কুমিল্লায় ধর্মীয় উত্তেজনা, বিজিবি মোতায়েন, ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে

কুমিল্লায় কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে ধর্মীয় উত্তেজনা দেখা দেয়ায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান বলেছেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

গতকাল সকালে অবমাননার খবর ছড়িয়ে পড়লে কুমিল্লা শহরে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এতে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ জনতার দফায় দফায় সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল, গুলি, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের তিন কর্মকর্তাসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন।

জানা যায়, নগরীর নানুয়া দীঘির পাড় এলাকায় গতকাল সকালে লোকজন প্রাতঃভ্রমণ করছিলেন। এ সময় দীঘির উত্তরপাড়ে রাস্তার পাশের দর্পণ সংঘের একটি পূজাম-পে হনুমানের মূর্তির পায়ের ওপর পবিত্র কোরআন দেখতে পান। বিষয়টি দেখে তারা ৯৯৯-এ পুলিশকে ফোনে করেন। খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে গিয়ে কোরআন শরীফ সরিয়ে আনে এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এদিকে ধর্মগ্রন্থ অবমাননার এ বিষয়টি মুহূর্তের মধ্যে লোকজনের মুখে মুখে জানাজানি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়লে লোকজন সেখানে জড়ো হতে থাকে। একপর্যায়ে জনতা নানুয়া দীঘির পাড়ে কোরআন অবমাননায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে সেøাগান দেয়।

এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ, আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া আফরিন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তারা সেখানে যান এবং ক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

কিন্তু এতেও পরিস্থিতি উত্তেজনাকার হতে থাকলে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও ফাঁকা গুলি করে। দুপুরের পর থেকে শহরজুড়ে আতঙ্ক-উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় নগরীর কান্দিরপাড়, রাজগঞ্জ, চকবাজার, টমছমব্রিজসহ বিভিন্নস্থানে বিক্ষোভ মিছিল হয়। কয়েকটি পূজাম-পের গেইট ভাঙচুর করা হয়। এদিকে দুপুরের পর নগরীতে ৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে নগরীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মহড়া করা হওয়ার পর পরিবেশ শান্ত হয়ে আসে।

এদিকে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জেলা ও মহানগর শাখার নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমীতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যম-িত কুমিল্লায় সংগঠিত এহেন নিন্দনীয় ঘটনায় জড়িত ষড়যন্ত্রকারীসহ দুর্গাম-বে হামলাকারীদের বিচারবিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ জানান, আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ওই এলাকার সিসি ফুটেজ পরীক্ষা ও তদন্ত করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এক ভিডিও বার্তায় কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সবাইকে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে।

বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর ২০২১ , ২৯ আশ্বিন ১৪২৮ ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

কুমিল্লায় ধর্মীয় উত্তেজনা, বিজিবি মোতায়েন, ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে

কুমিল্লায় কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে ধর্মীয় উত্তেজনা দেখা দেয়ায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান বলেছেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

গতকাল সকালে অবমাননার খবর ছড়িয়ে পড়লে কুমিল্লা শহরে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এতে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ জনতার দফায় দফায় সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল, গুলি, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের তিন কর্মকর্তাসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন।

জানা যায়, নগরীর নানুয়া দীঘির পাড় এলাকায় গতকাল সকালে লোকজন প্রাতঃভ্রমণ করছিলেন। এ সময় দীঘির উত্তরপাড়ে রাস্তার পাশের দর্পণ সংঘের একটি পূজাম-পে হনুমানের মূর্তির পায়ের ওপর পবিত্র কোরআন দেখতে পান। বিষয়টি দেখে তারা ৯৯৯-এ পুলিশকে ফোনে করেন। খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে গিয়ে কোরআন শরীফ সরিয়ে আনে এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এদিকে ধর্মগ্রন্থ অবমাননার এ বিষয়টি মুহূর্তের মধ্যে লোকজনের মুখে মুখে জানাজানি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়লে লোকজন সেখানে জড়ো হতে থাকে। একপর্যায়ে জনতা নানুয়া দীঘির পাড়ে কোরআন অবমাননায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে সেøাগান দেয়।

এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ, আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া আফরিন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তারা সেখানে যান এবং ক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

কিন্তু এতেও পরিস্থিতি উত্তেজনাকার হতে থাকলে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও ফাঁকা গুলি করে। দুপুরের পর থেকে শহরজুড়ে আতঙ্ক-উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় নগরীর কান্দিরপাড়, রাজগঞ্জ, চকবাজার, টমছমব্রিজসহ বিভিন্নস্থানে বিক্ষোভ মিছিল হয়। কয়েকটি পূজাম-পের গেইট ভাঙচুর করা হয়। এদিকে দুপুরের পর নগরীতে ৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে নগরীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মহড়া করা হওয়ার পর পরিবেশ শান্ত হয়ে আসে।

এদিকে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জেলা ও মহানগর শাখার নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমীতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যম-িত কুমিল্লায় সংগঠিত এহেন নিন্দনীয় ঘটনায় জড়িত ষড়যন্ত্রকারীসহ দুর্গাম-বে হামলাকারীদের বিচারবিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ জানান, আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ওই এলাকার সিসি ফুটেজ পরীক্ষা ও তদন্ত করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এক ভিডিও বার্তায় কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সবাইকে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে।