আদালতের অনুমতি ছাড়া বসুন্ধরার এমডি আনভীর যেন বিদেশ যেতে না পারে

কলেজছাত্রী মোসারত জাহান মুনিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় অন্যতম আসামি বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীর আদালতের অনুমতি ছাড়া যেন বিদেশ যেতে না পারে সে ব্যাপারে সম্প্রতি আদালতে আবেদন করেছে পুলিশ বুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআইয় সূত্র জানিয়েছে, মুনিয়া হত্যা মামলাটি আদালত তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিশেন পিআইয়ের কাছে পাঠিয়েছে। ইতোমধ্যে আদালতের নির্দেশে পিবিআই তাদের তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। তদন্তের স্বার্থে পিবিআই বেশ কিছু বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ শুরু করেছে।

সূত্র জানিয়েছে, মামলার অন্যতম আসামি বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীর। যেহেতু আসামি ব্যবসায়িক এবং আর্থিক এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে প্রভাবশালী তাই তার দেশ ত্যাগের ব্যাপারে পিবিআই আদালতের কাছে একটি আবেদন করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, যখন তখন সায়েম সোবহান আনভীর দেশ ত্যাগ করতে পারবেন না। যদি তিনি দেশের বাইরে যেতে চান, সে ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নিয়ে যেতে হবে।

পিবিআইয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, মুনিয়ার সঙ্গে সায়েম সোবহান আনভীরের প্রেমের সম্পর্ক, মুনিয়ার আত্মহত্যা, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, আগের আত্মহত্যার প্ররোচণার মামলায় পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সবগুলো বিষয় খতিয়ে দেখছে পিবিআই। মুনিয়া অন্তঃসত্ত্ব¡া ছিল বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে যে কথা বলা হয়েছে সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। পুরো মামলায় সায়েম সোবহান আনভীর ও তার পরিবার সম্পর্কে মুনিয়ার পরিবারের যে অভিযোগ প্রত্যেকটি অভিযোগ পুঙ্খানু পুঙ্খানুভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একাধিক টিম ভাগ হয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাসার একটি ফ্ল্যাট থেকে কলেজ ছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান তানিয়া ‘আত্মহত্যা’য় প্ররোচণার অভিযোগ এনে দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়িক গ্রুপ বসুন্ধরার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। নানা নাটকীয়তা শেষে পুলিশ কোন তদন্ত না করেই ওই মামলায় সায়েম সোবহান আনভীরকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। বাদী সেই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজী দাখিল করে। পরে আদালত নারাজী খারিজ করে দেয়। পরে বাদী তার বোনকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এনে আদালতে আনভীরসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলার আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে সেটি গ্রহণ করে এবং মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআইকে নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে।

সোমবার, ১১ অক্টোবর ২০২১ , ২৬ আশ্বিন ১৪২৮ ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আদালতের অনুমতি ছাড়া বসুন্ধরার এমডি আনভীর যেন বিদেশ যেতে না পারে

কলেজছাত্রী মোসারত জাহান মুনিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় অন্যতম আসামি বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীর আদালতের অনুমতি ছাড়া যেন বিদেশ যেতে না পারে সে ব্যাপারে সম্প্রতি আদালতে আবেদন করেছে পুলিশ বুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআইয় সূত্র জানিয়েছে, মুনিয়া হত্যা মামলাটি আদালত তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিশেন পিআইয়ের কাছে পাঠিয়েছে। ইতোমধ্যে আদালতের নির্দেশে পিবিআই তাদের তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। তদন্তের স্বার্থে পিবিআই বেশ কিছু বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ শুরু করেছে।

সূত্র জানিয়েছে, মামলার অন্যতম আসামি বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীর। যেহেতু আসামি ব্যবসায়িক এবং আর্থিক এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে প্রভাবশালী তাই তার দেশ ত্যাগের ব্যাপারে পিবিআই আদালতের কাছে একটি আবেদন করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, যখন তখন সায়েম সোবহান আনভীর দেশ ত্যাগ করতে পারবেন না। যদি তিনি দেশের বাইরে যেতে চান, সে ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নিয়ে যেতে হবে।

পিবিআইয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, মুনিয়ার সঙ্গে সায়েম সোবহান আনভীরের প্রেমের সম্পর্ক, মুনিয়ার আত্মহত্যা, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, আগের আত্মহত্যার প্ররোচণার মামলায় পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সবগুলো বিষয় খতিয়ে দেখছে পিবিআই। মুনিয়া অন্তঃসত্ত্ব¡া ছিল বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে যে কথা বলা হয়েছে সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। পুরো মামলায় সায়েম সোবহান আনভীর ও তার পরিবার সম্পর্কে মুনিয়ার পরিবারের যে অভিযোগ প্রত্যেকটি অভিযোগ পুঙ্খানু পুঙ্খানুভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একাধিক টিম ভাগ হয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাসার একটি ফ্ল্যাট থেকে কলেজ ছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান তানিয়া ‘আত্মহত্যা’য় প্ররোচণার অভিযোগ এনে দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়িক গ্রুপ বসুন্ধরার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। নানা নাটকীয়তা শেষে পুলিশ কোন তদন্ত না করেই ওই মামলায় সায়েম সোবহান আনভীরকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। বাদী সেই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজী দাখিল করে। পরে আদালত নারাজী খারিজ করে দেয়। পরে বাদী তার বোনকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এনে আদালতে আনভীরসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলার আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে সেটি গ্রহণ করে এবং মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআইকে নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে।