তুফান সরকারের ভাইয়ের বিরুদ্ধে ট্রাক ছিনতাই ও অপহরণ মামলা

এবার ট্রাক ছিনতাই করে মালিককে মারপিট ও অপহরণ করে আটকে রাখার ঘটনায় গতকাল গ্রেপ্তার হয়েছে বগুড়ার নানা সন্ত্রাসী ঘটনায় আলোচিত তুফান ও মতিন সরকারের ভাই সোহাগ সরকার (৪০)। তার বিরুদ্ধে থানায় মাদক, হত্যা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ ছিনতাই হওয়া ট্রাকসহ এর মাালিক ও চালককে উদ্ধার করেছে। তদের উদ্ধারের পর প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

পুলিশ জানায়, বরগুনা এলাকার রিমন ফরাজী নামে এক ট্রাক মালিক চালক ইমরানকে নিয়ে ঢাকার বাড্ডা থেকে মালামাল বোঝাই করে সোমবার সকালে বগুড়ায় আসে। বগুড়া প্রথম বাইপাস সড়কের চারমাথা এলাকায় নির্র্ধারিত স্থানে তারা ট্রাকের মালামাল নামিয়ে দেয়। পরে তারা সবুজ নামে এক আত্মীয়র সঙ্গে শহরতলির পশ্চিম পালশায় যায়। সেখানে রাতে শহরের জহুরুল নগর থেকে কিছু যুবক গিয়ে তাদের মারপিট করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়।

পরবর্তীতে সোহাগ সরকার তার লোকজনসহ পশ্চিম পালশার ওই এলাকায় গিয়ে ট্রাক মালিক ও চালককে উঠিয়ে জহুরুল নগরের একটি মেসে এনে চাঁদার দাবিতে কয়েক দফা মারপিট করে। ট্রাক মালিকের কাছ থেকে ট্রাকটিও ছিনিয়ে নেয়া হয়। সেটি বিক্রির জন্য একটি গ্যারেজে নেয়া হয়। পুলিশ বলছে, সোহাগ সরকার ও তার লোকজন কয়েক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল বলে অপহরণের শিকার ট্রাক মালিকের কাছ থেকে তারা জেনেছে। এক পর্যায় টাকা এনে দিতে সোহাগ সরকার ও তার লোকজন ট্রাক মালিকের পরিবারকে খবর দিতে বলে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ট্রাক মালিক টাকা দিতে রাজি হয়। এতে মারপিট থামানো হয়।

মেসে আটক ট্রাক মালিক রিমন ফরাজী রাত দেড়টার দিকে টয়লেটে যাওয়ার নাম করে কৌশলে মেস থেকে বের হয়। সে একটি জলাধারের কাছে লুকিয়ে থাকে। ভোরের দিকে সে পুলিশের জরুরি সহায়তা চেয়ে ৯৯৯ নম্বরে বিষয়টি জানায়। এতে পুলিশের একটি টিম জহুরুলনগর এলাকার ওই মেসে অভিযান চালায় এবং সোহাগ সরকারসহ ২ জনকে আটক করে বলে বগুড়া সদর থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান। এ সময় সোহাগ সরকারের অন্য সহযোগীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে টাকার জন্য অপহরণ করা ট্রাক মালিক ও চালককে উদ্ধার করে। পরে তাদের হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা দেয়া হয়।

সোহাগ সরকারের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় হত্যা সন্ত্রাস চাঁদাবাজী ও মাদক সক্রান্ত ৮টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সোহাগ সরকার বগুড়ার আলোচিত তুফান ও মতিন সরকারের ভাই। তাদের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে। তুফান সরকার ২০১৭ সালে এক তরুণীকে ভালো কলেজে ভর্তি করে দেয়ার নামে ধর্ষণ করে। এর প্রতিবাদ করায় পরে ওই তরুণী ও তার মাকে নেড়ে করে নির্যাতন করা হলে তা দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। ওই ঘটনায় তুফান ও মতিন সরকারের নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড গণমাধ্যমে উঠে আসে। তুফান সরকার বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। মতিন সরকারের ছায়ায় তুফানের মতো সোহাগ সরকারও ক্যাডার বাহিনী গড়ে তুলেছে। তাদের বাহিনী শহরের বিভিন্ন এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে বলে একাধিক সূত্র জানায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে চাঁদার দাবিতে ট্রাক ছিনতাই ও ট্রাক মালিকসহ চালককে আটক করে মারপিটের ঘটনা ঘটল। পুলিশ বলছে এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার করা হবে। বগুড়ার সদর থানার ওসি জানিয়েছেন ট্রাক ছিনতাই, মালিক ও চালককে অপহরণ করে মারপিট ও টাকা দাবি করার ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

বুধবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২১ , ১৩ মাঘ ১৪২৭, ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বগুড়ার আলোচিত

তুফান সরকারের ভাইয়ের বিরুদ্ধে ট্রাক ছিনতাই ও অপহরণ মামলা

এবার ট্রাক ছিনতাই করে মালিককে মারপিট ও অপহরণ করে আটকে রাখার ঘটনায় গতকাল গ্রেপ্তার হয়েছে বগুড়ার নানা সন্ত্রাসী ঘটনায় আলোচিত তুফান ও মতিন সরকারের ভাই সোহাগ সরকার (৪০)। তার বিরুদ্ধে থানায় মাদক, হত্যা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ ছিনতাই হওয়া ট্রাকসহ এর মাালিক ও চালককে উদ্ধার করেছে। তদের উদ্ধারের পর প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

পুলিশ জানায়, বরগুনা এলাকার রিমন ফরাজী নামে এক ট্রাক মালিক চালক ইমরানকে নিয়ে ঢাকার বাড্ডা থেকে মালামাল বোঝাই করে সোমবার সকালে বগুড়ায় আসে। বগুড়া প্রথম বাইপাস সড়কের চারমাথা এলাকায় নির্র্ধারিত স্থানে তারা ট্রাকের মালামাল নামিয়ে দেয়। পরে তারা সবুজ নামে এক আত্মীয়র সঙ্গে শহরতলির পশ্চিম পালশায় যায়। সেখানে রাতে শহরের জহুরুল নগর থেকে কিছু যুবক গিয়ে তাদের মারপিট করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়।

পরবর্তীতে সোহাগ সরকার তার লোকজনসহ পশ্চিম পালশার ওই এলাকায় গিয়ে ট্রাক মালিক ও চালককে উঠিয়ে জহুরুল নগরের একটি মেসে এনে চাঁদার দাবিতে কয়েক দফা মারপিট করে। ট্রাক মালিকের কাছ থেকে ট্রাকটিও ছিনিয়ে নেয়া হয়। সেটি বিক্রির জন্য একটি গ্যারেজে নেয়া হয়। পুলিশ বলছে, সোহাগ সরকার ও তার লোকজন কয়েক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল বলে অপহরণের শিকার ট্রাক মালিকের কাছ থেকে তারা জেনেছে। এক পর্যায় টাকা এনে দিতে সোহাগ সরকার ও তার লোকজন ট্রাক মালিকের পরিবারকে খবর দিতে বলে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ট্রাক মালিক টাকা দিতে রাজি হয়। এতে মারপিট থামানো হয়।

মেসে আটক ট্রাক মালিক রিমন ফরাজী রাত দেড়টার দিকে টয়লেটে যাওয়ার নাম করে কৌশলে মেস থেকে বের হয়। সে একটি জলাধারের কাছে লুকিয়ে থাকে। ভোরের দিকে সে পুলিশের জরুরি সহায়তা চেয়ে ৯৯৯ নম্বরে বিষয়টি জানায়। এতে পুলিশের একটি টিম জহুরুলনগর এলাকার ওই মেসে অভিযান চালায় এবং সোহাগ সরকারসহ ২ জনকে আটক করে বলে বগুড়া সদর থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান। এ সময় সোহাগ সরকারের অন্য সহযোগীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে টাকার জন্য অপহরণ করা ট্রাক মালিক ও চালককে উদ্ধার করে। পরে তাদের হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা দেয়া হয়।

সোহাগ সরকারের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় হত্যা সন্ত্রাস চাঁদাবাজী ও মাদক সক্রান্ত ৮টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সোহাগ সরকার বগুড়ার আলোচিত তুফান ও মতিন সরকারের ভাই। তাদের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে। তুফান সরকার ২০১৭ সালে এক তরুণীকে ভালো কলেজে ভর্তি করে দেয়ার নামে ধর্ষণ করে। এর প্রতিবাদ করায় পরে ওই তরুণী ও তার মাকে নেড়ে করে নির্যাতন করা হলে তা দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। ওই ঘটনায় তুফান ও মতিন সরকারের নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড গণমাধ্যমে উঠে আসে। তুফান সরকার বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। মতিন সরকারের ছায়ায় তুফানের মতো সোহাগ সরকারও ক্যাডার বাহিনী গড়ে তুলেছে। তাদের বাহিনী শহরের বিভিন্ন এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে বলে একাধিক সূত্র জানায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে চাঁদার দাবিতে ট্রাক ছিনতাই ও ট্রাক মালিকসহ চালককে আটক করে মারপিটের ঘটনা ঘটল। পুলিশ বলছে এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার করা হবে। বগুড়ার সদর থানার ওসি জানিয়েছেন ট্রাক ছিনতাই, মালিক ও চালককে অপহরণ করে মারপিট ও টাকা দাবি করার ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।