রাজারবাগ পীরের আবেদনে সাড়া দেয়নি চেম্বার আদালত

ঢাকার রাজারবাগ দরবার শরিফ ও এর পীর দিল্লুর রহমানের সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করতে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন খারিজ করেছেন চেম্বার আদালত। হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে পীর দিল্লুর রহমানের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে গতকাল আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এ আদেশ দেন।

আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুকুল। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। শিশির মনির বলেন, হাইকোর্টের আদেশের স্থগিতাদেশ চেয়ে পীর সাহেব নিজেই চেম্বার আদালতে আবেদন করেছিলেন। শুনানির পর চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছেন। এর ফলে রাজারবাগ পীর ও রাজারবাগ দরবার শরীফের সব সম্পদ তদন্ত করতে কোন বাধা থাকল না।

পীর দিল্লুর রহমানের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুকুল বলেন, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভটু আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। চেম্বার আদালত ‘নো অর্ডার’ দিয়েছেন।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাজারবাগ পীরের এক অনুসারী মফিজুল ইসলামের আবেদনেও একই আদেশ দিয়েছিলেন চেম্বার আদালত। এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাজারবাগ দরবার শরীফের সব সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) এই তদন্ত করতে বলা হয়েছে। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

এছাড়া তাদের কোন জঙ্গি সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা তদন্ত করতে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে আবেদনকারীদের মামলা প্রতারণামূলক কি না, সিআইডিকে এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পরে হাইকোর্টের এই আদেশ স্থগিতে রাজারবাগের পীর দিল্লুর রহমান নিজেই আবেদন করেন।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজারবাগ পীর ও তার চক্রের মাধ্যমে দেশব্যাপী দায়ের করা গায়েবি মামলার তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করে ভুক্তভোগী ৮ পরিবার। ৭ বছরের শিশু, নারী, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মাদরাসার শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ ৮ জন ভুক্তভোগী আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী শিশির মনির এ রিট দায়ের করেন। রিট আবেদনকারীরা হলেন- মো. আবদুল কাদের, মাহবুবুর রহমান, জয়নাল আবেদীন, মো. আলা উদ্দিন, জিন্নাত আলী, আইয়ুবুর হাসান সিয়াম, নাজমা আক্তার ও নার্গিস আক্তার।

আবেদনে রাজারবাগ পীর ও তার চক্রের মাধ্যমে দেশব্যাপী আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, মানহানিকর মামলা দায়েরের বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে না, এই মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়। এছাড়া রাজারবাগ শরীফ ও পীর দিল্লুর রহমানের সম্পত্তি এবং ব্যাংক হিসাব তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে দুদক চেয়ারম্যানের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়। আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে সারা দেশে করা মামলার বিষয়ে একটি তদন্ত চাওয়া হয়। রিট আবেদনে স্বরাষ্ট্র সচিব ও আইজিপিসহ ২০ জনকে বিবাদী করা হয়।

একই সঙ্গে রুলটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় রিটকারী আটজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) অতিরিক্ত মহা-পুলিশ পরিদর্শককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর রিটের শুনানিতে অন্যের জায়গা-জমি দখলের জন্য রাজারবাগ পীরের কা- নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন হাইকোর্ট। মুরিদদের দিয়ে নিরীহ এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৪৯টি মামলা দেয়ার ঘটনায় সিআইডির তদন্ত রিপোর্ট দেখে আদালত এ বিস্ময় প্রকাশ করেন। ওই দিন হাইকোর্ট বলেন, ‘পীর সাহেবের কা- দেখেন! জায়গা-জমি দখলের জন্য পীর সাহেবরা তাদের অনুসারী-মুরিদ দিয়ে কী করে দেখেন! যেখানে একটা মামলা দিলেই একজন মানুষের জীবন শেষ হয়ে যায়, সেখানে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এত মামলা! এটাতো সিরিয়াস ব্যাপার।’

মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর ২০২১ , ২৭ আশ্বিন ১৪২৮ ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

