রূপপুরে রিয়েক্টর স্থাপন : পারমাণবিক যুগে শক্ত অবস্থানে দেশ

দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (এনপিপি) স্থাপনের জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার ইচ্ছে, এটি দক্ষিণাঞ্চলেই করার। তবে সেখানে মাটি নরম বলে বিভিন্ন জায়গায় জরিপ করা হচ্ছে। যেখানে উপযুক্ত জায়গা পাওয়া যাবে, সেখানেই স্থাপন করা হবে দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

গতকাল পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লি তথা রিয়েক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে রিয়েক্টর স্থাপন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুই হাজার ৪শ মেগাওয়াটের রূপপুর এনপিপি দেশে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির (ক্লিন এনার্জি) মডেল হিসেবে বিবেচিত হবে, যা থেকে দীর্ঘমেয়াদে পাওয়া যাবে সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত বিদ্যুৎ। এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিবেশ বিপর্যয় থেকে বিশ্বকে রক্ষা করতে ‘দ্যা রোড টু এ কার্বন ফ্রি ফিউচার’ বা ‘কার্বন মুক্ত আগামীর পথে’ আন্দোলনের বড় অংশীদার হবে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের সভাপতিত্বে গতকাল রূপপুরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেব বক্তব্য রাখেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ। এ সময় গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. জিয়াউল হাসান রূপপুরের অনুষ্ঠানস্থলে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর একটি ভিডিও চিত্র পরিবেশিত হয়। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় সূত্র জানায়, গতকাল গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন রোসাটমের মহাপরিচালক।

এদিকে গতকাল রিয়েক্টর ভবনের ভেতর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে রূপপুর এনপিপির প্রকল্প পরিচালক ড. মো. শৌকত আকবর রিয়েক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপনের অনুমতি প্রার্থনা করেন। প্রধানমন্ত্রী অনুমতি দিলে রিএ্যাক্টর ভেসেলটি নকশা অনুযায়ী স্থাপন করা হয়। ৫ থেকে ৬ মিনিটের মধ্যে এটি স্থাপন শেষ হলে ‘জয় বাংলা, জয় বাংলা’ সেøাগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রিয়েক্টর ভবন থেকে অনুষ্ঠানস্থল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকের দিনটি শুধু বাংলাদেশের জন্য না, আমার ব্যক্তিগত জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ। আমি খুব আনন্দিত হতাম যদি স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে পারতাম। করোনা মহামারীর কারণে সেটি সম্ভব হলো না। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন হওয়ায় আজ অনুষ্ঠানে যুক্ত হতে পেরিছি। তবে দ্রুতই আমি এখানে আসবো’।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ৩ বার রূপপুর এনপিপি পরিদর্শন করেছেন। প্রকল্পের খোঁজ-খবর নিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গেও পাকিস্তান আমলের বঞ্চনার ইতিহাস জড়িত। তারা ধোকাবাজি করেছে। শুধু জমি বরাদ্দ করে প্রকল্পটি পশ্চিম পাকিস্তানে সরিয়ে নেয়।’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পরপরই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেন- জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এর ফলে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ হচ্ছে।’ আইএইএ’র নির্দেশনা মেনেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

২০১৩ সালে রাশিয়া সফরে প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জননিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েই এই প্রকল্প শুরু হয়।’

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাশিয়া সফর করে প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে সহযোগিতার অনুরোধ জানান। এরই ধারাবাহিকতায় রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির পর ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কংক্রিট ঢালাই উদ্বোধন করেন।

গত বছর ২০ মার্চ এক চুক্তির মাধ্যমে রূপপুর এনপিপির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়। ওই চুক্তিতে রূপপুরের তেজস্ক্রিয় বর্জ্য রাশিয়ার ফেরত নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে দুই দেশ। চুক্তি অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির যতদিন চলবে ততদিন রাশিয়া জ্বালানি সরবরাহ করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রিয়েক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপনের ফলে বিশ্বে পারমাণবিক যুগে বেশ শক্ত অবস্থানে এলাম আমরা। আর সেটি কিন্তু পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার করে।’

