উপহারের টিকা শুধু ঢাকায় 

ভারত থেকে যে ২০ লাখ টিকা এসেছে, তা শুধু ঢাকায় প্রয়োগ করা হবে। ২৭ বা ২৮ ফেব্রুয়ারি করোনার এই টিকা দিয়েই ট্রায়াল বা পাইলটিং শুরু হচ্ছে। তবে কয়েকদিনের মধ্যে চুক্তির টিকা হাতে পেলে পাইলটিংয়ের এক সপ্তাহ পর একযোগে সারাদেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে গতকাল দুপুর দেড়টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আনুষ্ঠানিকভাবে উপহার হিসেবে করোনার টিকা হস্তান্তর করা হয়। যুক্তরাজ্যের ‘অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা’র উদ্ভাবিত এই টিকা ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদন হয়েছে।

পররাষ্টমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের হাতে পৃথকভাবে করোনা টিকার দুটি বক্স তুলে দেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২৫ জানুয়ারির মধ্যে টিকা আসবে এমনটা ধরে নিয়ে প্রথমদিকে ১ ফ্রেব্রুয়ারি থেকে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছিল সরকার। এর আগেই টিকা পৌঁছে যাওয়ায় দ্রুতই দেশে টিকাদান শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

২০ জানুয়ারি স্বাস্থ্যসচিব আবদুল মান্নান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জেলা-উপজেলা এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টিকা দেয়া হবে।

উপহারের টিকা শুধু ঢাকায়

উপহার হিসেবে পাওয়া টিকা কোথায় প্রয়োগ হবে, জানতে চাইলে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর সংবাদকে বলেন, ‘এই টিকা শুধু ঢাকায় দেয়া হবে। এই টিকার ১০ লাখ ডোজ প্রথমে দিয়ে... ১০ লাখ সেকেন্ড ডোজ হিসেবে রাখতে হবে। কারণ আমরা যে তিন কোটি ডোজ কিনেছি তা দেড় কোটি মানুষকে দিয়ে দেব। কিন্তু আজকে (গতকাল) যে টিকা আসলো তার সেকেন্ড ডোজ আমাদের কাছে নেই।’

ভারতের মুম্বাই থেকে টিকা নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার বিশেষ ফ্লাইটটি গতকাল সকাল ১১টা ২০ মিনিটে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন উপপরিচালকের নেতৃত্বে একটি দল টিকা বুঝে নিতে উপস্থিত ছিলেন হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে। তাদের সঙ্গে ছিলেন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তারাও। ‘ভ্যাকসিনমৈত্রীর’ আকাশি রঙের ব্যানারে ঢাকা ফ্রিজার ভ্যানের গায়ে আঁকা ছিল দুই দেশের পতাকা, লেখা ছিল- ‘ভারতীয় জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য উপহারস্বরূপ ভারতে উৎপাদিত ২০ লাখ ডোজ কোভিড ভ্যাকসিন।’

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এক টুইটে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ‘সর্বোচ্চ গুরুত্ব’ দেয় ভারত, ‘ভ্যাকসিনমৈত্রী’ তারই নজির।

টিকা সংরক্ষণ ইপিআই স্টোরে

বিমানবন্দর থেকে দুটি ফ্রিজার ভ্যানে করে টিকার বাক্স নিয়ে যাওয়া হয় তেজগাঁওয়ে ইপিআই স্টোরেজে। সেখান থেকে কিছু টিকা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নেয়া হয়, যা দিয়ে উপহার গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।

করোনার টিকা ইপিআই সেন্টারে সংরক্ষণের সময় ঢাকা জেলা ইপিআইয়ের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মাওলা বক্স চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম, তেজগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বুলবুল উপস্থিত ছিলেন।

মাওলা বক্স চৌধুরী বলেন, ‘করোনাভাইরাস প্রতিরোধের ভ্যাকসিন সংরক্ষণের জন্য আমাদের কোল্ড বক্স আছে, সেখানে ২৪টি আইস প্যাক দিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সেই কোল্ড বক্সে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত ভ্যাকসিন রাখা যায়।

