ট্যাক্সের আওতা বৃদ্ধির পরামর্শ ফরাস উদ্দিনের

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের আয় বেড়েছে। সেইসঙ্গে বেড়েছে ক্রয়ক্ষমতা। তবে সে তুলনায় ট্যাক্স দেয়ার পরিমাণ বাড়েনি। মাত্র ১০ ভাগ মানুষ ট্যাক্স দেয়। রাষ্ট্রীয় পুঁজি বাড়াতে হলে ট্যাক্স আহরণ অবশ্যই বাড়াতে হবে। দেশে ১ হাজার কোটিপতি থাকেলও বিনিয়োগ তেমন নেই। ব্যক্তি খাতে মাত্র ১১ শতাংশ বিনিয়োগ হয়। কোটিপতিরা বিনিয়োগ করতে চায় না। বছরে ৫-৬ মিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যায়। আমাদের বিদেশি বিনিয়োগ আনতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু কর্ণফুলি টানেল, মেট্রো রেল এ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন প্রায় শেষ। প্রকল্প পরিপূর্ণভাবে চালু হলে ১ শতাংশ জিডিপি বাড়বে আর দারিদ্র্য কমবে ০ দশমিক ৮৫ শতাংশ হারে। এর ফলে বাংলাদেশের ইমেজ আরও অনেক বেড়ে যাবে। অগ্রগামী অর্থনীতির দেশ হিসেবে আমরা মর্যাদা পাব।’

গতকাল অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জুম এবং ফেইসবুক লাইভের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী সম্প্রচারিত ‘পঞ্চাশে বাংলাদেশ : অনিশ্চিত যাত্রা থেকে উন্নয়নের রোল মডেল’ শীর্ষক দ্বিতীয় দিনের ভার্চুয়াল সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর প্রফেসর মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এলডিসি থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নত হতে চলেছি। বেশ কিছু এমডিজি গোল আমরা ইতোমধ্যে অর্জন করেছি। সামনে নানা ট্যাক্স সুবিধা বাংলাদেশ আর পাবে না। তবে এর ফলে রপ্তানি কমে যাবে এটা আমি মনে করি না। উন্নত দেশের দিকে এগিয়ে গেলে অনেক দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য অংশীদার হতে চাইবে। সাগরে আমরা একটা বিশাল এলাকার মালিকানা পেয়েছি। যা ব্লু ইকোনমির দ্বার খুলে দিয়েছে। যদিও আমরা এখনও এখানে ব্যাপক কাজ শুরু করতে পারিনি। তবে শীঘ্রই সামুদ্রিক মাছ আহরণ, পর্যটন এমন সব সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে কাজ শুরু হলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘৭৫ এ বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকা-ের পর বাংলাদেশ পুঁজিবাদ নীতি গ্রহণ করে। বাজার অর্থনীতি চালু হয়। নানা রকম উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। বর্তমানে প্রায় ১৫ মিলিয়ন চাকরি সৃষ্টি হযেছে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আইএমএফসহ অনেক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে নানা উদ্যোগের প্রশংসা করছে। অমর্ত্য সেন, কৌশিক বসুসহ আরও অনেকে বাংলাদেশ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ইকোমমিস্ট, ব্লুমবার্গের মতো প্রভাবশালী পত্রিকাও এতে যোগ হয়েছে।’

বিজিএমইএ’র সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘৪ মিলিয়ন শ্রমিক নিয়ে গার্মেন্টস খাত চলছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ নারী। আরও ১০ মিলিয়ন মানুষ এ খাতের সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত। রপ্তানির প্রায় ৮৩ শতাংশ আয় গার্মেন্ট খাত থেকে আসে। বাংলাদেশে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ১৪৮টি গ্রিন কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪টি প্লাটিনাম, ৯১টি গোল্ড আর ৯টি সিলভার। আমাদের গার্মেন্টস মূলত কটন কেন্দ্রীক, প্রায় ৭৪ শতাংশ। কিন্তু নন-কটনের অনেক বড় বাজার রয়েছে। এলডিসি থেকে উত্তরণ হলে এ সেক্টর অসুবিধায় পড়বে। কারণ, অনেক রকম ট্যাক্স সুবিধা আমরা আর পাব না। আশার কথা, আমরা চীনে গার্মেন্টস রপ্তানি শুরু করেছি।’

জাপানের কিয়ুশু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শুনসুকিমানাগি সেমিনারে বলেন, ‘ইনক্লুসিভ সম্পদ ক্ষেত্রে ১৪০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪তম। বৃদ্ধির হার ৩.১ শতাংশ, যা অনেকের কাছেই ঈর্ষণীয়। বন্যা মোকাবিলায় বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়েছে। আর্সেনিক সমস্যা কমিয়ে ফেলেছে। শিল্প ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে। ফিজিকাল সম্পদ (রাস্তা, ইমারত, মেশিনারিজ) বাড়ছে। জিডিপি বাড়ছে। তবে প্রাকৃতিক সম্পদ কমছে।

অনলাইনে অনুষ্ঠিত এই কনফারেন্সের আয়োজন করেছে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি, আরএমআইটি ইউনিভার্সিটি, কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি, গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ড, ম্যাকুয়ারি ইউনিভার্সিটি, সুগার রিসার্চ অস্ট্রেলিয়া, কুইন্সল্যান্ড হেলথের সিনিয়র শিক্ষক ও গবেষকরা এবং অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক সংগঠন ‘আমরা ক’জন-দি লিগ্যাসি অফ বঙ্গবন্ধু অস্ট্রেলিয়া ইনক।’

