উত্থানে পার হলো সপ্তাহ, শেয়ারবাজারে ফিরলো আরও সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা

আগের সপ্তাহের মতো গত সপ্তাহেও উত্থান হয়েছে শেয়ারবাজারে। সপ্তাহটিতে উভয় শেয়ারবাজারের একটি বাদে সব সূচকই বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে টাকার পরিমাণে লেনদেন। তবে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনি দর কমেছে। সূচক ও লেনদেনের পাশাপাশি গত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীরা সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার মূলধন ফিরে পেয়েছে।

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস লেনদেন শুরুর আগে ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭০ কোটি ৮ লাখ ৭৭ হাজার ৭৩১ টাকায়। আর সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস লেনদেন শেষে বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৫ লাখ ৬১ হাজার ৭৮ কোটি ৫৬ লাখ ১৭ হাজার ৫৬২ টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বিনিয়োগকারীরা চার হাজার ৬০৮ কোটি ৪৭ লাখ ৩৯ হাজার ৮৩১ টাকা বা ০.৮৩ শতাংশ বাজার মূলধন ফিরেছে।

গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ছয় হাজার ৯৯২ কোটি ৬১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৮৮ টাকার লেনদেন হয়েছে। আর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল পাঁচ হাজার ৮৯৮ কোটি ৪৭ লাখ ৩৪ হাজার ৬৯০ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন এক হাজার ৯৪ কোটি ১৪ লাখ ৫০ হাজার ১৯৮ টাকা বা সাড়ে ১৮ শতাংশ বেড়েছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৯৫.৮৯ পয়েন্ট বা ১.৩৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত হাজার ৯১.৮২ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ২.৭৫ পয়েন্ট বা ০.১৯ শতাংশ এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১৩.৯৮ পয়েন্ট বা ০.৫২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে এক হাজার ৪৮০.৩৩ পয়েন্টে এবং দুই হাজার ৬৯৪.৯৫ পয়েন্টে।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৮০টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৩টির বা ৪৫.৫৩ শতাংশের, কমেছে ১৯১টির বা ৫০.২৬ শতাংশের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬টির বা ৪.২১ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ২৫২ কোটি ১১ লাখ ৫০ হাজার ৩৭০ টাকার। আর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ১৬৫ কোটি ৮০ লাখ ৪৩ হাজার ৯৬৩ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন ৮৬ কোটি ৩১ লাখ ৬ হাজার ৪০৮ টাকা বা ৫২ শতাংশ বেড়েছে।

সপ্তাহটিতে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২২৫.৮৯ পয়েন্ট বা ১.২০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৭২৩.১২ পয়েন্টে। সিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে সিএসসিএক্স ১৪১.৮২ পয়েন্ট বা ১.১৫ শতাংশ, সিএসই-৩০ সূচক ২৮২.৩২ পয়েন্ট বা ১.৯৭ শতাংশ এবং সিএসই-৫০ সূচক ৩০.৮৭ পয়েন্ট বা ২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১২ হাজার ৪৫৯.৮০ পয়েন্টে, ১৪ হাজার ৫৪৫.৯৯ পয়েন্টে এবং এক হাজার ৫৭৬.৬৪ পয়েন্টে। তবে সিএসআই ১৬.৭৯ পয়েন্ট বা ১.৩২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৬০.০৩ পয়েন্টে।

সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ৩৩৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৪৬টির বা ৪৩.৪৫ শতাংশের দর বেড়েছে, ১৭৬টির বা ৫২.৩৮ শতাংশের কমেছে এবং ১৪টির বা ৪.১৭ শতাংশের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত সপ্তাহে ডিএসই’র সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) কিছুটা বেড়েছে। সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই ছিল ১৮.৬৩ পয়েন্টে যা সপ্তাহ শেষে ১৮.৭৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে পিই রেশিও ০.১১ পয়েন্ট বা ০.৫৯ শতাংশ বেড়েছে।

সপ্তাহ শেষে ব্যাংক খাতের পিই রেশিও অবস্থান করছে ১২.২৫ পয়েন্টে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ২৮.৩১ পয়েন্টে, বস্ত্র খাতের ৩৫.৩৩ পয়েন্টে, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ১৭.৭৭ পয়েন্টে, প্রকৌশল খাতের ১৪.৭৬ পয়েন্টে, বীমা খাতের ২২.৩৫ পয়েন্টে, বিবিধ খাতের ১৪.৭৪ পয়েন্টে, খাদ্য খাতের ৬৬.০৬ পয়েন্টে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ১৩.৮৫ শতাংশ, চামড়া খাতের ৫০.৯৫ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতের ৬১.৭২ পয়েন্টে, আর্থিক খাতের ১৯৪.৯২ পয়েন্টে, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের (-) ১২৭২.৯৫ পয়েন্টে, পেপার খাতের ৫১.৭৩ পয়েন্টে, টেলিযোগাযোগ খাতের ১৩.১৪ পয়েন্টে, সেবা ও আবাসন খাতের ২২.৯৮ পয়েন্টে, সিরামিক খাতের ৯৫.৯৭ পয়েন্টে এবং পাট খাতের পিই (-) ৩৩.৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

