বিদ্যুৎ আমদানির নতুন চুক্তিতে সাশ্রয় ২৩৮ কোটি টাকা

ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ আমদানির নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের ২৩৮ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। চুক্তিতে সরল সুদসহ বিদ্যুতের বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে ২ শতাংশ। যা বিগত চুক্তিতে ৫ শতাংশ ছিল। এর ফলে আগামী ৫ বছরে বিদ্যুৎ আমদানিতে উল্লেখিত টাকা সাশ্রয় হবে। সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে দেন-দরবারের মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধির হার কমাতে সক্ষম হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আমদানি সংক্রান্ত চুক্তিটি ক্রয় কমিটির পরবর্তি বৈঠকে উত্থাপন করা হবে। কমিটির অনুমোদনের পর চুক্তি সই হবে।

এদিকে বিদ্যুৎ আমদানি নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন উঠলেও বর্তমানে এর সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশ। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশে বিদ্যুতের গড় উৎপাদন খরচ বেড়েছে।

দেশে অনেক দিন ধরে গ্যাস সংকট চলছে। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ না থাকায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বসে থাকছে। ফলে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে গরমে গ্রাহক চাহিদার যোগান দিতে ‘উৎপাদন খরচ বেশি’ তেলভিত্তিক এমন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকেও পুরোদমে চালাতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের একটি সূত্র বলছে, মঙ্গলবার ‘পিক আওয়ারে’ ৫ হাজার ৬শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এসেছে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে। দেশে এখন তেলের বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে ৫ হাজার ৮শ মেগাওয়াট। অর্থাৎ প্রায় সবগুলোই পিক আওয়ারে টানা চালু রাখতে হচ্ছে। যা বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রপাতির জন্যও ঝুঁপিপূর্ণ।

পিডিবির হিসেব অনুযায়ী, প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় উৎপাদন খরচ প্রায় ৬ টাকা। এরমধ্যে জ্বালানি (গ্যাস, তেল, কয়লা, সৌর, হাইড্রো) খরচ গড়ে ৪ টাকা এবং ক্যাপাসিটি পেমেন্ট ২ টাকা ধরা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ায় দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় খরচ প্রতি ইউনিট প্রায় ১০ টাকায় উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জ্বালানির এই বাড়তি মূল্য যতদিন থাকবে আমদানি করা বিদ্যুৎ তুলনামূলক সাশ্রয়ী হবে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে আমদানি করা বিদ্যুতের গড় খরচ ইউনিট প্রতি প্রায় ৭ টাকা।

জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার স্বাভাবিক থাকার সময় আমদানি চুক্তি হওয়ায় ভারত থেকে আগের দামেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ। পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে বিদ্যুৎ রপ্তানিতে অল্প হলেও লোকসান গুনছে ভারতের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। তবে চুক্তি অনুযায়ী তারা বিদ্যুৎ দিয়ে যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ আমদানির অগ্রগতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন সংবাদকে বলেন, ‘ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি অনেক আগেই শুরু হয়েছে। ভেড়ামারা পয়েন্ট দিয়ে এক হাজার মেগাওয়াট এবং ত্রিপুরা থেকে কুমিল্লা দিয়ে আসছে একশ’ ৬০ মেগাওয়াট।’

নেপাল থেকেও বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী মাসে ওই চুক্তিটি হয়ে যাবে। জেএমআর এবং ভারতের যৌথ বিনিয়োগে নেপালে ৫০০ মেগাওয়াটের একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র করা হবে। বাংলাদেশ ওখান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করবে। সঞ্চালন খরচসহ প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ আট থেকে সাড়ে ৮ টাকা করে পড়বে।’

পিডিবির চেয়ারম্যান বলেন, ‘ভারতের আদানী গ্রুপ ঝাড়খ-ে এক হাজার ৬শ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র করবে। শুধু বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্যই ওই কেন্দ্রটি করা হবে।’

বাংলাদেশে শীতে বিদ্যুৎ চাহিদা কম থাকে। এ কারণে আমদানির পাশপাশি বিদ্যুৎ রাপ্তানির কথাও চলছে- এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, আসলে রপ্তানির জন্য দুই দেশের ‘সিনক্রোনাইজ গ্রিড’ দরকার। দুই দেশের জয়েন্ট স্টিয়ারিং কমিটির যে বৈঠক হয়, সেখানে এজেন্ডায় এ বিষয়টি আছে। বাংলাদেশের গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সি, ভোল্টেজের মান এখনও ভারতের স্ট্যান্ডার্ডে করা যায়নি। আশা করি ২০২৪ সালের মধ্যে আমরা আমদানি-রপ্তানি দুটোই করতে পারব।’

বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর ২০২১ , ২৯ আশ্বিন ১৪২৮ ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বিদ্যুৎ আমদানির নতুন চুক্তিতে সাশ্রয় ২৩৮ কোটি টাকা

ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ আমদানির নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের ২৩৮ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। চুক্তিতে সরল সুদসহ বিদ্যুতের বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে ২ শতাংশ। যা বিগত চুক্তিতে ৫ শতাংশ ছিল। এর ফলে আগামী ৫ বছরে বিদ্যুৎ আমদানিতে উল্লেখিত টাকা সাশ্রয় হবে। সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে দেন-দরবারের মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধির হার কমাতে সক্ষম হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আমদানি সংক্রান্ত চুক্তিটি ক্রয় কমিটির পরবর্তি বৈঠকে উত্থাপন করা হবে। কমিটির অনুমোদনের পর চুক্তি সই হবে।

এদিকে বিদ্যুৎ আমদানি নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন উঠলেও বর্তমানে এর সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশ। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশে বিদ্যুতের গড় উৎপাদন খরচ বেড়েছে।

দেশে অনেক দিন ধরে গ্যাস সংকট চলছে। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ না থাকায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বসে থাকছে। ফলে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে গরমে গ্রাহক চাহিদার যোগান দিতে ‘উৎপাদন খরচ বেশি’ তেলভিত্তিক এমন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকেও পুরোদমে চালাতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের একটি সূত্র বলছে, মঙ্গলবার ‘পিক আওয়ারে’ ৫ হাজার ৬শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এসেছে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে। দেশে এখন তেলের বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে ৫ হাজার ৮শ মেগাওয়াট। অর্থাৎ প্রায় সবগুলোই পিক আওয়ারে টানা চালু রাখতে হচ্ছে। যা বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রপাতির জন্যও ঝুঁপিপূর্ণ।

পিডিবির হিসেব অনুযায়ী, প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় উৎপাদন খরচ প্রায় ৬ টাকা। এরমধ্যে জ্বালানি (গ্যাস, তেল, কয়লা, সৌর, হাইড্রো) খরচ গড়ে ৪ টাকা এবং ক্যাপাসিটি পেমেন্ট ২ টাকা ধরা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ায় দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় খরচ প্রতি ইউনিট প্রায় ১০ টাকায় উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জ্বালানির এই বাড়তি মূল্য যতদিন থাকবে আমদানি করা বিদ্যুৎ তুলনামূলক সাশ্রয়ী হবে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে আমদানি করা বিদ্যুতের গড় খরচ ইউনিট প্রতি প্রায় ৭ টাকা।

জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার স্বাভাবিক থাকার সময় আমদানি চুক্তি হওয়ায় ভারত থেকে আগের দামেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ। পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে বিদ্যুৎ রপ্তানিতে অল্প হলেও লোকসান গুনছে ভারতের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। তবে চুক্তি অনুযায়ী তারা বিদ্যুৎ দিয়ে যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ আমদানির অগ্রগতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন সংবাদকে বলেন, ‘ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি অনেক আগেই শুরু হয়েছে। ভেড়ামারা পয়েন্ট দিয়ে এক হাজার মেগাওয়াট এবং ত্রিপুরা থেকে কুমিল্লা দিয়ে আসছে একশ’ ৬০ মেগাওয়াট।’

নেপাল থেকেও বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী মাসে ওই চুক্তিটি হয়ে যাবে। জেএমআর এবং ভারতের যৌথ বিনিয়োগে নেপালে ৫০০ মেগাওয়াটের একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র করা হবে। বাংলাদেশ ওখান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করবে। সঞ্চালন খরচসহ প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ আট থেকে সাড়ে ৮ টাকা করে পড়বে।’

পিডিবির চেয়ারম্যান বলেন, ‘ভারতের আদানী গ্রুপ ঝাড়খ-ে এক হাজার ৬শ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র করবে। শুধু বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্যই ওই কেন্দ্রটি করা হবে।’

বাংলাদেশে শীতে বিদ্যুৎ চাহিদা কম থাকে। এ কারণে আমদানির পাশপাশি বিদ্যুৎ রাপ্তানির কথাও চলছে- এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, আসলে রপ্তানির জন্য দুই দেশের ‘সিনক্রোনাইজ গ্রিড’ দরকার। দুই দেশের জয়েন্ট স্টিয়ারিং কমিটির যে বৈঠক হয়, সেখানে এজেন্ডায় এ বিষয়টি আছে। বাংলাদেশের গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সি, ভোল্টেজের মান এখনও ভারতের স্ট্যান্ডার্ডে করা যায়নি। আশা করি ২০২৪ সালের মধ্যে আমরা আমদানি-রপ্তানি দুটোই করতে পারব।’