সিরাজগঞ্জে স্কুল প্রতিষ্ঠার ২৩ বছরেও হয়নি চলাচলের রাস্তা

ভোগান্তিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের বেংনাই উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও সেখানে যাতায়াতের কোন রাস্তা করা হয়নাই । ফলে এই বিদ্যালয়ে যাতায়তে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের । সড়কের পাশের ক্যানেলে প্রায় বছর দশেক আগে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হলেও সেটি তুলনায় অনেক ছোট। কালভার্টটি নির্মাণ করা হলেও এত বছরেও দুপাশে মাটি ভরাট হয়নি । যার ফলে এটি যেন কোমলমতি শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর ভোগান্তি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে । অত্র এলাকার শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর এখন দাবি রাস্তা নির্মাণের ।

তারেক, নাবিলা, লামিয়াসহ পঞ্চম শ্রেণীর কয়েকজন শিক্ষার্থী বলে এখনতো পানি কমে গেছে তাই অন্যের জমির আইল ও বাড়ির ওপর দিয়ে যাওয়া যায়। আর বর্ষার সময়তো কলা গাছের ভরাই (ভেলা) একমাত্র ভরসা।

শিক্ষার্থীরা আরও জানায় তারা যখন মানুষের বাড়ি ও জমির ওপর দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়ত করে তখন অনেকেই বকাবকিও করে । এ সময় তাদের মন খারাপ হয়ে যায় । তারপরও বিদ্যালয়ে যেতে হয় লেখাপড়ার জন্য। এলাকাবাসী ও অভিভাবকগণ জানান দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও এর কোন সমাধান হয়নি। বর্ষায় যখন কলা গাছের ভুরায় (ভেলা) এই শিশুরা স্কুলে যায় আমরা তখন প্রতিটি মুহুর্তে আতংকে থাকি, কখন না জানি কি খারাপ খবর আসে। এছাড়াও শুকনার মৌসুমেও স্কুলে যেতে হয় অনেকের বাড়ির ও জমির ওপর দিয়ে। তখন অনেকের জমির ফসলেরও ক্ষতি হয়। অনেকে তো আবার খারাপ ব্যবহারও করে। এই রাস্তাটি এখন আমাদের প্রাণের দাবি বলেও জানান তারা। বেংনাই উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক লিয়াকত আলী শেখ বলেন, আমদের এখানে একটি সেতু করে রাস্তা করে দেয়া দরকার। যে সেতুটি করা হয়েছে সেটি আসলে কোনও সেতু না। এবং সেটি করলেও মাটি ভরাট করা হয়নি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা উম্মে জান্নাতী বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে মোট ১৬৫ জন শিক্ষার্থী আছে জানিয়ে বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দপ্তরে ধরণা দিয়েছি, দরখাস্ত দিয়েছি কিন্তু কোনও সমাধান পাইনি। তিনি এই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সহজপথে বিদ্যালয়ে যাতায়তের জন্য একটি রাস্তা নির্মাণের দাবি জানান সরকারের কাছে। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শেখ আব্দুর রহিম মাস্টার বলেন, ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা খুব কষ্ট করে স্কুলে যায় উল্লেখ করে বলেন, এখানে একটি রাস্তা বা ফুট ওভারব্রিজ খুবই দরকার। সেখানে পাশেই একটি ঈদগাহ মাঠ আছে জানিয়ে বলেন, রাস্তাটি হলে সবার জন্যই খুব উপকার হবে।

পাঙ্গাসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সালাম বলেন, আমি ২০১২-১৩ অর্থবছরে এডিপির একটি ২লাখ টাকার কাজ টেন্ডারের মাধ্যমে দিয়েছিলাম সেখানে একটি কালভার্ট নির্মাণের জন্য। কিন্তু ঠিকাদার তখন কাজ শেষ না করেই অফিস থেকে বিল উত্তোলন করে নেন। আমি জানিনা কিভাবে তারা বিল পেলো। তিনি আরও বলেন, আমি চেষ্টা করবো রাস্তা নির্মাণ করে দেবার।

রায়গঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি নিজেও বিষয়টি দেখেছি। ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে সরকারিভুক্ত হয়। আজ অবধি রাস্তা না হওয়াটা সত্যিই খুব দুঃখজনক। এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী ঝরে যেতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, কোমলমতিরা যেন সঠিকভাবে নির্বিঘেœ নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে এর জন্য আমি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে একটি রাস্তা নির্মাণের জন্য কথা বলবো।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. গোলাম রব্বানী বলেন, আগের কাল্ভার্টটির ব্যাপারে আমি কিছু জানিনা ও এডিপির প্রকল্পে হলে সেটি উপজেলা প্রকৌশলী বলতে পারবেন। তবে আমাদের ওইখানে একটি সেতুর জন্য প্রস্তাবনা দেয়া আছে। সেটি অনুমোদন হলে আমরা সেখানে একটি সেতু করে দিতে পারবো।

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম ম-ল বলেন, আমি রায়গঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান ও থানা শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে কথা বলে একটি রাস্তার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব।

সোমবার, ১১ অক্টোবর ২০২১ , ২৬ আশ্বিন ১৪২৮ ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সিরাজগঞ্জে স্কুল প্রতিষ্ঠার ২৩ বছরেও হয়নি চলাচলের রাস্তা

