৯ কোটি মানুষকে টিকা দেয়া হবে

আজ দেশে আসছে করোনার টিকা। দেশের প্রায় ৯ কোটি মানুষকে করোনার টিকা দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ১৮ বছরের নিচে কাউকে এই টিকা দেয়া হবে না। প্রথম মাসেই ৬০ লাখ ডোজ টিকা দেয়া হবে। পর্যাক্রমে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন হবে। ৮ থেকে ৯ কোটি মানুষকে টিকা দেয়া হলে দেশে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নান। স্বাস্থ্য সচিব গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভ্যাকসিন বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে দেশের ৮ থেকে ৯ কোটি মানুষকে করোনার টিকা দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, আগামী ২৭ থেকে ২৮ জানুয়ারি টিকা প্রয়োগ শুরু হবে। তবে এখনই বেসরকারিভাবে করোনার টিকা দেয়ার অনুমোদন হচ্ছে না। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক জুয়েনা আজিজ ও আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এনএম জিয়াউল আলম উপস্থিত ছিলেন।

যেভাবে টিকা কর্মসূচি বাস্তবায়ন

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের টিকা আসার পর প্রথম দিনে ২০ থেকে ২৫ জনকে তা প্রয়োগ করা হবে জানিয়ে স্বাস্থ্য সচিব বলেছেন, ‘টিকা বিতরণের পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই করে ফেলা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে উদ্বোধন করার কথা রয়েছে, এটাই প্রাথমিক পরিকল্পনা।’

প্রথম দিন চিকিৎসক, নার্স, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, পুলিশ, সেনাবাহিনী, প্রশাসন, সাংবাদিকদের একজন করে প্রতিনিধিকে টিকা দেয়া হবে জানিয়ে সচিব আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমরা প্রথম দিন এরকম ২০ থেকে ২৫ জনকে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা করেছি। আমরা কাজ করছি এই ২০-২৫ জন কারা হবেন।’

ঢাকার ৪ হাসপাতালে ড্রাই রান

টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালকে নির্বাচন করা হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্য সচিব বলেন, ‘সেখানে ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে টিকা দেয়া হবে। প্রথমদিন টিকা দেয়ার পরদিন ড্রাই রান বা টেস্ট হিসেবে এই টিকা দেয়া হবে। তারপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুযায়ী এক সপ্তাহ অপেক্ষা করব। আমরা দেখব টিকা নেয়ার পরে তাদের মধ্যে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে কিনা।’

টিকা দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে কীনা জানতে চাইলে মুগদা জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আবুল হাসেম শেখ গতকাল সংবাদকে বলেন, ‘করোনার ভ্যাকসিন এখনও দেশে আসেনি। আমরাও কোন কাগজপত্র কিংবা দিক নির্দেশনা পাইনি। তাই এই নিয়ে আগাম কথা বলা ঠিক হবে না।’

৮ ফেব্রুয়ারি

জেলা-উপজেলায় টিকাদান

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জেলা-উপজেলা এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টিকা দেয়া হবে জানিয়ে আবদুল মান্নান বলেন, ‘এ পর্যায়ে দেশের বেসরকারি হাসপাতালে করোনাভাইরাসের টিকা দেয়া হবে না।’ উপহার হিসেবে পাওয়া টিকা ঢাকায় কোল্ড চেইনে রাখার চেষ্টা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জনদের কাছে পাঠানো হবে। এটা ইপিআই কর্মসূচির আওতায় যেভাবে টিকা পাঠানো হয়, সেভাবে পৌঁছে দেয়া হবে। আর সরকারের কেনা টিকা জেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেবে বেক্সিমকো।’

হাসপাতালের বাইরে টিকা কেন্দ্র নয়

স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, হাসপাতালের বাইরে কোন কেন্দ্র হবে না, কারণ সবাইকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। ভ্যাকসিন নেয়া সবাই টেলিমেডিসিনের আওতায় থাকবে। প্রতিদিন ভ্যাকসিন বুলেটিন প্রচার করা হবে। প্রতি টিমে দু’জন ভ্যাকসিনেটর ও চারজন স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন, যাদের ভ্যাকসিন দেয়া হবে তাদের টেলিমেডিসিন সুবিধা দেয়া হবে। রাখা হবে ফলোআপে।

