আদালতে দেরি করে এলেন পরীমনি, অসুস্থ হয়ে শুয়ে পড়লেন এজলাশে

রাজধানীর বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দেয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। গতকাল ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট সত্যব্রত শিকদার এই অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে এই মামলায় পরীমনিসহ তিনজনের জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত।

এদিন সকাল ১০টায় হাজিরার সময় নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সেই সময়ে আদালতে পৌঁছতে পারেননি। দুপুর ১টায়ও পরীমনি হাজির না হওয়ায় পরবর্তী শুনানির জন্য দুপুর আড়াইটায় সময় ধার্য করেন আদালত। এ নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সত্যব্রত শিকদারের আদালতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু।

বেলা পৌনে ২টার দিকে আদালতে হাজির হয়ে এজলাসের সামনের বেঞ্চে বসেন পরীমনি। তাকে অসুস্থ দেখাচ্ছিল। তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী বলেন, গরম আর আদালতের ভেতরে ধাক্কাধাক্কির কারণে পরীমনি কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ২টা ১২ মিনিটে আদালতে কার্যক্রম শুরু হলে বেঞ্চ থেকে উঠে কাঠগড়ায় যান পরীমনি। শুনানি চলাকালে ছটফট করছিলেন, মাঝে মাঝে মাস্ক সরিয়ে শ্বাস নিচ্ছিলেন। শুনানি শেষে আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করেন। শুনানি শেষের পর দেখা যায়, আদালতে এজলাসের বেঞ্চে খালু কবীর হাওলাদারের পায়ের ওপর মাথা দিয়ে বসে ছিলেন পরীমনি। তার মাথায় পানি ঢালার পর এক পর্যায়ে বেঞ্চের উপর শুয়ে পড়েন তিনি। এ সময় আইনজীবীরা তাকে কাগজ নেড়ে বাতাস দেয়ার চেষ্টা করেন। প্রায় ২০-৩০ মিনিটের মতো তিনি সেখানে ছিলেন। শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হলে তাকে হাত ধরে আদালত থেকে গাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়।

শুনানিতে পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া পর্যন্ত এই মামলায় পরীমনির জামিন মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। তিনি জামিনের কোন অপব্যবহার করেননি। তাই আবার তার জামিন মঞ্জুর করা হোক।

পরীমনির জামিনের বিরোধিতা করেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবদুল্লাহ আবু। তিনি আদালতে বলেন, আগে থেকে এই মামলায় শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য ছিল। সাধারণত সকাল ১০টায় প্রত্যেক আসামির আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু আসামি পরীমনি বেলা একটা পর্যন্ত আদালতে হাজির হননি।

আইন সবার জন্য সমান মন্তব্য করে আদালতে পিপি আবদুল্লাহ আবু বলেন, প্রত্যেককে আইন মেনে চলতে হবে। আদালতে সঠিক সময়ে হাজির হতে হবে। আদালতের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। পরীমনির কাছ থেকে বিদেশি মদসহ ভয়ংকর রকমের মাদক এলএসডি-আইস পাওয়া গেছে। পরীমনির জামিনের বিরোধিতা করছেন তিনি।

পিপির বক্তব্যের পর পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা আদালতে বলেন, ‘স্যার, এ রকম ভুল আর হবে না।’ আদালত উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে পরীমনির জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে মামলাটি বিচারিক আদালতে বদলির আদেশ দেন। এ মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত তিন আসামির মধ্যে পরীমনির পাশাপাশি কবীর হোসেনকেও জামিন দিয়েছে আদালত। আর পরীমনির সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দিপু এ মামলায় স্থায়ী জামিনে আছেন।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ শুনানি শেষে পরীমনির জামিন মঞ্জুর করেন। গত ২২ আগস্ট কেএম ইমরুল কায়েশের আদালতেই পরীমনির জামিন আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবী মজিবুর রহমান। তখন আদালত শুনানির জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছিলেন। এতদিন পর শুনানির দিন ধার্য করায় পরীমনির আইনজীবীরা হাইকোর্টে যান। তারা দ্রুত জামিনের আবেদন করেন। হাইকোর্টের নির্দেশে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ জামিন শুনানির দিন এগিয়ে এনে ১৩ সেপ্টেম্বরের বদলে ৩১ আগস্ট ধার্য করেন।

গত ৪ আগস্ট রাতে প্রায় চার ঘণ্টার অভিযান শেষে বনানীর বাসা থেকে পরীমনি ও তার সহযোগী দীপুকে আটক করে র?্যাব। এ সময় পরীমনির বাসায় বিভিন্ন ধরনের মাদক পাওয়া গেছে বলে জানায় র?্যাব। পরদিন ৫ আগস্ট র?্যাব-১ বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পরীমনি ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলা করে। এরপর ৩ দফায় মোট ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয় পরীমনিকে। প্রথম দফায় ৫ আগস্ট ৪ দিন, দ্বিতীয় দফায় ১০ আগস্ট ২ দিন এবং ৩য় দফায় ১৯ আগস্ট ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয় তার। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।

