আজ মহাঅষ্টমী

আজ মহাঅষ্টমী। সকাল থেকেই শুরু হয়েছে অষ্টমী পূজা ও অঞ্জলি পর্ব। মঙ্গল কামনা করে পূজা দিচ্ছেন ভক্তরা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে সমস্ত হিসাব-নিকাশ। তাই এবার অঞ্জলি হচ্ছে অন্য ধাঁচে। কিছুটা দূরত্ব রেখে, মাস্ক পরে মণ্ডপে মণ্ডপে যাচ্ছেন। বিধিনিষেধ মেনে যেতে দেয়া হচ্ছে না দেবীর কাছে। দূর থেকেই চলছে অঞ্জলি পর্ব। বারোয়ারি পূজার ক্ষেত্রে এক এক জায়গায় ভিন্নভাবে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করে চলছে অঞ্জলি। এছাড়া হচ্ছে না কুমারি পূজা।

শারদীয় দুর্গা উৎসবে অষ্টমী পূজা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ দিনে দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করে বিজয় লাভ করেছিলেন। এ পূজার দিনে ভক্তরা বিধিসম্মতভাবে অষ্টমীবিহিত পূজা করে দেবী দুর্গার কৃপা প্রার্থনা করেন। অষ্টমী তিথিতে পূজা করার সময় দেবীকে মহালক্ষ্মী হিসেবে সম্পদ, স্থায়িত্বশীলতা, সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয়। পূজা শেষে পূজারীরা দেবীর উদ্দেশ্যে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করেন।

অষ্টমী তিথির পূজায় নয়টি পাত্রে বিভিন্ন রঙের পতাকা স্থাপন করা হয়, যা দেবীর নয়টি শক্তিকে উৎসর্গ করে পূজা করা হয়। পূজা উপকরণ সাজিয়ে অষ্টমী বিহিত পূজার নির্ধারিত মন্ত্র পাঠ করে পূজা করা হয়। এ দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে দেবী দুর্গাকে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করা হয়। সব শেষে দেবী দুর্গার প্রণাম মন্ত্র পাঠ করা হয়।

কথিত আছে মহা অষ্টমিতে দেবী দশভুজার অষ্ট সখি ও দেবীর অস্ত্রসমূহকে আরাধনা করা হয় দুষ্টের দমন করতে, দেবীর শক্তি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে। এই অস্ত্র শক্তি প্রভু রামের সহযোগি হয়ে ওঠে রাবনকে বিনাশ করতে। কেউ কেউ মনে করেন দেবীর তৃতীয় নয়ন থেকে মা কালির বিনাশী শক্তির উদ্ভব হয় তাই আজ দেবী শক্তি কে বিশেষভাবে পুজা করা হয়।

দুর্গাপুজা মূলত পাঁচদিনের অনুষ্ঠান হলেও মহালয়া থেকেই প্রকৃত উৎসবের সূচনা ও কোজাগরী লক্ষীপূজায় তার সমাপ্তি।

দুর্গাপূজার অন্যতম বৈশিষ্ট্য কুমারী পূজা। দেবী পুরাণে কুমারী পূজার সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। শাস্ত্র অনুসারে সাধারণত ১ বছর থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলক্ষণা কুমারীকে পূজার উল্লেখ রয়েছে। ব্রাহ্মণ অবিবাহিত কন্যা অথবা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কন্যাকেও পূজা করার বিধান রয়েছে। অষ্টমীর দিন নির্বাচিত কুমারীকে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। দেবীর মতো সাজিয়ে হাতে দেয়া হয় ফুল, কপালে সিঁদুরের তিলক এবং পায়ে আলতা। সঠিক সময়ে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপচারে পূজা করা হয়। চারদিক শঙ্খ, উলুধ্বনি আর মায়ের স্তব-স্তুতিতে পূজাঙ্গন মুখরিত থাকে। শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছেন, ‘শুদ্ধাত্মা কুমারীতে দেবী বেশি প্রকাশ পায়। কুমারী পূজার মাধ্যমে নারী জাতি হয়ে উঠবে পূত-পবিত্র ও মাতৃভাবাপন্ন, শ্রদ্ধাশীল।’ ১৯০১ সালের পর প্রতিবছর দুর্গাপূজার অষ্টমী তিথিতে এ

পূজা চলে আসছে। আধ্যাত্মিক ও জাগতিক কল্যাণ সাধনই কুমারী পূজার মূল লক্ষ্য। সনাতম ধর্মের যেকোন পূজার ক্ষেত্রে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সংস্কৃত মন্ত্রগুলো। দুর্গাপূজার মন্ত্রগুলো সাধারণত শ্রী শ্রী চন্ডি থেকে পাঠ করা হয়। ঢাক-ঢোল, খোল করতাল, সুগন্ধি আগরবাতি আর এগুলোর সঙ্গে সংস্কৃতমন্ত্র পবিত্র এক পরিবেশের জন্ম দেয়।