৮০ শতাংশ মানুষ টিকা পেলে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়

স্বাস্থ্য সচিব বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, যদি দেশের মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দেয়া যায়, তাহলে সে দেশে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হবে। আমাদের মাইক্রো প্ল্যানে এই ৮০ শতাংশ মানুষকেই টিকা দেয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।’

সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি। এর ৮০ শতাংশ হলে জনসংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ১২ কোটি, যার একটি বড় অংশই ১৮ বছরের কম বয়সী, ১৮ বছরের কম বয়সীরা করোনার টিকা পাবে না। সাড়ে ১২ কোটির মধ্যে প্রায় তিন কোটি ৩০ লাখ মানুষ চলতি বছরেই করোনা ভ্যাকসিনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

জানতে চাইলে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর সংবাদকে বলেন, ‘৮০ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়া সম্ভব হলে বাকি ২০ শতাংশের মধ্যে এমনিতেই হার্ড ইমিউনিটি (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা) তৈরি হয়ে যাবে।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ভারতের উপহার হিসেবে আজ ২০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে আসছে। পরবর্তীতে আসবে বাংলাদেশের কেনা ৫০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন। প্রথম ধাপে এক কোটি ৬০ লাখ মানুষ ভ্যাকসিন কার্যক্রমের আওতায় আসবে। এভাবে ভারত থেকে আরও তিন কোটি ভ্যাকসিন পর্যায়ক্রমে আসবে। ‘কোভ্যাক্স’ থেকে আসবে ছয় কোটি ৮০ লাখ ডোজ।

দেশের জনসংখ্যার ভিত্তিতে ভ্যাকসিনের এই সংখ্যা ঠিক আছে নাকি পরবর্তীতে আরও ভ্যাকসিন আনা হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব আবদুল মান্নান বলেন, ‘বাড়তি জনগোষ্ঠীর জন্য ভ্যাকসিন আনার প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে। ‘কোভ্যাক্স’ থেকে মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ হিসাবে ছয় কোটি ৮০ লাখ ভ্যাকসিন আসবে। ছয় কোটি ৮০ লাখ ডোজ দেয়া হবে তিন কোটি ৪০ লাখ মানুষকে। আর ভারত থেকে কিনে আনা তিন কোটি ডোজ দেয়া হবে এক কোটি ৫০ লাখ মানুষকে। তাতে করে চার কোটি ৯০ লাখ মানুষ এই দুই সোর্স থেকে আসা ভ্যাকসিন পাচ্ছে। সঙ্গে রয়েছে উপহারের ২০ লাখ। এই হিসাবে মোট জনসংখ্যা হয় ৫ কোটি ১০ লাখ। কিন্তু আমাদের প্রস্তুতি হচ্ছে, যেন নিদেনপক্ষে দেশের ৮ থেকে ৯ কোটি মানুষকে টিকা দেয়া যায়, সে চেষ্টাই করা হবে।’

মোট পাঁচ কোটি ১০ লাখ মানুষকে টিকা দেয়ার পরেও যদি প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে আরও টিকা আমদানি করা হবে- জানিয়ে সচিব বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আশাবাদী, আগামী জুন-জুলাইয়ের মধ্যে দেশেই ভ্যাকসিন তৈরি হবে এবং এটা অ্যাভেইলেবেল হয়ে যাবে।’

ভারত থেকে ৩৫ লাখ ডোজ টিকা আসছে আজ

ভারত থেকে আজ করোনাভাইরাসের ৩৫ লাখ ডোজ টিকা দেশে আসছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন বলেন, ভারত উপহার হিসেবে করোনার ২০ লাখ ডোজ টিকা বাংলাদেশকে দেবে। এছাড়া চুক্তির (বেক্সিমকো) আওতায় প্রথম চালান হিসেবে ১৫ লাখ টিকা দেশে আসবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে কন্ট্রাক্ট ফার্মিং বিষয়ক এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘দেশে টিকা আসার পরপরই তা দেয়ার কর্মসূচি শুরু হবে। টিকা পাওয়ার বিষয়ে আমরা এখন যথেষ্ট নিশ্চিত।’

