নওগাঁর রাণীনগরে অবৈধ নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গভীর নলকূপ

নওগাঁর রাণীনগের বিধিনিষেধ ও নিয়মনীতি না মেনে অবৈধভাবে চলছে ব্যক্তিগত গভীর নলকূপ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নিকটবর্র্তী সরকারি বিএমডিএ’র গভীর নলকূপ এবং কৃষক। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার একডালা ইউনিয়নের নারায়নপাড়া গ্রামে। প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় সরকারের কোন বিধিনিষেধ ও নিয়মনীতি না মেনেই অবৈধভাবে চালিয়ে আসছে ব্যক্তিগত এই গভীর নলকূপ।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নারায়নপাড়া গ্রামের কৃষকদের মাঝে সুলভমূল্যে সেচের পানি দেয়ার লক্ষ্যে রামজীবনপুর মৌজায় ২০০৯ সালে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। এরপর ২০১৩ সালে নিয়ম বহির্ভূতভাবে নারায়নপাড়া ও রামজীবনপুর মৌজায় একই গ্রামের মৃত আক্কাছ আলীর ছেলে হারুন-অর-রশিদ মাত্র ১৪০০ ফুট দূরে আরেকটি ব্যক্তিগত গভীর নলকূপ স্থাপন করে।

বিএমডিএ সূত্রে জানা যায়, নিয়ম অনুসারে এক গভীর নলকূপ হতে অন্য একটি নলকূপের দূরত্ব সর্বনিম্ন হতে হবে ২৫৪০ ফুট। কিন্তু হারুন-অর-রশিদের ব্যক্তিগত নলকূপের দূরত্ব প্রায় ১৪০০ ফুট। এক্ষেত্রে নির্ধারিত দূরত্বও মানা হয়নি। এ বিষয়ে পরবর্তীতে আনিছুর রহমান গত ২০১৯ সালে বিএমডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী ও অন্যান্য দপ্তর বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৮ জানুয়ারি বিএমডিএর নওগাঁর রিজিয়ন-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সমশের আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়, হারুন-অর-রশিদের স্থাপন করা ব্যক্তিগত গভীর নলকূপে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য অনিয়মতান্ত্রিকভাবে লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। ওই নলকূপে সংযোগ প্রদান করা হলে বিএমডিএ’র স্থাপনকৃত গভীর নলকূপটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে মর্মে হারুন-অর-রশিদের ১১৪নং লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা বিএমডিএ’কে নির্দেশনা প্রদান করা হয় যা আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষকদের কাছ থেকে পানি সেচের নির্ধারিত মূল্য থেকে বেশি অর্থ আদায় করে আসছে হারুন। আর চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিএমডিএ’র গভীর নলকূপটি। এ বিষয়টি বছরের পর বছর সমাধান না হওয়ায় পানির সেচ নিয়ে চরম বিড়ম্বনার শিকার হয়ে আসছেন এলাকার শত শত কৃষক। তারা হারুন-অর-রশিদের অবৈধ নলকূপ দ্রুত অপসারণ দাবি করেছেন।

বিএমডিএ অনুমোদিত নলকূপের অপারেটর আনিছুর রহমান বলেন, হারুন প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় সে সরকারের নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে এমনকি আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে তার নলকূপ পরিচালনা করছে। যার কারণে স্থানীয় কৃষকসহ বিএমডিএ অনুমোদিত নলকূপটি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত এই সমস্যাটির সমাধান করা না হলে স্থানীয়দের মাঝে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

অভিযুক্ত হারুন-অর-রশিদ বলেন, সে সময় আমিসহ আরও কয়েকজন শেয়ারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে নলকূপ স্থাপন করেছি। তবে বিএমডিএ’র গভীর নলকূপের এরিয়ার মধ্যে আমার এক অংশীদারের কিছু জমি থাকায় সেই জমিতে আমি আমার নলকূপ থেকে পানি সেচ দিয়ে আসছি। আমি কোন শর্তই অমান্য করিনি।

বিএমডিএ’র রাণীনগর জোনের সদ্যবিদায়ী সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ মো. মিজানুর রহমান বলেন, তৎকালীন সময়ের সেচ কমিটি ও বিএমডিএ কর্মকর্তা কিভাবে হারুনকে এই গভীর নলকূপ স্থাপনের অনুমতি দিয়েছিল তা আমার জানার বাইরে। কিন্তু গত বছর হারুনকে ৩শ’ টাকার স্ট্যাম্পে ৫টি অবশ্যই পালনীয় শর্তের মাধ্যমে নলকূপ পরিচালনার অনুমতি দেয়া হয়েছিল। এখন যদি হারুন সেই শর্তগুলো ভঙ্গ করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অবশ্যই গ্রহণ করা যেতে পারে।

বিএমডিএ’র রাণীনগর জোনের বর্তমান সহকারী প্রকৌশলী ফারুক হোসেন বলেন, এ বিষয়ে সম্প্রতি আমি অভিযোগ পেয়েছি। সরেজমিন তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং গভীর নলকূপ পরিচালনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শনিবার, ১২ জুন ২০২১ , ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ ৩০ শাওয়াল ১৪৪২

নওগাঁর রাণীনগরে অবৈধ নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গভীর নলকূপ

image

নওগাঁর রাণীনগরে অবৈধ ভাবে বসানো নলকূপ - সংবাদ

নওগাঁর রাণীনগের বিধিনিষেধ ও নিয়মনীতি না মেনে অবৈধভাবে চলছে ব্যক্তিগত গভীর নলকূপ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নিকটবর্র্তী সরকারি বিএমডিএ’র গভীর নলকূপ এবং কৃষক। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার একডালা ইউনিয়নের নারায়নপাড়া গ্রামে। প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় সরকারের কোন বিধিনিষেধ ও নিয়মনীতি না মেনেই অবৈধভাবে চালিয়ে আসছে ব্যক্তিগত এই গভীর নলকূপ।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নারায়নপাড়া গ্রামের কৃষকদের মাঝে সুলভমূল্যে সেচের পানি দেয়ার লক্ষ্যে রামজীবনপুর মৌজায় ২০০৯ সালে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। এরপর ২০১৩ সালে নিয়ম বহির্ভূতভাবে নারায়নপাড়া ও রামজীবনপুর মৌজায় একই গ্রামের মৃত আক্কাছ আলীর ছেলে হারুন-অর-রশিদ মাত্র ১৪০০ ফুট দূরে আরেকটি ব্যক্তিগত গভীর নলকূপ স্থাপন করে।

বিএমডিএ সূত্রে জানা যায়, নিয়ম অনুসারে এক গভীর নলকূপ হতে অন্য একটি নলকূপের দূরত্ব সর্বনিম্ন হতে হবে ২৫৪০ ফুট। কিন্তু হারুন-অর-রশিদের ব্যক্তিগত নলকূপের দূরত্ব প্রায় ১৪০০ ফুট। এক্ষেত্রে নির্ধারিত দূরত্বও মানা হয়নি। এ বিষয়ে পরবর্তীতে আনিছুর রহমান গত ২০১৯ সালে বিএমডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী ও অন্যান্য দপ্তর বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৮ জানুয়ারি বিএমডিএর নওগাঁর রিজিয়ন-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সমশের আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়, হারুন-অর-রশিদের স্থাপন করা ব্যক্তিগত গভীর নলকূপে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য অনিয়মতান্ত্রিকভাবে লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। ওই নলকূপে সংযোগ প্রদান করা হলে বিএমডিএ’র স্থাপনকৃত গভীর নলকূপটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে মর্মে হারুন-অর-রশিদের ১১৪নং লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা বিএমডিএ’কে নির্দেশনা প্রদান করা হয় যা আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষকদের কাছ থেকে পানি সেচের নির্ধারিত মূল্য থেকে বেশি অর্থ আদায় করে আসছে হারুন। আর চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিএমডিএ’র গভীর নলকূপটি। এ বিষয়টি বছরের পর বছর সমাধান না হওয়ায় পানির সেচ নিয়ে চরম বিড়ম্বনার শিকার হয়ে আসছেন এলাকার শত শত কৃষক। তারা হারুন-অর-রশিদের অবৈধ নলকূপ দ্রুত অপসারণ দাবি করেছেন।

বিএমডিএ অনুমোদিত নলকূপের অপারেটর আনিছুর রহমান বলেন, হারুন প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় সে সরকারের নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে এমনকি আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে তার নলকূপ পরিচালনা করছে। যার কারণে স্থানীয় কৃষকসহ বিএমডিএ অনুমোদিত নলকূপটি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত এই সমস্যাটির সমাধান করা না হলে স্থানীয়দের মাঝে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

অভিযুক্ত হারুন-অর-রশিদ বলেন, সে সময় আমিসহ আরও কয়েকজন শেয়ারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে নলকূপ স্থাপন করেছি। তবে বিএমডিএ’র গভীর নলকূপের এরিয়ার মধ্যে আমার এক অংশীদারের কিছু জমি থাকায় সেই জমিতে আমি আমার নলকূপ থেকে পানি সেচ দিয়ে আসছি। আমি কোন শর্তই অমান্য করিনি।

বিএমডিএ’র রাণীনগর জোনের সদ্যবিদায়ী সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ মো. মিজানুর রহমান বলেন, তৎকালীন সময়ের সেচ কমিটি ও বিএমডিএ কর্মকর্তা কিভাবে হারুনকে এই গভীর নলকূপ স্থাপনের অনুমতি দিয়েছিল তা আমার জানার বাইরে। কিন্তু গত বছর হারুনকে ৩শ’ টাকার স্ট্যাম্পে ৫টি অবশ্যই পালনীয় শর্তের মাধ্যমে নলকূপ পরিচালনার অনুমতি দেয়া হয়েছিল। এখন যদি হারুন সেই শর্তগুলো ভঙ্গ করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অবশ্যই গ্রহণ করা যেতে পারে।

বিএমডিএ’র রাণীনগর জোনের বর্তমান সহকারী প্রকৌশলী ফারুক হোসেন বলেন, এ বিষয়ে সম্প্রতি আমি অভিযোগ পেয়েছি। সরেজমিন তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং গভীর নলকূপ পরিচালনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।