বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথ

৫ মাস পর পদ্মায় স্পিডবোট চলছে

বেপরোয়া এসব স্পিডবোট চালকদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আমরা শঙ্কিত : নৌপুলিশ

পদ্মায় স্পিডবোট দুর্ঘটনায় ২৬ জনের প্রাণহানির ঘটনার পর দীর্ঘ পাঁচ মাস অর্থাৎ ১৫৭ দিন বন্ধ থাকার পর আবারও মাদারীপুরের বাংলাবাজার ও মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথে শুরু হলো স্পিডবোট চলাচল। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শিমুলিয়ার স্পিডবোট ঘাট আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিডবোট চলাচলের অনুমতি দেয় বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। তবে, গতকাল সকাল থেকে পূর্ণোদ্যমে এই রুটে স্পিডবোট চলছে।

বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ বলছেন, এই নৌপথে চলাচলকারী অনিবন্ধিত স্পিডবোটের নিবন্ধন, চালকদের যোগ্যতা সনদ ও রুট পারমিট দেয়ার পর স্পিডবোট চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, স্পিডবোটের নিবন্ধন ছাড়া চালকদের তেমন কোন প্রশিক্ষণই দেয়নি কর্তৃপক্ষ। ফলে আবারও এই নৌপথে স্পিডবোট দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।

বিআইডব্লিউটিএ ঘাট সূত্র জানায়, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার এবং মাঝিরকান্দি নৌপথে নিবন্ধন প্রক্রিয়ার জন্য ১৮২টি স্পিডবোট তালিকাভুক্ত করা হয়, যাদের মধ্যে ১৪৫টি আবেদন পাওয়া যায়। কাগজপত্র সঠিক থাকায় ১২৬টি স্পিডবোটের নিবন্ধন দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে রুট পারমিট পেয়েছে ১০১টি। এর মধ্যে শিমুলিয়া ঘাটের ৫৩টি, বাংলাবাজার ঘাটে ২৯টি এবং মাঝিরকান্দি ঘাটে ১৯টি। এছাড়া আবেদনকারী চালকদের মধ্যে ১১৩ জন চালক যোগ্যতা সনদ পেয়েছেন। বাকিদের মধ্যে ডোপ টেস্টের পরীক্ষায় ৯ জন পজিটিভ হওয়ায় এবং ৩ জনের কাগজপত্রে ত্রুটি ও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ায় সনদপত্র দেয়া হয়নি।

জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএ শিমুলিয়া ঘাটের (নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ) সহকারী পরিচালক শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘১০১টি স্পিডবোটে ১০১ জন চালকই যোগ্যতা সনদ পেয়েছেন। আমরা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্পিডবোট চালানোর অনুমতি দিয়েছি। প্রতিটি স্পিডবোট সর্বোচ্চ ১২ জন যাত্রী বহন করতে পারবে। প্রতিটি যাত্রীকে লাইফ জ্যাকেটপরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যাত্রীপ্রতি ১৫০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। যে সব স্পিডবোটচালক এ নিয়ম অমান্য করবেন, তাদের সঙ্গে সঙ্গে মামলা দেয়া হবে। এর জন্য পুরো স্পিডবোট ঘাট আমরা সিসি ক্যামেরার আওতায় এনেছি। আমরা অফিসে বসেই স্পিডবোটের ঘাটটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারব।’

তিনি আরও বলে, আগে স্পিডবোট চলাচলে সরকার কোন রাজস্ব পেত না। নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে এসব নৌযান থেকে এখন সরকার রাজস্ব পাবে। পাশাপাশি চলাচলের ক্ষেত্রে চালকদের সতর্কতা যেমন বাড়বে, তেমনি কেউ নিয়ম অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সহজ হবে। বন্ধ হবে অনিবন্ধিত নৌযান চলাচল।’ জানতে চাইলে বাংলাবাজার ঘাটের দায়িত্বরত নৌপুলিশের পরিদর্শক আবদুল রাজ্জাক বলেন, ‘স্পিডবোট দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মৃত্যুর পরে বিআইডব্লিউটিএ ঘাট কর্তৃপক্ষ স্পিডবোটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নড়েচড়ে বসে। দীর্ঘ ৫ মাস ধরে তারা স্পিডবোটের লাইসেন্সই শুধু দিয়েছে। চালকদের সেভাবে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়নি। আমরা চালকদের প্রশিক্ষণ নিতেও দেখিনি। তাই বেপরোয়া এসব স্পিডবোট চালকদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আমরা শঙ্কিত।’

