মুন্সীগঞ্জে বিদেশগামীদের টিকার নিবন্ধনে লাগে হাজার টাকা

মুন্সীগঞ্জে এক শ্রেণীর লোক বিদেশগামী যাত্রীদের টিকা নিবন্ধন করতে ফাইল প্রতি ৯শত থেকে ১ হাজার টাকা নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কারো কারো কাছে আরো বেশি। যেখানে সরকারি সর্বোচ্চ খরচ ৩০০ শত টাকা। সেখানে নিবন্ধন করতে অগ্রিম টাকা দিয়েও পড়তে হচ্ছে নানান ভোগান্তিতে।

জানা গেছে, প্রতিদিন ৮০ থেকে ১২০ জন বিদেশগামী মানুষ জেলার দূর দূরান্ত থেকে টিকা নিবন্ধন করতে আসে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মুন্সীগঞ্জ জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি রপ্তানি অফিসের নিচে একটি দোকান ও দর্পনা সিনেমা হল (কমিউনিটি সেন্টার) নিচে তিনটি টেবিল এর ওপর তিনটি ল্যাপটপ ও প্রিন্টার বসিয়ে বিদেশগামী যাত্রীদের টিকা নিবন্ধনের কাজ করছে মো. রুবেল, জুয়েল, সুজন ও রিনাসহ আরো বেশ কয়েকজন। একটু ভেতরে গিয়ে আরও দেখা যায়, প্রতিটি টিকা নিবন্ধন করতে সেবা প্রার্থীদের কাছ থেকে টিাকার নিবন্ধন ফি বাবদ ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। এর কম কেউ দিতে চাইলে তাকে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি রপ্তানি অফিস থেকে করে নিতে বলা হচ্ছে। বাড়তি ঝামেলা এড়াতে জেলার দূর দূরান্ত থেকে আশা সেবা প্রার্থীরা এক প্রকার বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে তাদের দিয়ে নিবন্ধন করছে।

অতিরিক্ত টাকার নেয়ার ব্যাপারে তাদের জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন, আমরা কাউকে ডেকে নিয়ে আসি না। সকলে আমাদের কাছে আসে। সরকারি ফি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। তবে আমাদের মাধ্যমে করাতে হলে ১০০০ টাকা লাগবে। এ ব্যাপারে এসপি-ডিসি জানে, আপনি সংবাদ প্রকাশ করে কি করবেন!

মুন্সীগঞ্জে টিাকার নিবন্ধন করতে আসা কেরানীগঞ্জের মো. আনিছ মল্লিক জানান, গত মাসে টিকা নিবন্ধন করতে রুবেল ভাইয়ের সাথে ১০০০ টার চুক্তি করি। সকালে এসে ১২টার পর টিকার নিবন্ধনপত্র হাতে পাই। জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি রপ্তানি অফিস ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তারা এ ধরনের কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

টঙ্গীবাড়ির আড়িয়ল থেকে আশা জয়নাল বেপারী (৩৪) বলেন, অফিসে গিয়ে টিকার নিবন্ধনের জন্য আবেদন করলে বিএমটি কার্ড ও ভিসার কপির অজুহাত দেখিয়ে এক প্রকার বাহির থেকে নিবন্ধন করতে বাধ্য করে। নিচে এসে ৯০০ শত টাকা চুক্তির মাধ্যমে শুধুমাত্র পাসপোর্ট দিয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করি। টাকা হলে ভিসা কপিও লাগে না।

আব্দুল সাত্তার (২৭) বলেন, রীতিমতো বিদেশগামী যাত্রীরা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি রপ্তানি অফিস ও বাহিরের দালালদের কাছে জিম্মী। মানুষের অসহায়ত্ব ও অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তারা ৩০০ টাকার নিবন্ধন ১০০০ টাকা রাখছে। আমি বিকাশ এর মাধ্যমে আমার টিকা নিবন্ধন করেছি।

এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি রপ্তানি অফিস সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে কথা বলেছি। কিন্তু লিখিত অভিযোগ না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনগতক ব্যবস্থা নিতে পারছি না।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হামিদুর রহমান কে এসব তথ্য জানালে তিনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেও বাস্তবে তাদের বিরুদ্ধে এখনও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

আরও খবর
অবশেষে কর্মস্থলে ফিরলেন রাঙ্গাবালীর সেই ভূমিকর্তা
সিদ্ধিরগঞ্জে জাল টাকাসহ ৪ ও ৯ চাঁদাবাজ আটক
মির্জাগঞ্জে ছাত্রীর আত্মহত্যা
সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে জেলায় শ্রেষ্ঠ
পোরশায় প্রাচীন দুর্গা মূর্তি উদ্ধার
এক বছরেও সেতুর দুই পাড়ে সড়ক হয়নি! দুর্ভোগে গ্রামবাসী
দুই স্থান থেকে ভাতা তুলছেন মুক্তিযোদ্ধা
সৈয়দপুর-কক্সবাজার বিমান চলাচল শুরু
মহিপুরে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত আনসার সদস্য
চাটখিলে বাল্যবিয়ে বন্ধ করল প্রশাসন
মহেশপুরে ২৩ বাইক আটক, মামলা ১৮
গৌরনদীতে স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ গ্রেফতার ৬
কুড়িগ্রামে টিকা নিতে এসে ফিরে গেল সহস্র্রাধিক মানুষ
পীরগাছায় কৃত্রিম প্রজনন টেকনিশিয়ান নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ
চুনারুঘাটে ত্রিপুরা পল্লীর সেতুর সংযোগ সড়কে ধস
রাজশাহীতে বিভিন্ন অপরাধে আটক ২৩

