প্রতিবেদন ২০১৯-২০-এর মোড়ক উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম। সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়নে জরিপ ও পরিবীক্ষণ ডিজিটালাইজেশনকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ জাফর উল্লাহ।

সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১ , ৪ মাঘ ১৪২৭, ৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সরকার কৃষকের কল্যাণে কাজ করছে : কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী বলেন, উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে পানির গুরুত্ব অপরিসীম। পানির খরচ আমাদের কমাতে হবে। কৃষিকে লাভজনক ও বাণিজ্যিকীকরণ করতে হলে উৎপাদন ব্যয় কমাতে হবে। বর্তমান সরকার কৃষকের কল্যাণে কাজ করছে। গতকাল বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত সেচ ভবনের অডিটরিয়ামে ‘ডিজিটালাইজেশন অব গ্রাউন্ড ওয়াটার মনিটরিং ফর সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট অব মাইনর ইররিগেশন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক এমপি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা খাদ্য ঘাটতির দেশ ছিলাম। বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করতে হতো। আমাদের সব কিছুর উৎপাদন বেড়েছে। বর্তমানে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু সেচের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠকে সারের দাম কমিয়েছেন। পৃথিবীর কোন দেশে কৃষিতে এতো ভর্তুকি দেয়া হয় না। কৃষিক্ষেত্রে অসাধারণ অর্জন সাধিত হয়েছে। সেচ এক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা রেখেছে। উন্নতমানের ফসলের জাত, সেচ ও সারের ব্যবহারে ফসল উৎপাদন বেড়েছে। ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর জন্য বর্তমান সরকার খাল কাটা কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। বিএডিসি আমাদের সবার জন্য একটি গর্বের প্রতিষ্ঠান। বিএডিসি উন্নতমানের বীজ উৎপাদন করে কৃষিতে অবদান রাখছে। বিজ্ঞানী, শিক্ষক, বিএডিসি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান সবাইকে নিয়ে সমন্বিত কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন নতুন কৃষিপ্রযুক্তি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে।

সেমিনারে কৃষি সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম বলেন, কৃষির জন্য পানি অপরিহার্য। টেকসই কৃষির জন্য অন্যতম উপাদান হচ্ছে সেচ। বিএডিসি কৃষকের কাছে সাশ্রয়ীমূল্যে পানি দিয়ে থাকে। বিএডিসি’র মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর মনিটরিং করা হয়। ভয়াবহ কোভিড পরিস্থিতিতেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর নির্দেশনায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুষ্টি নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে বিএডিসি’র চেয়ারম্যান মো. সায়েদুল ইসলাম বলেন, পানির যথাযথ ব্যবহারের ওপর নির্ভর করছে আগামীর ভবিষ্যৎ। ২০৪১ সালের মধ্যে সুখী সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ গড়তে এবং খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিএডিসি কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার নীতিমালার কারণে আমরা সুফল পাচ্ছি।

কৃষিমন্ত্রী বিএডিসি’র সেচভবন কমপ্লেক্সে নবনির্মিত রেস্ট হাউজ উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিএডিসি’র চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. সায়েদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী সেচযন্ত্রের জরিপ প্রতিবেদন ২০১৯-২০-এর মোড়ক উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম। সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়নে জরিপ ও পরিবীক্ষণ ডিজিটালাইজেশনকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ জাফর উল্লাহ।