শনিবার, ০৯ অক্টোবর ২০২১ , ২৪ আশ্বিন ১৪২৮ ০১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথ

৫ মাস পর পদ্মায় স্পিডবোট চলছে

বেপরোয়া এসব স্পিডবোট চালকদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আমরা শঙ্কিত : নৌপুলিশ
image

পদ্মায় স্পিডবোট দুর্ঘটনায় ২৬ জনের প্রাণহানির ঘটনার পর দীর্ঘ পাঁচ মাস অর্থাৎ ১৫৭ দিন বন্ধ থাকার পর আবারও মাদারীপুরের বাংলাবাজার ও মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথে শুরু হলো স্পিডবোট চলাচল। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শিমুলিয়ার স্পিডবোট ঘাট আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিডবোট চলাচলের অনুমতি দেয় বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। তবে, গতকাল সকাল থেকে পূর্ণোদ্যমে এই রুটে স্পিডবোট চলছে।

বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ বলছেন, এই নৌপথে চলাচলকারী অনিবন্ধিত স্পিডবোটের নিবন্ধন, চালকদের যোগ্যতা সনদ ও রুট পারমিট দেয়ার পর স্পিডবোট চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, স্পিডবোটের নিবন্ধন ছাড়া চালকদের তেমন কোন প্রশিক্ষণই দেয়নি কর্তৃপক্ষ। ফলে আবারও এই নৌপথে স্পিডবোট দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।

বিআইডব্লিউটিএ ঘাট সূত্র জানায়, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার এবং মাঝিরকান্দি নৌপথে নিবন্ধন প্রক্রিয়ার জন্য ১৮২টি স্পিডবোট তালিকাভুক্ত করা হয়, যাদের মধ্যে ১৪৫টি আবেদন পাওয়া যায়। কাগজপত্র সঠিক থাকায় ১২৬টি স্পিডবোটের নিবন্ধন দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে রুট পারমিট পেয়েছে ১০১টি। এর মধ্যে শিমুলিয়া ঘাটের ৫৩টি, বাংলাবাজার ঘাটে ২৯টি এবং মাঝিরকান্দি ঘাটে ১৯টি। এছাড়া আবেদনকারী চালকদের মধ্যে ১১৩ জন চালক যোগ্যতা সনদ পেয়েছেন। বাকিদের মধ্যে ডোপ টেস্টের পরীক্ষায় ৯ জন পজিটিভ হওয়ায় এবং ৩ জনের কাগজপত্রে ত্রুটি ও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ায় সনদপত্র দেয়া হয়নি।

জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএ শিমুলিয়া ঘাটের (নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ) সহকারী পরিচালক শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘১০১টি স্পিডবোটে ১০১ জন চালকই যোগ্যতা সনদ পেয়েছেন। আমরা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্পিডবোট চালানোর অনুমতি দিয়েছি। প্রতিটি স্পিডবোট সর্বোচ্চ ১২ জন যাত্রী বহন করতে পারবে। প্রতিটি যাত্রীকে লাইফ জ্যাকেটপরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যাত্রীপ্রতি ১৫০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। যে সব স্পিডবোটচালক এ নিয়ম অমান্য করবেন, তাদের সঙ্গে সঙ্গে মামলা দেয়া হবে। এর জন্য পুরো স্পিডবোট ঘাট আমরা সিসি ক্যামেরার আওতায় এনেছি। আমরা অফিসে বসেই স্পিডবোটের ঘাটটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারব।’

তিনি আরও বলে, আগে স্পিডবোট চলাচলে সরকার কোন রাজস্ব পেত না। নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে এসব নৌযান থেকে এখন সরকার রাজস্ব পাবে। পাশাপাশি চলাচলের ক্ষেত্রে চালকদের সতর্কতা যেমন বাড়বে, তেমনি কেউ নিয়ম অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সহজ হবে। বন্ধ হবে অনিবন্ধিত নৌযান চলাচল।’ জানতে চাইলে বাংলাবাজার ঘাটের দায়িত্বরত নৌপুলিশের পরিদর্শক আবদুল রাজ্জাক বলেন, ‘স্পিডবোট দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মৃত্যুর পরে বিআইডব্লিউটিএ ঘাট কর্তৃপক্ষ স্পিডবোটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নড়েচড়ে বসে। দীর্ঘ ৫ মাস ধরে তারা স্পিডবোটের লাইসেন্সই শুধু দিয়েছে। চালকদের সেভাবে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়নি। আমরা চালকদের প্রশিক্ষণ নিতেও দেখিনি। তাই বেপরোয়া এসব স্পিডবোট চালকদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আমরা শঙ্কিত।’