সাত সপ্তাহ পর পতন

টানা সাত সপ্তাহ ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর গত সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজারে কিছুটা দরপতন হয়েছে। মূল্যসূচকের পাশাপাশি গত সপ্তাহজুড়ে কমেছে লেনদেন। সেই সঙ্গে কমেছে বাজার মূলধন। গত এক সপ্তাহে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক কমেছে এক শতাংশের ওপর। লেনদেন কমেছে ১৬ শতাংশের ওপর। আর বাজার মূলধন কমেছে ৯ হাজার কোটি টাকার ওপর। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৯২ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা যা এর আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৫ লাখ ১ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৯ হাজার ৪২০ কোটি টাকা। অবশ্য এর আগে টানা সাত সপ্তাহের উত্থানে ডিএসইর বাজার মূলধন ১ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছিল। বাজার মূলধন বেড়ে বা কমে যাওয়ার অর্থ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দাম সম্মিলিতভাবে ওই পরিমাণ বেড়েছে বা কমেছে। সে হিসাবে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দাম এক লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা বাড়ার পর ৯ হাজার ৪২০ কোটি টাকা কমেছে।

এদিকে গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৭৩ দশমিক ১৩ পয়েন্ট বা এক দশমিক ২৪ শতাংশ। এর আগে টানা সাত সপ্তাহের উত্থানে ডিএসইর প্রধান সূচকটি বাড়ে এক হাজার ৩৭ পয়েন্ট। প্রধান মূল্যসূচকের পাশাপাশি টানা সাত সপ্তাহ উত্থানের পর গত সপ্তাহে পতন হয়েছে ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকের। গত সপ্তাহজুড়ে সূচকটি কমেছে ২৮ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট বা এক দশমিক ২৭ শতাংশ। এর আগে সাত সপ্তাহের টানা উত্থানে সূচকটি বাড়ে ৫৪৬ পয়েন্ট। ইসলামী শরিয়াহভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক গত সপ্তাহে কমেছে ২৮ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বা দুই দশমিক ১৮ শতাংশ। এর আগে টানা পাঁচ সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ২০৪ পয়েন্ট।

সবকটি মূল্যসূচকের পতনের পাশাপাশি গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ৮৪টি প্রতিষ্ঠান। বিপরীতে দাম কমেছে ২২৯টির। আর ৫১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৫৬৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় এক হাজার ৮৬৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ৩০৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বা ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।

আর গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে সাত হাজার ৮২৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় নয় হাজার ৩৪৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে এক হাজার ৫১৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা বা ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনে ‘এ’ গ্রুপ বা ভালো কোম্পানির অবদান ছিল ৬৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। এছাড়া ‘বি’ গ্রুপের ১৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ, ‘জেড’ গ্রুপের দশমিক ৫১ শতাংশ এবং ‘এন’ গ্রুপের ১৩ দশমিক ২৬ শতাংশ অবদান ছিল। গত সপ্তাহে ডিএসইর মূল বাজারে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- রবি, বেক্সিমকো, সামিট পাওয়ার, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, সিটি ব্যাংক, লাফার্জহোলসিম, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।

অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ৪৫৩ কোটি ৯০ লাখ ৬৭ হাজার ৬৯২ টাকার। আর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৪৪১ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ৮৯৬ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন ১২ কোটি ৬২ লাখ ১৬ হাজার ৭৯৬ টাকা বা ২.৮৬ শতাংশ বেড়েছে।

সপ্তাহটিতে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২০৪.০৮ পয়েন্ট বা ১.১৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২১.০৮ পয়েন্টে। সিএসইর অন্য সূচকগুলোর মধ্যে সিএসসিএক্স ১১৮.৬৭ পয়েন্ট বা ১.১৪ শতাংশ, সিএসই-৩০ সূচক ১৯৫.৩২ পয়েন্ট বা ১.৪৩ শতাংশ, সিএসই-৫০ সূচক ১৫.৯৯ পয়েন্ট বা ১.২২ শতাংশ এবং সিএসআই ১৩.৬৭ পয়েন্ট বা ১.২৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১০ হাজার ২৭২.৪৩ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ৪০৫.১০ পয়েন্টে, ১ হাজার ২৯৩ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৮১.৩৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ৩১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮৩টির বা ২৬.৫১ শতাংশের দর বেড়েছে, ১৮৫টির বা ৫৯.১০ শতাংশের কমেছে এবং ৪৫টির বা ১৪.৩৭ শতাংশের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১ , ৯ মাঘ ১৪২৭, ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সাত সপ্তাহ পর পতন