রাশিয়া, চীনসহ আরও কয়েকটি দেশ বাংলাদেশকে টিকা দেয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জানিয়ে আবদুল মোমেন বলেন, ‘রাশিয়া অনেক ভ্যাকসিন দিতে চায়। এই দলে চীনও আছে।’

চীন কোন উপহার দিচ্ছে কিনা, সে সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না।’

স্বাস্থ্য সচিব জানিয়েছেন, উপহার হিসেবে ভারত সরকারের পাঠানো অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২০ লাখ ডোজ করোনার টিকা আজ দুপুর দেড়টায় ঢাকায় পৌঁছবে। এগুলো পরিবহনের দায়িত্ব পেয়েছে ভারতীয় বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ভ্যাকসিন গ্রহণ করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এ সময় ভারতীয় হাইকমিশনারসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

টিকার নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

করোনার ভ্যাকসিনের নিরাপত্তার বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নান বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ভ্যাকসিনের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’

বিমানবন্দরে টিকা গ্রহণ থেকে শুরু করে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ভ্যাকসিনের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকবে জানিয়ে সচিব বলেন, ‘পুলিশের পাহারায় ঢাকার বাইরে ভ্যাকসিন নিয়ে যাওয়া হবে। কোন সমস্যা হবে না। আর ঢাকার কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রথম মাসেই ৬০ রাখ ডোজ টিকা

ভারত সরকারের শুভেচ্ছা উপহারের ২০ লাখ ও বাংলাদেশ সরকারের কেনা ৫০ লাখ ডোজ মিলিয়ে মোট ৭০ লাখ টিকার মধ্যে প্রথম মাসে ৬০ লাখ ডোজ টিকা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় মাসে ৫০ লাখ এবং তৃতীয় মাসে আবার ৬০ লাখ নাগরিককে টিকা দেয়া হবে। প্রথম মাসের ৬০ লাখের দ্বিতীয় ডোজ সংরক্ষিত থাকবে এবং প্রথম মাসে টিকা পাওয়া ব্যক্তিরা ফের তৃতীয় মাসে পাবেন।’

বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২১ , ৭ মাঘ ১৪২৭, ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

৯ কোটি মানুষকে টিকা দেয়া হবে

আজ দেশে আসছে করোনার টিকা। দেশের প্রায় ৯ কোটি মানুষকে করোনার টিকা দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ১৮ বছরের নিচে কাউকে এই টিকা দেয়া হবে না। প্রথম মাসেই ৬০ লাখ ডোজ টিকা দেয়া হবে। পর্যাক্রমে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন হবে। ৮ থেকে ৯ কোটি মানুষকে টিকা দেয়া হলে দেশে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নান। স্বাস্থ্য সচিব গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভ্যাকসিন বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে দেশের ৮ থেকে ৯ কোটি মানুষকে করোনার টিকা দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, আগামী ২৭ থেকে ২৮ জানুয়ারি টিকা প্রয়োগ শুরু হবে। তবে এখনই বেসরকারিভাবে করোনার টিকা দেয়ার অনুমোদন হচ্ছে না। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক জুয়েনা আজিজ ও আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এনএম জিয়াউল আলম উপস্থিত ছিলেন।

যেভাবে টিকা কর্মসূচি বাস্তবায়ন

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের টিকা আসার পর প্রথম দিনে ২০ থেকে ২৫ জনকে তা প্রয়োগ করা হবে জানিয়ে স্বাস্থ্য সচিব বলেছেন, ‘টিকা বিতরণের পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই করে ফেলা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে উদ্বোধন করার কথা রয়েছে, এটাই প্রাথমিক পরিকল্পনা।’

প্রথম দিন চিকিৎসক, নার্স, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, পুলিশ, সেনাবাহিনী, প্রশাসন, সাংবাদিকদের একজন করে প্রতিনিধিকে টিকা দেয়া হবে জানিয়ে সচিব আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমরা প্রথম দিন এরকম ২০ থেকে ২৫ জনকে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা করেছি। আমরা কাজ করছি এই ২০-২৫ জন কারা হবেন।’

