দখল ও অবকাঠামো নির্মাণ

হারিয়ে যাচ্ছে বনভূমি

দখল ও অবকাঠামো নির্মাণের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে বনভূমি। সারাদেশে গেজেটভুক্ত ৪৬ লাখ ৪৬ হাজার ৭০০ দশমিক শূন্য ১ একক বনভূমি রয়েছে। এরমধ্যে সংরক্ষিত বনভূমি রয়েছে ৩৩ লাখ ১০ হাজার ৯০৭ দশমিক ৫২ একর। এরমধ্যে প্রায় দেড় লাখ একর সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে রেখেছে ৮৮ হাজার ২১৫ জন অবৈধ দখলদার। মামলা জটিলতার কারণে বনভূমির প্রকৃত সংখ্যা নেই বন বিভাগের কাছে। তবে সংরক্ষিত বনভূমি অবৈধ দখল উচ্ছেদে চলতি মাসের শেষ দিকে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে বন বিভাগ সূত্র জানায়।

সংরক্ষিত বনভূমির মধ্যে ৮২০ দশমিক ৩৪ একর বনের জায়গায় অবৈধভাবে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা স্থাপন করেছে ১৪০ জন দখলকারী। এছাড়া হাঁট-বাজার, রিসোর্ট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১৪ হাজার ১৪৯ দশমিক ১৭ একর বনভূমি দখল করেছে ৫ হাজার ৯৮২ জন। অবৈধ দখল করে ঘরবাড়ি ও কৃষি জমি হিসেবে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৩ দশমিক ৫৫ একর বনভূমি ব্যবহার করে অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে ৮২ হাজার ৯৩ জন ব্যক্তি। এসব বনভূমি দখলমুক্ত করতে জানুয়ারির শেষদিকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। প্রাথমিকভাবে গাজীপুর জেলা থেকে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে বলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়।

এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা প্রশাসক এসএম. তরিকুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, ‘ইতোমধ্যে বন বিভাগের কর্মকর্র্তাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করা হয়েছে। গাজীপুরের বনভূমির অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে অচিরেই অভিযান পরিচালনা করা হবে। আশা করছি চলতি মাসের শেষ দিখে অভিযান শুরু করা হবে। অভিযানের আগে অবশ্যই দখলদারদের কাছে চিঠি দেয়া হবে।’

বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয় মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী সংসদীয় কমিটির গত ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে সংরক্ষিত বনভূমি দখলদারদের তালিকা তৈরি করে ৩০ জানুয়ারির মধ্যে উচ্ছেদের নোটিশ দিতে বলা হয়েছিল। এই পরিপ্রেক্ষিত্রে সারাদেশে মোট ৩৩ লাখ ১০ হাজার ৯০৭ দশমিক ৫২ একর সংরক্ষিত বনভূমি রয়েছে। এরমধ্যে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬১৩ দশমিক শূন্য ৬ একর বনভূমি অবৈধ দখলকারীর তালিকা তৈরি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও কক্সবাজার বনবিভাগের অবৈধ দখলকৃত সংরক্ষিত বন উদ্ধারে অভিযান চালানো হবে। পরবর্তীতে দেশের অবশিষ্ট অঞ্চলের অবৈধ বনভূমি থেকে দখলদারদের উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বনের নামে রেকর্ডকৃত সব সংরক্ষিত বনভূমি উদ্ধারের উচ্ছেদ এই অভিযান পরিচালনা করা হবে। বেশি বনভূমি অবৈধ দখলে আছে এমন ১২টি জেলার জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত এ বিশেষ অভিযান মনিটরিং ও সমন্বয় করার জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ও উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেয়া হবে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত এসব অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় এই অভিযান পরিচালনা করা হবে।

