বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

শিক্ষা-গবেষণা ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে মাস্টার প্ল্যান করা হচ্ছে : উপাচার্য

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৩ বছরে নানাবিধ সীমাবদ্ধতায় হয়তো কাক্সিক্ষত উন্নয়ন সম্ভব হয়নি। তবে সমস্যা যাই থাকুক, নিয়মের ভেতরে থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করা হবে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা-গবেষণা ও ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়নে মাস্টার প্ল্যান করা হচ্ছে। গতকাল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রয়োদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হাসিবুর রশীদ এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ। তাদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে বৈশ্বিক মহামারীতেও অনলাইনে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকা- অব্যাহত রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সব ক্লাস-পরীক্ষা অনলাইনে গ্রহণ করা হয়েছে। একাডেমিক কার্যক্রমের এ ধারা অব্যাহত রেখে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহায়তায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেশনজটমুক্ত হবে এ বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি বলেন, অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চললেও যতদ্রুত সম্ভব বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া হবে। আবাসিক হল খুলে দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে উপাচার্য আরও বলেন, ২০০৮ সালের এই দিনে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবন শেষে বিভিন্ন পর্যায়ে সফলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রসরমান বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, আধুনিক জ্ঞানচর্চা ও পঠন-পাঠনের সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণে অবদান রাখবে এই বিশ্ববিদ্যালয়।

উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. সরিফা সালোয়া ডিনার সভাপতিত্বে এবং ছাত্রউপদেষ্টা মো. নুরজ্জামান খানের সঞ্চালনায় উক্ত আলোচনা সভায় মূল আলোচক ছিলেন, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আবু ছালেহ মোহাম্মদ ওয়াদুদুর রহমান (তুহিন ওয়াদুদ) এবং স্বাগত বক্তৃতা করেন, প্রক্টর মো. গোলাম রব্বানী। বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধানসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও ছাত্রনেতৃবৃন্দ আলোচনায় অংশ নেন।

করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এর ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। সকাল ১০টায় জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাসিবুর রশীদ। এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়ার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন তিনি। শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. সরিফা সালোয়া ডিনা। এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধানসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

দিবসটি স্মরণীয় করে রাখতে ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ করেন, উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাসিবুর রশীদ। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কামনা করে জোহর নামাজের পর কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

image

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বেগম রোকেয়ার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন -সংবাদ

আরও খবর
সরকার পতনের ‘দিবা স্বপ্ন’ বিএনপির ‘রঙিন খোয়াবে’ পরিণত হবে -ওবায়দুল কাদের
সিনহা হত্যা মামলায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ ২৫ অক্টোবর

বুধবার, ১৩ অক্টোবর ২০২১ , ২৮ আশ্বিন ১৪২৮ ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

শিক্ষা-গবেষণা ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে মাস্টার প্ল্যান করা হচ্ছে : উপাচার্য

image

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বেগম রোকেয়ার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন -সংবাদ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৩ বছরে নানাবিধ সীমাবদ্ধতায় হয়তো কাক্সিক্ষত উন্নয়ন সম্ভব হয়নি। তবে সমস্যা যাই থাকুক, নিয়মের ভেতরে থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করা হবে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা-গবেষণা ও ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়নে মাস্টার প্ল্যান করা হচ্ছে। গতকাল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রয়োদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হাসিবুর রশীদ এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ। তাদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে বৈশ্বিক মহামারীতেও অনলাইনে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকা- অব্যাহত রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সব ক্লাস-পরীক্ষা অনলাইনে গ্রহণ করা হয়েছে। একাডেমিক কার্যক্রমের এ ধারা অব্যাহত রেখে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহায়তায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেশনজটমুক্ত হবে এ বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি বলেন, অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চললেও যতদ্রুত সম্ভব বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া হবে। আবাসিক হল খুলে দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে উপাচার্য আরও বলেন, ২০০৮ সালের এই দিনে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবন শেষে বিভিন্ন পর্যায়ে সফলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রসরমান বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, আধুনিক জ্ঞানচর্চা ও পঠন-পাঠনের সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণে অবদান রাখবে এই বিশ্ববিদ্যালয়।

উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. সরিফা সালোয়া ডিনার সভাপতিত্বে এবং ছাত্রউপদেষ্টা মো. নুরজ্জামান খানের সঞ্চালনায় উক্ত আলোচনা সভায় মূল আলোচক ছিলেন, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আবু ছালেহ মোহাম্মদ ওয়াদুদুর রহমান (তুহিন ওয়াদুদ) এবং স্বাগত বক্তৃতা করেন, প্রক্টর মো. গোলাম রব্বানী। বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধানসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও ছাত্রনেতৃবৃন্দ আলোচনায় অংশ নেন।

করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এর ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। সকাল ১০টায় জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাসিবুর রশীদ। এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়ার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন তিনি। শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. সরিফা সালোয়া ডিনা। এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধানসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

দিবসটি স্মরণীয় করে রাখতে ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ করেন, উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাসিবুর রশীদ। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কামনা করে জোহর নামাজের পর কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।