সিআইডির নজরদারিতে ৩০ ই-কমার্স

অন লাইন প্ল্যাটফর্মে ৮শ’র বেশি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান সক্রিয়। এসব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কিছু কিছু গ্রাহকদের পণ্য সরবরাহ ঠিকভাবে করলেও অধিকাংশ করছে প্রতারণা। নতুন নতুন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার ফাঁদ প্রকাশ পাচ্ছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ এরকম ৬০টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে নজরদারি শুরু করেছে ৩০টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে।

সিআইডি বলছে, ই-কমার্সের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে কি পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক ও তাদের সহযোগিতা সেই তথ্য এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সুস্পষ্ট নয়। সিআইডি বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের নামে ৩০টি মামলা তদন্ত। গ্রেপ্তার করা হয়েছে বেশ কিছু ই-কর্মার্স প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ও তাদের সহযোগীদের। তবে অধিকাংশ প্রতারক প্রতিষ্ঠানের মালিকরা ও তাদের সহযোগীরা এখন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।

গতকাল সিআইডির এক ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, প্রতারণার অভিযোগে ই-কর্মার্স প্রতিষ্ঠান থলে ডটকম এবং উইকম ডটকমের সিইওসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ দুই প্রতিষ্ঠানের মালিক শাকিব এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ দুই প্রতিষ্ঠানের নামে পণ্য সরবরাহের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার তথ্য পেয়েছে সিআইডি। অন্যদিকে অপর এক অভিযানে টুয়েন্টিফর টিকিং নামে একটি ই-কমার্স ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠান প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছে অর্ধশত কোটি টাকা। গত ১ অক্টোবর মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) সিস্টেমের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান রিং আইডির পরিচালক সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর গত রোববার গ্রেপ্তার হয় মো. রেদওয়ান নামের এক এজেন্টকে। তবে এ প্রতিষ্ঠানের মূল মালিক শফিকুল ইসলাম ও আইরিন ইসলামকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

সিআইডি বলছে, বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার বিষয়টি তদন্তের পাশাপাশি তাদের অর্থ পাচারের বিষয়টিও তদন্ত করছে সিআইডি। সিআইডির কাছে যেসব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের তালিকা রয়েছে তারা কিভাবে ব্যবসা শুরু করেছে, কত টাকা গ্রাহকদের কাছ থেকে নিয়েছে, সেই টাকা কি করেছে তার আদ্যোপান্ত তদন্ত করা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান কিভাবে ব্যবসার অনুমোদন পেয়েছে, এর পেছনে কি উদ্দেশ্য রয়েছে সেগুলোও তদন্ত করছে তারা। সম্প্রতি পণ্য সরবরাহের নামে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ই-কমার্স ইভ্যালির এমডি রাসেল ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান শামিমা নাসরিন গ্রেপ্তার হন। এরপর মামলা হয় ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে। ই-অরেঞ্জ কাণ্ডে নাম আসে বনানী থানা পুলিশের ওসি তদন্ত সোহেল রানার। সোহেল রানা ভারতে পালিয়ে গিয়ে সেখানে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে আছেন। এছাড়া ধামাকার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা করেছে সিআইডি। এর পর বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার বিষয়টি বেরিয়ে আসতে শুরু করে। এরপর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি ই-কমার্স ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অর্থ পাচার, প্রতারণার বিষয়ে অনুসন্ধানে নামে।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, দেশে ৮ শতাধিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের পণ্য ঠিকভাবে সরবরাহ করে। কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যারা প্রতারণা করে। সিআইডির কাছে ৬০টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা রয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড নজরদারিতে আছে। এসব ই-কমার্সের বিষয়ে তদন্ত করছে সিআইডি।

অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, যেসব ই-কমার্সের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে সিআইডি তাদের বিষয়ে তদন্ত করছে। ইতোমধ্যে বেশকিছু ই-কমার্সের কর্নধারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারও হয়েছে অনেকে।

সিআইডির সাইবার পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি কামরুল আহসান বলেন, এ পর্যন্ত ৩০ মামলা তদন্ত করছে সিআইডি। সিআইডি ছাড়াও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও ই-কমার্সের বিরুদ্ধে মামলা তদন্ত করছে। সিআইডির ঢাকা মেট্রো এবং সাইবার পুলিশ ইউনিট অধিকাংশ মামলা তদন্ত করছে।

