কোটি টাকা মূল্যের ৫ বয়ার হদিস নেই : দুর্ঘটনার আশংকা

ভোলা-লক্ষ্মীপুর জেলার মধ্যবর্তী মেঘনা নদী ও সাগর মোহনার নৌ-পথের নির্দশক লাইটেট বয়া লুট করে বিক্রির অভিযোগ ওঠেছে । ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ১০ টন ওজনের বয়া লুট ও বিক্রির সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত বলে জানা গেছে। বরিশাল নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের দক্ষিণ ব-দ্বীপ শাখার একটি টিমের তদন্তে পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের মাছ ও ড্রেজার ( বালু) ব্যবসায়ী হিরণ লাট, হিরনের ভাগ্নে সাগরসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে । বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক এসএম আজগর আলী জানান, বয়া লুট করে, তা কেটে বিক্রির অভিযোগ পেয়ে তদন্তের জন্য টিম পাঠান। তবে বরিশালের অন্তর্ভূক্ত অঞ্চলের কোন বয়া খোয়া যায়নি । চাঁদপুর জোনের হতে পারে বলে মনে করছেন। অপরদিকে বিআইডব্লিউটিএ’র চাঁদপুর জোনের যুগ্ম পরিচালক মাহামুদুল হাসান জানান, ভোলা ও লক্ষ্মীপুর মধ্যবর্তী মেঘনা নদীর চ্যানেলে প্রতিদিন শত শত জাহাজ চলাচল করে। প্রায় জাহাজের ধাক্কায় চেইন ছিড়ে বয়া ভেসে যায়। গত কয়েক মাসে ৫ -৭টি টি বয়ার চেইন ছিড়ে ভেসে গেছে। একটি চরে আটকা রয়েছে। তিনি জানান এক একটি বয়ার ওজন ৮ থেকে ১০ মেট্রিক টন। একটি বয়াতে সিগন্যালবাতিসহ বিভিন্ন সেটআপ রয়েছে। দাম প্রায় ৩০ লাখ টাকা। ওই হিসেবে প্রায় দেড় কোটি টাকার বয়া খোঁজ মিলছে না বলেও নৌ-পথের জাহাজের চালকরা জানান। । ভোলার পশ্চিম ইলিশার ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ গিয়াস উদ্দিন জানান, তার এলাকায় বয়া টেনে এনে কেটে বিক্রি করা হয়েছে, এমন খবর তার জানা নেই। অপরদিকে নদীতে বালু উত্তোলন কাজে জড়িত ও মাছ ব্যবসায়ী হিরণ লাট জানান, তিনি বর্তমান ইউটি চেয়ারম্যানের লোক। তাদের সুনাম বিনষ্ট করতে একটি পক্ষ তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের বয়া কেটে নেয়ার অভিযোগ তোলেন। তিনি বা তার ভাগ্নে সাগর কেউ ওই কাজে জড়িত নন বলে দাবি করেন। তবে নাম প্রকাশ্যে অনুচ্ছুক ওই এলাকার এক ইটভাটার ব্যবসায়ী জানান, ৭ দিন আগে একটি বয়া আনার খবর তারাও শুনেছেন। ওই বয়া কেটে বিক্রি করা হয়। এমন খবর এলাকায় বেশ আলোচিত । এলাকার ইউপি মেম্বার মোঃ সেলিম হাওলাদারের ছেলে শামিম হাওলাদার জানান, একটি বয়া তাদের এলাকায় ৫ / ৬ দিন পড়ে থাকতে দেখেছেন। পরে এলাকার একটি গ্রুপ তা কেটে নিয়ে বিক্রি করে। এদিকে ওই রুটে চলাচলকারী নৌযান চালক ও মালিকরা জানান, বয়া স্থাপনের পর তা সংরক্ষণ ও সার্বক্ষণিক রক্ষনাবেক্ষণ না করায় বর্তমানে অনেক বয়া ভেসে গেলেও তা খুঁজে আনা হচ্ছে না। এতে নৌ পথের চলাচলে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর ২০২১ , ২৯ আশ্বিন ১৪২৮ ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌপথ

