বাবরের অবৈধ সম্পদে ৮ বছরের কারাদণ্ড, তবে খাটতে হবে না সাজা

অবৈধ সম্পদের মামলায় সাবেক বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে দুটি ধারায় মোট আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা না দিলে আরও তিন মাস তাকে সাজা খাটতে হবে।

কিন্তু এই সাজা খাটতে হবে না বাবরকে। আদালত রায়ে বলেছে, বাবরের হাজতবাসকালীন তার এ মামলার সাজা থেকে বাদ যাবে। ২০০৭ সালের ২৬ জুলাই থেকে কারাগারে থাকায় অনেক আগেই তিনি সাজার ওই সময় পার করে ফেলেছেন।

তবে দুটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় ঝুলছে বাবরের মাথার ওপর। আরেকটি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ডের সাজাও পেয়েছেন বাবর।

গতকাল দুপুরে ঢাকার ৭ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শহিদুল ইসলাম এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুটি ধারায় বাবরকে পাঁচ ও তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়ার আদেশ দেন তিনি।

বাবরের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ২৬ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৮ টাকার সম্পদ এবং প্রাইম ব্যাংকের গুলশান শাখায় তার হিসাবে জমা হওয়া মালিকানাবিহীন ১০ লাখ ডলার বা ছয় কোটি ৭৯ লাখ ৪৯ হাজার ২১৮ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশও দিয়েছে আদালত।

রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বাবর বলেছেন, সাজার মেয়াদ পার হয়ে গেলেও যেহেতু তিনি অপরাধী বলে সাব্যস্ত হয়েছেন, তিনি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

গত ২১ সেপ্টেম্বর এ মামলার আত্মপক্ষ শুনানিতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন বাবর। তবে তার পক্ষে কোন সাফাই সাক্ষী ছিল না। বাবরের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে মামলা পরিচালনা করেন, মো. আমিনুল ইসলাম। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন, মোশাররফ হোসেন কাজল।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

পর্যবেক্ষণে বিচারক উল্লেখ করেন, সাক্ষীদের জেরায় আসামি পক্ষের প্রদত্ত সাজেশন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারানুসারে আসামিকে পরীক্ষাকালে তার দাখিল করা লিখিত বক্তব্য ও যুক্তিতর্ক শুনানিকালে আসামি পক্ষ দাবি করেছেন যে, ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বহুল আলোচিত ও কথিত মাইনাস-টু ফর্মুলা বাস্তবায়নে আসামিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতদের নামে মিথ্যা কাগজপতত্র তৈরি করে বানোয়াট মামলা দেয়া হয়। এই বিষয়ে এক সাক্ষী জেরাতে বলেছেন যে, তিনি শুনেছেন তখন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তার মন্ত্রী পরিষদের সদস্যরা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তখনকার বিরোধী নেত্রী শেখ হাসিনাসহ তার দলের অনেক এমপি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। দুদক পক্ষের পিপি আসামি পক্ষের ওই দাবির বিরোধিতা করে বলেন যে, আসামি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয় বহির্ভূতভাবে অঢেল সম্পদ অর্জন করায় নিয়মতান্ত্রিকভাবে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।

আসামির দাবি মোতাবেক দেশের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান অমান্য করে কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠান কোন কাজ করলে তার দায়ভার রাষ্ট্র বহন করবে না। বরং যে কোন সভ্য রাষ্ট্রের দায়িত্ব জনমতের ফসল সাংবিধানিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় আইনানুগ ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে তার পুনরাবৃত্তি রোধ করা।

মামলা বৃত্তান্ত

সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৭ সালের ২৮ মে যৌথবাহিনীর হাতে আটক হন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর। ২০০৮ সালের ১৩ জানুয়ারি রমনা থানায় তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের মামলাটি দায়ের করে দুদক। তদন্ত শেষে ওই বছরের ১৬ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