পণ্য সরবরাহের নামে থলে কম ও উই কম ডটকমের প্রতারণা

সাশ্রয়ী দামে টিভি, ফ্রিজ, মোটরসাইকেল ও ইলেট্রনিক পণ্য বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে সরকারি অনুমোদনহীন ও লাইসেন্সবিহীন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘থলে ডটকম’ ও ‘উই কম ডটকম’র হেড অব অপারেশন মো. নজরুল ইসলামসহ প্রতিষ্ঠানের ছয় কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মো. নজরুল ইসলাম ছাড়াও অন্য গ্রেপ্তাররা হলেন- প্রতিষ্ঠানটির হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. সোহেল হোসেন (২৭), ডিজিটাল কমিউনিকেশন অফিসার মো. তারেক মাহমুদ অনিক (২৮), সেলস এক্সিকিউটিভ অফিসার সাজ্জাদ হোসেন ওরফে পিয়াস (২৭), কল সেন্টার এক্সিকিউটিভ অফিসার মুন্না পারভেজ (২৬) ও সুপারভাইজার মো. মাসুম হাসান (২৭)।

সিআইডি জানায়, বিজ্ঞাপনের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ৩০ দিনের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করার শর্তে টাকা পরিশোধ করেন ভুক্তভোগীরা। কিন্তু টাকা পরিশোধের পর নির্ধারিত সময়ে পণ্য দেয়নি ‘থলেডটকম’ ও ‘উইকমডটকম’। ‘থলেডটকম’ ও ‘উইকমডটকম’র বিভিন্ন পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় গ্রেপ্তাররা কম মূল্যে বিভিন্ন পণ্য- টিভি, ফ্রিজ, মোটরসাইকেল, ইলেকট্রিক পণ্য বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ফেইসবুক পেজে ও অনলাইনের বিভিন্ন মাধ্যমে অফার দেয়। ভিকটিমরা বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে যোগাযোগ করার পরে জানতে পারেন, টাকা পরিশোধ করলে ৩০ দিনের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করা হবে। ভিকটিমরা এ প্রস্তােেব রাজি হয়ে বিভিন্ন তারিখে চেকের মাধ্যমে ও নগদ প্রায় আড়াই কোটি টাকা দেন।

গ্রাহকদের টাকা হাতে পাওয়ার পর ৫০ দিন অতিবাহিত হলেও পণ্য সরবরাহ না করে অপেক্ষা করতে বলে প্রতিষ্ঠানটি। পরে মামলার বাদী খায়রুল আলম মীর প্রতিষ্ঠানটির অফিসে গেলে তারা বাদীসহ ভিকটিমদের বিভিন্ন অঙ্কের টাকার চেক দেয়। সেই চেক নিয়ে ভিকটিমরা ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করতে গেলে ‘অ্যাকাউন্টে কোন টাকা নেই’ বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়। প্রতিষ্ঠানটি এভাবে হাজার হাজার লোকের কাছ থেকে মিথ্যা ও চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাৎ করে।

‘থলেডটকম’ ও ‘উইকমডটকম’র অফিস তল্লাশি করে অফিস ভায়ার চুক্তিপত্র, গন্তব্য লজিস্টিকস সার্ভিস লিমিটেড এজেন্ট সংক্রান্ত চুক্তিপত্র, জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত ইভেন ম্যানেজমেন্ট এগ্রিমেন্ট সংক্রান্ত চুক্তিপত্রসহ বিভিন্ন ব্যাংকের চেক, গ্রাহকদের কাছ থেকে চেক রিসিভ ইনফরমেশন ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফটোকপি মেশিন, রেজিস্টার দুটি ও টাকা গণনার মেশিন জব্দ করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির মূল মালিক শাকিব নামের একজন। তাকে এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে।

অর্ধশত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে টুয়েন্টিফোর টিকেট ডটকম

এদিকে সিআইডির সাইবার পুলিশ বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি কামরুল আহসান জানান, অনলাইন টিকেটিং এজেন্সি টুইন্টিফোর টিকেট ডট কমের বোর্ড অব ডিরেক্টর সদস্য মিজানুর রহমান সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর পূর্বে গত ৪ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. রফিবুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এ প্রতিষ্ঠান প্রতারণার মাধ্যমে এ পর্যন্ত অর্ধশত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে সিআইডি।