সোমবার, ১১ অক্টোবর ২০২১ , ২৬ আশ্বিন ১৪২৮ ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আদালতে দেরি করে এলেন পরীমনি, অসুস্থ হয়ে শুয়ে পড়লেন এজলাশে

image

গতকাল আদালতে পরীমনি

রাজধানীর বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দেয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। গতকাল ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট সত্যব্রত শিকদার এই অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে এই মামলায় পরীমনিসহ তিনজনের জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত।

এদিন সকাল ১০টায় হাজিরার সময় নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সেই সময়ে আদালতে পৌঁছতে পারেননি। দুপুর ১টায়ও পরীমনি হাজির না হওয়ায় পরবর্তী শুনানির জন্য দুপুর আড়াইটায় সময় ধার্য করেন আদালত। এ নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সত্যব্রত শিকদারের আদালতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু।

বেলা পৌনে ২টার দিকে আদালতে হাজির হয়ে এজলাসের সামনের বেঞ্চে বসেন পরীমনি। তাকে অসুস্থ দেখাচ্ছিল। তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী বলেন, গরম আর আদালতের ভেতরে ধাক্কাধাক্কির কারণে পরীমনি কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ২টা ১২ মিনিটে আদালতে কার্যক্রম শুরু হলে বেঞ্চ থেকে উঠে কাঠগড়ায় যান পরীমনি। শুনানি চলাকালে ছটফট করছিলেন, মাঝে মাঝে মাস্ক সরিয়ে শ্বাস নিচ্ছিলেন। শুনানি শেষে আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করেন। শুনানি শেষের পর দেখা যায়, আদালতে এজলাসের বেঞ্চে খালু কবীর হাওলাদারের পায়ের ওপর মাথা দিয়ে বসে ছিলেন পরীমনি। তার মাথায় পানি ঢালার পর এক পর্যায়ে বেঞ্চের উপর শুয়ে পড়েন তিনি। এ সময় আইনজীবীরা তাকে কাগজ নেড়ে বাতাস দেয়ার চেষ্টা করেন। প্রায় ২০-৩০ মিনিটের মতো তিনি সেখানে ছিলেন। শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হলে তাকে হাত ধরে আদালত থেকে গাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়।

শুনানিতে পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া পর্যন্ত এই মামলায় পরীমনির জামিন মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। তিনি জামিনের কোন অপব্যবহার করেননি। তাই আবার তার জামিন মঞ্জুর করা হোক।

পরীমনির জামিনের বিরোধিতা করেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবদুল্লাহ আবু। তিনি আদালতে বলেন, আগে থেকে এই মামলায় শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য ছিল। সাধারণত সকাল ১০টায় প্রত্যেক আসামির আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু আসামি পরীমনি বেলা একটা পর্যন্ত আদালতে হাজির হননি।

আইন সবার জন্য সমান মন্তব্য করে আদালতে পিপি আবদুল্লাহ আবু বলেন, প্রত্যেককে আইন মেনে চলতে হবে। আদালতে সঠিক সময়ে হাজির হতে হবে। আদালতের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। পরীমনির কাছ থেকে বিদেশি মদসহ ভয়ংকর রকমের মাদক এলএসডি-আইস পাওয়া গেছে। পরীমনির জামিনের বিরোধিতা করছেন তিনি।

পিপির বক্তব্যের পর পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা আদালতে বলেন, ‘স্যার, এ রকম ভুল আর হবে না।’ আদালত উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে পরীমনির জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে মামলাটি বিচারিক আদালতে বদলির আদেশ দেন। এ মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত তিন আসামির মধ্যে পরীমনির পাশাপাশি কবীর হোসেনকেও জামিন দিয়েছে আদালত। আর পরীমনির সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দিপু এ মামলায় স্থায়ী জামিনে আছেন।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ শুনানি শেষে পরীমনির জামিন মঞ্জুর করেন। গত ২২ আগস্ট কেএম ইমরুল কায়েশের আদালতেই পরীমনির জামিন আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবী মজিবুর রহমান। তখন আদালত শুনানির জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছিলেন। এতদিন পর শুনানির দিন ধার্য করায় পরীমনির আইনজীবীরা হাইকোর্টে যান। তারা দ্রুত জামিনের আবেদন করেন। হাইকোর্টের নির্দেশে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ জামিন শুনানির দিন এগিয়ে এনে ১৩ সেপ্টেম্বরের বদলে ৩১ আগস্ট ধার্য করেন।

গত ৪ আগস্ট রাতে প্রায় চার ঘণ্টার অভিযান শেষে বনানীর বাসা থেকে পরীমনি ও তার সহযোগী দীপুকে আটক করে র?্যাব। এ সময় পরীমনির বাসায় বিভিন্ন ধরনের মাদক পাওয়া গেছে বলে জানায় র?্যাব। পরদিন ৫ আগস্ট র?্যাব-১ বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পরীমনি ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলা করে। এরপর ৩ দফায় মোট ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয় পরীমনিকে। প্রথম দফায় ৫ আগস্ট ৪ দিন, দ্বিতীয় দফায় ১০ আগস্ট ২ দিন এবং ৩য় দফায় ১৯ আগস্ট ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয় তার। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।