ঢাকার ৪ হাসপাতালে ড্রাই রান

টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালকে নির্বাচন করা হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্য সচিব বলেন, ‘সেখানে ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে টিকা দেয়া হবে। প্রথমদিন টিকা দেয়ার পরদিন ড্রাই রান বা টেস্ট হিসেবে এই টিকা দেয়া হবে। তারপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুযায়ী এক সপ্তাহ অপেক্ষা করব। আমরা দেখব টিকা নেয়ার পরে তাদের মধ্যে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে কিনা।’

টিকা দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে কীনা জানতে চাইলে মুগদা জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আবুল হাসেম শেখ গতকাল সংবাদকে বলেন, ‘করোনার ভ্যাকসিন এখনও দেশে আসেনি। আমরাও কোন কাগজপত্র কিংবা দিক নির্দেশনা পাইনি। তাই এই নিয়ে আগাম কথা বলা ঠিক হবে না।’

৮ ফেব্রুয়ারি

জেলা-উপজেলায় টিকাদান

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জেলা-উপজেলা এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টিকা দেয়া হবে জানিয়ে আবদুল মান্নান বলেন, ‘এ পর্যায়ে দেশের বেসরকারি হাসপাতালে করোনাভাইরাসের টিকা দেয়া হবে না।’ উপহার হিসেবে পাওয়া টিকা ঢাকায় কোল্ড চেইনে রাখার চেষ্টা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জনদের কাছে পাঠানো হবে। এটা ইপিআই কর্মসূচির আওতায় যেভাবে টিকা পাঠানো হয়, সেভাবে পৌঁছে দেয়া হবে। আর সরকারের কেনা টিকা জেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেবে বেক্সিমকো।’

হাসপাতালের বাইরে টিকা কেন্দ্র নয়

স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, হাসপাতালের বাইরে কোন কেন্দ্র হবে না, কারণ সবাইকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। ভ্যাকসিন নেয়া সবাই টেলিমেডিসিনের আওতায় থাকবে। প্রতিদিন ভ্যাকসিন বুলেটিন প্রচার করা হবে। প্রতি টিমে দু’জন ভ্যাকসিনেটর ও চারজন স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন, যাদের ভ্যাকসিন দেয়া হবে তাদের টেলিমেডিসিন সুবিধা দেয়া হবে। রাখা হবে ফলোআপে।

৮০ শতাংশ মানুষ টিকা পেলে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়

স্বাস্থ্য সচিব বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, যদি দেশের মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দেয়া যায়, তাহলে সে দেশে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হবে। আমাদের মাইক্রো প্ল্যানে এই ৮০ শতাংশ মানুষকেই টিকা দেয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।’

সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি। এর ৮০ শতাংশ হলে জনসংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ১২ কোটি, যার একটি বড় অংশই ১৮ বছরের কম বয়সী, ১৮ বছরের কম বয়সীরা করোনার টিকা পাবে না। সাড়ে ১২ কোটির মধ্যে প্রায় তিন কোটি ৩০ লাখ মানুষ চলতি বছরেই করোনা ভ্যাকসিনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

জানতে চাইলে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর সংবাদকে বলেন, ‘৮০ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়া সম্ভব হলে বাকি ২০ শতাংশের মধ্যে এমনিতেই হার্ড ইমিউনিটি (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা) তৈরি হয়ে যাবে।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ভারতের উপহার হিসেবে আজ ২০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে আসছে। পরবর্তীতে আসবে বাংলাদেশের কেনা ৫০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন। প্রথম ধাপে এক কোটি ৬০ লাখ মানুষ ভ্যাকসিন কার্যক্রমের আওতায় আসবে। এভাবে ভারত থেকে আরও তিন কোটি ভ্যাকসিন পর্যায়ক্রমে আসবে। ‘কোভ্যাক্স’ থেকে আসবে ছয় কোটি ৮০ লাখ ডোজ।

