দেশে সংক্রমণের ৮০ শতাংশ ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট

অজানা একটি ধরনও শনাক্ত : গবেষণা তথ্য 

দেশে সংক্রমণের ৮০ শতাংশই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে (ধরন) বলে সরকারের একটি গবেষণায় পাওয়া গেছে। ভারতীয় ধরন হিসেবে পরিচিত ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের প্রমাণও পাওয়া গেছে ওই গবেষণায়। পাশাপাশি দেশে অজানা একটি ভ্যারিয়েন্টও শনাক্ত হয়েছে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এবং ইনস্টিটিউট ফর ডেভেলপিং সায়েন্স অ্যান্ড হেলথ ইনিশিয়েটিভস (আইডিএসএইচআই) করোনভাইরাসের ৫০টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করেছে। সেখান থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

এদিকে, দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও শনাক্ত আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। এমনকি করোনা শনাক্তের হার আবারও ১০-এর ওপরে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের হার ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং এখন পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৪২ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯২ দশমিক ৫৬ শতাংশ আর মৃত্যুর হার এক দশমিক ৫৮ শতাংশ। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৪ জন। তাদের নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে সরকারি হিসাবে মারা গেলেন ১২ হাজার ৭৫৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৮৮৭ জন। দেশে এখন পর্যন্ত সরকারি হিসাবে মোট শনাক্ত হলেন আট লাখ সাত হাজার ৮৬৭ জন। আর আগের দিন বৃহস্পতিবার করোনাভাইরাস সংক্রমিত ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৮৮৭ জনের করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৭২৩ জন। করোনায় দেশে মোট সুস্থ হলেন সাত লাখ ৪৭ হাজার ৭৫৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ১৮ হাজার ৪৫৯টি এবং পরীক্ষা হয়েছে ১৮ হাজার ১৫১টি। দেশে এখন পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৬০ লাখ ২১ হাজার ১৪৫টি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪৩ লাখ ৯৩ হাজার ৭৯৭টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৬ লাখ ২৭ হাজার ৩৪৮টি পরীক্ষা হয়েছে।

দেশে বর্তমানে ৫০৯টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, এর মধ্যে আরটি-পিসিআরের মাধ্যমে হচ্ছে ১৩১টি পরীক্ষাগারে, জিন এক্সপার্ট মেশিনের মাধ্যমে ৪৪টি পরীক্ষাগারে এবং র‌্যাপিড অ্যান্টিজেনের মাধ্যমে ৩৩৪টি পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৩৪ জনের মধ্যে পুরুষ ২০ জন আর নারী ১৪ জন। দেশে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে পুরুষ মারা গেছেন নয় হাজার ২০১ জন এবং নারী তিন হাজার ৫৫৭ জন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ষাটোর্ধ্ব ১৯ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ছয়জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে দুইজন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন আর শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে একজন। বিভাগ বিশ্লেষণে তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের নয়জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ছয়জন, রাজশাহী, খুলনা ও রংপুর বিভাগের পাঁচজন করে, বরিশাল বিভাগের একজন আর সিলেট বিভাগের তিনজন রয়েছেন। মারা যাওয়া ৩৪ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ২৮ জন, বেসরকারি হাসপাতারে তিনজন আর বাড়িতে তিনজন মারা গেছেন।

এদিকে আইইডিসিআর জানায়, দেশে গত ৮ মে প্রথম ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়। গত ১৬ মে’র পর থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে করোনাভাইরাসের করোনা পরীক্ষায় ৫০টি নমুনার ৪০টি (৮০ শতাংশ) ভারতীয় ধরন। ৮টি (১৬ শতাংশ) বিটা ভ্যারিয়েন্ট বা সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট, একটি সার্কুলেটিং ও ১টি আন-আইডিন্টিফাউড (অজানা) ভ্যারিয়েন্ট।

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমিত রোগীদের মধ্যে ১৪ জন বিদেশে যাননি এবং বিদেশ থেকে আগত রোগীর সংস্পর্শে আসার কোন তথ্যও পাওয়া যায় না। এছাড়া ১৮ জনের বিদেশ থেকে আগত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার ইতিহাস আছে। এ কারণে গবেষণায় বলা হচ্ছে বাংলাদেশে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের কমিউনিটি সংক্রমণ বিদ্যমান।

আইইডিসিআর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সংগ্রহ করা ১৬টি নমুনার মধ্যে ১৫টি ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট এবং গোপালগঞ্জ থেকে সাতটি নমুনার সবগুলোর মধ্যেই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। খুলনা থেকে সংগ্রহ করা তিনটি নমুনাই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট এবং ঢাকা থেকে সংগ্রহ করা চারটি নমুনার মধ্যে দুটি ছিল ডেল্টা ভেরিয়েন্ট। এছাড়া দিনাজপুর, গাইবান্ধা, বাগেরহাট, ঝিনাইদহ ও পিরোজপুর থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টটি পাওয়া গেছে।

গত বছরের অক্টোবরে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টটি প্রথম শনাক্ত করা হয়। এটি করোনাভাইরাসের আগের স্ট্রেইনের চেয়ে অনেক বেশি সংক্রামক। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এই ভ্যারিয়েন্টটিকে ‘উদ্বেগের ভ্যারিয়েন্ট’ বলে অভিহিত করেছে। করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশে উদ্বেগ বাড়ছে।

শনিবার, ০৫ জুন ২০২১ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ ২৩ শাওয়াল ১৪৪২