বুধবার, ১৩ অক্টোবর ২০২১ , ২৮ আশ্বিন ১৪২৮ ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বাবরের অবৈধ সম্পদে ৮ বছরের কারাদণ্ড, তবে খাটতে হবে না সাজা

image

অবৈধ সম্পদের মামলায় সাবেক বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে দুটি ধারায় মোট আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা না দিলে আরও তিন মাস তাকে সাজা খাটতে হবে।

কিন্তু এই সাজা খাটতে হবে না বাবরকে। আদালত রায়ে বলেছে, বাবরের হাজতবাসকালীন তার এ মামলার সাজা থেকে বাদ যাবে। ২০০৭ সালের ২৬ জুলাই থেকে কারাগারে থাকায় অনেক আগেই তিনি সাজার ওই সময় পার করে ফেলেছেন।

তবে দুটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় ঝুলছে বাবরের মাথার ওপর। আরেকটি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ডের সাজাও পেয়েছেন বাবর।

গতকাল দুপুরে ঢাকার ৭ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শহিদুল ইসলাম এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুটি ধারায় বাবরকে পাঁচ ও তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়ার আদেশ দেন তিনি।

বাবরের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ২৬ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৮ টাকার সম্পদ এবং প্রাইম ব্যাংকের গুলশান শাখায় তার হিসাবে জমা হওয়া মালিকানাবিহীন ১০ লাখ ডলার বা ছয় কোটি ৭৯ লাখ ৪৯ হাজার ২১৮ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশও দিয়েছে আদালত।

রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বাবর বলেছেন, সাজার মেয়াদ পার হয়ে গেলেও যেহেতু তিনি অপরাধী বলে সাব্যস্ত হয়েছেন, তিনি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

গত ২১ সেপ্টেম্বর এ মামলার আত্মপক্ষ শুনানিতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন বাবর। তবে তার পক্ষে কোন সাফাই সাক্ষী ছিল না। বাবরের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে মামলা পরিচালনা করেন, মো. আমিনুল ইসলাম। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন, মোশাররফ হোসেন কাজল।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

পর্যবেক্ষণে বিচারক উল্লেখ করেন, সাক্ষীদের জেরায় আসামি পক্ষের প্রদত্ত সাজেশন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারানুসারে আসামিকে পরীক্ষাকালে তার দাখিল করা লিখিত বক্তব্য ও যুক্তিতর্ক শুনানিকালে আসামি পক্ষ দাবি করেছেন যে, ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বহুল আলোচিত ও কথিত মাইনাস-টু ফর্মুলা বাস্তবায়নে আসামিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতদের নামে মিথ্যা কাগজপতত্র তৈরি করে বানোয়াট মামলা দেয়া হয়। এই বিষয়ে এক সাক্ষী জেরাতে বলেছেন যে, তিনি শুনেছেন তখন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তার মন্ত্রী পরিষদের সদস্যরা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তখনকার বিরোধী নেত্রী শেখ হাসিনাসহ তার দলের অনেক এমপি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। দুদক পক্ষের পিপি আসামি পক্ষের ওই দাবির বিরোধিতা করে বলেন যে, আসামি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয় বহির্ভূতভাবে অঢেল সম্পদ অর্জন করায় নিয়মতান্ত্রিকভাবে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।

আসামির দাবি মোতাবেক দেশের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান অমান্য করে কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠান কোন কাজ করলে তার দায়ভার রাষ্ট্র বহন করবে না। বরং যে কোন সভ্য রাষ্ট্রের দায়িত্ব জনমতের ফসল সাংবিধানিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় আইনানুগ ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে তার পুনরাবৃত্তি রোধ করা।

মামলা বৃত্তান্ত

সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৭ সালের ২৮ মে যৌথবাহিনীর হাতে আটক হন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর। ২০০৮ সালের ১৩ জানুয়ারি রমনা থানায় তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের মামলাটি দায়ের করে দুদক। তদন্ত শেষে ওই বছরের ১৬ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।