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণে রাশিয়ার সহযোগিতার কথা স্মরণ করে তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ও আমরা নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আর এই পাওয়ার প্লান্টটা হয়ে যাওয়ার পর আমরা দক্ষিণাঞ্চলে জায়গা খুঁজছি। যদিও দক্ষিণাঞ্চলে শক্ত মাটিওয়ালা জায়গা পাওয়া খুবই কঠিন।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিভিন্ন দিক এবং বিভিন্ন জায়গা আমরা সার্ভে করছি, আরেকটি পাওয়ার প্লান্ট আমরা করবো। কোথায় ভালো জায়গা পাই এবং আমরা সেটা করতে পারবো।’ তিনি বলেন, ‘আমরা বহুমুখী বিদ্যুৎ উৎপাদন করে যাচ্ছি এই জন্য যে, এই বিদ্যুৎ সুবিধা যাতে মানুষ পায় এবং এটা যাতে অব্যাহত থাকে।’

দেশে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ গড়ে ১০ থেকে ১৪ টাকা এবং কয়লায় ৭ থেকে ৮ টাকা। এলএনজিতেও খচর বর্তমানে কয়লার কাছাকাছি। যথাসময়ে বাস্তবায়ন হলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে ৩ থেকে সাড়ে ৩ টাকায়, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ যখন ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে, ইতোমধ্যে আমরা সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজ শুরু করে দিয়েছি। ২০২৩ সালে আমাদের প্রথম ইউনিট এবং ২০২৪ সালে দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ শুরু হয়ে যাবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতি আরও ত্বরান্বিত হবে, সেটাই আমরা বিশ^াস করি।’

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এই সময়ে আমরা এই নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলাম আমরা বিশেষ করে রিয়েক্টর প্রেসার ভেসেল আমরা স্থাপন করলাম। যেটা সত্যিই আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। পাশাপাশি, ২০৪১ সালের মধ্যে এই উন্নয়নশীল বাংলাদেশকেই উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়তে চাই।’

এই দেশকে আর যেন কোনদিন পিছিয়ে পড়তে না হয় সে জন্য শতবর্ষ মেয়াদি ডেল্টা প্লানও তার সরকার করে দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আর যেন কোন শকুনির থাবা না পড়ে বাংলাদেশের উপর। বাংলাদেশের এই উন্নতি এবং অগ্রগতি যেন অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যায়।’

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী : স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, ‘আজ জাতীয় জীবনে একটি গৌরবময় দিন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ধারাবাহিকতায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের যে স্বপ্ন আমরা দীর্ঘদিন যাবত দেখেছি, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রচেষ্টায় আজ তা বাস্তবে রূপান্তরিত হচ্ছে। তাই এই দুই মহান নেতার কাছে জাতির অনেক ঋণ। পারমাণবিক প্রকল্প বাস্তবায়নে জাতির পিতা ও তার কন্যার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়া বাংলাদেশের দুঃখের দিনের বন্ধু। রিয়েক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপনের কারণে বিশ্ব সভ্যতায় অনন্য অবস্থায় উন্নীত হলো বাংলাদেশ।’

রোসাটমের মহাপরিচালক : এলেক্সি লিখাচেভ বলেন, ‘পারমাণবিক বিদ্যুৎ নির্মাণ বেশ জটিল একটি বিষয়। রুশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতার প্রমাণ ভিভিইআর রিএ্যাক্টর। যেটি রূপপুরে নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণের পর এটি পরিচালনার জনশক্তিকেও প্রশিক্ষিত করে দেয়া হচ্ছে। পারমাণবিক প্রযুক্তি ক্লিন এনার্জির একটি উত্তম দৃষ্টান্ত। এছাড়া রূপপুরের কারণে ২০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। এটি শুধু স্থানীয় জীবনমানই পরিবর্তন করবে না বরং জিডিপি বৃদ্ধিতেও অবদান রাখবে। বাংলাদেশের পারমাণবিক প্রকল্প নির্মাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে রোসাটম এবং সময়মতো এটির নির্মাণ শেষ করতে রাশিয়া সম্ভাব্য সবকিছু করবে।’

