প্রতারণার মামলায় আর জে নিরব রিমান্ডে

প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউকম লিমিটেডের হেড অব সেলস (কমিউনিকেশন অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন) অফিসার নিরব ওরফে আরজে নিরবের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেগম মাহমুদা আক্তার শুনানি শেষে রিমান্ডের এ আদেশ দেন। এর আগে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার এসআই রুহুল আমিন পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করে আরজে নিবরকে আদালতে হাজির করেন। ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের এডিসি মো. হাফিজ আল ফারুক এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে আবদুল্লাহ খান শৈশব নামে এক ভুক্তভোগী বাদী হয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪/৫জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। আসামিরা হলেন, কিউকমের ম্যনেজিং ডাইরেক্টর মো. রিপন মিয়া, রিপনের স্ত্রী সৈয়দা তাসমিনা তারিন,চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী, হেড অব সেলস নিরব ওরফে আরজে নিরব, ডেলিভারি এক্সিকিউটিভ তানভীর চৌধুরী ভীর, চিফ অপারেটিং অফিসার সাজেদুর রহমান সজিব।

মামলায় ৫৬ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮৯ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাতের কথা উল্লেখ করা হয়। এই মামলার প্রেক্ষিতে গতকাল ভোরে রাজধানীর আদাবরের নবোদয় হাউজিংয়ের একটি বাসা থেকে আরজে নিরবকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিউকমের প্রতারণার মাস্টারমাইন্ড আরজে নিরব। তিনি সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল মাধ্যমে কিউকম সম্পর্কে প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করেছেন। তার কথায় বিশ্বাস করে সাধারণ মানুষ লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে এখন পথে বসেছে। এর আগে, পল্টন থানার একটি প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় ৩ অক্টোবর কিউকমের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) একে এম হাফিজ আক্তার বলেন, রিপন মিয়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, কিউকম প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পণ্য অনলাইনে কেনাবেচা করে আসছিল।

তাদের নিজস্ব ব্র্যান্ডিং করার জন্য তারা ব্যাপকভাবে মোটরসাইকেল বিক্রি করে। বিভিন্ন অফারের মাধ্যমে কিউকম লোভনীয় দামে মোটরসাইকেল বিক্রি করার বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছিল। বাজারে যেই মোটরসাইকেলের দাম ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা, সেটি তারা ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করার বিজ্ঞাপন দিত। বিপুল সংখ্যক ক্রেতা অর্ডার করে মোটরসাইকেল না পেয়ে হতাশায় ভোগে। এছাড়া রিপন মিয়া গ্রাহকদের পণ্য ডেলিভারির আরও ২৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। দেশে সম্প্রতি একাধিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জের প্রতারণা আর অফিস বন্ধের পর এক নোটিশে নিজেদের অফিস বন্ধ ঘোষণা করে কিউকম। তারা কাউকে গুলশান নিকেতনের অফিসে যেতেও নিষেধ করে দেয়। রিপন মিয়ার সঙ্গে ইভ্যালির সিইও রাসেলের যোগসাজশ পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ব্যবসার সুবাদে তার সঙ্গে পরিচয় হয় রাসেলের। মূলত রাসেলের সঙ্গে সম্পর্কের সূত্র ধরেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন কিউকম। ধামাকা অফার দিয়ে তিনি শুরু করেন অনলাইন ব্যবসা। তার কোম্পানিতে টেলিভিশন, ফ্রিজ ও মোটরসাইকেলের অফার দিত। কম মূল্যের কারণে তার প্রতিষ্ঠানে লোকজন হুমড়ি খেয়ে পড়তেন। পণ্যের মূল দামের সঙ্গে প্রায় ৭৫ ভাগ ছাড়ের ঘোষণা থাকত।

আরও খবর
বাংলাদেশকে টিকার সনদের স্বীকৃতি যুক্তরাজ্যের
ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ
স্থানীয় নির্বাচনে অনিয়ম করে প্রার্থীদের নাম পাঠালে শাস্তি কাদের
সাড়ে তিন বছরেও চালু হয়নি ঢাকা-লক্ষ্মীপুর লঞ্চ সার্ভিস
কোভিড টেস্টের কারণে ফ্লাইট মিস হলে ক্ষতিপূরণ প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী
আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিএনপি নেতার মার্কেট ভাঙার অভিযোগ
৬৮ বছর পর ফের এয়ার ইন্ডিয়ার মালিকানা কিনে নিল টাটা শিল্পগোষ্ঠী
ক্লিনফিড বাস্তবায়নে সরকারের সিদ্ধান্ত ব্যর্থ হতে দেয়া যাবে না
শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনে সরকার বদ্ধপরিকর পরিবেশমন্ত্রী
অ্যাপসভিত্তিক অবৈধ সুদের ব্যবসা, ৭ জন রিমান্ডে, ৫ জন কারাগারে