সিআইডি জানিয়েছে, ২০১৯ সালে অনলাইন টিকেটিং এজেন্সি হিসেবে টুইন্টিফোর টিকেট ডটকম যাত্রা শুরু করে। শুরু থেকে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী টিকেটে সরবরাহ করলেও পরে প্রতারণা শুরু করে। এরা বিদেশগামীদের টিকেট ১৫ দিনের ক্রেডিতে কিনে ছোট ছোট এজেন্টদের কাছে নগদ টাকায় বিক্রি করে টাকা নিয়ে নিতো। এ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে যারা টিকেট নিতো তারা আবার ওইসব টিকেট বিভিন্ন বিদেশগামীদের কাছে বিক্রি করতো। কিন্তু মূল প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টিকেট এনে এরা টাকা পরিশোধ করতো না। ফলে এদের মাধ্যমে বিক্রিত টিকেট বাতিল হয়ে যেতো। টিকেট নিয়ে বিমানে যেতে গিয়ে দেখতো তাদের টিকেট বাতিল হয়ে গেছে।

এ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টিকেট সংগ্রহকারী ২ হাজারের বেশি বিদেশগামী যাত্রী বিদেশে যেতে পারেনি। ফলে ওইসব ভিকটিমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রিং আইডির মালিক দম্পতিকে দেশে ফেরাতে কাজ করছে সিআইডি

প্রতারণার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় রিং আইডি এক এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। সম্প্রতি প্রতারণার মামলায় রিং আইডির পরিচালক সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছিল সিআইডি। গত ১ অক্টোবর গ্রেপ্তার সাইফুলকে রিমান্ড হেফাজতে নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল সিআইডি।

গতকাল অতিরিক্ত ডিআইডি কামরুল আহসান জানান, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম রিং আইডির মালিক কানাডা প্রবাসী শরিফ ইসলাম ও আইরিন ইসলামকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সাহায্য নেবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ বিষয়ে ইন্টারপোলকে শীঘ্রই চিঠি দেবে সিআইডি।

রিং আইডির মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, সিআইডির অনুরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক রিং আইডির প্রায় ২০০ কোটি টাকা জব্দ করেছে। তবে তাদের হাতিয়ে নেয়া টাকার পরিমাণ আরও বেশি। সেই অর্থ কোথায় জমা আছে তা এখনও অজানা। এসব বিষয়ে জানতেই ইন্টারপোলের সহযোগিতা নিয়ে তাদের ফেরানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

আইডি খোলা এবং আয়ের নানা প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে রিং আইডির অন্যতম এজেন্ট মো. রেদোয়ান রহমানকে গত রোববার বিকেলে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। জিজ্ঞাসাবাদে রেদোয়ান জানান, ২০১৮ সাল থেকে রিং আইডিতে ইউজার হিসেবে কাজ শুরু করেন রেদোয়ান। গত সাত-আট মাস আগে রিং আইডিতে এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ পান। তখন থেকেই ছয় শতাধিক আইডি বিক্রি করে তিনি এক কোটির বেশি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, প্রতিটি সিলভার আইডি বাবদ ১২ হাজার টাকা, গোল্ড আইডি বাবদ ২২ হাজার, প্রবাসী গোল্ড আইডি বাবদ ২৫ হাজার, প্রবাসী প্লাটিনাম আইডি বাবদ ৫০ হাজার করে নিয়েছেন। বিভিন্ন ই-কমার্স সাইটের মতো রিংআইডিও অস্বাভাবিক ডিসকাউন্টে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি এবং ক্রেতাদের কাছ থেকে ই-ওয়ালেটের মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনা করে গ্রাহকদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে প্রতারণা করে আসছিল। রিং আইডির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রিং আইডির বর্তমান ইউজার আইডির সংখ্যা ২ কোটি। ব্রা- প্রমোটরদের লাখ এবং এর এজেন্ট সংখ্যা ১ হাজারের বেশি। রিং আইডির সব অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। এক মাসে রিং আইডির একাউন্টে ১শ কোটি ঢাকা ঢুকেছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে রিং আইডির একাউন্টে ২শ কোটি টাকা প্রবেশ করেছে।

২০২০ সালে রিং আইডির কার্যক্রম শুরু হয়। শুরু থেকে প্রতিমাসে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা রিং আইডির একাউন্টে ঢুকতো। এরপর প্রতিমাসে টাকার পরিমাণ বাড়তে থাকে। বিভিন্ন গ্রাহকদের টাকা সরাসরি যেতো প্রতিষ্ঠানের মালিক শরিফ ইসলাম ও আইরিন ইসলামের একাউন্টে।

মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর ২০২১ , ২৭ আশ্বিন ১৪২৮ ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সিআইডির নজরদারিতে ৩০ ই-কমার্স

অন লাইন প্ল্যাটফর্মে ৮শ’র বেশি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান সক্রিয়। এসব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কিছু কিছু গ্রাহকদের পণ্য সরবরাহ ঠিকভাবে করলেও অধিকাংশ করছে প্রতারণা। নতুন নতুন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার ফাঁদ প্রকাশ পাচ্ছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ এরকম ৬০টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে নজরদারি শুরু করেছে ৩০টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে।

সিআইডি বলছে, ই-কমার্সের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে কি পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক ও তাদের সহযোগিতা সেই তথ্য এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সুস্পষ্ট নয়। সিআইডি বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের নামে ৩০টি মামলা তদন্ত। গ্রেপ্তার করা হয়েছে বেশ কিছু ই-কর্মার্স প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ও তাদের সহযোগীদের। তবে অধিকাংশ প্রতারক প্রতিষ্ঠানের মালিকরা ও তাদের সহযোগীরা এখন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।

গতকাল সিআইডির এক ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, প্রতারণার অভিযোগে ই-কর্মার্স প্রতিষ্ঠান থলে ডটকম এবং উইকম ডটকমের সিইওসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ দুই প্রতিষ্ঠানের মালিক শাকিব এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ দুই প্রতিষ্ঠানের নামে পণ্য সরবরাহের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার তথ্য পেয়েছে সিআইডি। অন্যদিকে অপর এক অভিযানে টুয়েন্টিফর টিকিং নামে একটি ই-কমার্স ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠান প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছে অর্ধশত কোটি টাকা। গত ১ অক্টোবর মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) সিস্টেমের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান রিং আইডির পরিচালক সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর গত রোববার গ্রেপ্তার হয় মো. রেদওয়ান নামের এক এজেন্টকে। তবে এ প্রতিষ্ঠানের মূল মালিক শফিকুল ইসলাম ও আইরিন ইসলামকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

সিআইডি বলছে, বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার বিষয়টি তদন্তের পাশাপাশি তাদের অর্থ পাচারের বিষয়টিও তদন্ত করছে সিআইডি। সিআইডির কাছে যেসব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের তালিকা রয়েছে তারা কিভাবে ব্যবসা শুরু করেছে, কত টাকা গ্রাহকদের কাছ থেকে নিয়েছে, সেই টাকা কি করেছে তার আদ্যোপান্ত তদন্ত করা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান কিভাবে ব্যবসার অনুমোদন পেয়েছে, এর পেছনে কি উদ্দেশ্য রয়েছে সেগুলোও তদন্ত করছে তারা। সম্প্রতি পণ্য সরবরাহের নামে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ই-কমার্স ইভ্যালির এমডি রাসেল ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান শামিমা নাসরিন গ্রেপ্তার হন। এরপর মামলা হয় ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে। ই-অরেঞ্জ কাণ্ডে নাম আসে বনানী থানা পুলিশের ওসি তদন্ত সোহেল রানার। সোহেল রানা ভারতে পালিয়ে গিয়ে সেখানে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে আছেন। এছাড়া ধামাকার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা করেছে সিআইডি। এর পর বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার বিষয়টি বেরিয়ে আসতে শুরু করে। এরপর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি ই-কমার্স ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অর্থ পাচার, প্রতারণার বিষয়ে অনুসন্ধানে নামে।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, দেশে ৮ শতাধিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের পণ্য ঠিকভাবে সরবরাহ করে। কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যারা প্রতারণা করে। সিআইডির কাছে ৬০টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা রয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড নজরদারিতে আছে। এসব ই-কমার্সের বিষয়ে তদন্ত করছে সিআইডি।

অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, যেসব ই-কমার্সের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে সিআইডি তাদের বিষয়ে তদন্ত করছে। ইতোমধ্যে বেশকিছু ই-কমার্সের কর্নধারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারও হয়েছে অনেকে।

সিআইডির সাইবার পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি কামরুল আহসান বলেন, এ পর্যন্ত ৩০ মামলা তদন্ত করছে সিআইডি। সিআইডি ছাড়াও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও ই-কমার্সের বিরুদ্ধে মামলা তদন্ত করছে। সিআইডির ঢাকা মেট্রো এবং সাইবার পুলিশ ইউনিট অধিকাংশ মামলা তদন্ত করছে।

