মহাদেবপুরে এনআইডি বিতরণে নানা অনিয়মের অভিযোগ

নওগাঁর মহাদেবপুরে জাতীয় স্মার্টকার্ড বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে। সাধারণের কাছ থেকে কর্তৃপক্ষের নিয়োগ করা লোকেরা নানা অজুহাতে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। কর্তৃপক্ষ বলছেন, এসব অনিয়ম আর হবে না। কিন্তু কোন কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না টাকা নেয়া। স্মার্ট কার্ডের তালিকা বের করতে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ টাকা ও যাদের জাতীয় পরিচয় পত্র হারিয়ে গেছে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩৮০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। কিন্তু টাকা জমা নেয়ার কোন রসিদ দেয়া হচ্ছেনা। এভাবে ইতোমধ্যেই কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের কুঞ্জবন বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় এসব দৃশ্য। কার্ড বিতরণ কেন্দ্রের ভিতরে একটি ঘরের সামনে ব্যানারে লেখা ‘হারানো আইডি কার্ডের সরকারী চালানের টাকা জমা নেয়া হয়।’ সামনে অনেক নারী-পুরুষের ভিড়। তারা জানালেন তাদের সবারই আগের আইডি কার্ড হারিয়ে গেছে। তাই এখানে টাকা জমা দিয়ে নতুন স্মার্ট কার্ড নিতে এসেছেন। সেখানে কাজ করছিলেন উপজেলা নির্বাচন অফিসের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আল মাহমুদ। তিনি জানালেন, যাদের কার্ড হারিয়ে গেছে তাদের নতুন কার্ডের জন্য ব্যাংকে ৩৪৫ টাকা জমা দিতে হবে। বিকাশে জমা দিলে ৩৫১ টাকা লাগবে। আর রিপোর্ট প্রিন্ট করতে হবে। তাই সব মিলিয়ে ৩৮০ টাকা নিচ্ছেন।

একটু আগে নেয়া টাকাগুলো তিনি জমা দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, ‘লিখে নিয়েছি। পরে জমা দিব।’ পাশের রুমে দেয়া হচ্ছিল নতুন স্মার্ট কার্ড। কারও কাছ থেকে পুরাতন আইডি কার্ড জমা নেয়া হচ্ছেনা। বরং প্রত্যেকের পুরাতন আইডি কার্ড দেখে তাতে স্পাঞ্জ মেশিন দিয়ে ফুটো করে ফেরৎ দেয়া হচ্ছে। যেহেতু পুরাতন আইডি কার্ড প্রয়োজন হচ্ছে না, সেহেতু নতুন করে টাকা জমা দিয়ে তা তোলার প্রয়োজন নেই বলে অনেকেই মন্তব্য করেন। আবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেহেতু নতুন করে পুরাতন আইডি কার্ড ইস্যু করছেনা, সেহেতু তার টাকাও নিতে পারেন না। জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাচন অফিসার টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে জানান, আইডি কার্ড হারিয়ে গেলে নতুন করে তা নিতে হলে থানায় জিডি করতে হবে। এরপর সোনালী ব্যাংকে চালানে স্বাভাবিক নিয়মে ২৩০ টাকা আর জরুরিভিত্তিতে হলে ৩৪৫ টাকা জমা দিয়ে চালানের কপি জমা দিলে ডুপ্লিকেড আইডি কার্ড দেয়া হবে। তিনি জানান, অপারেটররা তাদের পারিশ্রমিকসহ ৩৮০ টাকা নিচ্ছে। কার্ড বিতরণ শেষে তারা সে টাকা একবারে ব্যাংকে জমা দিবে। এভাবে কতজনের টাকা জমা নেয়া হয়েছে এবং সে টাকা ব্যাংকে জমা দেয়া কিভাবে নিশ্চিত হবে তা তিনি জানাতে পারেননি। যাদের পুরাতন আইডি কার্ড হারিয়ে গেছে তাদের কেউই থানায় জিডি করেননি। তাদের ডুপ্লিকেড আইডিও তোলা হয়নি। শুধু টাকা জমা নিয়ে কিভাবে স্মার্ট কার্ড দেয়া হচ্ছে এরও কোন সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

জেলা নির্বাচন অফিসার মাহমুদ হাসান জানান, যারা সিøপ দিয়ে ১০ টাকা করে নিচ্ছিলেন তাদেরকে তিনি কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া অপারেটররা আর চালানের টাকা জমা নিবেন না বলেও জানান। যাদের পুরাতন আইডি কার্ড হারিয়ে গেছে তাদের নামে ডুপ্লিকেড কার্ড ইস্যু না করলেও চালানে টাকা জমা দিতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আইন আছে, তাই দিতে হবে। এ ব্যাপারে আমি ঢাকায় একবার কথা তুলে আমার চাকরি হারাতে বসেছিলাম। আইন সংশোধন না করা পর্যন্ত এটা চলবে।’

উল্লেখ্য, এ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে মোট ২ লাখ ১১ হাজার ৬৭২ জনের স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হবে। গত ২১ সেপ্টেম্বর কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই মহাদেবপুর সদর, চেরাগপুর ও খাজুর ইউনিয়নে বিতরণ শেষ হয়েছে।