দেশের জনসংখ্যার ভিত্তিতে ভ্যাকসিনের এই সংখ্যা ঠিক আছে নাকি পরবর্তীতে আরও ভ্যাকসিন আনা হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব আবদুল মান্নান বলেন, ‘বাড়তি জনগোষ্ঠীর জন্য ভ্যাকসিন আনার প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে। ‘কোভ্যাক্স’ থেকে মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ হিসাবে ছয় কোটি ৮০ লাখ ভ্যাকসিন আসবে। ছয় কোটি ৮০ লাখ ডোজ দেয়া হবে তিন কোটি ৪০ লাখ মানুষকে। আর ভারত থেকে কিনে আনা তিন কোটি ডোজ দেয়া হবে এক কোটি ৫০ লাখ মানুষকে। তাতে করে চার কোটি ৯০ লাখ মানুষ এই দুই সোর্স থেকে আসা ভ্যাকসিন পাচ্ছে। সঙ্গে রয়েছে উপহারের ২০ লাখ। এই হিসাবে মোট জনসংখ্যা হয় ৫ কোটি ১০ লাখ। কিন্তু আমাদের প্রস্তুতি হচ্ছে, যেন নিদেনপক্ষে দেশের ৮ থেকে ৯ কোটি মানুষকে টিকা দেয়া যায়, সে চেষ্টাই করা হবে।’

মোট পাঁচ কোটি ১০ লাখ মানুষকে টিকা দেয়ার পরেও যদি প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে আরও টিকা আমদানি করা হবে- জানিয়ে সচিব বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আশাবাদী, আগামী জুন-জুলাইয়ের মধ্যে দেশেই ভ্যাকসিন তৈরি হবে এবং এটা অ্যাভেইলেবেল হয়ে যাবে।’

ভারত থেকে ৩৫ লাখ ডোজ টিকা আসছে আজ

ভারত থেকে আজ করোনাভাইরাসের ৩৫ লাখ ডোজ টিকা দেশে আসছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন বলেন, ভারত উপহার হিসেবে করোনার ২০ লাখ ডোজ টিকা বাংলাদেশকে দেবে। এছাড়া চুক্তির (বেক্সিমকো) আওতায় প্রথম চালান হিসেবে ১৫ লাখ টিকা দেশে আসবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে কন্ট্রাক্ট ফার্মিং বিষয়ক এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘দেশে টিকা আসার পরপরই তা দেয়ার কর্মসূচি শুরু হবে। টিকা পাওয়ার বিষয়ে আমরা এখন যথেষ্ট নিশ্চিত।’

রাশিয়া, চীনসহ আরও কয়েকটি দেশ বাংলাদেশকে টিকা দেয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জানিয়ে আবদুল মোমেন বলেন, ‘রাশিয়া অনেক ভ্যাকসিন দিতে চায়। এই দলে চীনও আছে।’

চীন কোন উপহার দিচ্ছে কিনা, সে সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না।’

স্বাস্থ্য সচিব জানিয়েছেন, উপহার হিসেবে ভারত সরকারের পাঠানো অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২০ লাখ ডোজ করোনার টিকা আজ দুপুর দেড়টায় ঢাকায় পৌঁছবে। এগুলো পরিবহনের দায়িত্ব পেয়েছে ভারতীয় বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ভ্যাকসিন গ্রহণ করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এ সময় ভারতীয় হাইকমিশনারসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

টিকার নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

করোনার ভ্যাকসিনের নিরাপত্তার বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নান বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ভ্যাকসিনের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’

বিমানবন্দরে টিকা গ্রহণ থেকে শুরু করে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ভ্যাকসিনের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকবে জানিয়ে সচিব বলেন, ‘পুলিশের পাহারায় ঢাকার বাইরে ভ্যাকসিন নিয়ে যাওয়া হবে। কোন সমস্যা হবে না। আর ঢাকার কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রথম মাসেই ৬০ রাখ ডোজ টিকা

ভারত সরকারের শুভেচ্ছা উপহারের ২০ লাখ ও বাংলাদেশ সরকারের কেনা ৫০ লাখ ডোজ মিলিয়ে মোট ৭০ লাখ টিকার মধ্যে প্রথম মাসে ৬০ লাখ ডোজ টিকা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় মাসে ৫০ লাখ এবং তৃতীয় মাসে আবার ৬০ লাখ নাগরিককে টিকা দেয়া হবে। প্রথম মাসের ৬০ লাখের দ্বিতীয় ডোজ সংরক্ষিত থাকবে এবং প্রথম মাসে টিকা পাওয়া ব্যক্তিরা ফের তৃতীয় মাসে পাবেন।’