পণ্য সরবরাহের নামে থলে কম ও উই কম ডটকমের প্রতারণা

সাশ্রয়ী দামে টিভি, ফ্রিজ, মোটরসাইকেল ও ইলেট্রনিক পণ্য বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে সরকারি অনুমোদনহীন ও লাইসেন্সবিহীন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘থলে ডটকম’ ও ‘উই কম ডটকম’র হেড অব অপারেশন মো. নজরুল ইসলামসহ প্রতিষ্ঠানের ছয় কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মো. নজরুল ইসলাম ছাড়াও অন্য গ্রেপ্তাররা হলেন- প্রতিষ্ঠানটির হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. সোহেল হোসেন (২৭), ডিজিটাল কমিউনিকেশন অফিসার মো. তারেক মাহমুদ অনিক (২৮), সেলস এক্সিকিউটিভ অফিসার সাজ্জাদ হোসেন ওরফে পিয়াস (২৭), কল সেন্টার এক্সিকিউটিভ অফিসার মুন্না পারভেজ (২৬) ও সুপারভাইজার মো. মাসুম হাসান (২৭)।

সিআইডি জানায়, বিজ্ঞাপনের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ৩০ দিনের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করার শর্তে টাকা পরিশোধ করেন ভুক্তভোগীরা। কিন্তু টাকা পরিশোধের পর নির্ধারিত সময়ে পণ্য দেয়নি ‘থলেডটকম’ ও ‘উইকমডটকম’। ‘থলেডটকম’ ও ‘উইকমডটকম’র বিভিন্ন পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় গ্রেপ্তাররা কম মূল্যে বিভিন্ন পণ্য- টিভি, ফ্রিজ, মোটরসাইকেল, ইলেকট্রিক পণ্য বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ফেইসবুক পেজে ও অনলাইনের বিভিন্ন মাধ্যমে অফার দেয়। ভিকটিমরা বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে যোগাযোগ করার পরে জানতে পারেন, টাকা পরিশোধ করলে ৩০ দিনের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করা হবে। ভিকটিমরা এ প্রস্তােেব রাজি হয়ে বিভিন্ন তারিখে চেকের মাধ্যমে ও নগদ প্রায় আড়াই কোটি টাকা দেন।

গ্রাহকদের টাকা হাতে পাওয়ার পর ৫০ দিন অতিবাহিত হলেও পণ্য সরবরাহ না করে অপেক্ষা করতে বলে প্রতিষ্ঠানটি। পরে মামলার বাদী খায়রুল আলম মীর প্রতিষ্ঠানটির অফিসে গেলে তারা বাদীসহ ভিকটিমদের বিভিন্ন অঙ্কের টাকার চেক দেয়। সেই চেক নিয়ে ভিকটিমরা ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করতে গেলে ‘অ্যাকাউন্টে কোন টাকা নেই’ বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়। প্রতিষ্ঠানটি এভাবে হাজার হাজার লোকের কাছ থেকে মিথ্যা ও চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাৎ করে।

‘থলেডটকম’ ও ‘উইকমডটকম’র অফিস তল্লাশি করে অফিস ভায়ার চুক্তিপত্র, গন্তব্য লজিস্টিকস সার্ভিস লিমিটেড এজেন্ট সংক্রান্ত চুক্তিপত্র, জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত ইভেন ম্যানেজমেন্ট এগ্রিমেন্ট সংক্রান্ত চুক্তিপত্রসহ বিভিন্ন ব্যাংকের চেক, গ্রাহকদের কাছ থেকে চেক রিসিভ ইনফরমেশন ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফটোকপি মেশিন, রেজিস্টার দুটি ও টাকা গণনার মেশিন জব্দ করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির মূল মালিক শাকিব নামের একজন। তাকে এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে।

অর্ধশত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে টুয়েন্টিফোর টিকেট ডটকম

এদিকে সিআইডির সাইবার পুলিশ বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি কামরুল আহসান জানান, অনলাইন টিকেটিং এজেন্সি টুইন্টিফোর টিকেট ডট কমের বোর্ড অব ডিরেক্টর সদস্য মিজানুর রহমান সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর পূর্বে গত ৪ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. রফিবুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এ প্রতিষ্ঠান প্রতারণার মাধ্যমে এ পর্যন্ত অর্ধশত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে সিআইডি।

