সাহেদের সঙ্গে আপনার এত ‘মহব্বত’ কীভাবে : প্রশ্ন বিচারকের

রিজেন্ট কেলেঙ্কারির মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) আবুল কালাম আজাদ। গতকাল ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তিনি। শুনানি নিয়ে বিচারক এ মামলার পরবর্তী তারিখ ২ নভেম্বর পর্যন্ত আবুল কালাম আজাদের জামিন মঞ্জুর করেন। শুনানি চলাকালীন আবুল কালাম বিচারককে বলেন, আমি সারা জীবন কোন অন্যায় করিনি। আর কখনও অন্যায় করব না। সারা পৃথিবীতে করোনার যে অবস্থা ছিল, সেই অবস্থায় রিজেন্টের লাইসেন্স নবায়ন না থাকার পরও সচিব মহোদয়ের নির্দেশে মানুষের জীবন বাঁচাতে এটা করা হয়েছিল। এমনকি ওই সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সক্ষমতাও কম ছিল। ওই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মন্ত্রী ও সচিব মহোদয়ের সামনে রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে সমঝোতা স্বাক্ষর সই হয়। সাহেদ যে একজন প্রতারক সেটা আমার জানা ছিল না। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে রিজেন্ট হাসপাতালের মাধ্যমে করোনার টেস্ট করার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু মানব সেবার নামে করোনাভাইরাস পরীক্ষায় টাকা নিচ্ছে রিজেন্ট হাসপাতাল- এমন অভিযোগ আমি জানতে পারি। এরপর সঙ্গে সঙ্গে বলি, এই দুটি শাখা বন্ধ হয়ে যাবে।

এরপর বিচারক বলেন, সাহেদের সঙ্গে আপনার এতো মহব্বত কীভাবে হয়েছিল? তখন তিনি বিচারককে বলেন, সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার দিন সাহেদের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী মহোদয় উপস্থিত ছিলেন। আরও বড় বড় কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। ওই থেকে সাহেদের সঙ্গে আমার পরিচয়। আমি আগে থেকে জানতাম না যে, সাহেদ একজন প্রতারক। স্যার আমার ডায়াবেটিস রয়েছে। আমারা জীবন তুচ্ছ করে মানুষের জন্য কাজ করেছি। আমি কোন অপরাধ করিনি। ভবিষ্যতেও করব না।

আসামির পক্ষে জামিন শুনানি করেন ব্যারিস্টার মাসুদ মজুমদার। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন মীর আহম্মেদ আলী সালাম। এর আগে গত ৫ অক্টোবর আত্মসমর্পণ করতে আদালতে এসেছিলেন আবুল কালাম আজাদ। কিন্তু বিচারক অন্য মামলায় ব্যস্ত থাকায় সেদিন শুনানি হয়নি।

লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকার পরও করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা ও চিকিৎসায় খরচ বাবদ মোট তিন কোটি ৩৪ লাখ টাকা ‘সরকারি অর্থ আত্মসাতের’ অভিযোগে গত বছর ২৩ সেপ্টেম্বর পাঁচজনকে আসামি করে এ মামলা দায়ের করেন দুদকের উপপরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী। সেখানে আবুল কালাম আজাদের নাম না থাকলেও তদন্ত শেষে অভিযোগপত্রে তাকেও আসামি করা হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়।

অন্য পাঁচ আসামি হলেন- রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক আমিনুল হাসান, উপপরিচালক (হাসপাতাল-১) মো. ইউনুস আলী, সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) মো. শফিউর রহমান ও গবেষণা কর্মকর্তা মো. দিদারুল ইসলাম।

মামলায় পরস্পর যোগসাজশে লাইসেন্সের মেয়াদহীন রিজেন্ট হাসপাতালকে ‘ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে’ রূপান্তর, সমঝোতা স্মারক সই এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান নিপসমের ল্যাবে তিন হাজার ৯৩৯ জন কোভিড রোগীর নমুনা বিনামূল্যে পরীক্ষা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