বুধবার, ১৩ অক্টোবর ২০২১ , ২৮ আশ্বিন ১৪২৮ ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আজ মহাঅষ্টমী

আজ মহাঅষ্টমী। সকাল থেকেই শুরু হয়েছে অষ্টমী পূজা ও অঞ্জলি পর্ব। মঙ্গল কামনা করে পূজা দিচ্ছেন ভক্তরা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে সমস্ত হিসাব-নিকাশ। তাই এবার অঞ্জলি হচ্ছে অন্য ধাঁচে। কিছুটা দূরত্ব রেখে, মাস্ক পরে মণ্ডপে মণ্ডপে যাচ্ছেন। বিধিনিষেধ মেনে যেতে দেয়া হচ্ছে না দেবীর কাছে। দূর থেকেই চলছে অঞ্জলি পর্ব। বারোয়ারি পূজার ক্ষেত্রে এক এক জায়গায় ভিন্নভাবে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করে চলছে অঞ্জলি। এছাড়া হচ্ছে না কুমারি পূজা।

শারদীয় দুর্গা উৎসবে অষ্টমী পূজা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ দিনে দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করে বিজয় লাভ করেছিলেন। এ পূজার দিনে ভক্তরা বিধিসম্মতভাবে অষ্টমীবিহিত পূজা করে দেবী দুর্গার কৃপা প্রার্থনা করেন। অষ্টমী তিথিতে পূজা করার সময় দেবীকে মহালক্ষ্মী হিসেবে সম্পদ, স্থায়িত্বশীলতা, সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয়। পূজা শেষে পূজারীরা দেবীর উদ্দেশ্যে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করেন।

অষ্টমী তিথির পূজায় নয়টি পাত্রে বিভিন্ন রঙের পতাকা স্থাপন করা হয়, যা দেবীর নয়টি শক্তিকে উৎসর্গ করে পূজা করা হয়। পূজা উপকরণ সাজিয়ে অষ্টমী বিহিত পূজার নির্ধারিত মন্ত্র পাঠ করে পূজা করা হয়। এ দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে দেবী দুর্গাকে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করা হয়। সব শেষে দেবী দুর্গার প্রণাম মন্ত্র পাঠ করা হয়।

কথিত আছে মহা অষ্টমিতে দেবী দশভুজার অষ্ট সখি ও দেবীর অস্ত্রসমূহকে আরাধনা করা হয় দুষ্টের দমন করতে, দেবীর শক্তি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে। এই অস্ত্র শক্তি প্রভু রামের সহযোগি হয়ে ওঠে রাবনকে বিনাশ করতে। কেউ কেউ মনে করেন দেবীর তৃতীয় নয়ন থেকে মা কালির বিনাশী শক্তির উদ্ভব হয় তাই আজ দেবী শক্তি কে বিশেষভাবে পুজা করা হয়।

দুর্গাপুজা মূলত পাঁচদিনের অনুষ্ঠান হলেও মহালয়া থেকেই প্রকৃত উৎসবের সূচনা ও কোজাগরী লক্ষীপূজায় তার সমাপ্তি।

দুর্গাপূজার অন্যতম বৈশিষ্ট্য কুমারী পূজা। দেবী পুরাণে কুমারী পূজার সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। শাস্ত্র অনুসারে সাধারণত ১ বছর থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলক্ষণা কুমারীকে পূজার উল্লেখ রয়েছে। ব্রাহ্মণ অবিবাহিত কন্যা অথবা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কন্যাকেও পূজা করার বিধান রয়েছে। অষ্টমীর দিন নির্বাচিত কুমারীকে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। দেবীর মতো সাজিয়ে হাতে দেয়া হয় ফুল, কপালে সিঁদুরের তিলক এবং পায়ে আলতা। সঠিক সময়ে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপচারে পূজা করা হয়। চারদিক শঙ্খ, উলুধ্বনি আর মায়ের স্তব-স্তুতিতে পূজাঙ্গন মুখরিত থাকে। শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছেন, ‘শুদ্ধাত্মা কুমারীতে দেবী বেশি প্রকাশ পায়। কুমারী পূজার মাধ্যমে নারী জাতি হয়ে উঠবে পূত-পবিত্র ও মাতৃভাবাপন্ন, শ্রদ্ধাশীল।’ ১৯০১ সালের পর প্রতিবছর দুর্গাপূজার অষ্টমী তিথিতে এ

পূজা চলে আসছে। আধ্যাত্মিক ও জাগতিক কল্যাণ সাধনই কুমারী পূজার মূল লক্ষ্য। সনাতম ধর্মের যেকোন পূজার ক্ষেত্রে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সংস্কৃত মন্ত্রগুলো। দুর্গাপূজার মন্ত্রগুলো সাধারণত শ্রী শ্রী চন্ডি থেকে পাঠ করা হয়। ঢাক-ঢোল, খোল করতাল, সুগন্ধি আগরবাতি আর এগুলোর সঙ্গে সংস্কৃতমন্ত্র পবিত্র এক পরিবেশের জন্ম দেয়।