জানা গেছে, সারাদেশে গেজেটভুক্ত ৪৬ লাখ ৪৬ হাজার ৭০০ দশমিক শূন্য ১ একক বনভূমি রয়েছে। এরমধ্যে সংরক্ষিত বনভূমি রয়েছে ৩৩ লাখ ১০ হাজার ৯০৭ দশমিক ৫২ একর। ৪ ও ৬ ধারায় বিজ্ঞপ্তিত বন রয়েছে ১১ লাখ ৭২ হাজার ৯৭১ দশমিক ৭৫ একর, রক্ষিত বনভূমি রয়েছে ৯১ হাজার ৩৮১ দশমিক ৮৯ একর, অর্জিত বনভূমি রয়েছে ২৮ হাজার ৫৯১ দশমিক ৩৪ একর ও অশ্রেণীভুক্ত বনভূমি রয়েছে ৪২ হাজার ৮৪৭ দশমিক ৫১ একর।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সিএস রেকর্ড মূলে রেকর্ডভুক্ত বনভূমি পরবর্তীতে এসএ/আরএস/বিএস জরিপে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। এছাড়া এক নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত বনভূমি (সংরক্ষিত বনভূমি ছাড়া অন্যান্য যেমন রক্ষিত, অর্পিত বনভূমি) জেলা প্রশাসন কর্তৃক অনেক ক্ষেত্রেই বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে। এছাড়া বনভূমির মধ্য দিয়ে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ বিশেষ করে সড়ক নির্মাণের ফলে এর দুই পাশে জবরদখলের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। স্থানীয় জনগণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তি কর্তৃক বনভূমি দখল করে কৃষি কাজ, স্থায়ী স্থাপনা, বাড়িঘর, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, স্কুল, প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। অনেক জবরদখল করা বনভূমিতে শিল্পকারখানা স্থাপন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় অঞ্চলের বন সংরক্ষক আরএসএম. মুনিরুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, ‘অবৈধভাবে দখল হওয়া সংরক্ষিত বনভূমি উদ্ধারে স্থানীয় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হবে। প্রাথমিকভাবে আমরা গাজীপুর জেলা থেকে অভিযান শুরু করব। গাজীপুরে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার একর বনভূমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এরমধ্যে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি ও কৃষি জমি তৈরি করা হয়েছে।’ ঢাকা কেন্দ্রীয় বন অঞ্চলের মধ্যে ময়মনসিংহ, শেরপুর, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা ও গাজীপুরে অবৈধ বন দখলদার রয়েছে বলে জানান তিনি।

শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১ , ৮ মাঘ ১৪২৭, ৮ জমাদিউস সানি ১৪৪২

দখল ও অবকাঠামো নির্মাণ

হারিয়ে যাচ্ছে বনভূমি

image

দখল ও অবকাঠামো নির্মাণের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে বনভূমি। সারাদেশে গেজেটভুক্ত ৪৬ লাখ ৪৬ হাজার ৭০০ দশমিক শূন্য ১ একক বনভূমি রয়েছে। এরমধ্যে সংরক্ষিত বনভূমি রয়েছে ৩৩ লাখ ১০ হাজার ৯০৭ দশমিক ৫২ একর। এরমধ্যে প্রায় দেড় লাখ একর সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে রেখেছে ৮৮ হাজার ২১৫ জন অবৈধ দখলদার। মামলা জটিলতার কারণে বনভূমির প্রকৃত সংখ্যা নেই বন বিভাগের কাছে। তবে সংরক্ষিত বনভূমি অবৈধ দখল উচ্ছেদে চলতি মাসের শেষ দিকে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে বন বিভাগ সূত্র জানায়।

সংরক্ষিত বনভূমির মধ্যে ৮২০ দশমিক ৩৪ একর বনের জায়গায় অবৈধভাবে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা স্থাপন করেছে ১৪০ জন দখলকারী। এছাড়া হাঁট-বাজার, রিসোর্ট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১৪ হাজার ১৪৯ দশমিক ১৭ একর বনভূমি দখল করেছে ৫ হাজার ৯৮২ জন। অবৈধ দখল করে ঘরবাড়ি ও কৃষি জমি হিসেবে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৩ দশমিক ৫৫ একর বনভূমি ব্যবহার করে অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে ৮২ হাজার ৯৩ জন ব্যক্তি। এসব বনভূমি দখলমুক্ত করতে জানুয়ারির শেষদিকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। প্রাথমিকভাবে গাজীপুর জেলা থেকে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে বলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়।

এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা প্রশাসক এসএম. তরিকুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, ‘ইতোমধ্যে বন বিভাগের কর্মকর্র্তাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করা হয়েছে। গাজীপুরের বনভূমির অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে অচিরেই অভিযান পরিচালনা করা হবে। আশা করছি চলতি মাসের শেষ দিখে অভিযান শুরু করা হবে। অভিযানের আগে অবশ্যই দখলদারদের কাছে চিঠি দেয়া হবে।’

বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয় মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী সংসদীয় কমিটির গত ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে সংরক্ষিত বনভূমি দখলদারদের তালিকা তৈরি করে ৩০ জানুয়ারির মধ্যে উচ্ছেদের নোটিশ দিতে বলা হয়েছিল। এই পরিপ্রেক্ষিত্রে সারাদেশে মোট ৩৩ লাখ ১০ হাজার ৯০৭ দশমিক ৫২ একর সংরক্ষিত বনভূমি রয়েছে। এরমধ্যে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬১৩ দশমিক শূন্য ৬ একর বনভূমি অবৈধ দখলকারীর তালিকা তৈরি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও কক্সবাজার বনবিভাগের অবৈধ দখলকৃত সংরক্ষিত বন উদ্ধারে অভিযান চালানো হবে। পরবর্তীতে দেশের অবশিষ্ট অঞ্চলের অবৈধ বনভূমি থেকে দখলদারদের উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বনের নামে রেকর্ডকৃত সব সংরক্ষিত বনভূমি উদ্ধারের উচ্ছেদ এই অভিযান পরিচালনা করা হবে। বেশি বনভূমি অবৈধ দখলে আছে এমন ১২টি জেলার জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত এ বিশেষ অভিযান মনিটরিং ও সমন্বয় করার জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ও উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেয়া হবে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত এসব অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় এই অভিযান পরিচালনা করা হবে।

জানা গেছে, সারাদেশে গেজেটভুক্ত ৪৬ লাখ ৪৬ হাজার ৭০০ দশমিক শূন্য ১ একক বনভূমি রয়েছে। এরমধ্যে সংরক্ষিত বনভূমি রয়েছে ৩৩ লাখ ১০ হাজার ৯০৭ দশমিক ৫২ একর। ৪ ও ৬ ধারায় বিজ্ঞপ্তিত বন রয়েছে ১১ লাখ ৭২ হাজার ৯৭১ দশমিক ৭৫ একর, রক্ষিত বনভূমি রয়েছে ৯১ হাজার ৩৮১ দশমিক ৮৯ একর, অর্জিত বনভূমি রয়েছে ২৮ হাজার ৫৯১ দশমিক ৩৪ একর ও অশ্রেণীভুক্ত বনভূমি রয়েছে ৪২ হাজার ৮৪৭ দশমিক ৫১ একর।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সিএস রেকর্ড মূলে রেকর্ডভুক্ত বনভূমি পরবর্তীতে এসএ/আরএস/বিএস জরিপে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। এছাড়া এক নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত বনভূমি (সংরক্ষিত বনভূমি ছাড়া অন্যান্য যেমন রক্ষিত, অর্পিত বনভূমি) জেলা প্রশাসন কর্তৃক অনেক ক্ষেত্রেই বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে। এছাড়া বনভূমির মধ্য দিয়ে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ বিশেষ করে সড়ক নির্মাণের ফলে এর দুই পাশে জবরদখলের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। স্থানীয় জনগণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তি কর্তৃক বনভূমি দখল করে কৃষি কাজ, স্থায়ী স্থাপনা, বাড়িঘর, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, স্কুল, প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। অনেক জবরদখল করা বনভূমিতে শিল্পকারখানা স্থাপন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় অঞ্চলের বন সংরক্ষক আরএসএম. মুনিরুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, ‘অবৈধভাবে দখল হওয়া সংরক্ষিত বনভূমি উদ্ধারে স্থানীয় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হবে। প্রাথমিকভাবে আমরা গাজীপুর জেলা থেকে অভিযান শুরু করব। গাজীপুরে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার একর বনভূমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এরমধ্যে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি ও কৃষি জমি তৈরি করা হয়েছে।’ ঢাকা কেন্দ্রীয় বন অঞ্চলের মধ্যে ময়মনসিংহ, শেরপুর, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা ও গাজীপুরে অবৈধ বন দখলদার রয়েছে বলে জানান তিনি।