লিখাচেভ বলেন, ‘বিদ্যুৎ ইউনিটের অ্যাকটিভ ও প্যাসিভ ব্যবস্থার অনন্য সংমিশ্রণ কেন্দ্রের নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিত করবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পিত মাত্রার নিশ্চয়তা দেবে। তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ শিল্পের উন্নয়ন কেবল বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের সমস্যার সমাধান করবে না, এই অঞ্চলের উন্নয়নে অবদান রাখবে এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান ও বৃদ্ধি করবে।’ তিনি বলেন, ‘রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে এই সহযোগিতা কৌশলগত এবং তিনি এই মর্মে আত্মবিশ্বাসী যে বিদ্যুৎ প্রকৌশল এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আরও অনেক প্রকল্প রয়েছে যা রাশিয়ান এবং বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞরা একসঙ্গে বাস্তবায়ন করতে পারবে।’

রিএ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল যন্ত্র। একে এনপিপির হৃদপিন্ড বা হার্ট বলা হয়। এর মধ্যেই বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোড করা হয় এবং এখানেই ফিশন বা চেইন রিয়াকশনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়। নির্মাণাধীণ এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিশ্বের সর্বাধিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট সম্পন্ন ‘থার্ড জেনারেশন প্লাস ভিভিইআর ১২০০’ প্রযুক্তির রিয়েক্টর ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে রোসাটম। একই প্রযুক্তিতে রাশিয়ার নভোভরোনেঝ প্রদেশে নির্মিত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন চলমান আছে। এই প্রযুক্তির রিয়েক্টরের মেয়াদ ৬০ বছর, যা পরে আরও ২০ বছর বাড়ানো যায়।

এককভাবে আর্থিক বিবেচনায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প এটি। প্রকল্প ব্যয় ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা। ঋণ হিসেবে রাশিয়া দিচ্ছে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। বাকিটা দিচ্ছে বাংলাদেশ। দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী ও পরিবেশ বান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (এনপিপি) দেশের জন্য বিশেষ অবদান রাখবে বলে আশা করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

সোমবার, ১১ অক্টোবর ২০২১ , ২৬ আশ্বিন ১৪২৮ ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

রূপপুরে রিয়েক্টর স্থাপন : পারমাণবিক যুগে শক্ত অবস্থানে দেশ

দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

image

ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (এনপিপি) স্থাপনের জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার ইচ্ছে, এটি দক্ষিণাঞ্চলেই করার। তবে সেখানে মাটি নরম বলে বিভিন্ন জায়গায় জরিপ করা হচ্ছে। যেখানে উপযুক্ত জায়গা পাওয়া যাবে, সেখানেই স্থাপন করা হবে দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

গতকাল পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লি তথা রিয়েক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে রিয়েক্টর স্থাপন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুই হাজার ৪শ মেগাওয়াটের রূপপুর এনপিপি দেশে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির (ক্লিন এনার্জি) মডেল হিসেবে বিবেচিত হবে, যা থেকে দীর্ঘমেয়াদে পাওয়া যাবে সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত বিদ্যুৎ। এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিবেশ বিপর্যয় থেকে বিশ্বকে রক্ষা করতে ‘দ্যা রোড টু এ কার্বন ফ্রি ফিউচার’ বা ‘কার্বন মুক্ত আগামীর পথে’ আন্দোলনের বড় অংশীদার হবে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের সভাপতিত্বে গতকাল রূপপুরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেব বক্তব্য রাখেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ। এ সময় গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. জিয়াউল হাসান রূপপুরের অনুষ্ঠানস্থলে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর একটি ভিডিও চিত্র পরিবেশিত হয়। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় সূত্র জানায়, গতকাল গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন রোসাটমের মহাপরিচালক।