দেশে সংক্রমণের ৮০ শতাংশ ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট

অজানা একটি ধরনও শনাক্ত : গবেষণা তথ্য 
image

দেশে সংক্রমণের ৮০ শতাংশই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে (ধরন) বলে সরকারের একটি গবেষণায় পাওয়া গেছে। ভারতীয় ধরন হিসেবে পরিচিত ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের প্রমাণও পাওয়া গেছে ওই গবেষণায়। পাশাপাশি দেশে অজানা একটি ভ্যারিয়েন্টও শনাক্ত হয়েছে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এবং ইনস্টিটিউট ফর ডেভেলপিং সায়েন্স অ্যান্ড হেলথ ইনিশিয়েটিভস (আইডিএসএইচআই) করোনভাইরাসের ৫০টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করেছে। সেখান থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

এদিকে, দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও শনাক্ত আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। এমনকি করোনা শনাক্তের হার আবারও ১০-এর ওপরে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের হার ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং এখন পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৪২ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯২ দশমিক ৫৬ শতাংশ আর মৃত্যুর হার এক দশমিক ৫৮ শতাংশ। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৪ জন। তাদের নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে সরকারি হিসাবে মারা গেলেন ১২ হাজার ৭৫৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৮৮৭ জন। দেশে এখন পর্যন্ত সরকারি হিসাবে মোট শনাক্ত হলেন আট লাখ সাত হাজার ৮৬৭ জন। আর আগের দিন বৃহস্পতিবার করোনাভাইরাস সংক্রমিত ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৮৮৭ জনের করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৭২৩ জন। করোনায় দেশে মোট সুস্থ হলেন সাত লাখ ৪৭ হাজার ৭৫৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ১৮ হাজার ৪৫৯টি এবং পরীক্ষা হয়েছে ১৮ হাজার ১৫১টি। দেশে এখন পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৬০ লাখ ২১ হাজার ১৪৫টি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪৩ লাখ ৯৩ হাজার ৭৯৭টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৬ লাখ ২৭ হাজার ৩৪৮টি পরীক্ষা হয়েছে।

দেশে বর্তমানে ৫০৯টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, এর মধ্যে আরটি-পিসিআরের মাধ্যমে হচ্ছে ১৩১টি পরীক্ষাগারে, জিন এক্সপার্ট মেশিনের মাধ্যমে ৪৪টি পরীক্ষাগারে এবং র‌্যাপিড অ্যান্টিজেনের মাধ্যমে ৩৩৪টি পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৩৪ জনের মধ্যে পুরুষ ২০ জন আর নারী ১৪ জন। দেশে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে পুরুষ মারা গেছেন নয় হাজার ২০১ জন এবং নারী তিন হাজার ৫৫৭ জন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ষাটোর্ধ্ব ১৯ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ছয়জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে দুইজন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন আর শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে একজন। বিভাগ বিশ্লেষণে তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের নয়জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ছয়জন, রাজশাহী, খুলনা ও রংপুর বিভাগের পাঁচজন করে, বরিশাল বিভাগের একজন আর সিলেট বিভাগের তিনজন রয়েছেন। মারা যাওয়া ৩৪ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ২৮ জন, বেসরকারি হাসপাতারে তিনজন আর বাড়িতে তিনজন মারা গেছেন।

এদিকে আইইডিসিআর জানায়, দেশে গত ৮ মে প্রথম ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়। গত ১৬ মে’র পর থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে করোনাভাইরাসের করোনা পরীক্ষায় ৫০টি নমুনার ৪০টি (৮০ শতাংশ) ভারতীয় ধরন। ৮টি (১৬ শতাংশ) বিটা ভ্যারিয়েন্ট বা সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট, একটি সার্কুলেটিং ও ১টি আন-আইডিন্টিফাউড (অজানা) ভ্যারিয়েন্ট।

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমিত রোগীদের মধ্যে ১৪ জন বিদেশে যাননি এবং বিদেশ থেকে আগত রোগীর সংস্পর্শে আসার কোন তথ্যও পাওয়া যায় না। এছাড়া ১৮ জনের বিদেশ থেকে আগত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার ইতিহাস আছে। এ কারণে গবেষণায় বলা হচ্ছে বাংলাদেশে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের কমিউনিটি সংক্রমণ বিদ্যমান।

আইইডিসিআর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সংগ্রহ করা ১৬টি নমুনার মধ্যে ১৫টি ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট এবং গোপালগঞ্জ থেকে সাতটি নমুনার সবগুলোর মধ্যেই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। খুলনা থেকে সংগ্রহ করা তিনটি নমুনাই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট এবং ঢাকা থেকে সংগ্রহ করা চারটি নমুনার মধ্যে দুটি ছিল ডেল্টা ভেরিয়েন্ট। এছাড়া দিনাজপুর, গাইবান্ধা, বাগেরহাট, ঝিনাইদহ ও পিরোজপুর থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টটি পাওয়া গেছে।

গত বছরের অক্টোবরে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টটি প্রথম শনাক্ত করা হয়। এটি করোনাভাইরাসের আগের স্ট্রেইনের চেয়ে অনেক বেশি সংক্রামক। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এই ভ্যারিয়েন্টটিকে ‘উদ্বেগের ভ্যারিয়েন্ট’ বলে অভিহিত করেছে। করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশে উদ্বেগ বাড়ছে।