রবিবার, ১০ অক্টোবর ২০২১ , ২৫ আশ্বিন ১৪২৮ ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মহাদেবপুরে এনআইডি বিতরণে নানা অনিয়মের অভিযোগ

image

নওগাঁর মহাদেবপুরে জাতীয় স্মার্টকার্ড বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে। সাধারণের কাছ থেকে কর্তৃপক্ষের নিয়োগ করা লোকেরা নানা অজুহাতে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। কর্তৃপক্ষ বলছেন, এসব অনিয়ম আর হবে না। কিন্তু কোন কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না টাকা নেয়া। স্মার্ট কার্ডের তালিকা বের করতে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ টাকা ও যাদের জাতীয় পরিচয় পত্র হারিয়ে গেছে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩৮০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। কিন্তু টাকা জমা নেয়ার কোন রসিদ দেয়া হচ্ছেনা। এভাবে ইতোমধ্যেই কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের কুঞ্জবন বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় এসব দৃশ্য। কার্ড বিতরণ কেন্দ্রের ভিতরে একটি ঘরের সামনে ব্যানারে লেখা ‘হারানো আইডি কার্ডের সরকারী চালানের টাকা জমা নেয়া হয়।’ সামনে অনেক নারী-পুরুষের ভিড়। তারা জানালেন তাদের সবারই আগের আইডি কার্ড হারিয়ে গেছে। তাই এখানে টাকা জমা দিয়ে নতুন স্মার্ট কার্ড নিতে এসেছেন। সেখানে কাজ করছিলেন উপজেলা নির্বাচন অফিসের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আল মাহমুদ। তিনি জানালেন, যাদের কার্ড হারিয়ে গেছে তাদের নতুন কার্ডের জন্য ব্যাংকে ৩৪৫ টাকা জমা দিতে হবে। বিকাশে জমা দিলে ৩৫১ টাকা লাগবে। আর রিপোর্ট প্রিন্ট করতে হবে। তাই সব মিলিয়ে ৩৮০ টাকা নিচ্ছেন।

একটু আগে নেয়া টাকাগুলো তিনি জমা দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, ‘লিখে নিয়েছি। পরে জমা দিব।’ পাশের রুমে দেয়া হচ্ছিল নতুন স্মার্ট কার্ড। কারও কাছ থেকে পুরাতন আইডি কার্ড জমা নেয়া হচ্ছেনা। বরং প্রত্যেকের পুরাতন আইডি কার্ড দেখে তাতে স্পাঞ্জ মেশিন দিয়ে ফুটো করে ফেরৎ দেয়া হচ্ছে। যেহেতু পুরাতন আইডি কার্ড প্রয়োজন হচ্ছে না, সেহেতু নতুন করে টাকা জমা দিয়ে তা তোলার প্রয়োজন নেই বলে অনেকেই মন্তব্য করেন। আবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেহেতু নতুন করে পুরাতন আইডি কার্ড ইস্যু করছেনা, সেহেতু তার টাকাও নিতে পারেন না। জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাচন অফিসার টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে জানান, আইডি কার্ড হারিয়ে গেলে নতুন করে তা নিতে হলে থানায় জিডি করতে হবে। এরপর সোনালী ব্যাংকে চালানে স্বাভাবিক নিয়মে ২৩০ টাকা আর জরুরিভিত্তিতে হলে ৩৪৫ টাকা জমা দিয়ে চালানের কপি জমা দিলে ডুপ্লিকেড আইডি কার্ড দেয়া হবে। তিনি জানান, অপারেটররা তাদের পারিশ্রমিকসহ ৩৮০ টাকা নিচ্ছে। কার্ড বিতরণ শেষে তারা সে টাকা একবারে ব্যাংকে জমা দিবে। এভাবে কতজনের টাকা জমা নেয়া হয়েছে এবং সে টাকা ব্যাংকে জমা দেয়া কিভাবে নিশ্চিত হবে তা তিনি জানাতে পারেননি। যাদের পুরাতন আইডি কার্ড হারিয়ে গেছে তাদের কেউই থানায় জিডি করেননি। তাদের ডুপ্লিকেড আইডিও তোলা হয়নি। শুধু টাকা জমা নিয়ে কিভাবে স্মার্ট কার্ড দেয়া হচ্ছে এরও কোন সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

জেলা নির্বাচন অফিসার মাহমুদ হাসান জানান, যারা সিøপ দিয়ে ১০ টাকা করে নিচ্ছিলেন তাদেরকে তিনি কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া অপারেটররা আর চালানের টাকা জমা নিবেন না বলেও জানান। যাদের পুরাতন আইডি কার্ড হারিয়ে গেছে তাদের নামে ডুপ্লিকেড কার্ড ইস্যু না করলেও চালানে টাকা জমা দিতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আইন আছে, তাই দিতে হবে। এ ব্যাপারে আমি ঢাকায় একবার কথা তুলে আমার চাকরি হারাতে বসেছিলাম। আইন সংশোধন না করা পর্যন্ত এটা চলবে।’

উল্লেখ্য, এ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে মোট ২ লাখ ১১ হাজার ৬৭২ জনের স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হবে। গত ২১ সেপ্টেম্বর কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই মহাদেবপুর সদর, চেরাগপুর ও খাজুর ইউনিয়নে বিতরণ শেষ হয়েছে।