দেশের যেকোন জায়গায় যদি এই ভ্যাকসিনটি পরিবহন করি, তবে ১২-১৮ ঘণ্টার মধ্যে সবচেয়ে দূরে যে জেলাটি আছে পঞ্চগড় অথবা কক্সবাজারে যাওয়া যাবে। যদিও আমাদের হাতে আছে ৭২ ঘণ্টা।’

এ সময় ইউপিআই’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার গোলাম মাওলা সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই স্টোরেজের তাপমাত্রা মাইনাস ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। সে কারণে এই টিকা এখানে রাখা যাবে।’

উপহারস্বরূপ আসা টিকা তেজগাঁওয়ের ইপিআইয়ের সংরক্ষণাগারে রাখার তথ্য জানিয়ে ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন আবু হোসেন মো. মইনুল আহসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের এখানে ৫০ লাখ ভ্যাকসিন রাখার সক্ষমতা আছে। ইতোমধ্যে দুটি ফ্রিজার খালি করা হয়েছে। প্রতিটি ফ্রিজারে ২০ লাখ ভ্যাকসিন রাখা যায়। করোনা টিকার নিরাপত্তা রক্ষায় ইপিআই সংরক্ষণাগার ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।’

মোট ১৬৭টি কার্টনে করে ভ্যাকসিনের ডোজ এসে পৌঁছেছে জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. রওশন জাহান আক্তার আলো বলেন, ‘প্রতি কার্টনে আছে এক হাজার ২০০ ভায়াল ভ্যাকসিন। এক ভায়ালে ১০ জনকে টিকা দেয়া যাবে। ২০ লাখ চার হাজার ডোজ ভ্যাকসিন আছে।’

বাণিজ্যিক চুক্তিতে আরও ৫০ লাখ টিকা আসছে -স্বাস্থ্যমন্ত্রী

টিকা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘বাণিজ্যিক চুক্তি অনুযায়ী এ মাসের শেষে ৫০ লাখ টিকা আসার কথা এবং সে অনুযায়ী টিকা আসবে। ফ্লাইট শিডিউল হাতে পেলে জানিয়ে দেব কবে থেকে টিকা পাচ্ছি। এখনও ফ্লাইট শিডিউল পাইনি। এরপর প্রতিমাসে ৫০ লাখ করে টিকা আসার কথা রয়েছে। টিকা আসার একটি শিডিউল আছে। যদি এদিক সেদিক হয় তবে যখন আমরা জানব তখন আপনাদের জানাব।’

অনুষ্ঠানে ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যকার ভর্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনের আলোচনার ধারাবাহিকতায় এই ২০ লাখ ডোজ টিকা এলো। ভারতে টিকা কার্যক্রম শুরুর চার দিনের মাথায় ভারত বাংলাদেশকে ভ্যাকসিন সরবরাহ করেছে। যাতে আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রও একই সময়ে জনগণের ইমিউনিটি নিশ্চিত করতে পারে। প্রতিবেশী নীতির অংশ হিসেবে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রতি ভারত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়।’

৬-৭ দিনের মধ্যে টিকার ট্রায়াল

টিকার ট্রায়াল রানের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ছয়-সাত দিনের মধ্যে টিকার একটি ট্রায়াল রান করার চিন্তাভাবনা আছে। সেই তারিখটি আপনাদের জানিয়ে দেব। তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত দিনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। কারণ ভিডিও কনফারেন্সের মধ্য দিয়ে টিকার ট্রায়ালে যুক্ত হতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’

স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নান ২০ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে জানান, আগামী ২৭ থেকে ২৮ জানুয়ারি টিকা প্রয়োগ শুরু হতে পারে।

বাংলাদেশ চুক্তির আওতায় ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তিন কোটি ডোজ টিকা কিনছে, যার প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ টিকা ২৫ জানুয়ারির মধ্যে পৌঁছাবে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন।

শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১ , ৮ মাঘ ১৪২৭, ৮ জমাদিউস সানি ১৪৪২

উপহারের টিকা শুধু ঢাকায় 

ভারত থেকে যে ২০ লাখ টিকা এসেছে, তা শুধু ঢাকায় প্রয়োগ করা হবে। ২৭ বা ২৮ ফেব্রুয়ারি করোনার এই টিকা দিয়েই ট্রায়াল বা পাইলটিং শুরু হচ্ছে। তবে কয়েকদিনের মধ্যে চুক্তির টিকা হাতে পেলে পাইলটিংয়ের এক সপ্তাহ পর একযোগে সারাদেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে গতকাল দুপুর দেড়টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আনুষ্ঠানিকভাবে উপহার হিসেবে করোনার টিকা হস্তান্তর করা হয়। যুক্তরাজ্যের ‘অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা’র উদ্ভাবিত এই টিকা ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদন হয়েছে।

পররাষ্টমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের হাতে পৃথকভাবে করোনা টিকার দুটি বক্স তুলে দেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২৫ জানুয়ারির মধ্যে টিকা আসবে এমনটা ধরে নিয়ে প্রথমদিকে ১ ফ্রেব্রুয়ারি থেকে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছিল সরকার। এর আগেই টিকা পৌঁছে যাওয়ায় দ্রুতই দেশে টিকাদান শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

২০ জানুয়ারি স্বাস্থ্যসচিব আবদুল মান্নান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জেলা-উপজেলা এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টিকা দেয়া হবে।

উপহারের টিকা শুধু ঢাকায়

উপহার হিসেবে পাওয়া টিকা কোথায় প্রয়োগ হবে, জানতে চাইলে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর সংবাদকে বলেন, ‘এই টিকা শুধু ঢাকায় দেয়া হবে। এই টিকার ১০ লাখ ডোজ প্রথমে দিয়ে... ১০ লাখ সেকেন্ড ডোজ হিসেবে রাখতে হবে। কারণ আমরা যে তিন কোটি ডোজ কিনেছি তা দেড় কোটি মানুষকে দিয়ে দেব। কিন্তু আজকে (গতকাল) যে টিকা আসলো তার সেকেন্ড ডোজ আমাদের কাছে নেই।’

ভারতের মুম্বাই থেকে টিকা নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার বিশেষ ফ্লাইটটি গতকাল সকাল ১১টা ২০ মিনিটে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন উপপরিচালকের নেতৃত্বে একটি দল টিকা বুঝে নিতে উপস্থিত ছিলেন হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে। তাদের সঙ্গে ছিলেন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তারাও। ‘ভ্যাকসিনমৈত্রীর’ আকাশি রঙের ব্যানারে ঢাকা ফ্রিজার ভ্যানের গায়ে আঁকা ছিল দুই দেশের পতাকা, লেখা ছিল- ‘ভারতীয় জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য উপহারস্বরূপ ভারতে উৎপাদিত ২০ লাখ ডোজ কোভিড ভ্যাকসিন।’

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এক টুইটে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ‘সর্বোচ্চ গুরুত্ব’ দেয় ভারত, ‘ভ্যাকসিনমৈত্রী’ তারই নজির।

টিকা সংরক্ষণ ইপিআই স্টোরে

বিমানবন্দর থেকে দুটি ফ্রিজার ভ্যানে করে টিকার বাক্স নিয়ে যাওয়া হয় তেজগাঁওয়ে ইপিআই স্টোরেজে। সেখান থেকে কিছু টিকা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নেয়া হয়, যা দিয়ে উপহার গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।

করোনার টিকা ইপিআই সেন্টারে সংরক্ষণের সময় ঢাকা জেলা ইপিআইয়ের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মাওলা বক্স চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম, তেজগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বুলবুল উপস্থিত ছিলেন।

মাওলা বক্স চৌধুরী বলেন, ‘করোনাভাইরাস প্রতিরোধের ভ্যাকসিন সংরক্ষণের জন্য আমাদের কোল্ড বক্স আছে, সেখানে ২৪টি আইস প্যাক দিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সেই কোল্ড বক্সে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত ভ্যাকসিন রাখা যায়।