শুক্রবার, ০৮ অক্টোবর ২০২১ , ২৩ আশ্বিন ১৪২৮ ৩০ সফর ১৪৪৩

মুন্সীগঞ্জে বিদেশগামীদের টিকার নিবন্ধনে লাগে হাজার টাকা

মুন্সীগঞ্জে এক শ্রেণীর লোক বিদেশগামী যাত্রীদের টিকা নিবন্ধন করতে ফাইল প্রতি ৯শত থেকে ১ হাজার টাকা নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কারো কারো কাছে আরো বেশি। যেখানে সরকারি সর্বোচ্চ খরচ ৩০০ শত টাকা। সেখানে নিবন্ধন করতে অগ্রিম টাকা দিয়েও পড়তে হচ্ছে নানান ভোগান্তিতে।

জানা গেছে, প্রতিদিন ৮০ থেকে ১২০ জন বিদেশগামী মানুষ জেলার দূর দূরান্ত থেকে টিকা নিবন্ধন করতে আসে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মুন্সীগঞ্জ জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি রপ্তানি অফিসের নিচে একটি দোকান ও দর্পনা সিনেমা হল (কমিউনিটি সেন্টার) নিচে তিনটি টেবিল এর ওপর তিনটি ল্যাপটপ ও প্রিন্টার বসিয়ে বিদেশগামী যাত্রীদের টিকা নিবন্ধনের কাজ করছে মো. রুবেল, জুয়েল, সুজন ও রিনাসহ আরো বেশ কয়েকজন। একটু ভেতরে গিয়ে আরও দেখা যায়, প্রতিটি টিকা নিবন্ধন করতে সেবা প্রার্থীদের কাছ থেকে টিাকার নিবন্ধন ফি বাবদ ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। এর কম কেউ দিতে চাইলে তাকে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি রপ্তানি অফিস থেকে করে নিতে বলা হচ্ছে। বাড়তি ঝামেলা এড়াতে জেলার দূর দূরান্ত থেকে আশা সেবা প্রার্থীরা এক প্রকার বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে তাদের দিয়ে নিবন্ধন করছে।

অতিরিক্ত টাকার নেয়ার ব্যাপারে তাদের জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন, আমরা কাউকে ডেকে নিয়ে আসি না। সকলে আমাদের কাছে আসে। সরকারি ফি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। তবে আমাদের মাধ্যমে করাতে হলে ১০০০ টাকা লাগবে। এ ব্যাপারে এসপি-ডিসি জানে, আপনি সংবাদ প্রকাশ করে কি করবেন!

মুন্সীগঞ্জে টিাকার নিবন্ধন করতে আসা কেরানীগঞ্জের মো. আনিছ মল্লিক জানান, গত মাসে টিকা নিবন্ধন করতে রুবেল ভাইয়ের সাথে ১০০০ টার চুক্তি করি। সকালে এসে ১২টার পর টিকার নিবন্ধনপত্র হাতে পাই। জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি রপ্তানি অফিস ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তারা এ ধরনের কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

টঙ্গীবাড়ির আড়িয়ল থেকে আশা জয়নাল বেপারী (৩৪) বলেন, অফিসে গিয়ে টিকার নিবন্ধনের জন্য আবেদন করলে বিএমটি কার্ড ও ভিসার কপির অজুহাত দেখিয়ে এক প্রকার বাহির থেকে নিবন্ধন করতে বাধ্য করে। নিচে এসে ৯০০ শত টাকা চুক্তির মাধ্যমে শুধুমাত্র পাসপোর্ট দিয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করি। টাকা হলে ভিসা কপিও লাগে না।

আব্দুল সাত্তার (২৭) বলেন, রীতিমতো বিদেশগামী যাত্রীরা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি রপ্তানি অফিস ও বাহিরের দালালদের কাছে জিম্মী। মানুষের অসহায়ত্ব ও অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তারা ৩০০ টাকার নিবন্ধন ১০০০ টাকা রাখছে। আমি বিকাশ এর মাধ্যমে আমার টিকা নিবন্ধন করেছি।

এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি রপ্তানি অফিস সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে কথা বলেছি। কিন্তু লিখিত অভিযোগ না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনগতক ব্যবস্থা নিতে পারছি না।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হামিদুর রহমান কে এসব তথ্য জানালে তিনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেও বাস্তবে তাদের বিরুদ্ধে এখনও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।