এদিকে গতকাল রিয়েক্টর ভবনের ভেতর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে রূপপুর এনপিপির প্রকল্প পরিচালক ড. মো. শৌকত আকবর রিয়েক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপনের অনুমতি প্রার্থনা করেন। প্রধানমন্ত্রী অনুমতি দিলে রিএ্যাক্টর ভেসেলটি নকশা অনুযায়ী স্থাপন করা হয়। ৫ থেকে ৬ মিনিটের মধ্যে এটি স্থাপন শেষ হলে ‘জয় বাংলা, জয় বাংলা’ সেøাগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রিয়েক্টর ভবন থেকে অনুষ্ঠানস্থল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকের দিনটি শুধু বাংলাদেশের জন্য না, আমার ব্যক্তিগত জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ। আমি খুব আনন্দিত হতাম যদি স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে পারতাম। করোনা মহামারীর কারণে সেটি সম্ভব হলো না। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন হওয়ায় আজ অনুষ্ঠানে যুক্ত হতে পেরিছি। তবে দ্রুতই আমি এখানে আসবো’।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ৩ বার রূপপুর এনপিপি পরিদর্শন করেছেন। প্রকল্পের খোঁজ-খবর নিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গেও পাকিস্তান আমলের বঞ্চনার ইতিহাস জড়িত। তারা ধোকাবাজি করেছে। শুধু জমি বরাদ্দ করে প্রকল্পটি পশ্চিম পাকিস্তানে সরিয়ে নেয়।’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পরপরই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেন- জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এর ফলে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ হচ্ছে।’ আইএইএ’র নির্দেশনা মেনেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

২০১৩ সালে রাশিয়া সফরে প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জননিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েই এই প্রকল্প শুরু হয়।’

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাশিয়া সফর করে প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে সহযোগিতার অনুরোধ জানান। এরই ধারাবাহিকতায় রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির পর ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কংক্রিট ঢালাই উদ্বোধন করেন।

গত বছর ২০ মার্চ এক চুক্তির মাধ্যমে রূপপুর এনপিপির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়। ওই চুক্তিতে রূপপুরের তেজস্ক্রিয় বর্জ্য রাশিয়ার ফেরত নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে দুই দেশ। চুক্তি অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির যতদিন চলবে ততদিন রাশিয়া জ্বালানি সরবরাহ করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রিয়েক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপনের ফলে বিশ্বে পারমাণবিক যুগে বেশ শক্ত অবস্থানে এলাম আমরা। আর সেটি কিন্তু পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার করে।’

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণে রাশিয়ার সহযোগিতার কথা স্মরণ করে তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ও আমরা নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আর এই পাওয়ার প্লান্টটা হয়ে যাওয়ার পর আমরা দক্ষিণাঞ্চলে জায়গা খুঁজছি। যদিও দক্ষিণাঞ্চলে শক্ত মাটিওয়ালা জায়গা পাওয়া খুবই কঠিন।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিভিন্ন দিক এবং বিভিন্ন জায়গা আমরা সার্ভে করছি, আরেকটি পাওয়ার প্লান্ট আমরা করবো। কোথায় ভালো জায়গা পাই এবং আমরা সেটা করতে পারবো।’ তিনি বলেন, ‘আমরা বহুমুখী বিদ্যুৎ উৎপাদন করে যাচ্ছি এই জন্য যে, এই বিদ্যুৎ সুবিধা যাতে মানুষ পায় এবং এটা যাতে অব্যাহত থাকে।’

দেশে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ গড়ে ১০ থেকে ১৪ টাকা এবং কয়লায় ৭ থেকে ৮ টাকা। এলএনজিতেও খচর বর্তমানে কয়লার কাছাকাছি। যথাসময়ে বাস্তবায়ন হলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে ৩ থেকে সাড়ে ৩ টাকায়, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ যখন ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে, ইতোমধ্যে আমরা সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজ শুরু করে দিয়েছি। ২০২৩ সালে আমাদের প্রথম ইউনিট এবং ২০২৪ সালে দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ শুরু হয়ে যাবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতি আরও ত্বরান্বিত হবে, সেটাই আমরা বিশ^াস করি।’

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এই সময়ে আমরা এই নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলাম আমরা বিশেষ করে রিয়েক্টর প্রেসার ভেসেল আমরা স্থাপন করলাম। যেটা সত্যিই আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। পাশাপাশি, ২০৪১ সালের মধ্যে এই উন্নয়নশীল বাংলাদেশকেই উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়তে চাই।’