শুক্রবার, ০৮ অক্টোবর ২০২১ , ২৩ আশ্বিন ১৪২৮ ৩০ সফর ১৪৪৩

জামিন পেলেন স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি আজাদ

সাহেদের সঙ্গে আপনার এত ‘মহব্বত’ কীভাবে : প্রশ্ন বিচারকের

রিজেন্ট কেলেঙ্কারির মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) আবুল কালাম আজাদ। গতকাল ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তিনি। শুনানি নিয়ে বিচারক এ মামলার পরবর্তী তারিখ ২ নভেম্বর পর্যন্ত আবুল কালাম আজাদের জামিন মঞ্জুর করেন। শুনানি চলাকালীন আবুল কালাম বিচারককে বলেন, আমি সারা জীবন কোন অন্যায় করিনি। আর কখনও অন্যায় করব না। সারা পৃথিবীতে করোনার যে অবস্থা ছিল, সেই অবস্থায় রিজেন্টের লাইসেন্স নবায়ন না থাকার পরও সচিব মহোদয়ের নির্দেশে মানুষের জীবন বাঁচাতে এটা করা হয়েছিল। এমনকি ওই সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সক্ষমতাও কম ছিল। ওই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মন্ত্রী ও সচিব মহোদয়ের সামনে রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে সমঝোতা স্বাক্ষর সই হয়। সাহেদ যে একজন প্রতারক সেটা আমার জানা ছিল না। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে রিজেন্ট হাসপাতালের মাধ্যমে করোনার টেস্ট করার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু মানব সেবার নামে করোনাভাইরাস পরীক্ষায় টাকা নিচ্ছে রিজেন্ট হাসপাতাল- এমন অভিযোগ আমি জানতে পারি। এরপর সঙ্গে সঙ্গে বলি, এই দুটি শাখা বন্ধ হয়ে যাবে।

এরপর বিচারক বলেন, সাহেদের সঙ্গে আপনার এতো মহব্বত কীভাবে হয়েছিল? তখন তিনি বিচারককে বলেন, সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার দিন সাহেদের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী মহোদয় উপস্থিত ছিলেন। আরও বড় বড় কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। ওই থেকে সাহেদের সঙ্গে আমার পরিচয়। আমি আগে থেকে জানতাম না যে, সাহেদ একজন প্রতারক। স্যার আমার ডায়াবেটিস রয়েছে। আমারা জীবন তুচ্ছ করে মানুষের জন্য কাজ করেছি। আমি কোন অপরাধ করিনি। ভবিষ্যতেও করব না।

আসামির পক্ষে জামিন শুনানি করেন ব্যারিস্টার মাসুদ মজুমদার। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন মীর আহম্মেদ আলী সালাম। এর আগে গত ৫ অক্টোবর আত্মসমর্পণ করতে আদালতে এসেছিলেন আবুল কালাম আজাদ। কিন্তু বিচারক অন্য মামলায় ব্যস্ত থাকায় সেদিন শুনানি হয়নি।

লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকার পরও করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা ও চিকিৎসায় খরচ বাবদ মোট তিন কোটি ৩৪ লাখ টাকা ‘সরকারি অর্থ আত্মসাতের’ অভিযোগে গত বছর ২৩ সেপ্টেম্বর পাঁচজনকে আসামি করে এ মামলা দায়ের করেন দুদকের উপপরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী। সেখানে আবুল কালাম আজাদের নাম না থাকলেও তদন্ত শেষে অভিযোগপত্রে তাকেও আসামি করা হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়।

অন্য পাঁচ আসামি হলেন- রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক আমিনুল হাসান, উপপরিচালক (হাসপাতাল-১) মো. ইউনুস আলী, সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) মো. শফিউর রহমান ও গবেষণা কর্মকর্তা মো. দিদারুল ইসলাম।

মামলায় পরস্পর যোগসাজশে লাইসেন্সের মেয়াদহীন রিজেন্ট হাসপাতালকে ‘ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে’ রূপান্তর, সমঝোতা স্মারক সই এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান নিপসমের ল্যাবে তিন হাজার ৯৩৯ জন কোভিড রোগীর নমুনা বিনামূল্যে পরীক্ষা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।