শিবালয়ের শতাধিক মানুষ বছরে ঘুরেও পাননি এনআইডি

করোনার টিকা রেজিস্ট্রেশন, পাসপোর্ট, সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ে নানা সমস্যর সন্মুখীন হচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।

ভোটার এলাকা স্থানান্তর করে মহাবিপদে পড়েছেন শিবালয়ের আনুলিয়া গ্রামের শতাধিক মানুষ। তারা জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার জন্য স্থানীয় নির্বাচন অফিসে প্রায় এক বছর ঘুরাঘুরি করছেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র,তথ্য-উপাত্ত জমা দিয়েও অদ্যাবধি পরিচয়পত্র না পাওয়ায় করোনার টিকা রেজিস্ট্রেশন, পাসপোর্ট, সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় ও অন্যান্য কাজ করতে না পারায় চরম বিপদে পড়েছেন।

জানা গেছে, জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য ছোট আনুলিয়া গ্রামের প্রায় ১শ’ ব্যক্তি গতবছর সেপ্টেম্বর মাসে উপজেলা নির্বাচন অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। দীর্ঘ সময় খোঁজ খবর নিয়েও এরা পরিচয়পত্র না পেয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

অনেকেই জানান, মোবাইল ফোনের হারিয়ে যাওয়া সিমকার্ড তুলতে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রয়োজন হলেও তা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ রিপোর্ট লেখার কয়েকদিন আগে ওই গ্রামের আবেদনকারী একদল মানুষ অফিসে এসে যোগাযোগ করলে আগামী ইউপি নির্বাচনের পরে এ কার্ড দেয়া হবে বলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়ে দিয়েছেন। এ কথায় লোকজনের মাঝে ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ ব্যাপারে শিবালয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি শুনেছি। সমাধানের জন্য উপজেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করছি। একই বিষয়ে স্থানীয় ইউপি মেম্বার আব্দুস সালাম জানান, ভুক্তভোগীদের অনেকেই নির্বাচন অফিসে এসে অনেক অনুরোধ করলেও কোন সমাধান হয়নি। আরেক ইউপি মেম্বার রফিকুল ইসলাম বলেন, ভোটার এলাকা স্থানান্তর হলেও পুরাতন এনআইডি জমা দিয়ে নতুন এনআইডির জন্য আবেদন করতে হয়। এখানে কোন ত্রুটি থাকতে পারে বলে মনে হচ্ছে।

ঘটনার ভূক্তভোগী ঠান্ডু পোদ্ধার,ইসহাক,বাবলুসহ বেশ কয়েকজন জানান, জাতীয় পরিচয় পত্রের অভাবে সে করোনা ভাইরাস রোধে টীকা নিতে পারছেন না। আক্তার হোসেন জানান, সেও কার্ডের অভাবে বিদেশ যাওয়ার পাসপোর্ট করতে পারছেন না।

এছাড়াও প্রাসঙ্গিক বিষয়ে উপজেলার উথলী ইউনিয়নের কাতরাসিন গ্রামের বাসিন্দা চাকুরীজীবী ছালেহা খাতুন জানান, ২০১৪ সালে তার জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম-জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য আবেদন করা হয়। দীর্ঘ দিন অপেক্ষার পর কোনো সমাধান না হওয়ায় ২০১৯ সালে নির্বাচন অফিসারের পরামর্শে প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যাংকে জমা দিলেও অদ্যাবধি তিনি সংশোধিত কার্ড পাননি।

এসব বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাচন অফিসার মাহবুবুর রহমান জানান, উক্ত গ্রামের আবেদনকারীদের কার্ড পাওয়ার বিষয়টি চলমান রয়েছে। আমার এই কর্মস্থলে যোগদানের আগে উক্ত গ্রামের মানুষের আবেদন জমা দেয়া হয়।

বুধবার, ১৩ অক্টোবর ২০২১ , ২৮ আশ্বিন ১৪২৮ ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

শিবালয়ের শতাধিক মানুষ বছরে ঘুরেও পাননি এনআইডি

image

করোনার টিকা রেজিস্ট্রেশন, পাসপোর্ট, সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ে নানা সমস্যর সন্মুখীন হচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।

ভোটার এলাকা স্থানান্তর করে মহাবিপদে পড়েছেন শিবালয়ের আনুলিয়া গ্রামের শতাধিক মানুষ। তারা জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার জন্য স্থানীয় নির্বাচন অফিসে প্রায় এক বছর ঘুরাঘুরি করছেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র,তথ্য-উপাত্ত জমা দিয়েও অদ্যাবধি পরিচয়পত্র না পাওয়ায় করোনার টিকা রেজিস্ট্রেশন, পাসপোর্ট, সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় ও অন্যান্য কাজ করতে না পারায় চরম বিপদে পড়েছেন।

জানা গেছে, জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য ছোট আনুলিয়া গ্রামের প্রায় ১শ’ ব্যক্তি গতবছর সেপ্টেম্বর মাসে উপজেলা নির্বাচন অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। দীর্ঘ সময় খোঁজ খবর নিয়েও এরা পরিচয়পত্র না পেয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

অনেকেই জানান, মোবাইল ফোনের হারিয়ে যাওয়া সিমকার্ড তুলতে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রয়োজন হলেও তা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ রিপোর্ট লেখার কয়েকদিন আগে ওই গ্রামের আবেদনকারী একদল মানুষ অফিসে এসে যোগাযোগ করলে আগামী ইউপি নির্বাচনের পরে এ কার্ড দেয়া হবে বলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়ে দিয়েছেন। এ কথায় লোকজনের মাঝে ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ ব্যাপারে শিবালয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি শুনেছি। সমাধানের জন্য উপজেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করছি। একই বিষয়ে স্থানীয় ইউপি মেম্বার আব্দুস সালাম জানান, ভুক্তভোগীদের অনেকেই নির্বাচন অফিসে এসে অনেক অনুরোধ করলেও কোন সমাধান হয়নি। আরেক ইউপি মেম্বার রফিকুল ইসলাম বলেন, ভোটার এলাকা স্থানান্তর হলেও পুরাতন এনআইডি জমা দিয়ে নতুন এনআইডির জন্য আবেদন করতে হয়। এখানে কোন ত্রুটি থাকতে পারে বলে মনে হচ্ছে।

ঘটনার ভূক্তভোগী ঠান্ডু পোদ্ধার,ইসহাক,বাবলুসহ বেশ কয়েকজন জানান, জাতীয় পরিচয় পত্রের অভাবে সে করোনা ভাইরাস রোধে টীকা নিতে পারছেন না। আক্তার হোসেন জানান, সেও কার্ডের অভাবে বিদেশ যাওয়ার পাসপোর্ট করতে পারছেন না।

এছাড়াও প্রাসঙ্গিক বিষয়ে উপজেলার উথলী ইউনিয়নের কাতরাসিন গ্রামের বাসিন্দা চাকুরীজীবী ছালেহা খাতুন জানান, ২০১৪ সালে তার জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম-জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য আবেদন করা হয়। দীর্ঘ দিন অপেক্ষার পর কোনো সমাধান না হওয়ায় ২০১৯ সালে নির্বাচন অফিসারের পরামর্শে প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যাংকে জমা দিলেও অদ্যাবধি তিনি সংশোধিত কার্ড পাননি।

এসব বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাচন অফিসার মাহবুবুর রহমান জানান, উক্ত গ্রামের আবেদনকারীদের কার্ড পাওয়ার বিষয়টি চলমান রয়েছে। আমার এই কর্মস্থলে যোগদানের আগে উক্ত গ্রামের মানুষের আবেদন জমা দেয়া হয়।