ভাইবোনের ফাঁদ : পল্লবীতে ব্ল্যাকমেইলের কারবার

বোনকে ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর পল্লবীর বাউনিয়া বাঁধে বসবাসকারী মো. রনির বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে ভাইবোনের এই সিন্ডিকেট নানা অপকর্ম করে আসলেও মান-সম্মানের ভয়ে কেউই মামলা বা অভিযোগ করেনি। কিন্তু তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গত শনিবার মামলা করেন এক ভুক্তভোগী। আর এই মামলার প্রেক্ষিতে তিন জনকে গ্রেপ্তার করে পল্লবী থানা পুলিশ।

মামলার বাদী এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আসামিরা বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে আটকে রেখে নির্যাতনের মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত।

মো. রনি তার বোন মিথিলা আক্তার সনিকে দিয়ে অর্থকড়ি আছে এমন ব্যক্তিদের কাছে ফোন করাতেন। ভালোবাসার অভিনয় করে তাদেরকে খালি বাসায় ডেকে আনতেন।

মিথিলার ডাকে কেউ তাদের বাসায় গেলে ভাই দলবল নিয়ে হাজির হয়ে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগে আটক করত। এরপর চলত মানসিক-শারীরিক নির্যাতন। অনেকেই মান-সম্মানের ভয়ে নগদ টাকা, চেক, স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে ছাড়া পেতেন। আর ব্ল্যাকমেইলের এই পুরো পরিকল্পনা করতেন রনি ও সনি এই দুই ভাইবোন। সঙ্গে থাকত তাদের সিন্ডিকেট।

এমনি এক পরিস্থিতির শিকার হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন স্থানীয় এক ওষুধের ব্যবসায়ী। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে পল্লবী থানায় মামলা রেকর্ড হয়। এতে রনি, সজিব এবং মিজান নামে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এখনও গ্রেপ্তার হয়নি মামলার চার নম্বর আসামি মিথিলা আক্তার সনি।

মামলার বাদী স্থানীয় ফার্মেসি ব্যবসায়ী মো. মাজেদুল ইসলাম। তিনি জানান, মিথিলা আক্তার সনির সঙ্গে তার পরিচয় ফার্মেসিতে। সনি তার ফার্মেসি থেকে নিয়মিত ওষুধ নিত। কখনও কখনও বাকিতে।

সনি ২০১৯ সালে একদিন জানায় সে অসুস্থ। তার বাসায় ওষুধ পৌঁছে দিতে অনুরোধ করে মামলার বাদীকে। ওষুধ নিয়ে যাওয়ার পর পরই রনি এবং অন্য আসামিরা তাকে রুমের ভেতর আটক করে আড়াই লাখ টাকা দাবি করে।

সনির সঙ্গে মামলার বাদীর অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে ছবি তোলার চেষ্টা করে। ওই সময় মামলার বাদীর কাছে টাকা না থাকায় ‘লোকলজ্জার’ ভয়ে তাদের কথামতো সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে এবং আড়াই লাখ টাকার চেক দেয় বাদী।

পরবর্তীতে বিভিন্ন দফায় মাজেদুল ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দেয়। বাকি টাকা না দিতে পারায় অক্টোবরের ৩ তারিখে মামলার আটককৃত আসামিরা দলবল নিয়ে এসে মাজেদুলকে মারধর করে তার দোকান ভাঙচুর করে। রক্তাক্ত মাজেদুল চিকিৎসা শেষে থানায় অভিযোগ দাখিল করে।

মাজেদুলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৮ অক্টোবর রাতে অভিযান পরিচালনা করে পল্লবী থানার এসআই সামিউল তার বাহিনীসহ অভিযুক্তদের মধ্যে তিন জনকে আটক করেন।

এসআই সামিউল জানায়, গত ৭ অক্টোবর মামলাটি রেকর্ড হয়েছে। ‘আমরা প্রথমে মামলার কথা গোপন রাখি, যাতে আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। গ্রেপ্তারের জন্য স্থানীয় সোর্স ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরও সহযোগিতা নেয়া হয়,’ বলে জানান তিনি।

এসআই সামিউল জানান, অন্য ভুক্তভোগী যদি একই ধরনের অপরাধের স্বীকার হয়ে অভিযোগ করে, তবে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর ২০২১ , ২৭ আশ্বিন ১৪২৮ ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ভাইবোনের ফাঁদ : পল্লবীতে ব্ল্যাকমেইলের কারবার