রাজারবাগ পীরের আবেদনে সাড়া দেয়নি চেম্বার আদালত

দুদক, সিআইডি ও সিটিটিসির তদন্ত চলবে

ঢাকার রাজারবাগ দরবার শরিফ ও এর পীর দিল্লুর রহমানের সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করতে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন খারিজ করেছেন চেম্বার আদালত। হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে পীর দিল্লুর রহমানের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে গতকাল আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এ আদেশ দেন।

আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুকুল। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। শিশির মনির বলেন, হাইকোর্টের আদেশের স্থগিতাদেশ চেয়ে পীর সাহেব নিজেই চেম্বার আদালতে আবেদন করেছিলেন। শুনানির পর চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছেন। এর ফলে রাজারবাগ পীর ও রাজারবাগ দরবার শরীফের সব সম্পদ তদন্ত করতে কোন বাধা থাকল না।

পীর দিল্লুর রহমানের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুকুল বলেন, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভটু আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। চেম্বার আদালত ‘নো অর্ডার’ দিয়েছেন।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাজারবাগ পীরের এক অনুসারী মফিজুল ইসলামের আবেদনেও একই আদেশ দিয়েছিলেন চেম্বার আদালত। এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাজারবাগ দরবার শরীফের সব সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) এই তদন্ত করতে বলা হয়েছে। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

এছাড়া তাদের কোন জঙ্গি সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা তদন্ত করতে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে আবেদনকারীদের মামলা প্রতারণামূলক কি না, সিআইডিকে এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পরে হাইকোর্টের এই আদেশ স্থগিতে রাজারবাগের পীর দিল্লুর রহমান নিজেই আবেদন করেন।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজারবাগ পীর ও তার চক্রের মাধ্যমে দেশব্যাপী দায়ের করা গায়েবি মামলার তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করে ভুক্তভোগী ৮ পরিবার। ৭ বছরের শিশু, নারী, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মাদরাসার শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ ৮ জন ভুক্তভোগী আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী শিশির মনির এ রিট দায়ের করেন। রিট আবেদনকারীরা হলেন- মো. আবদুল কাদের, মাহবুবুর রহমান, জয়নাল আবেদীন, মো. আলা উদ্দিন, জিন্নাত আলী, আইয়ুবুর হাসান সিয়াম, নাজমা আক্তার ও নার্গিস আক্তার।

আবেদনে রাজারবাগ পীর ও তার চক্রের মাধ্যমে দেশব্যাপী আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, মানহানিকর মামলা দায়েরের বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে না, এই মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়। এছাড়া রাজারবাগ শরীফ ও পীর দিল্লুর রহমানের সম্পত্তি এবং ব্যাংক হিসাব তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে দুদক চেয়ারম্যানের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়। আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে সারা দেশে করা মামলার বিষয়ে একটি তদন্ত চাওয়া হয়। রিট আবেদনে স্বরাষ্ট্র সচিব ও আইজিপিসহ ২০ জনকে বিবাদী করা হয়।

একই সঙ্গে রুলটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় রিটকারী আটজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) অতিরিক্ত মহা-পুলিশ পরিদর্শককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর রিটের শুনানিতে অন্যের জায়গা-জমি দখলের জন্য রাজারবাগ পীরের কা- নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন হাইকোর্ট। মুরিদদের দিয়ে নিরীহ এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৪৯টি মামলা দেয়ার ঘটনায় সিআইডির তদন্ত রিপোর্ট দেখে আদালত এ বিস্ময় প্রকাশ করেন। ওই দিন হাইকোর্ট বলেন, ‘পীর সাহেবের কা- দেখেন! জায়গা-জমি দখলের জন্য পীর সাহেবরা তাদের অনুসারী-মুরিদ দিয়ে কী করে দেখেন! যেখানে একটা মামলা দিলেই একজন মানুষের জীবন শেষ হয়ে যায়, সেখানে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এত মামলা! এটাতো সিরিয়াস ব্যাপার।’