ভোগান্তিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা
image

সিরাজগঞ্জ : স্কুল সংলগ্ন কালভার্ট। দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় ক্ষেতের আইল ও আশপাশের বাড়ির ওপর দিয়ে চলাচলে বাধ্য হয় শিক্ষার্থীরা -সংবাদ

সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের বেংনাই উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও সেখানে যাতায়াতের কোন রাস্তা করা হয়নাই । ফলে এই বিদ্যালয়ে যাতায়তে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের । সড়কের পাশের ক্যানেলে প্রায় বছর দশেক আগে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হলেও সেটি তুলনায় অনেক ছোট। কালভার্টটি নির্মাণ করা হলেও এত বছরেও দুপাশে মাটি ভরাট হয়নি । যার ফলে এটি যেন কোমলমতি শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর ভোগান্তি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে । অত্র এলাকার শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর এখন দাবি রাস্তা নির্মাণের ।

তারেক, নাবিলা, লামিয়াসহ পঞ্চম শ্রেণীর কয়েকজন শিক্ষার্থী বলে এখনতো পানি কমে গেছে তাই অন্যের জমির আইল ও বাড়ির ওপর দিয়ে যাওয়া যায়। আর বর্ষার সময়তো কলা গাছের ভরাই (ভেলা) একমাত্র ভরসা।

শিক্ষার্থীরা আরও জানায় তারা যখন মানুষের বাড়ি ও জমির ওপর দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়ত করে তখন অনেকেই বকাবকিও করে । এ সময় তাদের মন খারাপ হয়ে যায় । তারপরও বিদ্যালয়ে যেতে হয় লেখাপড়ার জন্য। এলাকাবাসী ও অভিভাবকগণ জানান দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও এর কোন সমাধান হয়নি। বর্ষায় যখন কলা গাছের ভুরায় (ভেলা) এই শিশুরা স্কুলে যায় আমরা তখন প্রতিটি মুহুর্তে আতংকে থাকি, কখন না জানি কি খারাপ খবর আসে। এছাড়াও শুকনার মৌসুমেও স্কুলে যেতে হয় অনেকের বাড়ির ও জমির ওপর দিয়ে। তখন অনেকের জমির ফসলেরও ক্ষতি হয়। অনেকে তো আবার খারাপ ব্যবহারও করে। এই রাস্তাটি এখন আমাদের প্রাণের দাবি বলেও জানান তারা। বেংনাই উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক লিয়াকত আলী শেখ বলেন, আমদের এখানে একটি সেতু করে রাস্তা করে দেয়া দরকার। যে সেতুটি করা হয়েছে সেটি আসলে কোনও সেতু না। এবং সেটি করলেও মাটি ভরাট করা হয়নি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা উম্মে জান্নাতী বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে মোট ১৬৫ জন শিক্ষার্থী আছে জানিয়ে বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দপ্তরে ধরণা দিয়েছি, দরখাস্ত দিয়েছি কিন্তু কোনও সমাধান পাইনি। তিনি এই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সহজপথে বিদ্যালয়ে যাতায়তের জন্য একটি রাস্তা নির্মাণের দাবি জানান সরকারের কাছে। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শেখ আব্দুর রহিম মাস্টার বলেন, ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা খুব কষ্ট করে স্কুলে যায় উল্লেখ করে বলেন, এখানে একটি রাস্তা বা ফুট ওভারব্রিজ খুবই দরকার। সেখানে পাশেই একটি ঈদগাহ মাঠ আছে জানিয়ে বলেন, রাস্তাটি হলে সবার জন্যই খুব উপকার হবে।

পাঙ্গাসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সালাম বলেন, আমি ২০১২-১৩ অর্থবছরে এডিপির একটি ২লাখ টাকার কাজ টেন্ডারের মাধ্যমে দিয়েছিলাম সেখানে একটি কালভার্ট নির্মাণের জন্য। কিন্তু ঠিকাদার তখন কাজ শেষ না করেই অফিস থেকে বিল উত্তোলন করে নেন। আমি জানিনা কিভাবে তারা বিল পেলো। তিনি আরও বলেন, আমি চেষ্টা করবো রাস্তা নির্মাণ করে দেবার।

রায়গঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি নিজেও বিষয়টি দেখেছি। ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে সরকারিভুক্ত হয়। আজ অবধি রাস্তা না হওয়াটা সত্যিই খুব দুঃখজনক। এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী ঝরে যেতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, কোমলমতিরা যেন সঠিকভাবে নির্বিঘেœ নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে এর জন্য আমি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে একটি রাস্তা নির্মাণের জন্য কথা বলবো।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. গোলাম রব্বানী বলেন, আগের কাল্ভার্টটির ব্যাপারে আমি কিছু জানিনা ও এডিপির প্রকল্পে হলে সেটি উপজেলা প্রকৌশলী বলতে পারবেন। তবে আমাদের ওইখানে একটি সেতুর জন্য প্রস্তাবনা দেয়া আছে। সেটি অনুমোদন হলে আমরা সেখানে একটি সেতু করে দিতে পারবো।

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম ম-ল বলেন, আমি রায়গঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান ও থানা শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে কথা বলে একটি রাস্তার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব।