হাসপাতালে করোনা রোগীর চাপ বাড়ছে

৩৬ বেড থেকে বাড়িয়ে ৫০ বেড করেও করোনা রোগীর চিকিৎসায় হিমশিম খাচ্ছে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল। গতকাল ৫৬টি করোনা বেডের স্থলে ৬৭ জন করোনা পজেটিভ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এভাবে আর কয়েকদিন চলতে থাকলে পুরো হাসপাতালে অন্য সাধারণ রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে বলে মনে করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল মোমেন বলেন, ২৫০ শয্যার হাসপাতালে বর্তমানে ৬০০ রোগী ভর্তি আছে, এর ওপর কোভিড-১৯ রোগী বেড়েই চলেছে। তিনি আরও বলেন, একটি ওয়ার্ড থেকে বর্তমানে ৩টি করোনা ওয়ার্ড করা হয়েছে। এদিকে করোনা রোগী চাপ বাড়ায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে অতি জরুরি রোগী ছাড়া সাধারণ রোগী ভর্তি নিরুৎসাহিত করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

কুষ্টিয়ায় করোনা চিকিৎসার একমাত্র প্রতিষ্ঠান ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল। এতে রোগীর চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য মতে, জেলায় অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুদ আছে ৭০৬টি। এসব সিলিন্ডারের মধ্যে জেলা পর্যায়ে রয়েছে ৩৪৭টি। ৩৫৯টি রয়েছে বিভিন্ন উপজেলায়। এছাড়া অক্সিজেন তৈরির ৪২টি কনসেনট্রেটর রয়েছে। এছাড়া কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ১০ বেডের জন্য সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। করোনা ওয়ার্ডে ৪টি লেভেল ওয়ানের আইসিইউ বেড রয়েছে। তবে সেগুলো পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ না। সিভিল সার্জন ডা. এইচএম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, করোনা সংক্রমণের হার বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। তাছাড়া করোনা ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এখন থেকেই সংক্রমণ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিন্তিত হাসপাতাল কর্র্র্র্তপক্ষ। ইতোমধ্যে আরও একটি ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হচ্ছে। চিকিৎসক-নার্স থাকলেও অবকাঠামোর বড় সমস্যা আছে। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

কুষ্টিয়ায় বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্র থাকলেও সেখানে করোনা রোগীর কোন চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় সরকারি এ হাসপাতালটির ওপর চাপ বেড়েই চলেছে। জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. এএসএম মুসা কবির বলেন, করোনা ওয়ার্ডে রোগীতে ঠাসা। কোন বেড ফাঁকা নেই। অনেকে মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পরিস্থিতি ভালো না। নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আরও ভয়াবহ হতে পারে। সেবা দিতে চিকিৎসক-নার্সরা হিমশিম খাবেন।

অন্য চিকিৎসক ডা. সালেক মাসুদ বলেন, করোনা রোগীর সঙ্গে আসা রোগীর স্বজনরা ইচ্ছেমতো হাসপাতাল চত্বরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন যা এখানে চিকিৎসা নিতে আসা অন্য রোগীদের করোনা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বুধবার, ০৯ জুন ২০২১ , ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ ২৭ শাওয়াল ১৪৪২

কুষ্টিয়া

হাসপাতালে করোনা রোগীর চাপ বাড়ছে

জরুরি রোগী ভর্তি হতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে 

৩৬ বেড থেকে বাড়িয়ে ৫০ বেড করেও করোনা রোগীর চিকিৎসায় হিমশিম খাচ্ছে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল। গতকাল ৫৬টি করোনা বেডের স্থলে ৬৭ জন করোনা পজেটিভ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এভাবে আর কয়েকদিন চলতে থাকলে পুরো হাসপাতালে অন্য সাধারণ রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে বলে মনে করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল মোমেন বলেন, ২৫০ শয্যার হাসপাতালে বর্তমানে ৬০০ রোগী ভর্তি আছে, এর ওপর কোভিড-১৯ রোগী বেড়েই চলেছে। তিনি আরও বলেন, একটি ওয়ার্ড থেকে বর্তমানে ৩টি করোনা ওয়ার্ড করা হয়েছে। এদিকে করোনা রোগী চাপ বাড়ায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে অতি জরুরি রোগী ছাড়া সাধারণ রোগী ভর্তি নিরুৎসাহিত করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

কুষ্টিয়ায় করোনা চিকিৎসার একমাত্র প্রতিষ্ঠান ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল। এতে রোগীর চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য মতে, জেলায় অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুদ আছে ৭০৬টি। এসব সিলিন্ডারের মধ্যে জেলা পর্যায়ে রয়েছে ৩৪৭টি। ৩৫৯টি রয়েছে বিভিন্ন উপজেলায়। এছাড়া অক্সিজেন তৈরির ৪২টি কনসেনট্রেটর রয়েছে। এছাড়া কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ১০ বেডের জন্য সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। করোনা ওয়ার্ডে ৪টি লেভেল ওয়ানের আইসিইউ বেড রয়েছে। তবে সেগুলো পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ না। সিভিল সার্জন ডা. এইচএম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, করোনা সংক্রমণের হার বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। তাছাড়া করোনা ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এখন থেকেই সংক্রমণ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিন্তিত হাসপাতাল কর্র্র্র্তপক্ষ। ইতোমধ্যে আরও একটি ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হচ্ছে। চিকিৎসক-নার্স থাকলেও অবকাঠামোর বড় সমস্যা আছে। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

কুষ্টিয়ায় বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্র থাকলেও সেখানে করোনা রোগীর কোন চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় সরকারি এ হাসপাতালটির ওপর চাপ বেড়েই চলেছে। জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. এএসএম মুসা কবির বলেন, করোনা ওয়ার্ডে রোগীতে ঠাসা। কোন বেড ফাঁকা নেই। অনেকে মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পরিস্থিতি ভালো না। নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আরও ভয়াবহ হতে পারে। সেবা দিতে চিকিৎসক-নার্সরা হিমশিম খাবেন।

অন্য চিকিৎসক ডা. সালেক মাসুদ বলেন, করোনা রোগীর সঙ্গে আসা রোগীর স্বজনরা ইচ্ছেমতো হাসপাতাল চত্বরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন যা এখানে চিকিৎসা নিতে আসা অন্য রোগীদের করোনা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।