শনিবার, ০৯ অক্টোবর ২০২১ , ২৪ আশ্বিন ১৪২৮ ০১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

প্রতারণার মামলায় আর জে নিরব রিমান্ডে

প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউকম লিমিটেডের হেড অব সেলস (কমিউনিকেশন অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন) অফিসার নিরব ওরফে আরজে নিরবের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেগম মাহমুদা আক্তার শুনানি শেষে রিমান্ডের এ আদেশ দেন। এর আগে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার এসআই রুহুল আমিন পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করে আরজে নিবরকে আদালতে হাজির করেন। ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের এডিসি মো. হাফিজ আল ফারুক এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে আবদুল্লাহ খান শৈশব নামে এক ভুক্তভোগী বাদী হয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪/৫জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। আসামিরা হলেন, কিউকমের ম্যনেজিং ডাইরেক্টর মো. রিপন মিয়া, রিপনের স্ত্রী সৈয়দা তাসমিনা তারিন,চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী, হেড অব সেলস নিরব ওরফে আরজে নিরব, ডেলিভারি এক্সিকিউটিভ তানভীর চৌধুরী ভীর, চিফ অপারেটিং অফিসার সাজেদুর রহমান সজিব।

মামলায় ৫৬ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮৯ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাতের কথা উল্লেখ করা হয়। এই মামলার প্রেক্ষিতে গতকাল ভোরে রাজধানীর আদাবরের নবোদয় হাউজিংয়ের একটি বাসা থেকে আরজে নিরবকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিউকমের প্রতারণার মাস্টারমাইন্ড আরজে নিরব। তিনি সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল মাধ্যমে কিউকম সম্পর্কে প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করেছেন। তার কথায় বিশ্বাস করে সাধারণ মানুষ লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে এখন পথে বসেছে। এর আগে, পল্টন থানার একটি প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় ৩ অক্টোবর কিউকমের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) একে এম হাফিজ আক্তার বলেন, রিপন মিয়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, কিউকম প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পণ্য অনলাইনে কেনাবেচা করে আসছিল।

তাদের নিজস্ব ব্র্যান্ডিং করার জন্য তারা ব্যাপকভাবে মোটরসাইকেল বিক্রি করে। বিভিন্ন অফারের মাধ্যমে কিউকম লোভনীয় দামে মোটরসাইকেল বিক্রি করার বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছিল। বাজারে যেই মোটরসাইকেলের দাম ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা, সেটি তারা ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করার বিজ্ঞাপন দিত। বিপুল সংখ্যক ক্রেতা অর্ডার করে মোটরসাইকেল না পেয়ে হতাশায় ভোগে। এছাড়া রিপন মিয়া গ্রাহকদের পণ্য ডেলিভারির আরও ২৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। দেশে সম্প্রতি একাধিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জের প্রতারণা আর অফিস বন্ধের পর এক নোটিশে নিজেদের অফিস বন্ধ ঘোষণা করে কিউকম। তারা কাউকে গুলশান নিকেতনের অফিসে যেতেও নিষেধ করে দেয়। রিপন মিয়ার সঙ্গে ইভ্যালির সিইও রাসেলের যোগসাজশ পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ব্যবসার সুবাদে তার সঙ্গে পরিচয় হয় রাসেলের। মূলত রাসেলের সঙ্গে সম্পর্কের সূত্র ধরেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন কিউকম। ধামাকা অফার দিয়ে তিনি শুরু করেন অনলাইন ব্যবসা। তার কোম্পানিতে টেলিভিশন, ফ্রিজ ও মোটরসাইকেলের অফার দিত। কম মূল্যের কারণে তার প্রতিষ্ঠানে লোকজন হুমড়ি খেয়ে পড়তেন। পণ্যের মূল দামের সঙ্গে প্রায় ৭৫ ভাগ ছাড়ের ঘোষণা থাকত।