সিআইডি জানিয়েছে, ২০১৯ সালে অনলাইন টিকেটিং এজেন্সি হিসেবে টুইন্টিফোর টিকেট ডটকম যাত্রা শুরু করে। শুরু থেকে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী টিকেটে সরবরাহ করলেও পরে প্রতারণা শুরু করে। এরা বিদেশগামীদের টিকেট ১৫ দিনের ক্রেডিতে কিনে ছোট ছোট এজেন্টদের কাছে নগদ টাকায় বিক্রি করে টাকা নিয়ে নিতো। এ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে যারা টিকেট নিতো তারা আবার ওইসব টিকেট বিভিন্ন বিদেশগামীদের কাছে বিক্রি করতো। কিন্তু মূল প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টিকেট এনে এরা টাকা পরিশোধ করতো না। ফলে এদের মাধ্যমে বিক্রিত টিকেট বাতিল হয়ে যেতো। টিকেট নিয়ে বিমানে যেতে গিয়ে দেখতো তাদের টিকেট বাতিল হয়ে গেছে।

এ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টিকেট সংগ্রহকারী ২ হাজারের বেশি বিদেশগামী যাত্রী বিদেশে যেতে পারেনি। ফলে ওইসব ভিকটিমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রিং আইডির মালিক দম্পতিকে দেশে ফেরাতে কাজ করছে সিআইডি

প্রতারণার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় রিং আইডি এক এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। সম্প্রতি প্রতারণার মামলায় রিং আইডির পরিচালক সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছিল সিআইডি। গত ১ অক্টোবর গ্রেপ্তার সাইফুলকে রিমান্ড হেফাজতে নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল সিআইডি।

গতকাল অতিরিক্ত ডিআইডি কামরুল আহসান জানান, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম রিং আইডির মালিক কানাডা প্রবাসী শরিফ ইসলাম ও আইরিন ইসলামকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সাহায্য নেবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ বিষয়ে ইন্টারপোলকে শীঘ্রই চিঠি দেবে সিআইডি।

রিং আইডির মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, সিআইডির অনুরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক রিং আইডির প্রায় ২০০ কোটি টাকা জব্দ করেছে। তবে তাদের হাতিয়ে নেয়া টাকার পরিমাণ আরও বেশি। সেই অর্থ কোথায় জমা আছে তা এখনও অজানা। এসব বিষয়ে জানতেই ইন্টারপোলের সহযোগিতা নিয়ে তাদের ফেরানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

আইডি খোলা এবং আয়ের নানা প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে রিং আইডির অন্যতম এজেন্ট মো. রেদোয়ান রহমানকে গত রোববার বিকেলে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। জিজ্ঞাসাবাদে রেদোয়ান জানান, ২০১৮ সাল থেকে রিং আইডিতে ইউজার হিসেবে কাজ শুরু করেন রেদোয়ান। গত সাত-আট মাস আগে রিং আইডিতে এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ পান। তখন থেকেই ছয় শতাধিক আইডি বিক্রি করে তিনি এক কোটির বেশি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, প্রতিটি সিলভার আইডি বাবদ ১২ হাজার টাকা, গোল্ড আইডি বাবদ ২২ হাজার, প্রবাসী গোল্ড আইডি বাবদ ২৫ হাজার, প্রবাসী প্লাটিনাম আইডি বাবদ ৫০ হাজার করে নিয়েছেন। বিভিন্ন ই-কমার্স সাইটের মতো রিংআইডিও অস্বাভাবিক ডিসকাউন্টে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি এবং ক্রেতাদের কাছ থেকে ই-ওয়ালেটের মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনা করে গ্রাহকদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে প্রতারণা করে আসছিল। রিং আইডির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রিং আইডির বর্তমান ইউজার আইডির সংখ্যা ২ কোটি। ব্রা- প্রমোটরদের লাখ এবং এর এজেন্ট সংখ্যা ১ হাজারের বেশি। রিং আইডির সব অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। এক মাসে রিং আইডির একাউন্টে ১শ কোটি ঢাকা ঢুকেছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে রিং আইডির একাউন্টে ২শ কোটি টাকা প্রবেশ করেছে।

২০২০ সালে রিং আইডির কার্যক্রম শুরু হয়। শুরু থেকে প্রতিমাসে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা রিং আইডির একাউন্টে ঢুকতো। এরপর প্রতিমাসে টাকার পরিমাণ বাড়তে থাকে। বিভিন্ন গ্রাহকদের টাকা সরাসরি যেতো প্রতিষ্ঠানের মালিক শরিফ ইসলাম ও আইরিন ইসলামের একাউন্টে।