কৃষিতে অবদান রাখছে মান্দার শাহ কৃষিতথ্য পাঠাগার ও জাদুঘর

চারদিকে ফলদ, বনজ এবং ঔষধিসহ বিভিন্ন প্রকার ফুলের গাছে ঘেরা বিশাল এক মাটির বাড়ি। বাড়ির আঙিনায় রয়েছে ৪৪ প্রজাতির ফলদ গাছ, ১২০ প্রকারের ঔষধি গাছ। বাড়ি সংলগ্ন পূর্বদিকে রয়েছে এক একর আয়তনের মাছে ভরা একটি পুকুর। বলা হচ্ছে নওগাঁর মান্দা উপজেলার শাহ কৃষিতথ্য পাঠাগারের কথা। এর ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়বে বাড়ির বাহির দেয়ালের সাথে ঝোলানো গরুর গাড়ি, চাকা, ছই। জমিতে সেচ দেওয়ার জাত, ডাব ইত্যাদি। সামনের খোলা বারান্দায় মাথার ওপরে ঝোলানো রয়েছে সারা দেশ থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন রকমের মাথাল। মাথার উপরে ঝোলানো রয়েছে দড়ি পাকানোর ঢ্যারা। রাজশাহী এবং নওগাঁ অঞ্চলের ব্যবহৃত আম পাড়ার জালি ও ঠুসি। 

নওগাঁ জেলা সদর থেকে ৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং মান্দা উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে কালিগ্রামের নিভৃত পল্লীতে কৃষকদের জন্য তৈরি করেছেন ‘শাহ কৃষিতথ্য পাঠাগার’। রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম শাহ প্রায় ২০ বছর যাবত এটি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন।

এখানে রয়েছে কৃষকের খেতের ইঁদুর মারার জন্য নানা রকমের ফাঁদ, গরুর গলায় বেঁধে দেওয়া ঘুকরা, মুখে দেওয়া মুখারি বা টুনা, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মাছ ধরার ছোট-বড় নানা রকমের চাঁই এবং হরেক রকম নিড়ানি। কাস্তে, হাতুড়ি, গাঁইতি, গরুর গাড়ি নামিয়ে রাখার শিকপাই থেকে শুরু বিভিন্ন জিনিস পত্র দেখতে দেখতে সারা দেশের কৃষি ও কৃষকের কথা মনে পড়ে যাবে। এছাড়াও দেয়ালের একাংশ জুড়ে রয়েছে জাহাঙ্গীর শাহ উদ্ভাবিত বারো বাই ছয় ফুটের একটি কৃষি পঞ্জিকা।

পাঠাগারের ভেতরে সাজানো রয়েছে শত শত বই ও ম্যাগাজিন। এর মধ্যে রয়েছে মৎস্য চাষ, পশুপালন এবং কৃষির পাশাপাশি ভ্রমণ, ছোটদের গল্প, ধাঁধা ও চিত্রাঙ্কনের বই, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যবই। পাঠাগারের ভেতরে বসে পড়ার জন্য রয়েছে চেয়ার, চৌকি ও মোড়া। যাঁরা পড়তে জানেন না, তাঁরা পাশে বসে আরেকজনের পাঠ শোনেন। 

জাহাঙ্গীর আলম শাহ বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমার কৃষির প্রতি প্রচন্ড রকমের ঝোঁক ছিল। এজন্য কৃষিবিষয়ক বই সংগ্রহ করে পড়াশোনা করতাম।

এই বিষয়ে এতোগুলো বই একসঙ্গে সাধারণত পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, এসব কৃষকদের হাতে পৌঁছে দিতে পারলে আমাদের কৃষিখাত এগিয়ে যাবে অনেকদুর।

স্থানীয় কালীগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রতন প্রসাদ ফনী বলেন, শাহ কৃষি জাদুঘর ও পাঠাগার থেকে মাছের চাষ ও কৃষি বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় সব পরামর্শ পাই। ছোট মাছ ছাড়ার পর থেকে মাছ বড় হওয়া পর্যন্ত আমরা বিভিন্ন পর্যায়ের পরামর্শ পেয়ে থাকি।

রবিবার, ১০ অক্টোবর ২০২১ , ২৫ আশ্বিন ১৪২৮ ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

