কুটির শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে

কোভিড-১৯ এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি আয় কমলেও পরিবেশবান্ধব হওয়ায় বাড়ছে দেশের হস্ত ও কুটির শিল্পের বাজার। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশের হস্ত ও কুটির শিল্প থেকে চলতি অর্থবছরের ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) আয় হয়েছে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার। এ আয় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৮.৭০ শতাংশ বেশি।

হস্ত ও কুটির শিল্পে রপ্তানি আয় বৃদ্ধির খবরটি আশাব্যঞ্জক। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা এবং বৈষম্যের শিকার হয়েও বিগত কয়েক বছরে হস্ত ও কুটির শিল্প দেশে বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে বিকশিত হতে শুরু করেছে। চাকরি না খুঁজে নিজের এবং অন্যের কর্মসংস্থান তৈরির জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিরন্তর আহ্বান অনেক মানুষের মানসিক গঠনে বিশাল পরিবর্তন এনেছে। এর ফলে উচ্চশিক্ষিত এমনকি বিদেশফেরত উচ্চশিক্ষিতদের অনেকেই নিজেদের দেশের শিল্পোন্নয়নে নিয়োজিত করেছেন।

হস্তশিল্প তৈরি করে এমন বড় প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, ভিয়েতনাম এবং থাইল্যান্ড। এসব দেশ এখন উচ্চপ্রযুক্তিসম্পন্ন শিল্পের দিকে ঝুঁকছে। ফলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার এখন সুবর্ণ সুযোগ। যেভাবেই হোক, এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। বিশ্বে কুটির শিল্পের নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে।

সম্ভাবনাময় এ খাতে বেশকিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। উৎপাদন ও রপ্তানি প্রক্রিয়ায় স্থানীয় এবং বৈশ্বিক চাহিদা মেটাতে উদ্ভাবনী নকশা তৈরির জন্য পর্যাপ্ত গবেষণাগার নেই। কারিগররা দেশের বিভিন্ন স্থানে হস্তশিল্পের পণ্য উৎপাদন করেন। উদ্যোক্তারা সেসব পণ্য খুঁজে খুঁজে সংগ্রহ করেন। তাই কুটির শিল্পের একটি কেন্দ্রীয় সমন্বয় প্রয়োজন। দেশে তৈরি মানসম্মত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে যেন গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং নতুন নতুন ক্রেতা গোষ্ঠী গড়ে তোলা যায় সেদিকে লক্ষ্য রেখে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

হাওর ও নিম্নাঞ্চলে ১ কোটির বেশি মানুষ বছরের ৬ মাস বেকার সময় কাটান। সরকার যদি কুটির শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ নীতি বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয়, তাহলে সার্বিকভাবে দেশের মাধ্যমিক স্তর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া তরুণ-তরুণীরাও যুক্ত হবে এ শিল্প খাতের সঙ্গে।

বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১ , ৬ মাঘ ১৪২৭, ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

কুটির শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে

কোভিড-১৯ এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি আয় কমলেও পরিবেশবান্ধব হওয়ায় বাড়ছে দেশের হস্ত ও কুটির শিল্পের বাজার। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশের হস্ত ও কুটির শিল্প থেকে চলতি অর্থবছরের ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) আয় হয়েছে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার। এ আয় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৮.৭০ শতাংশ বেশি।

হস্ত ও কুটির শিল্পে রপ্তানি আয় বৃদ্ধির খবরটি আশাব্যঞ্জক। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা এবং বৈষম্যের শিকার হয়েও বিগত কয়েক বছরে হস্ত ও কুটির শিল্প দেশে বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে বিকশিত হতে শুরু করেছে। চাকরি না খুঁজে নিজের এবং অন্যের কর্মসংস্থান তৈরির জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিরন্তর আহ্বান অনেক মানুষের মানসিক গঠনে বিশাল পরিবর্তন এনেছে। এর ফলে উচ্চশিক্ষিত এমনকি বিদেশফেরত উচ্চশিক্ষিতদের অনেকেই নিজেদের দেশের শিল্পোন্নয়নে নিয়োজিত করেছেন।

হস্তশিল্প তৈরি করে এমন বড় প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, ভিয়েতনাম এবং থাইল্যান্ড। এসব দেশ এখন উচ্চপ্রযুক্তিসম্পন্ন শিল্পের দিকে ঝুঁকছে। ফলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার এখন সুবর্ণ সুযোগ। যেভাবেই হোক, এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। বিশ্বে কুটির শিল্পের নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে।

সম্ভাবনাময় এ খাতে বেশকিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। উৎপাদন ও রপ্তানি প্রক্রিয়ায় স্থানীয় এবং বৈশ্বিক চাহিদা মেটাতে উদ্ভাবনী নকশা তৈরির জন্য পর্যাপ্ত গবেষণাগার নেই। কারিগররা দেশের বিভিন্ন স্থানে হস্তশিল্পের পণ্য উৎপাদন করেন। উদ্যোক্তারা সেসব পণ্য খুঁজে খুঁজে সংগ্রহ করেন। তাই কুটির শিল্পের একটি কেন্দ্রীয় সমন্বয় প্রয়োজন। দেশে তৈরি মানসম্মত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে যেন গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং নতুন নতুন ক্রেতা গোষ্ঠী গড়ে তোলা যায় সেদিকে লক্ষ্য রেখে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

হাওর ও নিম্নাঞ্চলে ১ কোটির বেশি মানুষ বছরের ৬ মাস বেকার সময় কাটান। সরকার যদি কুটির শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ নীতি বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয়, তাহলে সার্বিকভাবে দেশের মাধ্যমিক স্তর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া তরুণ-তরুণীরাও যুক্ত হবে এ শিল্প খাতের সঙ্গে।