রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসা বাহিনীর নামে ৫ সন্ত্রাসী নানা অপরাধে লিপ্ত

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠি ‘আরসা বাহিনীর’ নাম দিয়ে নানা অপরাধে লিপ্ত পাঁচ সন্ত্রাসীকে আটক করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান (এপিবিএন)। ১৪ এপিবিএন এর অধিনায়ক পুলিশ সুপার মো. নাইমুল হক জানান, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোররাত পর্যন্ত উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ অভিযান চালানো হয়।

আটকরা হলো উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জি-১৪ ব্লকের মৃত সুলতান মোহাম্মদের ছেলে খালেদ হোসেন (৩৩), লম্বাশিয়া ১-ইস্ট নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ই-১৩ ব্লকের মৃত আমির হোসেনের ছেলে মাস্টার সৈয়দ (৩৮), একই ক্যাম্পের জি-১১ ব্লকের আবুল খায়েরের ছেলে মোহাম্মদ শাকের (৩৫), বি-৩ ব্লকের নূর বশরের ছেলে মোহাম্মদ (১৮) ও ডি-৫ ব্লকের মৃৃত মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ ইলিয়াস (২২)।

আটক সন্ত্রাসীদের কথিত সংগঠন ‘আরসা বাহিনীর’ বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে নিহতের স্বজনসহ নানা মহলের।

পুলিশ সুপার নাইমুল বলেন, রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ হত্যা ঘটনার পর ক্যাম্পের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এপিবিএনসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোররাত পর্যন্ত উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে এপিবিএন এর একটি বিশেষ দল অভিযান চালায়।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠি কথিত আরসা বাহিনীর সঙ্গে জড়িত ৫ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া আটক সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় চাঁদাবাজি, হত্যা, অপহরণ, ডাকাতি, মাদক পাচার, মানব পাচার ও পুলিশ এসল্ট মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মামলা রয়েছে। আটক সন্ত্রাসীদের উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার নাইমুল হক।

এদিকে, কক্সবাজারে টেকনাফ উপজেলার জাদিমুড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৭ থেকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৫ রোহিঙ্গা ডাকাতকে আটক করেছে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সাইজের ৬টি রামদা ও কিরিচ উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক এসপি তারিকুল ইসলাম।

আটক রোহিঙ্গারা হলেন ২৭ নং ক্যাম্প ব্ল-সি/৬ এর মো. খলিলের ছেলে সৈয়দনুর (২৮), একই ব্লকের মৃত বদি আলমের ছেলে নুর বশর প্রকাশ জাহাঙ্গীর (২২), চাকমারকূল ক্যাম্প ২১ ব্লক সি/১ এর মৃত নূর মোহাম্মদের ছেলে আবু বকর সিদ্দিক (৩২), নয়াপাড়া ক্যাম্প ব্ল-জি/১ এর মো. জাকারিয়ার ছেলে মো. সাকের (২৭) এবং একই এলাকার দিল মোহাম্মদের ছেলে আবু তালেব (৩০)।

এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর জানতে পারেন বৃহস্পতিবার জাদিমুড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কতিপয় দুর্বৃত্ত ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওই সংবাদের ভিত্তিতে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের আটক করে।

রবিবার, ১০ অক্টোবর ২০২১ , ২৫ আশ্বিন ১৪২৮ ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসা বাহিনীর নামে ৫ সন্ত্রাসী নানা অপরাধে লিপ্ত

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠি ‘আরসা বাহিনীর’ নাম দিয়ে নানা অপরাধে লিপ্ত পাঁচ সন্ত্রাসীকে আটক করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান (এপিবিএন)। ১৪ এপিবিএন এর অধিনায়ক পুলিশ সুপার মো. নাইমুল হক জানান, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোররাত পর্যন্ত উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ অভিযান চালানো হয়।

আটকরা হলো উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জি-১৪ ব্লকের মৃত সুলতান মোহাম্মদের ছেলে খালেদ হোসেন (৩৩), লম্বাশিয়া ১-ইস্ট নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ই-১৩ ব্লকের মৃত আমির হোসেনের ছেলে মাস্টার সৈয়দ (৩৮), একই ক্যাম্পের জি-১১ ব্লকের আবুল খায়েরের ছেলে মোহাম্মদ শাকের (৩৫), বি-৩ ব্লকের নূর বশরের ছেলে মোহাম্মদ (১৮) ও ডি-৫ ব্লকের মৃৃত মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ ইলিয়াস (২২)।

আটক সন্ত্রাসীদের কথিত সংগঠন ‘আরসা বাহিনীর’ বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে নিহতের স্বজনসহ নানা মহলের।

পুলিশ সুপার নাইমুল বলেন, রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ হত্যা ঘটনার পর ক্যাম্পের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এপিবিএনসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোররাত পর্যন্ত উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে এপিবিএন এর একটি বিশেষ দল অভিযান চালায়।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠি কথিত আরসা বাহিনীর সঙ্গে জড়িত ৫ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া আটক সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় চাঁদাবাজি, হত্যা, অপহরণ, ডাকাতি, মাদক পাচার, মানব পাচার ও পুলিশ এসল্ট মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মামলা রয়েছে। আটক সন্ত্রাসীদের উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার নাইমুল হক।

এদিকে, কক্সবাজারে টেকনাফ উপজেলার জাদিমুড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৭ থেকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৫ রোহিঙ্গা ডাকাতকে আটক করেছে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সাইজের ৬টি রামদা ও কিরিচ উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক এসপি তারিকুল ইসলাম।

আটক রোহিঙ্গারা হলেন ২৭ নং ক্যাম্প ব্ল-সি/৬ এর মো. খলিলের ছেলে সৈয়দনুর (২৮), একই ব্লকের মৃত বদি আলমের ছেলে নুর বশর প্রকাশ জাহাঙ্গীর (২২), চাকমারকূল ক্যাম্প ২১ ব্লক সি/১ এর মৃত নূর মোহাম্মদের ছেলে আবু বকর সিদ্দিক (৩২), নয়াপাড়া ক্যাম্প ব্ল-জি/১ এর মো. জাকারিয়ার ছেলে মো. সাকের (২৭) এবং একই এলাকার দিল মোহাম্মদের ছেলে আবু তালেব (৩০)।

এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর জানতে পারেন বৃহস্পতিবার জাদিমুড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কতিপয় দুর্বৃত্ত ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওই সংবাদের ভিত্তিতে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের আটক করে।