মামলা, পুলিশি অভিযান, গ্রেপ্তার ৫

বোনকে ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর পল্লবীর বাউনিয়া বাঁধে বসবাসকারী মো. রনির বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে ভাইবোনের এই সিন্ডিকেট নানা অপকর্ম করে আসলেও মান-সম্মানের ভয়ে কেউই মামলা বা অভিযোগ করেনি। কিন্তু তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গত শনিবার মামলা করেন এক ভুক্তভোগী। আর এই মামলার প্রেক্ষিতে তিন জনকে গ্রেপ্তার করে পল্লবী থানা পুলিশ।

মামলার বাদী এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আসামিরা বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে আটকে রেখে নির্যাতনের মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত।

মো. রনি তার বোন মিথিলা আক্তার সনিকে দিয়ে অর্থকড়ি আছে এমন ব্যক্তিদের কাছে ফোন করাতেন। ভালোবাসার অভিনয় করে তাদেরকে খালি বাসায় ডেকে আনতেন।

মিথিলার ডাকে কেউ তাদের বাসায় গেলে ভাই দলবল নিয়ে হাজির হয়ে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগে আটক করত। এরপর চলত মানসিক-শারীরিক নির্যাতন। অনেকেই মান-সম্মানের ভয়ে নগদ টাকা, চেক, স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে ছাড়া পেতেন। আর ব্ল্যাকমেইলের এই পুরো পরিকল্পনা করতেন রনি ও সনি এই দুই ভাইবোন। সঙ্গে থাকত তাদের সিন্ডিকেট।

এমনি এক পরিস্থিতির শিকার হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন স্থানীয় এক ওষুধের ব্যবসায়ী। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে পল্লবী থানায় মামলা রেকর্ড হয়। এতে রনি, সজিব এবং মিজান নামে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এখনও গ্রেপ্তার হয়নি মামলার চার নম্বর আসামি মিথিলা আক্তার সনি।

মামলার বাদী স্থানীয় ফার্মেসি ব্যবসায়ী মো. মাজেদুল ইসলাম। তিনি জানান, মিথিলা আক্তার সনির সঙ্গে তার পরিচয় ফার্মেসিতে। সনি তার ফার্মেসি থেকে নিয়মিত ওষুধ নিত। কখনও কখনও বাকিতে।

সনি ২০১৯ সালে একদিন জানায় সে অসুস্থ। তার বাসায় ওষুধ পৌঁছে দিতে অনুরোধ করে মামলার বাদীকে। ওষুধ নিয়ে যাওয়ার পর পরই রনি এবং অন্য আসামিরা তাকে রুমের ভেতর আটক করে আড়াই লাখ টাকা দাবি করে।

সনির সঙ্গে মামলার বাদীর অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে ছবি তোলার চেষ্টা করে। ওই সময় মামলার বাদীর কাছে টাকা না থাকায় ‘লোকলজ্জার’ ভয়ে তাদের কথামতো সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে এবং আড়াই লাখ টাকার চেক দেয় বাদী।

পরবর্তীতে বিভিন্ন দফায় মাজেদুল ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দেয়। বাকি টাকা না দিতে পারায় অক্টোবরের ৩ তারিখে মামলার আটককৃত আসামিরা দলবল নিয়ে এসে মাজেদুলকে মারধর করে তার দোকান ভাঙচুর করে। রক্তাক্ত মাজেদুল চিকিৎসা শেষে থানায় অভিযোগ দাখিল করে।

মাজেদুলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৮ অক্টোবর রাতে অভিযান পরিচালনা করে পল্লবী থানার এসআই সামিউল তার বাহিনীসহ অভিযুক্তদের মধ্যে তিন জনকে আটক করেন।

এসআই সামিউল জানায়, গত ৭ অক্টোবর মামলাটি রেকর্ড হয়েছে। ‘আমরা প্রথমে মামলার কথা গোপন রাখি, যাতে আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। গ্রেপ্তারের জন্য স্থানীয় সোর্স ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরও সহযোগিতা নেয়া হয়,’ বলে জানান তিনি।

এসআই সামিউল জানান, অন্য ভুক্তভোগী যদি একই ধরনের অপরাধের স্বীকার হয়ে অভিযোগ করে, তবে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।