কোটি টাকা মূল্যের ৫ বয়ার হদিস নেই : দুর্ঘটনার আশংকা

ভোলা-লক্ষ্মীপুর জেলার মধ্যবর্তী মেঘনা নদী ও সাগর মোহনার নৌ-পথের নির্দশক লাইটেট বয়া লুট করে বিক্রির অভিযোগ ওঠেছে । ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ১০ টন ওজনের বয়া লুট ও বিক্রির সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত বলে জানা গেছে। বরিশাল নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের দক্ষিণ ব-দ্বীপ শাখার একটি টিমের তদন্তে পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের মাছ ও ড্রেজার ( বালু) ব্যবসায়ী হিরণ লাট, হিরনের ভাগ্নে সাগরসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে । বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক এসএম আজগর আলী জানান, বয়া লুট করে, তা কেটে বিক্রির অভিযোগ পেয়ে তদন্তের জন্য টিম পাঠান। তবে বরিশালের অন্তর্ভূক্ত অঞ্চলের কোন বয়া খোয়া যায়নি । চাঁদপুর জোনের হতে পারে বলে মনে করছেন। অপরদিকে বিআইডব্লিউটিএ’র চাঁদপুর জোনের যুগ্ম পরিচালক মাহামুদুল হাসান জানান, ভোলা ও লক্ষ্মীপুর মধ্যবর্তী মেঘনা নদীর চ্যানেলে প্রতিদিন শত শত জাহাজ চলাচল করে। প্রায় জাহাজের ধাক্কায় চেইন ছিড়ে বয়া ভেসে যায়। গত কয়েক মাসে ৫ -৭টি টি বয়ার চেইন ছিড়ে ভেসে গেছে। একটি চরে আটকা রয়েছে। তিনি জানান এক একটি বয়ার ওজন ৮ থেকে ১০ মেট্রিক টন। একটি বয়াতে সিগন্যালবাতিসহ বিভিন্ন সেটআপ রয়েছে। দাম প্রায় ৩০ লাখ টাকা। ওই হিসেবে প্রায় দেড় কোটি টাকার বয়া খোঁজ মিলছে না বলেও নৌ-পথের জাহাজের চালকরা জানান। । ভোলার পশ্চিম ইলিশার ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ গিয়াস উদ্দিন জানান, তার এলাকায় বয়া টেনে এনে কেটে বিক্রি করা হয়েছে, এমন খবর তার জানা নেই। অপরদিকে নদীতে বালু উত্তোলন কাজে জড়িত ও মাছ ব্যবসায়ী হিরণ লাট জানান, তিনি বর্তমান ইউটি চেয়ারম্যানের লোক। তাদের সুনাম বিনষ্ট করতে একটি পক্ষ তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের বয়া কেটে নেয়ার অভিযোগ তোলেন। তিনি বা তার ভাগ্নে সাগর কেউ ওই কাজে জড়িত নন বলে দাবি করেন। তবে নাম প্রকাশ্যে অনুচ্ছুক ওই এলাকার এক ইটভাটার ব্যবসায়ী জানান, ৭ দিন আগে একটি বয়া আনার খবর তারাও শুনেছেন। ওই বয়া কেটে বিক্রি করা হয়। এমন খবর এলাকায় বেশ আলোচিত । এলাকার ইউপি মেম্বার মোঃ সেলিম হাওলাদারের ছেলে শামিম হাওলাদার জানান, একটি বয়া তাদের এলাকায় ৫ / ৬ দিন পড়ে থাকতে দেখেছেন। পরে এলাকার একটি গ্রুপ তা কেটে নিয়ে বিক্রি করে। এদিকে ওই রুটে চলাচলকারী নৌযান চালক ও মালিকরা জানান, বয়া স্থাপনের পর তা সংরক্ষণ ও সার্বক্ষণিক রক্ষনাবেক্ষণ না করায় বর্তমানে অনেক বয়া ভেসে গেলেও তা খুঁজে আনা হচ্ছে না। এতে নৌ পথের চলাচলে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।