দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় স্থাপিত হবে ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান জানান, চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় সরকার রাজধানীর তেজগাঁও অঞ্চলে ১ একর জমির উপর একটি ‘ন্যাশনাল ইমাজেন্সি অপারেশন সেন্টার’ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এটি দেশে দুর্যোগ মোকাবিলায় পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে। সারাদেশে ইতোমধ্যে প্রায় ৪২ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি প্রদানের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত করা হয়েছে। এ কার্যক্রম ভবিষ্যতে চলমান থাকবে।

গতকাল ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং স্ট্রেংথেনিং আরবান পাবলিক-প্রাইভেট প্রোগ্রামিং ফর আর্থকোয়েক রেজিলিয়েন্স (সুপার প্রজেক্ট) যৌথভাবে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে ‘প্রাইভেট সেক্টর ইমাজেন্সি অপারেশন সেন্টার (পিইওসি)’ উদ্বোধন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এতে সুপার প্রজেক্ট-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নগর অঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর ভূমিকম্প সহনশীলতা জোরদার এবং সর্বস্তরের জনগণকে দুর্যোগ সহনশীল করে তোলার লক্ষ্যে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে বিভিন্ন অংশীজনদের মধ্যে পারষ্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনায় সরকারি এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি আশা করি, ডিসিসিআইতে স্থাপতি দেশের প্রথম প্রাইভেট সেক্টর ইমাজেন্সি অপারেশন সেন্টারটি দুর্যোগ মোকবিলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। বেসরকারি খাতকে এ ধরনের উদ্যোগের সঙ্গে আরও বেশি হারে সম্পৃক্ত হতে হবে।’

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, ‘দুর্যোগ সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে নিরাপদ নগরায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্প ও বিনিয়োগ ঝুঁকিমুক্ত করা সম্ভব। দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনায় আমাদের গতানুগতিক চিন্তা ধরার পরিবর্তনের উপর তিনি জোরারোপ করেন। সেই সঙ্গে সরকার গৃহীত এ ধরনের কার্যক্রমে আরও বেশি হারে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন বলেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে এ ধরনের ইমাজেন্সি অপারেশন সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ বেসরকারি খাতে নিরাপত্তার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেয়ার বার্তা বহন করেন। এ কার্যক্রম বেসরকারি খাতকে আরও বেশি হারে সম্পৃক্ত করতে হবে।’

একশনএইড-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক গবেষণা কার্যক্রমে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় অগ্রীম ফান্ড গঠনের জন্য বেসরকারি খাতের প্রতি আহ্বান জানান। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত জনবলের একটি ডাটাবেইজ একান্ত অপরিহার্য বলে তিনি মত প্রকাশ করেন, পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যায়ের বাণিজ্য সংগঠনসমূহকে দুর্যোগ ব্যবস্থপনা কার্যক্রমে সম্পৃক্তকরণের উপর তিনি জোরারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে ডিরেক্টর জেনারেল ফর ইউরোপিয়ান সিভিল প্রটেকশন অ্যান্ড হিউমেনিটারিয়ান এইড অপারেশন্স (ইকো)-এর প্রধান ড্যানিয়ালা ডিওরসো এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিরেক্টর সুরেশ বার্টলেট বক্তব্য প্রদান করেন।

ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি এনকেএ মবিন ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ঢাকা চেম্বারের সহ-সভাপতি মনোয়ার হোসেনসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার, ১৩ অক্টোবর ২০২১ , ২৮ আশ্বিন ১৪২৮ ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় স্থাপিত হবে ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান জানান, চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় সরকার রাজধানীর তেজগাঁও অঞ্চলে ১ একর জমির উপর একটি ‘ন্যাশনাল ইমাজেন্সি অপারেশন সেন্টার’ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এটি দেশে দুর্যোগ মোকাবিলায় পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে। সারাদেশে ইতোমধ্যে প্রায় ৪২ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি প্রদানের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত করা হয়েছে। এ কার্যক্রম ভবিষ্যতে চলমান থাকবে।

গতকাল ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং স্ট্রেংথেনিং আরবান পাবলিক-প্রাইভেট প্রোগ্রামিং ফর আর্থকোয়েক রেজিলিয়েন্স (সুপার প্রজেক্ট) যৌথভাবে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে ‘প্রাইভেট সেক্টর ইমাজেন্সি অপারেশন সেন্টার (পিইওসি)’ উদ্বোধন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এতে সুপার প্রজেক্ট-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নগর অঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর ভূমিকম্প সহনশীলতা জোরদার এবং সর্বস্তরের জনগণকে দুর্যোগ সহনশীল করে তোলার লক্ষ্যে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে বিভিন্ন অংশীজনদের মধ্যে পারষ্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনায় সরকারি এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি আশা করি, ডিসিসিআইতে স্থাপতি দেশের প্রথম প্রাইভেট সেক্টর ইমাজেন্সি অপারেশন সেন্টারটি দুর্যোগ মোকবিলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। বেসরকারি খাতকে এ ধরনের উদ্যোগের সঙ্গে আরও বেশি হারে সম্পৃক্ত হতে হবে।’

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, ‘দুর্যোগ সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে নিরাপদ নগরায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্প ও বিনিয়োগ ঝুঁকিমুক্ত করা সম্ভব। দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনায় আমাদের গতানুগতিক চিন্তা ধরার পরিবর্তনের উপর তিনি জোরারোপ করেন। সেই সঙ্গে সরকার গৃহীত এ ধরনের কার্যক্রমে আরও বেশি হারে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন বলেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে এ ধরনের ইমাজেন্সি অপারেশন সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ বেসরকারি খাতে নিরাপত্তার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেয়ার বার্তা বহন করেন। এ কার্যক্রম বেসরকারি খাতকে আরও বেশি হারে সম্পৃক্ত করতে হবে।’

একশনএইড-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক গবেষণা কার্যক্রমে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় অগ্রীম ফান্ড গঠনের জন্য বেসরকারি খাতের প্রতি আহ্বান জানান। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত জনবলের একটি ডাটাবেইজ একান্ত অপরিহার্য বলে তিনি মত প্রকাশ করেন, পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যায়ের বাণিজ্য সংগঠনসমূহকে দুর্যোগ ব্যবস্থপনা কার্যক্রমে সম্পৃক্তকরণের উপর তিনি জোরারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে ডিরেক্টর জেনারেল ফর ইউরোপিয়ান সিভিল প্রটেকশন অ্যান্ড হিউমেনিটারিয়ান এইড অপারেশন্স (ইকো)-এর প্রধান ড্যানিয়ালা ডিওরসো এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিরেক্টর সুরেশ বার্টলেট বক্তব্য প্রদান করেন।

ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি এনকেএ মবিন ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ঢাকা চেম্বারের সহ-সভাপতি মনোয়ার হোসেনসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।