টানা সাত সপ্তাহ ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর গত সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজারে কিছুটা দরপতন হয়েছে। মূল্যসূচকের পাশাপাশি গত সপ্তাহজুড়ে কমেছে লেনদেন। সেই সঙ্গে কমেছে বাজার মূলধন। গত এক সপ্তাহে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক কমেছে এক শতাংশের ওপর। লেনদেন কমেছে ১৬ শতাংশের ওপর। আর বাজার মূলধন কমেছে ৯ হাজার কোটি টাকার ওপর। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৯২ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা যা এর আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৫ লাখ ১ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৯ হাজার ৪২০ কোটি টাকা। অবশ্য এর আগে টানা সাত সপ্তাহের উত্থানে ডিএসইর বাজার মূলধন ১ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছিল। বাজার মূলধন বেড়ে বা কমে যাওয়ার অর্থ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দাম সম্মিলিতভাবে ওই পরিমাণ বেড়েছে বা কমেছে। সে হিসাবে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দাম এক লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা বাড়ার পর ৯ হাজার ৪২০ কোটি টাকা কমেছে।

এদিকে গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৭৩ দশমিক ১৩ পয়েন্ট বা এক দশমিক ২৪ শতাংশ। এর আগে টানা সাত সপ্তাহের উত্থানে ডিএসইর প্রধান সূচকটি বাড়ে এক হাজার ৩৭ পয়েন্ট। প্রধান মূল্যসূচকের পাশাপাশি টানা সাত সপ্তাহ উত্থানের পর গত সপ্তাহে পতন হয়েছে ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকের। গত সপ্তাহজুড়ে সূচকটি কমেছে ২৮ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট বা এক দশমিক ২৭ শতাংশ। এর আগে সাত সপ্তাহের টানা উত্থানে সূচকটি বাড়ে ৫৪৬ পয়েন্ট। ইসলামী শরিয়াহভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক গত সপ্তাহে কমেছে ২৮ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বা দুই দশমিক ১৮ শতাংশ। এর আগে টানা পাঁচ সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ২০৪ পয়েন্ট।

সবকটি মূল্যসূচকের পতনের পাশাপাশি গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ৮৪টি প্রতিষ্ঠান। বিপরীতে দাম কমেছে ২২৯টির। আর ৫১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৫৬৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় এক হাজার ৮৬৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ৩০৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বা ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।

আর গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে সাত হাজার ৮২৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় নয় হাজার ৩৪৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে এক হাজার ৫১৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা বা ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনে ‘এ’ গ্রুপ বা ভালো কোম্পানির অবদান ছিল ৬৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। এছাড়া ‘বি’ গ্রুপের ১৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ, ‘জেড’ গ্রুপের দশমিক ৫১ শতাংশ এবং ‘এন’ গ্রুপের ১৩ দশমিক ২৬ শতাংশ অবদান ছিল। গত সপ্তাহে ডিএসইর মূল বাজারে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- রবি, বেক্সিমকো, সামিট পাওয়ার, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, সিটি ব্যাংক, লাফার্জহোলসিম, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।

অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ৪৫৩ কোটি ৯০ লাখ ৬৭ হাজার ৬৯২ টাকার। আর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৪৪১ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ৮৯৬ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন ১২ কোটি ৬২ লাখ ১৬ হাজার ৭৯৬ টাকা বা ২.৮৬ শতাংশ বেড়েছে।

সপ্তাহটিতে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২০৪.০৮ পয়েন্ট বা ১.১৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২১.০৮ পয়েন্টে। সিএসইর অন্য সূচকগুলোর মধ্যে সিএসসিএক্স ১১৮.৬৭ পয়েন্ট বা ১.১৪ শতাংশ, সিএসই-৩০ সূচক ১৯৫.৩২ পয়েন্ট বা ১.৪৩ শতাংশ, সিএসই-৫০ সূচক ১৫.৯৯ পয়েন্ট বা ১.২২ শতাংশ এবং সিএসআই ১৩.৬৭ পয়েন্ট বা ১.২৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১০ হাজার ২৭২.৪৩ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ৪০৫.১০ পয়েন্টে, ১ হাজার ২৯৩ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৮১.৩৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ৩১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮৩টির বা ২৬.৫১ শতাংশের দর বেড়েছে, ১৮৫টির বা ৫৯.১০ শতাংশের কমেছে এবং ৪৫টির বা ১৪.৩৭ শতাংশের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।