শনিবার, ২০ নভেম্বর ২০২১ , ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

উত্থানে পার হলো সপ্তাহ, শেয়ারবাজারে ফিরলো আরও সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা

image

আগের সপ্তাহের মতো গত সপ্তাহেও উত্থান হয়েছে শেয়ারবাজারে। সপ্তাহটিতে উভয় শেয়ারবাজারের একটি বাদে সব সূচকই বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে টাকার পরিমাণে লেনদেন। তবে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনি দর কমেছে। সূচক ও লেনদেনের পাশাপাশি গত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীরা সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার মূলধন ফিরে পেয়েছে।

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস লেনদেন শুরুর আগে ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭০ কোটি ৮ লাখ ৭৭ হাজার ৭৩১ টাকায়। আর সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস লেনদেন শেষে বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৫ লাখ ৬১ হাজার ৭৮ কোটি ৫৬ লাখ ১৭ হাজার ৫৬২ টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বিনিয়োগকারীরা চার হাজার ৬০৮ কোটি ৪৭ লাখ ৩৯ হাজার ৮৩১ টাকা বা ০.৮৩ শতাংশ বাজার মূলধন ফিরেছে।

গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ছয় হাজার ৯৯২ কোটি ৬১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৮৮ টাকার লেনদেন হয়েছে। আর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল পাঁচ হাজার ৮৯৮ কোটি ৪৭ লাখ ৩৪ হাজার ৬৯০ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন এক হাজার ৯৪ কোটি ১৪ লাখ ৫০ হাজার ১৯৮ টাকা বা সাড়ে ১৮ শতাংশ বেড়েছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৯৫.৮৯ পয়েন্ট বা ১.৩৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত হাজার ৯১.৮২ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ২.৭৫ পয়েন্ট বা ০.১৯ শতাংশ এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১৩.৯৮ পয়েন্ট বা ০.৫২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে এক হাজার ৪৮০.৩৩ পয়েন্টে এবং দুই হাজার ৬৯৪.৯৫ পয়েন্টে।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৮০টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৩টির বা ৪৫.৫৩ শতাংশের, কমেছে ১৯১টির বা ৫০.২৬ শতাংশের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬টির বা ৪.২১ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ২৫২ কোটি ১১ লাখ ৫০ হাজার ৩৭০ টাকার। আর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ১৬৫ কোটি ৮০ লাখ ৪৩ হাজার ৯৬৩ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন ৮৬ কোটি ৩১ লাখ ৬ হাজার ৪০৮ টাকা বা ৫২ শতাংশ বেড়েছে।

সপ্তাহটিতে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২২৫.৮৯ পয়েন্ট বা ১.২০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৭২৩.১২ পয়েন্টে। সিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে সিএসসিএক্স ১৪১.৮২ পয়েন্ট বা ১.১৫ শতাংশ, সিএসই-৩০ সূচক ২৮২.৩২ পয়েন্ট বা ১.৯৭ শতাংশ এবং সিএসই-৫০ সূচক ৩০.৮৭ পয়েন্ট বা ২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১২ হাজার ৪৫৯.৮০ পয়েন্টে, ১৪ হাজার ৫৪৫.৯৯ পয়েন্টে এবং এক হাজার ৫৭৬.৬৪ পয়েন্টে। তবে সিএসআই ১৬.৭৯ পয়েন্ট বা ১.৩২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৬০.০৩ পয়েন্টে।

সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ৩৩৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৪৬টির বা ৪৩.৪৫ শতাংশের দর বেড়েছে, ১৭৬টির বা ৫২.৩৮ শতাংশের কমেছে এবং ১৪টির বা ৪.১৭ শতাংশের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত সপ্তাহে ডিএসই’র সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) কিছুটা বেড়েছে। সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই ছিল ১৮.৬৩ পয়েন্টে যা সপ্তাহ শেষে ১৮.৭৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে পিই রেশিও ০.১১ পয়েন্ট বা ০.৫৯ শতাংশ বেড়েছে।

সপ্তাহ শেষে ব্যাংক খাতের পিই রেশিও অবস্থান করছে ১২.২৫ পয়েন্টে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ২৮.৩১ পয়েন্টে, বস্ত্র খাতের ৩৫.৩৩ পয়েন্টে, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ১৭.৭৭ পয়েন্টে, প্রকৌশল খাতের ১৪.৭৬ পয়েন্টে, বীমা খাতের ২২.৩৫ পয়েন্টে, বিবিধ খাতের ১৪.৭৪ পয়েন্টে, খাদ্য খাতের ৬৬.০৬ পয়েন্টে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ১৩.৮৫ শতাংশ, চামড়া খাতের ৫০.৯৫ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতের ৬১.৭২ পয়েন্টে, আর্থিক খাতের ১৯৪.৯২ পয়েন্টে, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের (-) ১২৭২.৯৫ পয়েন্টে, পেপার খাতের ৫১.৭৩ পয়েন্টে, টেলিযোগাযোগ খাতের ১৩.১৪ পয়েন্টে, সেবা ও আবাসন খাতের ২২.৯৮ পয়েন্টে, সিরামিক খাতের ৯৫.৯৭ পয়েন্টে এবং পাট খাতের পিই (-) ৩৩.৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।