এই দেশকে আর যেন কোনদিন পিছিয়ে পড়তে না হয় সে জন্য শতবর্ষ মেয়াদি ডেল্টা প্লানও তার সরকার করে দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আর যেন কোন শকুনির থাবা না পড়ে বাংলাদেশের উপর। বাংলাদেশের এই উন্নতি এবং অগ্রগতি যেন অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যায়।’

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী : স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, ‘আজ জাতীয় জীবনে একটি গৌরবময় দিন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ধারাবাহিকতায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের যে স্বপ্ন আমরা দীর্ঘদিন যাবত দেখেছি, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রচেষ্টায় আজ তা বাস্তবে রূপান্তরিত হচ্ছে। তাই এই দুই মহান নেতার কাছে জাতির অনেক ঋণ। পারমাণবিক প্রকল্প বাস্তবায়নে জাতির পিতা ও তার কন্যার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়া বাংলাদেশের দুঃখের দিনের বন্ধু। রিয়েক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপনের কারণে বিশ্ব সভ্যতায় অনন্য অবস্থায় উন্নীত হলো বাংলাদেশ।’

রোসাটমের মহাপরিচালক : এলেক্সি লিখাচেভ বলেন, ‘পারমাণবিক বিদ্যুৎ নির্মাণ বেশ জটিল একটি বিষয়। রুশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতার প্রমাণ ভিভিইআর রিএ্যাক্টর। যেটি রূপপুরে নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণের পর এটি পরিচালনার জনশক্তিকেও প্রশিক্ষিত করে দেয়া হচ্ছে। পারমাণবিক প্রযুক্তি ক্লিন এনার্জির একটি উত্তম দৃষ্টান্ত। এছাড়া রূপপুরের কারণে ২০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। এটি শুধু স্থানীয় জীবনমানই পরিবর্তন করবে না বরং জিডিপি বৃদ্ধিতেও অবদান রাখবে। বাংলাদেশের পারমাণবিক প্রকল্প নির্মাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে রোসাটম এবং সময়মতো এটির নির্মাণ শেষ করতে রাশিয়া সম্ভাব্য সবকিছু করবে।’

লিখাচেভ বলেন, ‘বিদ্যুৎ ইউনিটের অ্যাকটিভ ও প্যাসিভ ব্যবস্থার অনন্য সংমিশ্রণ কেন্দ্রের নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিত করবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পিত মাত্রার নিশ্চয়তা দেবে। তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ শিল্পের উন্নয়ন কেবল বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের সমস্যার সমাধান করবে না, এই অঞ্চলের উন্নয়নে অবদান রাখবে এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান ও বৃদ্ধি করবে।’ তিনি বলেন, ‘রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে এই সহযোগিতা কৌশলগত এবং তিনি এই মর্মে আত্মবিশ্বাসী যে বিদ্যুৎ প্রকৌশল এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আরও অনেক প্রকল্প রয়েছে যা রাশিয়ান এবং বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞরা একসঙ্গে বাস্তবায়ন করতে পারবে।’

রিএ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল যন্ত্র। একে এনপিপির হৃদপিন্ড বা হার্ট বলা হয়। এর মধ্যেই বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোড করা হয় এবং এখানেই ফিশন বা চেইন রিয়াকশনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়। নির্মাণাধীণ এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিশ্বের সর্বাধিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট সম্পন্ন ‘থার্ড জেনারেশন প্লাস ভিভিইআর ১২০০’ প্রযুক্তির রিয়েক্টর ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে রোসাটম। একই প্রযুক্তিতে রাশিয়ার নভোভরোনেঝ প্রদেশে নির্মিত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন চলমান আছে। এই প্রযুক্তির রিয়েক্টরের মেয়াদ ৬০ বছর, যা পরে আরও ২০ বছর বাড়ানো যায়।

এককভাবে আর্থিক বিবেচনায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প এটি। প্রকল্প ব্যয় ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা। ঋণ হিসেবে রাশিয়া দিচ্ছে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। বাকিটা দিচ্ছে বাংলাদেশ। দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী ও পরিবেশ বান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (এনপিপি) দেশের জন্য বিশেষ অবদান রাখবে বলে আশা করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।