পাটশিল্পকে উৎসাহিত করুন

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে বাংলাদেশ চলতি অর্থবছর ২০২০-২১ সালের প্রথম মাস তথা জুলাইয়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ৩৯১ কোটি ডলার আয় করেছে যার মধ্যে ১০ কোটি ৩৫ লাখ ১০ হাজার ডলার এসেছে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে। এই ধারা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। পৃথিবীতে পাট দিয়ে তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্রের চাহিদা বাড়ছে। আমাদের দেশীয় পাটকলগুলোকে খেয়াল রাখতে হবে যাতে সেই চাহিদাকে পূরণ করতে পারে। সরকারি পাটকলসমূহের ব্যবস্থাপনায় যারা জড়িত আছেন তাদের দিকে আমরা চেয়ে থাকি বিভিন্ন দিক নির্দেশনা পাওয়ার জন্য। জানা গেছে সময়মতো পাট কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভাব ও কিছু কিছু ক্ষেত্রে দুর্নীতির কারণে মানুষের চাহিদা পূরণ করতে কষ্টকর হচ্ছে। নেতৃত্ব ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের অভাব, বৈশ্বিক বাজার দখলে কৌশলগত ত্রুটি, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, অদক্ষ ও বেশিসংখ্যক শ্রমিক নিয়োগের ফলে বছরের পর বছর লোকসান গুনতে হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই পাটকলগুলোকে। ফলে কলগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় সরকার। পাটশিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা যদি আরও সচেতন থাকতেন তাহলে এই শিল্প হয়তো উন্নতির পথে পরিচালিত হতো। তবে বর্তমান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের সরকারি পাটকলগুলো নব উদ্যমে কাজ করবে এবং আমাদের বিভিন্ন পাটজাত দ্রব্য উপহার দেবে।

পলি ব্যাগের অতিমাত্রায় ব্যবহার পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ব্যাগের যথেচ্ছ ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। পাট থেকে বস্তা, ফেব্রিক, হ্যান্ডব্যাগ, কার্পেট, শাড়ি, পর্দা, জুতা, সোফা, শো-পিসসহ শত শত রকমের পণ্য তৈরি করা সম্ভব। ইতোমধ্যেই পাটকাঠি পোড়ানো ছাই চীনে রপ্তানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা আইনতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে আমাদের দেশে বছরে অনেক টাকার পাটের বস্তার ব্যবহার বাড়বে। এখন সবার দরকার সম্মিলিতভাবে জাতীয় পাট নীতি- ২০১৮’ বাস্তবায়ন করা। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগ ও দেশের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এই নীতির বাস্তবায়ন হবে। পাটজাত পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির পাশাপাশি নিজেদের পাট জাতীয় পণ্যের ব্যবহারে আগ্রহী হতে হবে। যার ফলে দেশে এবং দেশের বাইরে পাটের ভালো একটা বাজার সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশের ভূমি ও আবহাওয়া পাট চাষের জন্য উপযোগী হলেও বিভিন্ন অবস্থার প্রেক্ষিতে এর চাষ কমতে শুরু করেছে। তবে আশার কথা পরবর্তী সময়ে পরিবেশ সচেতনতার কথা উপলব্ধি করে সেই চাষের পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে অপেক্ষাকৃত উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে উৎপাদন আগের তুলনায় বেড়েছে। বাংলাদেশি কাঁচাপাট, পাটজাত পণ্য প্রধানত, চীন, ইউরোপ, আইভরিকোস্ট, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, ইরান, আমেরিকা, সিরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, সৌদি আরব, জাপান, সুদান, ঘানা, ভারতসহ আরও কিছু দেশে রপ্তানি করা হয়। আমি মনে করি বর্তমান সরকারে শুভ দৃষ্টির কারণে এই পাট চাষাবাদে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।

মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১ , ৫ মাঘ ১৪২৭, ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

পাটশিল্পকে উৎসাহিত করুন

রূপম চক্রবর্ত্তী

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে বাংলাদেশ চলতি অর্থবছর ২০২০-২১ সালের প্রথম মাস তথা জুলাইয়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ৩৯১ কোটি ডলার আয় করেছে যার মধ্যে ১০ কোটি ৩৫ লাখ ১০ হাজার ডলার এসেছে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে। এই ধারা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। পৃথিবীতে পাট দিয়ে তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্রের চাহিদা বাড়ছে। আমাদের দেশীয় পাটকলগুলোকে খেয়াল রাখতে হবে যাতে সেই চাহিদাকে পূরণ করতে পারে। সরকারি পাটকলসমূহের ব্যবস্থাপনায় যারা জড়িত আছেন তাদের দিকে আমরা চেয়ে থাকি বিভিন্ন দিক নির্দেশনা পাওয়ার জন্য। জানা গেছে সময়মতো পাট কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভাব ও কিছু কিছু ক্ষেত্রে দুর্নীতির কারণে মানুষের চাহিদা পূরণ করতে কষ্টকর হচ্ছে। নেতৃত্ব ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের অভাব, বৈশ্বিক বাজার দখলে কৌশলগত ত্রুটি, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, অদক্ষ ও বেশিসংখ্যক শ্রমিক নিয়োগের ফলে বছরের পর বছর লোকসান গুনতে হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই পাটকলগুলোকে। ফলে কলগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় সরকার। পাটশিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা যদি আরও সচেতন থাকতেন তাহলে এই শিল্প হয়তো উন্নতির পথে পরিচালিত হতো। তবে বর্তমান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের সরকারি পাটকলগুলো নব উদ্যমে কাজ করবে এবং আমাদের বিভিন্ন পাটজাত দ্রব্য উপহার দেবে।

পলি ব্যাগের অতিমাত্রায় ব্যবহার পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ব্যাগের যথেচ্ছ ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। পাট থেকে বস্তা, ফেব্রিক, হ্যান্ডব্যাগ, কার্পেট, শাড়ি, পর্দা, জুতা, সোফা, শো-পিসসহ শত শত রকমের পণ্য তৈরি করা সম্ভব। ইতোমধ্যেই পাটকাঠি পোড়ানো ছাই চীনে রপ্তানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা আইনতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে আমাদের দেশে বছরে অনেক টাকার পাটের বস্তার ব্যবহার বাড়বে। এখন সবার দরকার সম্মিলিতভাবে জাতীয় পাট নীতি- ২০১৮’ বাস্তবায়ন করা। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগ ও দেশের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এই নীতির বাস্তবায়ন হবে। পাটজাত পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির পাশাপাশি নিজেদের পাট জাতীয় পণ্যের ব্যবহারে আগ্রহী হতে হবে। যার ফলে দেশে এবং দেশের বাইরে পাটের ভালো একটা বাজার সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশের ভূমি ও আবহাওয়া পাট চাষের জন্য উপযোগী হলেও বিভিন্ন অবস্থার প্রেক্ষিতে এর চাষ কমতে শুরু করেছে। তবে আশার কথা পরবর্তী সময়ে পরিবেশ সচেতনতার কথা উপলব্ধি করে সেই চাষের পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে অপেক্ষাকৃত উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে উৎপাদন আগের তুলনায় বেড়েছে। বাংলাদেশি কাঁচাপাট, পাটজাত পণ্য প্রধানত, চীন, ইউরোপ, আইভরিকোস্ট, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, ইরান, আমেরিকা, সিরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, সৌদি আরব, জাপান, সুদান, ঘানা, ভারতসহ আরও কিছু দেশে রপ্তানি করা হয়। আমি মনে করি বর্তমান সরকারে শুভ দৃষ্টির কারণে এই পাট চাষাবাদে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।