রবিবার, ১০ অক্টোবর ২০২১ , ২৫ আশ্বিন ১৪২৮ ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ট্যাক্সের আওতা বৃদ্ধির পরামর্শ ফরাস উদ্দিনের

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের আয় বেড়েছে। সেইসঙ্গে বেড়েছে ক্রয়ক্ষমতা। তবে সে তুলনায় ট্যাক্স দেয়ার পরিমাণ বাড়েনি। মাত্র ১০ ভাগ মানুষ ট্যাক্স দেয়। রাষ্ট্রীয় পুঁজি বাড়াতে হলে ট্যাক্স আহরণ অবশ্যই বাড়াতে হবে। দেশে ১ হাজার কোটিপতি থাকেলও বিনিয়োগ তেমন নেই। ব্যক্তি খাতে মাত্র ১১ শতাংশ বিনিয়োগ হয়। কোটিপতিরা বিনিয়োগ করতে চায় না। বছরে ৫-৬ মিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যায়। আমাদের বিদেশি বিনিয়োগ আনতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু কর্ণফুলি টানেল, মেট্রো রেল এ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন প্রায় শেষ। প্রকল্প পরিপূর্ণভাবে চালু হলে ১ শতাংশ জিডিপি বাড়বে আর দারিদ্র্য কমবে ০ দশমিক ৮৫ শতাংশ হারে। এর ফলে বাংলাদেশের ইমেজ আরও অনেক বেড়ে যাবে। অগ্রগামী অর্থনীতির দেশ হিসেবে আমরা মর্যাদা পাব।’

গতকাল অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জুম এবং ফেইসবুক লাইভের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী সম্প্রচারিত ‘পঞ্চাশে বাংলাদেশ : অনিশ্চিত যাত্রা থেকে উন্নয়নের রোল মডেল’ শীর্ষক দ্বিতীয় দিনের ভার্চুয়াল সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর প্রফেসর মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এলডিসি থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নত হতে চলেছি। বেশ কিছু এমডিজি গোল আমরা ইতোমধ্যে অর্জন করেছি। সামনে নানা ট্যাক্স সুবিধা বাংলাদেশ আর পাবে না। তবে এর ফলে রপ্তানি কমে যাবে এটা আমি মনে করি না। উন্নত দেশের দিকে এগিয়ে গেলে অনেক দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য অংশীদার হতে চাইবে। সাগরে আমরা একটা বিশাল এলাকার মালিকানা পেয়েছি। যা ব্লু ইকোনমির দ্বার খুলে দিয়েছে। যদিও আমরা এখনও এখানে ব্যাপক কাজ শুরু করতে পারিনি। তবে শীঘ্রই সামুদ্রিক মাছ আহরণ, পর্যটন এমন সব সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে কাজ শুরু হলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘৭৫ এ বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকা-ের পর বাংলাদেশ পুঁজিবাদ নীতি গ্রহণ করে। বাজার অর্থনীতি চালু হয়। নানা রকম উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। বর্তমানে প্রায় ১৫ মিলিয়ন চাকরি সৃষ্টি হযেছে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আইএমএফসহ অনেক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে নানা উদ্যোগের প্রশংসা করছে। অমর্ত্য সেন, কৌশিক বসুসহ আরও অনেকে বাংলাদেশ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ইকোমমিস্ট, ব্লুমবার্গের মতো প্রভাবশালী পত্রিকাও এতে যোগ হয়েছে।’

বিজিএমইএ’র সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘৪ মিলিয়ন শ্রমিক নিয়ে গার্মেন্টস খাত চলছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ নারী। আরও ১০ মিলিয়ন মানুষ এ খাতের সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত। রপ্তানির প্রায় ৮৩ শতাংশ আয় গার্মেন্ট খাত থেকে আসে। বাংলাদেশে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ১৪৮টি গ্রিন কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪টি প্লাটিনাম, ৯১টি গোল্ড আর ৯টি সিলভার। আমাদের গার্মেন্টস মূলত কটন কেন্দ্রীক, প্রায় ৭৪ শতাংশ। কিন্তু নন-কটনের অনেক বড় বাজার রয়েছে। এলডিসি থেকে উত্তরণ হলে এ সেক্টর অসুবিধায় পড়বে। কারণ, অনেক রকম ট্যাক্স সুবিধা আমরা আর পাব না। আশার কথা, আমরা চীনে গার্মেন্টস রপ্তানি শুরু করেছি।’

জাপানের কিয়ুশু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শুনসুকিমানাগি সেমিনারে বলেন, ‘ইনক্লুসিভ সম্পদ ক্ষেত্রে ১৪০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪তম। বৃদ্ধির হার ৩.১ শতাংশ, যা অনেকের কাছেই ঈর্ষণীয়। বন্যা মোকাবিলায় বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়েছে। আর্সেনিক সমস্যা কমিয়ে ফেলেছে। শিল্প ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে। ফিজিকাল সম্পদ (রাস্তা, ইমারত, মেশিনারিজ) বাড়ছে। জিডিপি বাড়ছে। তবে প্রাকৃতিক সম্পদ কমছে।

অনলাইনে অনুষ্ঠিত এই কনফারেন্সের আয়োজন করেছে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি, আরএমআইটি ইউনিভার্সিটি, কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি, গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ড, ম্যাকুয়ারি ইউনিভার্সিটি, সুগার রিসার্চ অস্ট্রেলিয়া, কুইন্সল্যান্ড হেলথের সিনিয়র শিক্ষক ও গবেষকরা এবং অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক সংগঠন ‘আমরা ক’জন-দি লিগ্যাসি অফ বঙ্গবন্ধু অস্ট্রেলিয়া ইনক।’