কৃষিতে অবদান রাখছে মান্দার শাহ কৃষিতথ্য পাঠাগার ও জাদুঘর

image

চারদিকে ফলদ, বনজ এবং ঔষধিসহ বিভিন্ন প্রকার ফুলের গাছে ঘেরা বিশাল এক মাটির বাড়ি। বাড়ির আঙিনায় রয়েছে ৪৪ প্রজাতির ফলদ গাছ, ১২০ প্রকারের ঔষধি গাছ। বাড়ি সংলগ্ন পূর্বদিকে রয়েছে এক একর আয়তনের মাছে ভরা একটি পুকুর। বলা হচ্ছে নওগাঁর মান্দা উপজেলার শাহ কৃষিতথ্য পাঠাগারের কথা। এর ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়বে বাড়ির বাহির দেয়ালের সাথে ঝোলানো গরুর গাড়ি, চাকা, ছই। জমিতে সেচ দেওয়ার জাত, ডাব ইত্যাদি। সামনের খোলা বারান্দায় মাথার ওপরে ঝোলানো রয়েছে সারা দেশ থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন রকমের মাথাল। মাথার উপরে ঝোলানো রয়েছে দড়ি পাকানোর ঢ্যারা। রাজশাহী এবং নওগাঁ অঞ্চলের ব্যবহৃত আম পাড়ার জালি ও ঠুসি। 

নওগাঁ জেলা সদর থেকে ৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং মান্দা উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে কালিগ্রামের নিভৃত পল্লীতে কৃষকদের জন্য তৈরি করেছেন ‘শাহ কৃষিতথ্য পাঠাগার’। রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম শাহ প্রায় ২০ বছর যাবত এটি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন।

এখানে রয়েছে কৃষকের খেতের ইঁদুর মারার জন্য নানা রকমের ফাঁদ, গরুর গলায় বেঁধে দেওয়া ঘুকরা, মুখে দেওয়া মুখারি বা টুনা, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মাছ ধরার ছোট-বড় নানা রকমের চাঁই এবং হরেক রকম নিড়ানি। কাস্তে, হাতুড়ি, গাঁইতি, গরুর গাড়ি নামিয়ে রাখার শিকপাই থেকে শুরু বিভিন্ন জিনিস পত্র দেখতে দেখতে সারা দেশের কৃষি ও কৃষকের কথা মনে পড়ে যাবে। এছাড়াও দেয়ালের একাংশ জুড়ে রয়েছে জাহাঙ্গীর শাহ উদ্ভাবিত বারো বাই ছয় ফুটের একটি কৃষি পঞ্জিকা।

পাঠাগারের ভেতরে সাজানো রয়েছে শত শত বই ও ম্যাগাজিন। এর মধ্যে রয়েছে মৎস্য চাষ, পশুপালন এবং কৃষির পাশাপাশি ভ্রমণ, ছোটদের গল্প, ধাঁধা ও চিত্রাঙ্কনের বই, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যবই। পাঠাগারের ভেতরে বসে পড়ার জন্য রয়েছে চেয়ার, চৌকি ও মোড়া। যাঁরা পড়তে জানেন না, তাঁরা পাশে বসে আরেকজনের পাঠ শোনেন। 

জাহাঙ্গীর আলম শাহ বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমার কৃষির প্রতি প্রচন্ড রকমের ঝোঁক ছিল। এজন্য কৃষিবিষয়ক বই সংগ্রহ করে পড়াশোনা করতাম।

এই বিষয়ে এতোগুলো বই একসঙ্গে সাধারণত পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, এসব কৃষকদের হাতে পৌঁছে দিতে পারলে আমাদের কৃষিখাত এগিয়ে যাবে অনেকদুর।

স্থানীয় কালীগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রতন প্রসাদ ফনী বলেন, শাহ কৃষি জাদুঘর ও পাঠাগার থেকে মাছের চাষ ও কৃষি বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় সব পরামর্শ পাই। ছোট মাছ ছাড়ার পর থেকে মাছ বড় হওয়া পর্যন্ত আমরা বিভিন্ন পর্যায়ের পরামর্শ পেয়ে থাকি।