দীর্ঘদিন নিয়োগ বন্ধ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে আজ ১৪টি চাকরি পরীক্ষা

মহামারী করোনার কারণে দীর্ঘদিন নানা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বন্ধ থাকার পর আজ সকাল-বিকেল সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ১৪টি চাকরির পরীক্ষার সময় পড়েছে। অতীতেও একই দিনে একাধিক চাকরির পরীক্ষার কারণে চাকরিপ্রত্যাশীরা টাকা খরচ করে আবেদন করা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি।

চাকরিপ্রত্যাশীদের এই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘এ বিষয়ে আমরা একটি সার্কুলার দেব।’

করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় দেড় বছর বন্ধ ছিল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পরীক্ষা। বর্তমানে পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক হয়ে আসায় নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো।

রেওয়াজ অনুযায়ী, সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার ও শনিবার চাকরির পরীক্ষাগুলো বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেয়া হয়। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই দুই দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ক্লাস-পরীক্ষা হয় না।

কিন্তু অতীতের মতো বেশিরভাগ পরীক্ষা শুক্রবার হওয়ায় প্রার্থীরা সমস্যায় পড়ে থাকেন।

আজও একই দিনে অন্তত ১৪টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরির পরীক্ষা পড়েছে। ঢাকার কেন্দ্রগুলো হলো, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, বাংলাদেশ কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (বিসিএসআইআর), সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ (সিএএবি), বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল), সাধারণ বীমা করপোরেশন, বিসিএস নন-ক্যাডার, জালালাবাদ গ্যাস রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডে বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগের পরীক্ষা রয়েছে। একদিনই একাধিক পরীক্ষা পড়ায় বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। কিছু ক্ষেত্রে একই সময়েও পড়েছে কিছু পরীক্ষা। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সহকারী ব্যবস্থাপক (জেনারেল) পদের নিয়োগ পরীক্ষা শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১১পর্যন্ত। একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) পদের নিয়োগ পরীক্ষা।

চাকরিপ্রার্থী জানান, অধিকাংশই একাধিক পদের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু একই সময়ে পরীক্ষা পড়ায় সব পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন না। অথচ প্রতিটি পদে চাকরির জন্য আবেদন করতে ৩০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। আর অনেকেরই টিউশনির কষ্টের টাকায় আবেদন করে পরীক্ষা দিতে না পারা আরও কষ্টের। বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গতকাল বলেন, মহামারীর কারণে অনেকদিন চাকরির পরীক্ষা হয়নি। সে কারণে একসঙ্গে পরীক্ষাগুলো হচ্ছে। তবে চাকরিপ্রার্থীদের কথা বিবেচনা করে ভবিষ্যতে যাতে এরকম একসঙ্গে পরীক্ষাগুলো না পড়ে এবং সমন্বয় করে তারিখ ঘোষণা করা হয় সেজন্য আমরা একটি সার্কুলার দেব। অন্যদিকে, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন জানিয়েছেন, আজ একাধিক পরীক্ষা থাকায় আমরা নন-ক্যাডারের পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করেছি। পিএসসির চেয়ারম্যান বলেন, আপাতত যতদিন চাকরির পরীক্ষা বেশি থাকবে, ততদিন শুক্রবার-শনিবার নিয়োগ পরীক্ষা না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিএসসি। একদিনে একাধিক নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ থাকায় চাকরিপ্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে মনে করেন পিএসসির চেয়ারম্যান। অন্যান্য পরীক্ষার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমাদের সমন্বয়ের জায়গা নেই। এটা যদি থাকত, তাহলে অন্তত সরকারি চাকরির পরীক্ষাগুলোর তারিখ কেন্দ্রীয়ভাবে ঠিক করা যেত।

শুক্রবার, ০৮ অক্টোবর ২০২১ , ২৩ আশ্বিন ১৪২৮ ৩০ সফর ১৪৪৩

দীর্ঘদিন নিয়োগ বন্ধ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে আজ ১৪টি চাকরি পরীক্ষা

মহামারী করোনার কারণে দীর্ঘদিন নানা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বন্ধ থাকার পর আজ সকাল-বিকেল সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ১৪টি চাকরির পরীক্ষার সময় পড়েছে। অতীতেও একই দিনে একাধিক চাকরির পরীক্ষার কারণে চাকরিপ্রত্যাশীরা টাকা খরচ করে আবেদন করা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি।

চাকরিপ্রত্যাশীদের এই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘এ বিষয়ে আমরা একটি সার্কুলার দেব।’

করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় দেড় বছর বন্ধ ছিল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পরীক্ষা। বর্তমানে পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক হয়ে আসায় নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো।

রেওয়াজ অনুযায়ী, সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার ও শনিবার চাকরির পরীক্ষাগুলো বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেয়া হয়। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই দুই দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ক্লাস-পরীক্ষা হয় না।

কিন্তু অতীতের মতো বেশিরভাগ পরীক্ষা শুক্রবার হওয়ায় প্রার্থীরা সমস্যায় পড়ে থাকেন।

আজও একই দিনে অন্তত ১৪টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরির পরীক্ষা পড়েছে। ঢাকার কেন্দ্রগুলো হলো, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, বাংলাদেশ কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (বিসিএসআইআর), সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ (সিএএবি), বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল), সাধারণ বীমা করপোরেশন, বিসিএস নন-ক্যাডার, জালালাবাদ গ্যাস রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডে বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগের পরীক্ষা রয়েছে। একদিনই একাধিক পরীক্ষা পড়ায় বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। কিছু ক্ষেত্রে একই সময়েও পড়েছে কিছু পরীক্ষা। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সহকারী ব্যবস্থাপক (জেনারেল) পদের নিয়োগ পরীক্ষা শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১১পর্যন্ত। একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) পদের নিয়োগ পরীক্ষা।

চাকরিপ্রার্থী জানান, অধিকাংশই একাধিক পদের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু একই সময়ে পরীক্ষা পড়ায় সব পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন না। অথচ প্রতিটি পদে চাকরির জন্য আবেদন করতে ৩০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। আর অনেকেরই টিউশনির কষ্টের টাকায় আবেদন করে পরীক্ষা দিতে না পারা আরও কষ্টের। বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গতকাল বলেন, মহামারীর কারণে অনেকদিন চাকরির পরীক্ষা হয়নি। সে কারণে একসঙ্গে পরীক্ষাগুলো হচ্ছে। তবে চাকরিপ্রার্থীদের কথা বিবেচনা করে ভবিষ্যতে যাতে এরকম একসঙ্গে পরীক্ষাগুলো না পড়ে এবং সমন্বয় করে তারিখ ঘোষণা করা হয় সেজন্য আমরা একটি সার্কুলার দেব। অন্যদিকে, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন জানিয়েছেন, আজ একাধিক পরীক্ষা থাকায় আমরা নন-ক্যাডারের পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করেছি। পিএসসির চেয়ারম্যান বলেন, আপাতত যতদিন চাকরির পরীক্ষা বেশি থাকবে, ততদিন শুক্রবার-শনিবার নিয়োগ পরীক্ষা না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিএসসি। একদিনে একাধিক নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ থাকায় চাকরিপ্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে মনে করেন পিএসসির চেয়ারম্যান। অন্যান্য পরীক্ষার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমাদের সমন্বয়ের জায়গা নেই। এটা যদি থাকত, তাহলে অন্তত সরকারি চাকরির পরীক্ষাগুলোর তারিখ কেন্দ্রীয়ভাবে ঠিক করা যেত।