দেশের যেকোন জায়গায় যদি এই ভ্যাকসিনটি পরিবহন করি, তবে ১২-১৮ ঘণ্টার মধ্যে সবচেয়ে দূরে যে জেলাটি আছে পঞ্চগড় অথবা কক্সবাজারে যাওয়া যাবে। যদিও আমাদের হাতে আছে ৭২ ঘণ্টা।’

এ সময় ইউপিআই’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার গোলাম মাওলা সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই স্টোরেজের তাপমাত্রা মাইনাস ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। সে কারণে এই টিকা এখানে রাখা যাবে।’

উপহারস্বরূপ আসা টিকা তেজগাঁওয়ের ইপিআইয়ের সংরক্ষণাগারে রাখার তথ্য জানিয়ে ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন আবু হোসেন মো. মইনুল আহসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের এখানে ৫০ লাখ ভ্যাকসিন রাখার সক্ষমতা আছে। ইতোমধ্যে দুটি ফ্রিজার খালি করা হয়েছে। প্রতিটি ফ্রিজারে ২০ লাখ ভ্যাকসিন রাখা যায়। করোনা টিকার নিরাপত্তা রক্ষায় ইপিআই সংরক্ষণাগার ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।’

মোট ১৬৭টি কার্টনে করে ভ্যাকসিনের ডোজ এসে পৌঁছেছে জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. রওশন জাহান আক্তার আলো বলেন, ‘প্রতি কার্টনে আছে এক হাজার ২০০ ভায়াল ভ্যাকসিন। এক ভায়ালে ১০ জনকে টিকা দেয়া যাবে। ২০ লাখ চার হাজার ডোজ ভ্যাকসিন আছে।’

বাণিজ্যিক চুক্তিতে আরও ৫০ লাখ টিকা আসছে -স্বাস্থ্যমন্ত্রী

টিকা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘বাণিজ্যিক চুক্তি অনুযায়ী এ মাসের শেষে ৫০ লাখ টিকা আসার কথা এবং সে অনুযায়ী টিকা আসবে। ফ্লাইট শিডিউল হাতে পেলে জানিয়ে দেব কবে থেকে টিকা পাচ্ছি। এখনও ফ্লাইট শিডিউল পাইনি। এরপর প্রতিমাসে ৫০ লাখ করে টিকা আসার কথা রয়েছে। টিকা আসার একটি শিডিউল আছে। যদি এদিক সেদিক হয় তবে যখন আমরা জানব তখন আপনাদের জানাব।’

অনুষ্ঠানে ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যকার ভর্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনের আলোচনার ধারাবাহিকতায় এই ২০ লাখ ডোজ টিকা এলো। ভারতে টিকা কার্যক্রম শুরুর চার দিনের মাথায় ভারত বাংলাদেশকে ভ্যাকসিন সরবরাহ করেছে। যাতে আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রও একই সময়ে জনগণের ইমিউনিটি নিশ্চিত করতে পারে। প্রতিবেশী নীতির অংশ হিসেবে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রতি ভারত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়।’

৬-৭ দিনের মধ্যে টিকার ট্রায়াল

টিকার ট্রায়াল রানের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ছয়-সাত দিনের মধ্যে টিকার একটি ট্রায়াল রান করার চিন্তাভাবনা আছে। সেই তারিখটি আপনাদের জানিয়ে দেব। তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত দিনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। কারণ ভিডিও কনফারেন্সের মধ্য দিয়ে টিকার ট্রায়ালে যুক্ত হতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’

স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নান ২০ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে জানান, আগামী ২৭ থেকে ২৮ জানুয়ারি টিকা প্রয়োগ শুরু হতে পারে।

বাংলাদেশ চুক্তির আওতায় ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তিন কোটি ডোজ টিকা কিনছে, যার প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ টিকা ২৫ জানুয়ারির মধ্যে পৌঁছাবে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন।